খুঁজুন
                               
, ,
           

জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার

দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বা প্রায় ৩৮ কোটি ডলার। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা বিনিময় হার ধরে জুলাই মাসে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাসের প্রথম পাঁচ দিনে আসে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। পরে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। ২১ দিনে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে, ২৭ দিনে তা বেড়ে হয় ২৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং মাস শেষে তা পৌঁছে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলারে।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

তবে জুলাই মাসে আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও প্রবাসী আয় উচ্চ অবস্থানে থাকবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউএন উইমেনের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউএন উইমেনের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন উইমেনের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ইসলাম।

সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে গীতাঞ্জলি সিং বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা এগিয়ে নিতে ইউএন উইমেনের চলমান বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি ইউএন উইমেনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণসহ জনগণকেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

প্রতিমন্ত্রী নারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল হয়রানি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম টু অ্যাড্রেস ডিজিটাল হ্যারাসমেন্ট অ্যাগেইনস্ট উইমেন’ উদ্যোগে ইউএন উইমেনের সমর্থন ও অংশীদারত্ব কামনা করেন।

পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অসম প্রভাব থেকে নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় জাতিসংঘ সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তার অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের ওপর সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া, বৈঠকে জাতিসংঘের নারীর মর্যাদাবিষয়ক কমিশনের (সিএসডাব্লিউ) ৭১তম অধিবেশন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রস্তুতি, নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) বাস্তবায়নে জাতীয় প্রতিবেদন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক পরবর্তী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।

কালের আলো/এসএকে

হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পারস্পরিক আগ্রহ ও অভিন্ন কল্যাণের ভিত্তিতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের উন্নয়নমূলক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করার বিষয়ে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুই পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরুর দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করল তেহরান।

সোমবার (৩ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমরা এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় অংশগ্রহণ করছি না। এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও বিদেশি আলোচক প্রতিনিধি দলকে আতিথেয়তা প্রদান কিংবা কোনো ইরানি প্রতিনিধি দলকে বিদেশি পাঠানোর পরিকল্পনাও তেহরানের নেই।

এদিকে ইরানের আলোচক দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ধর্মীয় তীর্থযাত্রায় ইরাকে রয়েছেন জানিয়ে এক ইরানি কমকর্তা বলেছেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে যুক্তরাষ্টের সঙ্গে কোনো বৈঠক হওয়া সম্ভব নয়, চলতি সপ্তাহে তার ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

এর আগে রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অনুরোধে তিনি হামলা বন্ধ করে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন। আজ সোমবার থেকেই হরমুজ প্রণালি চালু ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির অবসান ঘটানোর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা আমরা দেখব। আমরা প্রস্তুত আছি। তবে আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না’।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান বাঘাই।

গত আট দিন ধরে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে বাঘাই বলেন, ‘হরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনাতেই মনোযোগ দিচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো ওমানের পরামর্শ ও সহযোগিতার মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে হলেও যত দ্রুত সম্ভব একটি পথ নির্ধারণ করা, যা দিয়ে আমরা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা। ওমানের সাথে কোনো বিরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়নি। আবার ওমানের সঙ্গে সমঝোতা মানেই এটা নয় যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ মাস ধরে চলমান এই সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের আলোচনার বার্তা এবং ইরানের তা প্রত্যাখ্যান করার ঘটনাটি একটি নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও আগ্রাসন বজায় থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