খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্যাসিবাদ সরকার সব ধ্বংস করে গেছে এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদ সরকার সব ধ্বংস করে গেছে এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সকল ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবকাঠামো দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির সঙ্গে সমন্বিত করেছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জননীতির দিকে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সব সময় বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়নে- স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটিই মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) কিংবা বর্তমানের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) ভিশন ও মিশনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, এসডিজি’র প্রতিপাদ্য ‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’ কিংবা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে। তিনি বলেন, সকল শ্রেণি পেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’র মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন এসডিজি’র এই মূল অগ্রাধিকারগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বা রিকোভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন এই থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর- সবকিছুই একটি সুসংহত নকশায় বাস্তবায়িত হবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণজনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারাদেশে ইমাম মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয়গুরুদেরকেও সম্মানি ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো না কোনো উপায়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারপ্রধান বলেন, এভাবে চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।

‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের একটি পাইলট মডেল হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, এই উদ্যোগের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সারাদেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এসডিজি ভিলেজ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।

কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা। তিনি বলেন, আশা করি, তিনদিনের এই সম্মেলনে প্রতিটি সমন্বয়কারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের অভীষ্টভিত্তিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। এর একটি হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা। আরেকটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার হবে সর্বজনীন। এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র: বাসস

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগেও শুটিং, কত জিপিএ পেলেন অভিনেত্রী?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগেও শুটিং, কত জিপিএ পেলেন অভিনেত্রী?

অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর ‘ফারহানা’ চরিত্রের অভিনেত্রী ইসরাত তিথি। উত্তরা কেসি মডেল স্কুলের মানবিক বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ-৪ অর্জন করেছেন।

ইসরাত তিথি নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছিলেন। তবে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে বোর্ডে রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পরও পরীক্ষার মাত্র আট মাস আগে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মানবিক বিভাগে চলে আসেন তিনি।

স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন বিভাগের পড়াশোনার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন ইসরাত। শুধু তাই নয়, টেস্ট পরীক্ষায় নিজের সেকশনে প্রথমও হয়েছিলেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনায় ইসরাতের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার। তিন বোনের মধ্যে ছোট ইসরাতের ফলাফল নিয়ে তার মেজো বোন সাফিনা বলেন, ‘ওর ফলাফলে আমরা অনেক খুশি। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও অনেক পরিশ্রম করেছে ও।’

ইসরাতের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও পরিশ্রমের কথা জানিয়ে সাফিনা আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগেও শুটিং করেছেন ইসরাত। এমনকি টেস্ট পরীক্ষার সময় কক্সবাজারে শুটিং শেষ করে সকাল ৮টায় ঢাকায় ফিরে সকাল ১০টায় পরীক্ষায় বসতে হয়েছিল তাকে।

শুটিং সেটেও কাজের ফাঁকে বই নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে ইসরাতকে। অভিনয় ও পড়াশোনার দুই ব্যস্ততা সামলে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

এসএসসির ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ইসরাত লিখেছেন, ‘সব কিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও ইসরাত তিথির এই সাফল্য তার পরিশ্রম ও অধ্যবসায়েরই প্রমাণ বলে মনে করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

কালের আলো/এসএ

‘মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত, সঙ্গে রাখি কাফনের কাপড়’: লাকি আলী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
‘মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত, সঙ্গে রাখি কাফনের কাপড়’: লাকি আলী

নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন ধারার সংগীতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা গায়ক লাকি আলী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য শ্রোতার ভালোবাসা পাওয়া এই শিল্পী সম্প্রতি এক কনসার্টে গিয়ে ভক্তদের আবেগে ভাসিয়েছেন। তবে গান ও স্মৃতিচারণার একপর্যায়ে মৃত্যু ও জীবনের নশ্বরতা নিয়ে তার করা একটি মন্তব্য মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয় পুরো আসর।

৬৭ বছর বয়সী লাকি আলী কনসার্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। এমনকি ভ্রমণের সময়ও সঙ্গে ইহরামের কাপড় রাখেন, যা তিনি নিজের কাফনের কাপড় হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভক্তদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে লাকি আলী বলেন, ‘আমি জানি, আমিও তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। একদিন আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে। আমি তোমাদের তার জন্য প্রস্তুত করছি না, তবে আমি নিজে প্রস্তুত। আমি যখনই ভ্রমণ করি, সঙ্গে ইহরাম রাখি, যেটি আমার কাফনের কাপড়। যেখানেই আমার মৃত্যু আসুক, সেখানেই আমাকে ছেড়ে দিও।’

শিল্পীর এমন আধ্যাত্মিক বক্তব্যে আবেগঘন হয়ে ওঠে কনসার্টের পরিবেশ। একপর্যায়ে দর্শকসারির এক অনুরাগী আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চিৎকার করে বলেন, ‘৩০ বছর হয়ে গেল। আমি লাকিকে কখনো ছাড়িনি।’

কনসার্টের এই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন লাকি আলী। ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় শিল্পীর এমন বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে নানা মন্তব্য করেন ভক্তরা। কেউ তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন, আবার কেউ তার বক্তব্যের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন।

নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন ধারার সংগীতের মাধ্যমে ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে আলাদা পরিচয় তৈরি করেন লাকি আলী। কিংবদন্তি অভিনেতা মেহমুদের ছেলে হয়েও বলিউডের প্রচলিত ধারায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। বরং স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে তৈরি করেছেন নিজের আলাদা শ্রোতাগোষ্ঠী।

‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’, ‘ইউভা’, ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘আনজানা আনজানি’ ও ‘তামাশা’র মতো সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন লাকি আলী। তবে তার গাওয়া ‘ও সানাম’ গানটি এখনো সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

২০১৫ সালের পর থেকে বলিউড ও মূলধারার বাণিজ্যিক সংগীত থেকে কিছুটা দূরে সরে নিজের মতো করে স্বাধীন সংগীতচর্চায় মনোনিবেশ করেন এই শিল্পী। ব্যক্তিগত জীবনেও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। তিনবার বিয়ে করলেও কোনো সম্পর্কই স্থায়ী হয়নি। তবে সাবেক স্ত্রীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং সন্তানদের প্রতিও দায়িত্বশীল থেকেছেন বলে জানা যায়।

কালের আলো/এসএ

২০ কোটি পারিশ্রমিক নয়, সিনেমার প্রযোজক হতে চান শ্রদ্ধা কাপুর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
২০ কোটি পারিশ্রমিক নয়, সিনেমার প্রযোজক হতে চান শ্রদ্ধা কাপুর

বলিউডে তারকাদের পারিশ্রমিক নেওয়ার প্রচলিত ধরনে পরিবর্তন আসছে। সিনেমায় অভিনয়ের বিনিময়ে এককালীন বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক নেওয়ার পাশাপাশি এখন অনেক তারকাই সিনেমার লাভ, স্বত্বাধিকার ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অংশীদার হচ্ছেন। এবার সেই পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর।

‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’খ্যাত উদ্যোক্তা অশনির গ্রোভারের জীবন নিয়ে নির্মিতব্য বায়োপিকে তার স্ত্রী মাধুরী জৈন গ্রোভারের চরিত্রে অভিনয় করার কথা রয়েছে শ্রদ্ধার। সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন রাহুল মোদি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য শ্রদ্ধাকে প্রায় ২০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবর বলছে, এককালীন এই বিশাল অঙ্কের পারিশ্রমিক নেওয়ার পরিবর্তে সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছেন অভিনেত্রী।

এ ক্ষেত্রে শুরুতে নির্দিষ্ট কোনো পারিশ্রমিক না-ও নিতে পারেন শ্রদ্ধা। পরিবর্তে সিনেমার স্বত্ব, ওটিটি বিক্রি ও বক্স অফিস থেকে অর্জিত লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার সুযোগ থাকবে তার। সিনেমাটি ব্যবসাসফল হলে এই মডেলে শ্রদ্ধার আয় প্রস্তাবিত ২০ কোটি রুপির চেয়েও বেশি হতে পারে।

বলিউডে অবশ্য এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেল একেবারে নতুন নয়। সম্প্রতি অক্ষয় কুমারও এমন কাঠামো থেকে লাভবান হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সিনেমায় তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক নিয়ে সিনেমাটির বড় একটি অংশের স্বত্ব নিজের ও তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নামে রেখেছিলেন তিনি। সিনেমাটি সফল হওয়ার পর লাভের অংশ হিসেবে তার আয় ৩৫ কোটি রুপির বেশি হয়েছে বলে জানা যায়।

অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি শাহরুখ খান, আমির খান, সালমান খান, অজয় দেবগন ও রণবীর সিংয়ের মতো শীর্ষ তারকারাও শুধু নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের ওপর নির্ভর না করে সিনেমার লাভের অংশীদার হওয়ার মডেলের দিকে ঝুঁকছেন। এতে সিনেমা সফল হলে তারকাদের আয়ের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়ার সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে সিনেমা ব্যবসায় প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলে ঝুঁকির অংশও নিতে হয় তাদের।

এদিকে শ্রদ্ধা কাপুর বর্তমানে তার পরবর্তী সিনেমা ‘ইথা’র শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। জানা গেছে, সিনেমাটির জন্য তিনি ১২ থেকে ১৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

তবে অশনীর গ্রোভারের বায়োপিকের ক্ষেত্রে শ্রদ্ধা শেষ পর্যন্ত ২০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেবেন, নাকি প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়ে সিনেমার লাভের অংশীদার হবেন—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে অভিনেত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর এখন।

কালের আলো/এসএ