খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স থেকে চীনের দিকে রকেট নিক্ষেপ তাইওয়ানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স থেকে চীনের দিকে রকেট নিক্ষেপ তাইওয়ানের

তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী চীনের সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করার প্রস্তুতি হিসেবে এক ঐতিহাসিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা অত্যাধুনিক এম-১৪২ হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (ব্যবস্থা) তথা হিমার্স থেকে চীন অভিমুখে রকেট ছুড়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জানান দিয়েছে স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপরাষ্ট্রটি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তাইওয়ান এর আগেও পরীক্ষা করেছে। তবে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে চীন থেকে পৃথককারী তাইওয়ান প্রণালির জলসীমায় হিমার্স থেকে রকেট ছুড়ে মহড়ার ঘটনা এবারই প্রথম।

মহড়া চলাকালে তাইওয়ানের সেনা সার্জেন্ট ওয়াং মিং-হুই বলেন, ‘বর্তমান নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে আমরা হিমার্সের প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখব, যাতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।’ তবে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহড়ায় তুলনামূলক কম দূরপাল্লার ‘প্র্যাকটিস রকেট’ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা উপকূল থেকে খুব বেশি দূরে না গিয়ে তাইওয়ান প্রণালির পানিতে গিয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক জিম সিউটো বুধবার ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তাইওয়ানের প্রতিনিধি আলেক্সান্ডার ইউইয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী তাদের নতুন হিমার্স দিয়ে মূলত যুদ্ধের অনুশীলন করছে।’ তিনি কিছুটা রসিকতা করে সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা একটা দ্বীপ। আমরা কেবল পূর্ব বা পশ্চিম দিকেই গুলি ছুড়তে পারি। তাই তারা পশ্চিম দিকটাকেই বেছে নিয়েছে।’

উল্লেখ্য, তাইওয়ানের পশ্চিমে চীনের মূল ভূখণ্ড অবস্থিত।

হিমার্স হলো হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম। ট্রাক-মাউন্টেড বা ছয় চাকার ট্রাকে বসানো এই রকেট পডগুলো মূলত ‘শুট-অ্যান্ড-স্কুট’ (গুলি করো এবং পালাও) কৌশলের জন্য বিখ্যাত। এই কৌশলে যানগুলো কোনো গোপন সুড়ঙ্গ বা আস্তানা থেকে দ্রুত বের হয়ে মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দিতে পারে এবং শত্রু রাডারে ধরা পড়ার আগেই অন্য কোনো নিরাপদ আস্তানায় সরে যেতে পারে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে এই অস্ত্র ব্যবহারে টিকে থাকার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, চীনের বিশাল সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় বড় যুদ্ধযান বা অস্ত্র কেনার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে তাইওয়ানকে ‘অ্যাসিমেট্রিক’ বা অসমন্বিত যুদ্ধকৌশলে পারদর্শী করতে উদ্বুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই কৌশলকে সামরিক পরিভাষায় ‘পোরকুপাইন’ বা সজারু নীতি বলা হয়, যার লক্ষ্য হলো নিজেদের একটি সুরক্ষিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রেখে আক্রমণকারীকে সহজে কাবু করা। সাধারণত সজারু এমনটি করে। তাইওয়ানও চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই সজারু নীতি অনুসরণের পরিকল্পনা করছে।

তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই মহড়ার দ্বিতীয় দিনে হিমার্স ছিল মূল আকর্ষণ। এই মহড়ায় ১৫৫ মিলিমিটারের হাউইটজার কামানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রসঙ্গত, চীন তাইওয়ানকে তাদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ মনে করে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো উপায়ে, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে হলেও এটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অঙ্গীকার করে রেখেছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় প্রতিদিন তাইওয়ানের আকাশ ও জলসীমায় যুদ্ধজাহাজ ও ফাইটার জেট পাঠায় বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে পৃথক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এর স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের তীব্র বিরোধী এবং তাইওয়ানের প্রতিরক্ষার জন্য প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী রাষ্ট্র।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাইওয়ানের কাছে আরও ৮২টি হিমার্স সিস্টেম বিক্রির একটি বড় চুক্তি ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন। তবে গত মাসে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সেই বড় অস্ত্র চুক্তিটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাজেটে সরকারের মূলনীতি ও ‘থ্রি-আর’ কৌশল জানালেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
বাজেটে সরকারের মূলনীতি ও ‘থ্রি-আর’ কৌশল জানালেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে তিন ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণে চারটি বিষয়কে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি জানান, অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে বাজেটে ঘোষিত পরিকল্পনা তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যা ‘থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

‘থ্রি-আর’ স্ট্র্যাটেজি

১. রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন:
অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার এ কার্যক্রমের মেয়াদ এক বছর।

