খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না রাখে: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না রাখে: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী

নিজের নিরাপত্তার কড়া ঘেরাটোপ যেন তাকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়- স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই নিরাপত্তার কড়া ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন বা দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে ব্যাপারেও তিনি বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা হলে’ এসএসএফ-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং বাহিনীর একটি বিশেষ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন ও তার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে এসএসএফ-এর নিষ্ঠাপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকারপ্রধান থাকাকালে এবং জীবনের শেষ দিনগুলোতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিল। তার মৃত্যুর পর বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য তারেক রহমান নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ রাখা হয় এবং এর পরিধি বৃদ্ধি করা হয়। সময়ের বিবর্তনে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসএসএফ-এর মতো একটি বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে তিনি তাগিদ দেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ম্যান্ডেট নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে নিজের কর্মপদ্ধতি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফ-কে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখে এবং সরকার প্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যে সমন্বয় আপনারা করছেন, তা প্রশংসনীয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ সময় পর (২০০২ সালের পর) এসএসএফ-এর মূল নির্দেশিকা ‘রেড বুক’ সময়ের চাহিদানুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফ-এর কার্যপদ্ধতির নীতিমালার পাশাপাশি আইনী সুরক্ষাও নিশ্চিত করবে।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রেড বুকের নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে মানার পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও সুযোগ রয়েছে। বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের অন্য সকল নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সুসমন্বয় বজায় রেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিভিআইপিদের সুরক্ষায় এসএসএফ আরও যুগোপযোগী ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সিলেটে বজ্রাঘাতে নিহত ২

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
সিলেটে বজ্রাঘাতে নিহত ২

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বজ্রাঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাঘমারার পূর্ব কাটু টিলা সংলগ্ন হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন সাবির মিয়া ও হামিদ মিয়া। তারা দুজনই মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর জানান, সকালে ওই দুজন জেলে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গয়াসি হাওরে যান। দুপুরের দিকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাত হলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই জেলের। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে: আইনমন্ত্রী

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ কিংবা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।

বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর-সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আইনমন্ত্রী বলেন, এ বাজেট দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা এতে তুলে ধরা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলে ২২ লাখ শিক্ষার্থী, লক্ষ্য ৫০ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলে ২২ লাখ শিক্ষার্থী, লক্ষ্য ৫০ লাখ

দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা বিকাশে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। চলতি বছর প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আগামীতে এ সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসে বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা-ভিশন বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সমতা, ন্যায়বিচার এবং শহর-গ্রামের শিক্ষাগত বৈষম্য কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চান যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, নৈতিকতা ও পারিবারিক শিক্ষা গড়ে তুলবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সততা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গার্লস গাইড, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার দেশব্যাপী খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান উৎসব, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশ ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করবে। শিগগিরই কোরআন তেলাওয়াতভিত্তিক কর্মসূচিও চালু করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে দুটি নতুন বিষয় ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দলগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি নতুন বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে একটি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, যার মাধ্যমে আনন্দময় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। অন্যটি ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’। বর্তমানে এ ধরনের শিক্ষা সীমিত আকারে থাকলেও আগামীতে তা সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তাত্ত্বিক শিক্ষা এবং অষ্টম শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবহারিক কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল সম্পর্কে মাহ্দী আমিন বলেন, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে। প্রায় আড়াই মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি জানান, আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করতে গণমাধ্যমকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে তাদের সাফল্য তুলে ধরলে অন্য শিক্ষার্থীরাও উদ্বুদ্ধ হবে। প্রথম বছরেই ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা অন্তত ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্টার্টআপ, বিজ্ঞান, প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের একটি জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১২ হাজার দল অংশ নিয়েছে। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী থাকায় মোট ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী এবং দুইজন শিক্ষক হিসেবে প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষক এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তামূলক চিন্তা, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীল ধারণাগুলোকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণ, অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ১০০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।

একই দিনে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে অংশ নেবে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বৃক্ষরোপণ করবেন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, গণশিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়বে আজকের শিক্ষার্থীরা। তাই তাদের মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক চরিত্র, পারিবারিক শিক্ষা ও নাগরিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষে পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংস্কার আনা হচ্ছে এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাফল্য তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের আরও উৎসাহিত করতে এবং দেশের প্রতিটি পরিবারে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিভিত্তিক ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