খুঁজুন
                               
, ,
           

যানবাহনে হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই, সতর্কতা শুধু ‘রিমাইন্ডার’: ডিবি প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
যানবাহনে হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই, সতর্কতা শুধু ‘রিমাইন্ডার’: ডিবি প্রধান

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি। এটি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জারি করা একটি ‘রিমাইন্ডার’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়েও সমানভাবে সচেতন থাকে।

তাই আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। সম্প্রতি কয়েকটি বোমা-সংক্রান্ত ঘটনা এবং কিছু ভুয়া গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।

এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আমরা তৎপর রয়েছি। আমাদের সদস্য, যানবাহন ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সময়ে সময়েই এমন সতর্কতা জারি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আগেও এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ব্যবহৃত সব যানবাহন ও স্থাপনা যেন নিরাপদ থাকে, সে জন্য সদস্যদের আবারও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এটি মূলত একটি রিমাইন্ডার।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, তেমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। মাঠপর্যায়ে কর্মরত সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া ছাতাবোমা প্রসঙ্গে ডিবি প্রধান বলেন, ‘ঘটনাটির তদন্ত করছে সিটিটিসি। আমরা সমান্তরালভাবে ছায়া তদন্ত করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’

ঘটনার পেছনে কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত এককভাবে কেউ জড়িত থাকে না। কোনো না কোনো উদ্দেশ্য বা মতাদর্শ প্রচারের জন্য সংগঠিতভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বার্তায় বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ কারণে দায়িত্ব পালনকালে কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামাতে হলে নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং তা পুলিশের নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে।

পাশাপাশি দায়িত্ব শেষে থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস প্রাঙ্গণে রাখা যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদার করতে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় ও সতর্ক রাখতে নিয়মিত এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে একাধিক বোমা-আতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। পরে জানানো হয়, সেটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করে রাখা হয়েছিল।

পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একটি ছাতা বের হয়ে থাকা বস্তা ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও তাতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

সবশেষ শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা উদ্ধার করা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল জানায়, সেগুলোতেও কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল না।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মাঠপর্যায়ের সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

হঠাৎ কেন বাড়ছে ডলারের দাম

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
হঠাৎ কেন বাড়ছে ডলারের দাম

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে ডলারের দাম। আন্তর্জাতিক ও দেশীয়—উভয় কারণেই ডলারের বাজারে এমন চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব আমদানি বিল পরিশোধে সরকার ও বেসরকারি খাতের অতিরিক্ত ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমে আসা এবং রপ্তানি আয় প্রত্যাশামতো না বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহও সীমিত রয়েছে। এই দুই চাপ মিলেই আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ডলারের বাজার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি অব্যাহত থাকা এবং বাজারে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা যায়, গত মে মাস থেকে শুরু করে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ব্যাংক, স্পট মার্কেট ও খোলা বাজারে ডলারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যাংকগুলোর সরবরাহকৃত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলো যে ডলার ১২২ টাকা ৪৫ পয়সায় কেনাবেচা করতো।  জুন মাসের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ টাকায়। এর পরবর্তী ১২ থেকে ২০ দিনের মধ্যে দর আরও বেড়ে ১২৩ টাকা ৪০ থেকে ৫০ পয়সায় পৌঁছায়। বর্তমানে সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৯০ থেকে ৯৫ পয়সা দরে কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যাংকিং খাতেই দুই মাসের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সাম্প্রতিক ধীরগতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ডলারের বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আমদানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আমদানি দায় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

ডলারের জোগানে আরেকটি বড় উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা ধীর হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠালেও, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার পর রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। টানা ছয় মাস মাসিক ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর জুনে তা কমে ২৮২ কোটি ডলার এবং জুলাইয়ে ২৮৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে বাজারে ডলারের সরবরাহও কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।

ডলারের বাজারে অস্থিরতা ও অতিরিক্ত মুনাফা করার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সালের আগস্টে ৬টি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানদের অপসারণের পর ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিদের শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল। এরপর থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে চান না ট্রেজারি প্রধানরা।

প্রসঙ্গত, ডলারের দর নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা ও দর বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব চ্যানেলে আন্তব্যাংক লেনদেন, রেমিট্যান্স সংগ্রহসহ প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা দরে কেনার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএই

জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, আসুন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।

বাণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং প্রবল গণরোষে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ আত্মোৎসর্গকারী হাজারো বীর শহিদকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও গভীর সম্মান ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, তাঁদের বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গত দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।

বাণীতে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সময়ের রাষ্ট্রীয় অনিয়ম, নিপীড়ন, দুর্নীতির ফলে জনমনে সঞ্চিত ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, ভ্রাতা-ভগ্নি, কন্যা-জায়া, জননীসহ সর্বস্তরের মানুষ অসীম সাহস ও ত্যাগের প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন এবং তাঁরা সবাই জুলাই যোদ্ধা।

তিনি বলেন, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। একই সঙ্গে বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান, ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

বাণীর শেষে তিনি বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন। সূত্র: বাসস।

কালের আলো/এসএকে

৬ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম তালুকদার   বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেন চলাচলের জন্য ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশন থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেনগুলো এখন ছেড়ে দেওয়া হবে। উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ইতোমধ্যে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, লাইনচ্যুতির কারণে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা ছিল।

দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় অনেকের কর্মস্থল, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে ট্রেন চলাচলের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন ভূঁঞার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) শেখ আসিফ আহমেদ, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন) মো. রবিউল ইসলাম এবং বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াক জহুর।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ৭৫৪ নম্বর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঝ’ বগির চাকা শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি