খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আর এতে আটকে পড়া হাজারো জাহাজে জন্ম নিয়েছে এক আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি।

এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ডেকে আনতে পারে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়।

সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত সমুদ্রে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো এই হরমুজ প্রণালী।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে এবং আরও কয়েকশ জাহাজ পার্শ্ববর্তী ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে।

টাইম অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এসব জাহাজের গায়ে জন্ম নেওয়া সামুদ্রিক জীব বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জৈব আগ্রাসনের ‘সুপার-স্প্রেডার’ হওয়ার আশঙ্কা
বায়েলাজিক্যাল ইনভেশনস (Biological Invasions) সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (UMCES)-এর নেতৃত্বে ২৪ জন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিজ্ঞানীর একটি দল, যেখানে যুক্ত ছিল উডস হোল ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশন (WHOI)।

‘Closure of the Strait of Hormuz May Trigger a Bioinvasion Super-Spreader Event’ শিরোনামের গবেষণায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় পারস্য/আরব উপসাগরে মাসের পর মাস আটকে থাকা হাজারো বাণিজ্যিক জাহাজ অনিচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঘটনার সূচনা করতে পারে।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় নোঙর করে থাকার ফলে জাহাজের গায়ে শৈবাল, বার্নাকল, ঝিনুক, বিভিন্ন অমেরুদণ্ডী প্রাণীসহ অসংখ্য সামুদ্রিক জীবের ঘন স্তর তৈরি হয়। পরে জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করলে এসব জীব বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছে যেতে পারে।

কী এই ‘বায়োফাউলিং’?
সামুদ্রিক পরিবহন শিল্পে এ ঘটনাকে বলা হয় বায়োফাউলিং (Biofouling)। এটি হলো জাহাজের তলদেশ, প্রপেলারসহ পানির নিচে থাকা অংশে সামুদ্রিক জীবের জমে ওঠা। প্রথমে অণুজীব ও পিচ্ছিল স্তর তৈরি হয়। এরপর সেখানে শৈবাল, বার্নাকল, ছোট সামুদ্রিক ক্রাস্টেশিয়ান এবং খোলসযুক্ত প্রাণীর বসতি গড়ে ওঠে।

গবেষকরা জানান, ১,৫০০টিরও বেশি জাহাজের এই নজিরবিহীন দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার জন্য এক ধরনের ‘সুপার-স্প্রেডার’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

WHOI-এর জীববিজ্ঞানী ক্যারোলিন টেপোল্ট, যিনি সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতির বিস্তার ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন, বলেন- “সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি বিশ্বের উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। একবার কোনো অঞ্চলে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে এগুলো নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন, অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব।

বৈশ্বিক নৌপরিবহনে এই বিঘ্নের নানা প্রভাব রয়েছে, তবে নীরবে এটি উষ্ণ পানির প্রজাতিগুলোকে নতুন নতুন বন্দরে ছড়িয়ে দেওয়ার আদর্শ পরিবেশও তৈরি করেছে।”

বড় ধরনের পরিবেশগত হুমকি
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ৩০ দিনের বেশি সময় অলস অবস্থায় থাকলে পুনরায় যাত্রার আগে বায়োফাউলিং নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু এসব জাহাজ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে, যা সামুদ্রিক জীবের দ্রুত বৃদ্ধি ও প্রজননের মৌসুম।

IMO-উদ্ধৃত গবেষণায় বলা হয়েছে, জাহাজের গায়ে সামান্য পিচ্ছিল স্তর জমলেও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর হালকা মাত্রার বার্নাকল জমলে জ্বালানি ব্যবহার ও নির্গমন ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।

IMO-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব নৌপরিবহন শিল্পে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ১০ শতাংশ ব্যয় হয় শুধু বায়োফাউলিংজনিত অতিরিক্ত পানির প্রতিরোধ অতিক্রম করতে।

গবেষকরা আরও বলেন, আধুনিক নৌপরিবহন দীর্ঘদিন ধরেই সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এত বিপুল সংখ্যক জাহাজের এত দীর্ঘ সময় একসঙ্গে আটকে থাকার ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। ফলে এটি বিশ্বব্যাপী জৈব নিরাপত্তার জন্য এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক কয়েক দশকে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরে স্থানীয় প্রজাতিকে প্রতিস্থাপন করেছে এবং বিভিন্ন বন্দরের অবকাঠামোরও ক্ষতি করেছে।

