প্রেক্ষাগৃহে দর্শক না পেলেও বিকল্প প্রদর্শনীতে সাড়া স্বাধীন চলচ্চিত্র
প্রেক্ষাগৃহে কাঙ্ক্ষিত দর্শক না পেলেও বিকল্প প্রদর্শনীতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র। সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের ‘দেলুপি’–এর বিশেষ প্রদর্শনীতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।
গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে অনেক দর্শক আসন না পেয়ে সিঁড়িতে বসে সিনেমা উপভোগ করেন। প্রদর্শনী শেষে দীর্ঘ সময় ধরে করতালিতে নির্মাতা ও চলচ্চিত্রটির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন উপস্থিত দর্শকরা। অথচ ২০২৫ সালের শেষদিকে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ছবিটি প্রত্যাশিত দর্শক না পাওয়ায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হল থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
শুধু ‘দেলুপি’ নয়, সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের ‘মাস্তুল’-ও সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও প্রেক্ষাগৃহে মাত্র এক সপ্তাহ চলার সুযোগ পায়। নির্মাতাদের মতে, দেশে সিনেমা হল ও পরিবেশকের সংকট, সীমিত প্রচার এবং বিকল্প প্রদর্শনীর জটিল নিয়ম স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রের পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম বলেন, দেশে স্বাধীন ধারার সিনেমার জন্য স্থায়ী বিকল্প প্রদর্শনীর ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তাঁর মতে, বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংগঠন নিয়মিতভাবে সিনেমা প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে দর্শক তৈরি হবে এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য নতুন বিপণন ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।
একই মত প্রকাশ করেছেন ‘সাঁতাও’–এর নির্মাতা খন্দকার সুমন। তিনি বলেন, বর্তমানে সিনেমা হলের বাইরে প্রদর্শনীর জন্য আলাদা সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা স্বাধীন নির্মাতাদের জন্য বড় বাধা। এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন পরিবর্তনেরও আহ্বান জানান তিনি।
মোহাম্মদ নূরুজ্জামান জানান, তাঁর আগের চলচ্চিত্র ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫০টির বেশি বিকল্প প্রদর্শনীর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছিল। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক প্রদর্শনীর সুযোগ পেলে স্বাধীন ধারার সিনেমাও বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে পারে।
নির্মাতাদের দাবি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জেলা পর্যায়ের অডিটোরিয়ামগুলোকে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহার করা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শকের কাছে স্বাধীন সিনেমা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে শৈল্পিক ও স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, যেসব সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না, সেগুলো বাছাই করে শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, গণ-আন্দোলন ও সমাজবাস্তবতা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নির্মাতাদের আশা, সরকারি উদ্যোগ, বিকল্প প্রদর্শনীর সুযোগ বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন হলে বাংলাদেশের স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নতুন দর্শক তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং শিল্পমানসম্পন্ন সিনেমাগুলোর টিকে থাকার পথ আরও সুগম হবে।
কালের আলো/এসএ



আপনার মতামত লিখুন
Array