খুঁজুন
                               
, ,
           

বিমান-রেল-সড়ক-সেতু খাতে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
বিমান-রেল-সড়ক-সেতু খাতে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালী করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এই বিশাল বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেন।

সড়ক ও সেতু অবকাঠামো বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মহাসড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর চার লেনে উন্নীতকরণ এবং সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর মাধ্যমে একটি মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলা, সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।

পাশাপাশি অটোমেটেড ফিটনেস সার্টিফিকেট ব্যবস্থা ও পেশাজীবী চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তুলতে সম্ভাব্য করিডোর চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ঢাকার যানজট নিরসনে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ছয়টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং এর সঙ্গে মনোরেলভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্ক নির্মাণের উদ্যোগও রয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো বাস পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক বাস দ্বারা প্রতিস্থাপন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু ও ঢাকা–চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ইলেকট্রনিক টোল ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেলপথের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃদেশীয় সংযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

একই সঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রেলপথকে অধিক কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে সকল জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং বন্দরসমূহের সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ওয়াগন সংগ্রহ, সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে কোচ ও লোকোমোটিভ সংযোজন, ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ ও আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ও উচ্চগতির রেল সংযোগ চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা–কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণ করা হবে, যার ফলে এ পথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে। একই সঙ্গে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

নৌপথ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যয়-সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নৌপরিবহন খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

এর মধ্যে নৌপরিবহন খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা, ড্রেজিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং দক্ষতা উন্নয়ন, নদীবন্দর ও লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রান্সশিপমেন্ট সক্ষমতা বৃদ্ধি, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, জেটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল ও লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম জোরদার করে নৌপথ সচল রাখা এবং আধুনিক নৌবন্দর অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমন্বিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে উন্নীত করার উদ্যোগ, জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিকস ও যাত্রী হাবে উন্নীতকরণ এবং কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল শিগগিরই চালুর প্রস্তুতি এবং বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটন খাতকে জিডিপিতে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং বৃহৎ পর্যটন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ খাতে পর্যটক আকর্ষণ ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদির গুরুত্ব বিবেচনায় যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন বাবদ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করছি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব

বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া অনুবিভাগ-১ এর অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল , জিমনেসিয়ামসহ অন্যান্য স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, সমস্ত স্থপনা সংস্কার করা খুব জরুরী। সরকার স্থাপনা নির্মাণ করবে কিন্ত তার দেখভাল করার জন্য কমিটিকে সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার যেসব দোকান আছে তাদের নিকট  চিঠি দিয়ে ভাড়া আদাযের পদক্ষেপ নিতে হবে।

এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনী পন্থায় দোকানদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ দোকানের বরাদ্দ বাতিল করতে হবে।

কারণ আপনাদের নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে স্টেডিয়াম পরিচালনা করতে হবে। এ সময় তিনি জেলা ক্রীড়া অফিসারগনকে দিক নির্দেশনা দেন।এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাঃ সবুর আলী, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ মোজাম্মেল হক।

জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসার আবু জাফর মাহামুদুজ্জামান, নাটোর জেলা ক্রীড়া অফিসার রাকিবুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তিন মামলায় উচ্চ আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
তিন মামলায় উচ্চ আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের জামিন

রাজধানীর মুগদা ও খিলগাঁও থানার পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

একইসঙ্গে চুনারুঘাট থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।

বুধবার (২৯ জুলাই) মুগদা থানার হত্যাচেষ্টা ও খিলগাঁও থানার একটি হত্যা মামলায় আগে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে ব্যারিস্টার সুমনকে জামিন দেন বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সুমনের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় এখনই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইছা।

আইনজীবী লিটন আহমেদ জানান, ‘খিলগাঁও থানার হত্যা মামলা এবং মুগদা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় আগে রুল জারি করা হয়েছিল। আজ সেই রুল অ্যাবসুলেট (চূড়ান্ত) করে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।’

এদিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ২২ জুলাই হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে বিচারপতি রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আজ কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন।

সাবেক এই সংসদ সদস্যের কারামুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ‘ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর ও চুনারুঘাট  থানার মামলাসহ দুটিতে তার জামিন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। তবে বাকি আরও পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টে রুল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে এই মামলাগুলোতে জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাত দেড়টায় রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনকে। প্রথমে তাকে মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত বছরের ২১ মে থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর খিলগাঁও, আদাবর এবং নিজ এলাকা চুনারুঘাট থানায় দায়ের হওয়া হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট সাতটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়

গত ৭ এপ্রিল চুনারুঘাট থানার মামলায় সুমনের জামিন আবেদন নাকচ করেছিলেন হবিগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত, যার প্রেক্ষিতে তিনি উচ্চ আদালতে আবেদন করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই: অ্যার্টনি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই: অ্যার্টনি জেনারেল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যার্টনি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বুধবার (২৯ জুলাই) আপিল বিভাগের এ সংক্রান্ত মামলা শুনানি শেষে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিং-এ মন্তব্য করেন তিনি।

সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হওয়ায়আপিল বিভাগ ‘পূর্নাঙ্গ রায় যেহেতু পাওয়া গেছে, তাই এই মামলাটি (মিসলেনিয়াস পিটিশন) আর এই মুহূর্তে শোনার সুযোগ নেই’ বলে আদেশ দেন।

যদিও সংক্ষুব্ধ পক্ষ চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপিল দায়ের করতে পারে বলেও আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

এরপর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর আবেদনটি তালিকা থেকে বাদ (আউট অব লিস্ট) করে দেন।

অ্যার্টনি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে যথাযথ দাবি করে বলেন, ‘সরোয়ার আলমগীর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ জনগণ তাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠালো, তিনি সংসদে যাবেন এবং তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন— এটিই তো সাধারণ ওই এলাকার ভোটারদের প্রত্যাশা। নির্বাচন কমিশন আদালতের রায় বাস্তবায়ন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। এতে আইনি কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।’

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কখনোই আদালতের সার্টিফায়েড কপির জন্য সময় বিলম্ব করেন না, কারণ সবকিছুর একটা টাইমফ্রেম আছে। তারা যদি কোনো অ্যাডভোকেট সার্টিফিকেট দেন কিংবা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব আইনজীবী যদি বলেন যে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন, কমিশন তার ওপরেই কাজ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ বিষয়ে আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। আমি তখন বলেছি যে, আপনারা আদালতের অন্য আদেশের ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়ায় কাজ করে থাকেন, একই প্রক্রিয়ায় করবেন।’

অ্যার্টনি জেনারেল আরও যোগ করেন, ‘যেহেতু হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন, তাই সরোয়ার আলমগীর সাহেবের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা, পার্লামেন্ট অধিবেশনে যোগদান করা এবং নির্বাচনী এলাকার জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা এখন আর আপাতত থাকল না। তিনি বিগত অধিবেশনেও অংশগ্রহণ করে বক্তব্য রেখেছেন এবং সেটি অব্যাহত থাকবে।’

ঋণখেলাপির অভিযোগে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পরে নির্বাচন কমিশন বাতিল করলেও হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। তখন আপিল বিভাগ নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, বিজয়ী হলেও যেন ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না করা হয় এবং হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত থাকবে। সম্প্রতি হাইকোর্ট রুল শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত রায় দেন।

এই রায়ের পরপরই দ্রুততম সময়ে গেজেট প্রকাশ ও শপথের আয়োজন করা হলে সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন।

আদালত আজ সেই আবেদনটি নিষ্পত্তি করে নিয়মিত আপিল করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে আপাতত সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