এশিয়ান গ্রিন মাশেলের উদাহরণ
আগ্রাসী প্রজাতির অন্যতম উদাহরণ হলো এশিয়ান গ্রিন মাশেল। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের এ ঝিনুক উপসাগরীয় এলাকাতেও ব্যাপকভাবে দেখা যায়। ইতোমধ্যে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় ঝিনুক প্রজাতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হয়েছে।

এছাড়া বায়োফাউলিংয়ের কারণে জাহাজের গতিশীলতা কমে যায়। পানির প্রতিরোধ বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চালাতে বেশি শক্তি লাগে এবং অতিরিক্ত দূষণকারী জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়।

সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান
গবেষকরা জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপকদের বায়োফাউলিং ব্যবস্থাপনা জোরদার, উচ্চ ঝুঁকির বন্দরে নজরদারি বাড়ানো, জাহাজের চলাচল পূর্বাভাস উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, যাত্রা শুরুর আগে পানির মধ্যেই জাহাজের গায়ে জমে থাকা জীব পরিষ্কার বা ‘ইন-ওয়াটার ক্লিনিং’ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বন্দরে ডুবুরি নামিয়ে জাহাজের তলদেশ ও প্রপেলার পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে বাণিজ্যিক চলাচল পুনরায় শুরু করা যায়।

একটি জাহাজ পরিষ্কার করার খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ৮,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে, কারণ দ্রুত উপসাগর ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাহাজ পরিচালনাকারীরা।

অ্যালিয়ানজের মেরিন আন্ডাররাইটিং বিভাগের প্রধান জাস্টাস হাইনরিখ বলেন, “এই ঘটনা সমুদ্রপথের সংকীর্ণ করিডরগুলোর ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবসায়ী মহলের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আগে এগুলো ছিল সম্ভাব্য দুর্যোগের তাত্ত্বিক চিত্র। কিন্তু এখন আমরা বাস্তব দুর্যোগ দেখেছি। ফলে তাত্ত্বিক ঝুঁকি এখন বাস্তব ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।”

গবেষকদের মতে, বিশ্ব যখন মূলত যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ব্যস্ত, তখন এই সংঘাতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার হতে পারে এক অদৃশ্য পরিবেশগত সংকট, যা জাহাজের গায়ে লেগে থাকা সামুদ্রিক জীবের মাধ্যমে মহাসাগর পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মক্কা-মদিনার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
মক্কা-মদিনার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদির

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা অভিমুখে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। শনিবার, ২৪ অক্টোবর, কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে। তবে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির একাধিক বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে ঘিরে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে পড়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেশটির বিভিন্ন স্থানে পড়ে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মক্কার বাইরে ওয়াদি মুঘামাস, জেদ্দার আল-নুঝা এলাকা, তাইফের ওয়াদি জালিল এবং রাবিগের একটি জনবসতিহীন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা কোনো স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পর পবিত্র দুই নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হওয়ায় এসব এলাকাকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, সেগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্য কী ছিল এবং প্রতিহত করার প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মক্কা মদিনাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার হুতিদের
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি সামনে আসার পর তা সরাসরি অস্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ফলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এবং বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ার কথা জানালেও হুতিরা পবিত্র নগরী দুটিকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের উৎস ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদির পশ্চিমাঞ্চলের চার প্রদেশে নিরাপত্তা সতর্কতা
ক্ষপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর প্রকাশের আগে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। এসব এলাকার মধ্যে মক্কা অঞ্চলও রয়েছে। সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সতর্কতা জারির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সম্ভাব্য বিপদের ধরন সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা জারির বিষয়টি সাম্প্রতিক উত্তেজনার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের
সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবিও করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে দেশটির তিনটি বিমানবন্দর, দুটি তেল স্থাপনা, একটি তেল পরিবহন পাইপলাইন এবং একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ধাপে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দাম্মাম ও নাজরান অঞ্চলের বিমানবন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে কি না, তা সরবরাহ করা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। তাই হুতিদের এসব দাবিকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনায় হামলার দাবি সত্য হলে তা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের পুরোনো প্রেক্ষাপট
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে, হুতিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সীমান্তপারের হামলা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে ছিল।

