খুঁজুন
                               
, ,
           

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফের মঞ্চে ফিরছে আরণ্যকের প্রশংসিত নাটক ‘কম্পানি’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফের মঞ্চে ফিরছে আরণ্যকের প্রশংসিত নাটক ‘কম্পানি’

দীর্ঘ দিন বিরতির পর আবারও মঞ্চ কাঁপাতে আসছে নাট্যদল আরণ্যকের আলোচিত ও প্রশংসিত প্রযোজনা ‘কম্পানি’। আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির বিশেষ প্রদর্শনী। ইতিহাস, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক শোষণের প্রখর বিশ্লেষণধর্মী এই নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ।

আরণ্যকের ৬৬তম এই প্রযোজনাটি প্রথম মঞ্চে আসে ২০২৪ সালের এপ্রিলে। ঈদ উপলক্ষে সে সময় টানা পাঁচটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকদের নজর কাড়ে এটি। ইউরোপীয় বণিকদের ভারতবর্ষে আগমন থেকে শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা দখল, পলাশীর যুদ্ধ, মীর জাফর-জগৎশেঠের ষড়যন্ত্র এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ইতিহাসই এ নাটকের মূল উপজীব্য।

নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে নির্দেশক ও নাট্যকার মামুনুর রশীদ জানান, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যে কৌশল ও শোষণের পথ তৈরি করেছিল, আজও বিশ্বব্যবস্থায় ও রাজনীতিতে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সেই একই ক্ষমতার চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। লুণ্ঠন ও সম্পদ পাচারের সংস্কৃতি এখনও অব্যাহত থাকায় এই নাটকের বার্তা বর্তমান সময়েও ভীষণ অর্থবহ।

নাটকটির শেষ দৃশ্যে একজন আধুনিক শিল্পপতির চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ নিজেই। এছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন সাজ্জাদ সাজু, আরিফ হোসেন আপেল, কামরুল হাসান, রুবলী চৌধুরী, সাঈদ সুমন, শাহারান খান, সুজাত শিমুল, জুবায়ের জাহিদ ও মরু ভাস্করসহ আরণ্যক নাট্যদলের একঝাঁক দক্ষ অভিনয়শিল্পী। বিভিন্ন ভাষা ও বৈচিত্র্যময় গানের ব্যবহারে সমৃদ্ধ এই নাটকটি দর্শকদের নতুন ভাবনার খোরাক দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

তসলিমা নাসরিন দেশে ফিরতে চাইলে আইন অনুসরণ করে আবেদন করতে পারবেন : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
তসলিমা নাসরিন দেশে ফিরতে চাইলে আইন অনুসরণ করে আবেদন করতে পারবেন : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ভারতে অবস্থানরত নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনকে দেশে আনার জন্য সরকারের কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তাহলে প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে পারবেন, এরপর সরকার আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান উপদেষ্টা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।

তসলিমা নাসরিন অতীতে যাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন, সে বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি যদি দেশে ফিরে আদালতের আশ্রয় নিতে চান, তাহলে আইন অনুযায়ী সেই সুযোগ পাবেন। ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না। ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি চাইলে আদালতে মামলা করতে পারবেন।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরকার কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক (জিও পলিটিক্যাল) চাপ বা সংকটে নেই।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির বাজারে প্রবেশের সুযোগ : ববি হাজ্জাজ
তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা মার্কিন কূটনীতিকের ভারত সফর কিংবা ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে বৈঠককে কেন্দ্র করে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। ওই কূটনীতিক ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছেন। তাই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। আগের সরকারের মতো ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নয়, বরং জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নেই সরকার কাজ করছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির কারণে শ্রমিকদের যে ভোগান্তি হয়েছে, তা দূর করেই সরকার কর্মী পাঠাতে চায়।

কালের আলো/এসএকে

ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জনপ্রত্যাশার সংবিধান সংস্কার চান সালাহউদ্দিন আহমদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জনপ্রত্যাশার সংবিধান সংস্কার চান সালাহউদ্দিন আহমদ

সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধানের সংস্কার করতে চায় সরকার, যা সার্বিক জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বাংলাদেশের নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা সংবিধানে ধারণ করা হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং শিগগিরই দিন-তারিখ ও তালিকা নির্ধারণ করা হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা সেটি অনুধাবন করে নাম পাঠাবেন। বিরোধী দলের সদস্যরা বৈঠকে এসে কথা বললে যেমন স্বাগতম জানানো হবে, তেমনি বৈঠকের বাইরে লিখিতভাবে দেওয়া তাদের পরামর্শও গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব এবং প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে।

সংবিধান সংশোধনের পথে কোনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটিকে কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে প্রত্যাশা হিসেবে দেখছেন তারা। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, শহীদের রক্ত এবং জাতির বিশাল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ধারা তৈরিতে কাজ করছে এ কমিটি। এই শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধারণ করতে হলে সংবিধান সংস্কারই প্রথম পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, কেবল রাজনীতিবিদেরাই নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো আগ্রহ প্রকাশ করলে সবার সঙ্গেই পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। ফলে আলোচনা শেষ করার নির্দিষ্ট সময় এখনই বেঁধে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ সংগৃহীত বিষয়গুলো এবং যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি সরকারি দলের নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে সর্বজনগ্রাহ্য একটি সংবিধান সংস্কারের পথেই এগোচ্ছে কমিটি।

কালের আলো/এসএকে

ঋণ করে হামের চিকিৎসা করেছে ৮৯ ভাগ অতিদরিদ্র পরিবার: জরিপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
ঋণ করে হামের চিকিৎসা করেছে ৮৯ ভাগ অতিদরিদ্র পরিবার: জরিপ

বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে সাধারণ পরিবারগুলো। সম্প্রতি এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে অন্তত ৯টিই (৮৯ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। এ ছাড়া ৬১ শতাংশ পরিবার তাদের জীবনের সব সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি) যৌথভাবে এই জরিপটি পরিচালনা করে। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর চালানো এই মূল্যায়নে দেখা যায়, রোগের ধকল সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত পরিবারগুলো চিকিৎসাব্যয়ের পাশাপাশি মারাত্মক সামাজিক ও মানবিক সংকটে পড়ছে।

জরিপ অনুযায়ী, চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতিটি পরিবারকে গড়ে প্রায় ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। শিশুরা দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় অভিভাবকদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, এমনকি অনেকে চাকরিও হারিয়েছে। চিকিৎসায় সহায়তার জন্য পরিবারগুলোর ৩৫ শতাংশ ওষুধ, ৩৩ শতাংশ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি এবং ২২ শতাংশ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির এম. আশরাফ আলম জানান, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে চিহ্নিত করে ১০ হাজার টাকা করে জরুরি নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আইএফআরসির বাংলাদেশ প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, স্বাস্থ্য সংকটের সময় শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ২ জন এবং ঢাকার ১ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৭৫১ জন এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ শিশুর মৃত্যু হলো। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৪৭।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০৮ জন। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০ জনে, যার মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৬ হাজার ৪০৮ জন। বর্তমানে ১ হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক সরকারের টিকাদান কার্যক্রম ও সচেতনতা সৃষ্টিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

কালের আলো/এসএকে