জুলাইয়ের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫৬ কোটি ডলার
দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এ সময়ে দেশে এসেছে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত দেশে মোট ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ। এদিকে, শুধু ৫ জুলাই একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয় ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ৩৫ দশমিক ৫৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে মোট ২ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন বা ২ দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। মাসের শেষ কর্মদিবস ৩০ জুন একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
যদিও জুন মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য কমেছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে দেশে এসেছিল ২ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের জুনে রেমিট্যান্স কম এসেছে ১৭ মিলিয়ন ডলার।
তবে পুরো অর্থবছরের হিসাবে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৫ হাজার ৫৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে এসেছিল ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫ হাজার ২৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালের আলো/এসআর/এএএন


আপনার মতামত লিখুন
Array