তবে সেই যুদ্ধবিরতি ইয়েমেনের সংঘাতের সব দিকের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার অভিযোগ এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ছাড়াও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, পাইপলাইন, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিকে ঘিরে হামলার দাবি সামনে আসায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করবে হামলার দাবির সত্যতা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা কতটা সচল রয়েছে তার ওপর। এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, মক্কা ও মদিনা অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সৌদি দাবি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার বিষয়ে হুতিদের বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হলেও ঘটনার সব দিক এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নতুন তথ্য, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ/আরআইকে

তামা নাকি স্টিলের বোতল, পানি পানের জন্য কোনটি ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
তামা নাকি স্টিলের বোতল, পানি পানের জন্য কোনটি ভালো?

পানি পানের জন্য প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে তামা কিংবা স্টিলের বোতল বেছে নিচ্ছেন অনেকে। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শরীরচর্চার সময়ও বাড়ছে এসব বোতলের ব্যবহার। তবে প্রশ্ন হলো, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী—তামা, নাকি স্টিল?

তামার পাত্রে পানি রাখার প্রচলন বহু পুরোনো। আয়ুর্বেদে তামার পাত্রে রাখা পানিকে ‘তাম্রজল’ বলা হয়। অন্যদিকে, স্টেইনলেস স্টিলের বোতল টেকসই, সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেশ জনপ্রিয়। তবে স্বাস্থ্যগত উপকারের দাবি আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত তথ্য এক নয়। তাই বোতল বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি।

তামার বোতলে পানি রাখার সুবিধা ও সতর্কতা
তামা মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। শরীরে আয়রন ব্যবহারে সহায়তা, শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এর ভূমিকা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তামার বোতলে পানি রাখলেই শরীরের প্রয়োজনীয় তামার ঘাটতি পূরণ হবে কিংবা বাড়তি স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যাবে।

তামার কিছু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তামার সংস্পর্শে কিছু জীবাণুর সংখ্যা কমতে পারে। তবে তামার বোতলে পানি রাখলেই তা সব ধরনের জীবাণুমুক্ত বা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। নিরাপদ পানির বিকল্প হিসেবে তামার বোতলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

তামার বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতাও প্রয়োজন। বেশি পরিমাণ তামা শরীরে প্রবেশ করলে বমি, বমিভাব ও পেটব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত গ্রহণে লিভারের ক্ষতিও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের শরীরে তামা বিপাকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তামার পাত্রে রাখা পানি নিয়মিত পান করা উচিত নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তামার পাত্রে লেবুর রস বা অন্য অম্লীয় পানীয় রাখা এড়িয়ে চলতে হবে। অম্লীয় পদার্থের সংস্পর্শে তামা বেশি পরিমাণে পানীয়তে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্টিলের বোতল কেন জনপ্রিয়?
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলের বোতল একটি ব্যবহারিক পছন্দ। সাধারণত ভালো মানের স্টিল পানির সঙ্গে সহজে বিক্রিয়া করে না এবং পানির স্বাদও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করে না। এ ধরনের বোতল টেকসই, সহজে বহনযোগ্য এবং পরিষ্কার করাও তুলনামূলক সহজ।

ডাবল-ওয়াল বা ইনসুলেটেড স্টিলের বোতল পানি দীর্ঘ সময় গরম কিংবা ঠান্ডা রাখতে পারে। তবে কতক্ষণ তাপমাত্রা ধরে রাখবে, তা বোতলের নকশা ও মানের ওপর নির্ভর করে।

বোতল কেনার সময় খাদ্যপণ্য ব্যবহারের উপযোগী স্টেইনলেস স্টিল বেছে নেওয়া ভালো। নিয়মিত বোতলের ভেতর ও ঢাকনা পরিষ্কার করতে হবে। ভেতরে দাগ, ক্ষয় বা মরিচার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বোতলটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ফেলুন।