২. রেস্টোরেশন:
অর্থনীতির উত্তরণ ও কাঠামোগত সংস্কারের এ ধাপ বর্তমান সরকারের প্রথম থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

৩. রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন:
দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিনিয়োগের চার মূলনীতি

মাহদী আমিন জানান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়নে সরকার চারটি বিষয়কে প্রধান বিবেচনায় রেখেছে—

১. ভ্যালু ফর মানি:
সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

২. রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট:
জনগণের অর্থ যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, সেগুলোর অর্থনৈতিক সুফল মূল্যায়ন করা।

৩. জব ক্রিয়েশন:
সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

৪. এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন:
প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

বাজেটের ১০ প্রধান অগ্রাধিকার

প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নে সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো—

১. সবার জন্য উন্নয়ন
২. সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
৩. সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা
৪. বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি
৫. বিনিয়ন্ত্রণকরণ
৬. আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা
৭. জ্বালানি নিরাপত্তা
৮. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ
৯. প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
১০. স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

এছাড়া অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে তিন ধরনের ‘ডিভিডেন্ড’ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো: ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, লংজিভিটি ডিভিডেন্ড এবং ডেমোক্রেটিক ডিভিডেন্ড।

প্রসঙ্গত, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মাহদী আমিন বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজশাহীতে বৃষ্টিতে হাঁটুপানি, চরম ভোগান্তি

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে বৃষ্টিতে হাঁটুপানি, চরম ভোগান্তি

রাজশাহীত গত কয়েকদিন  প্রচন্ড গরম পড়েছিল। মাঝে মাঝে আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির দেখা মিলছিল না। বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিল মানুষ।  অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে  দেখা মিলেছে বৃষ্টির। তবে এই বৃষ্টি স্বস্তির বদলে ভোগান্তি এনে দিয়েছে। বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি পর্যন্ত জমেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা সোয়া ১২টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। চলে টানা আড়াইটা পর্যন্ত এরপর থেমে থেমে আরও কয়েক দফা বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টি চলে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। এতে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ মিলিমিটার। আর এই পরিমাণ বৃষ্টিতেই ভাসছে রাজশাহী নগরী। বিশেষ করে নগরীর মধ্যাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে হাঁটুপানি জমে গেছে।

সড়ক ঘেঁষে থাকা ড্রেনের পয়োনিষ্কাশনের নোংরা আর বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে গেছে পুরো রাজপথ। আর নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ধরে চলছে এই দুর্ভোগ। রাজশাহী নগরীর রাস্তা-ঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সৌন্দর্য বর্ধনে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হলেও বর্ষণমুখর দিনগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তা ম্নান হচ্ছে।

এই বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে মহানগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, গণকপাড়া, তালাইমারী মোড়, শিরোইল, কাদিরগঞ্জ, বর্ণালী মোড়ের পেছনে, উপশহর, লক্ষ্মীপুর, ঝাউতলা, ভাটাপাড়া, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে, রাজশাহী পর্যটন মোটেল রোড, সপুরা গোরস্থানের মোড় থেকে উপশহর মোড়, গৌরহাঙ্গা রেলগেইট, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মোড়, শালবাগান, মালদাহ কলোনি, আহম্মেদনগরসহ বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টি মানেই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কে তাই জলজটের কারণে যানজটও লেগে থাকছে। এরপর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনেক এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে আবার কিছু কিছু এলাকায় উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই সেগুলোতে দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেশি।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে কয়েকদিন থেকে বৃষ্টি হবে হবে করেও হয়নি। অবশেষে তা হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশ ভালোই। এদিন রাত নয়টা পর্যন্ত ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও দুয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না। শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। আজকের চীন নিজেদের প্রচেষ্টা, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগের আয়োজনে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চান। শিশুদের ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে চান, তাদের উন্নত করতে চান। এজন্য তিনি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, শিক্ষার্থীদের পোশাকসহ শিক্ষা সামগ্রী, কিড ফ্রিতে বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই সাথে শিশুরা যাতে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে দেশের সম্পদে পরিণত হয় এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করে আসছে। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চীন সহযোগিতা করবে, তাই চলতি বছরের ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য চীনের প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও ভিজিট করতে আসবেন।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তা করতে পেরে চীন সরকার আনন্দিত। শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহ যোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতি বছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি, শিল্প ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করতে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে চীন থেকে একটি প্রতিনিধি দল সফরে আসবে। তারা এলাকাটি পরিদর্শন করে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়ন করবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আগামী বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁওসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের চীন সফরের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

‘তরুণ মেধার বিকাশ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলব্যাগ, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পায়গাম আলী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন