কাতারে গত বিশ্বকাপে মরক্কোর চমক থেমেছিল ফ্রান্সের কাছে। সেমিফাইনালে তারা ২-০ গোলে হেরেছিল। এবার আরেক ধাপ আগেই দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে। গত হারের শোধ কি নিতে পারবে মরক্কো। ফেভারিট ফ্রান্স, কিন্তু তাদের হারানো অসম্ভব নয়, এই বিশ্বাস রেখে মাঠে নামতে পারে মরক্কো। কিছু ফ্যাক্টর আফ্রিকানদের মনে ফ্রান্সবধের বিশ্বাস এনে দিচ্ছে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ভয়ডরহীন
চলতি বিশ্বকাপের শুরুতেই মরক্কো স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল। তারা কারও বিপক্ষে আত্মসমর্পণ করবে না। হার না মানা লড়াই করবে, এমনকি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও।
ব্রাজিলিয়ানদের ওপর প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করেছিল মরক্কো। ম্যাচটি শেষ হয়েছিল ১-১ গোলের ড্রয়ে। ২০২২ বিশ্বকাপে তারা আরেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল।
এছাড়া পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শীর্ষ স্তরের দলকেও পরাজিত করেছিল তারা। তবে সেমিফাইনালে ফ্রান্স তাদের থামিয়ে দিয়েছিল। বিশ্বকাপের আগের পরিবর্তন কাজে লেগেছে
২০২২ বিশ্বকাপের দৃশ্যপট ফিরিয়ে এনে এই বছরের টুর্নামেন্ট শুরু করেছে মরক্কো। টুর্নামেন্টের আগ দিয়ে কোচিংয়ে পরিবর্তন এনেছিল।
মরক্কো কর্মকর্তাদের চাওয়া ছিল, ২০২২ সালের মতো কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে প্রতিক্রিয়া দেখানো নয়, খেলায় দাপট ধরে রাখাই হবে প্রধান কাজ। মোহামেদ ওয়াহবির দল সেই কাজ ঠিকঠাক করে যাচ্ছেন।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নকআউট পর্বের কথাই ধরুন। আধিপত্য ধরে রেখে তারা টাইব্রেকারে জিতেছিল। ইতোমধ্যে তারা টুর্নামেন্টে ১০ গোল করেছে, যা আফ্রিকান দলের রেকর্ড। তাদের পাশে আছে সেনেগাল।
ফ্রান্সের নাড়িনক্ষত্র জানেন হাকিমি
হাকিমি পিএসজিতে খেলেছেন। ফ্রান্সের আক্রমণের দৌড় ভালোভাবে জানা তার। তিনি জানেন, ফরাসি খেলোয়াড়রা কোন কৌশলে তাদের কাবু করতে পারে। মরক্কান জাতীয় দলের একজন প্রধান খেলোয়াড় হাকিমি। কয়েক বছর এমবাপের সঙ্গে খেলেছেন এই ফুলব্যাক এবং পিএসজিতে এখনো তিনি দেম্বেলে, দুয়ে ও বারকোলার সতীর্থ।
সর্বোচ্চ স্তরে থাকা খেলোয়াড়রা
বিশ্বের সেরা রাইট ব্যাক মনে করা হয় হাকিমিকে। কিন্তু মরক্কান দলে তিনিই একমাত্র তারকা খেলোয়াড় নয়।ইসমাইল সাইবারি বাদ পড়লেও মিডফিল্ডে আছেন বুয়াদ্দি ও আল আইনুনি। তারা যথাক্রমে লিল ও রোমায় খেলে নিজেদের সম্ভাবনার প্রমাণ দিয়েছেন।তারা বাদেও সর্বোচ্চ স্তরে খেলা মাজরাউই (ম্যানইউ) ও ব্রাহিম দিয়াজের (রিয়াল মাদ্রিদ) মতো খেলোয়াড় আছেন।
পেনাল্টি কিকের মাস্টার
ম্যাচ যদি পেনাল্টিতে যায়, তাহলে মরক্কো এগিয়ে থাকবে। কারণ খুব কম দলই তাদের মতো দারুণ প্রস্তুতি সেরে রেখেছে।
গত বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ইয়াসিন বোনো। সোলার ও বুসকেটসকে পেনাল্টিতে রুখে দেন তিনি। এবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। সামরভিলের পেনাল্টি রুখে দিয়েই তো মরক্কোকে শেষ ষোলোতে তোলেন তিনি।
কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
Array