তাহলে কোন বোতল বেছে নেবেন?
প্রতিদিনের পানি পানের জন্য অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলের বোতল সুবিধাজনক পছন্দ। এতে পানি বহন করা সহজ, রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলক ঝামেলাহীন। অন্যদিকে, তামার বোতল ব্যবহার করতে চাইলে এর স্বাস্থ্যগত উপকার নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি বিশ্বাস না করে নিরাপদ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

মনে রাখতে হবে, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তামা বা স্টিলের বোতল ব্যবহার করলেই হজমশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ত্বক ও চুলের উন্নতি হবে—এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই বোতল নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত দাবির চেয়ে নিরাপত্তা, মান ও পরিচ্ছন্নতাকে বেশি গুরুত্ব দিন। সূত্র: এশিয়ানেট নিউজ

কালের আলো/এসএ/জেএন

শীতের আগেই ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে ঘরেই বানান ৪ স্ক্রাব

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
শীতের আগেই ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে ঘরেই বানান ৪ স্ক্রাব

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বাতাসে বাড়ছে শীতের আমেজ। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে অনেকের ত্বক হয়ে উঠছে শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে। বিশেষ করে মুখ, হাত-পা ও ঠোঁটে দেখা দিচ্ছে শুষ্কতার ছাপ। এ সময় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন বাড়তি যত্ন।

ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং সহায়ক হতে পারে। তবে খসখসে ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে উল্টো জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বাড়তে পারে। তাই ত্বকের ধরন বুঝে কোমল উপায়ে যত্ন নেওয়া জরুরি। ঘরে থাকা কিছু উপকরণ দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় স্ক্রাব।

ঘরেই তৈরি করুন চার ধরনের স্ক্রাব

১. চালের গুঁড়া ও মধুর স্ক্রাব
চালের গুঁড়া ও মধু দিয়ে তৈরি মিশ্রণ ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে অল্প মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। তবে চালের গুঁড়া ত্বকে ঘষার সময় সতর্ক থাকুন, কারণ দানাদার উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে ঘর্ষণ তৈরি করতে পারে।

২. কফি ও অ্যালোভেরা
কফির গুঁড়ার সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করা যায়। চাইলে এতে অল্প পরিমাণ ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্রণটি ত্বকে লাগানোর আগে ছোট একটি জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। কফির দানার কারণে ত্বকে ঘর্ষণ হতে পারে, তাই মুখের সংবেদনশীল বা শুষ্ক অংশে এটি ব্যবহার না করাই ভালো।

৩. অলিভ অয়েল ও মধু
শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে অলিভ অয়েল ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। অল্প অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগান। কয়েক মিনিট পর কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এ মিশ্রণে চিনি যোগ করে জোরে ঘষা এড়িয়ে চলুন।

৪. মুগ ডালের গুঁড়া
মুগ ডাল পিষে মিহি গুঁড়া করে নিন। এর সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে নরম পেস্ট তৈরি করতে পারেন। চাইলে মধুও যোগ করা যায়। মিশ্রণটি ত্বকে ব্যবহার করলে জোরে ঘষবেন না; অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন। মুগ ডালের গুঁড়া দিয়ে ট্যান বা ত্বকের কালচে ভাব নিশ্চিতভাবে দূর হয়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

স্ক্রাব ব্যবহারে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ত্বক খসখসে হলে প্রতিদিন স্ক্রাব করার প্রয়োজন নেই। বরং অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের সুরক্ষাবেষ্টনী ক্ষতিগ্রস্ত করে শুষ্কতা, লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের দানাদার স্ক্রাব এড়িয়ে চলাই ভালো।

স্ক্রাব ব্যবহারের পর ত্বক আলতো করে শুকিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। দিনের বেলায় বাইরে গেলে সানস্ক্রিনও ব্যবহার করুন।

ত্বকে ফাটল, ক্ষত, একজিমা বা তীব্র জ্বালাপোড়া থাকলে স্ক্রাব ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, খসখসে ত্বকের যত্নে শুধু মৃত কোষ দূর করাই নয়, ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: স্টাইলক্রেজ

কালের আলো/এসএ/জেএন