খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্যাসিবাদ সরকার সব ধ্বংস করে গেছে এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদ সরকার সব ধ্বংস করে গেছে এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সকল ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবকাঠামো দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির সঙ্গে সমন্বিত করেছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জননীতির দিকে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সব সময় বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়নে- স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটিই মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) কিংবা বর্তমানের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) ভিশন ও মিশনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, এসডিজি’র প্রতিপাদ্য ‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’ কিংবা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে। তিনি বলেন, সকল শ্রেণি পেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’র মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন এসডিজি’র এই মূল অগ্রাধিকারগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বা রিকোভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন এই থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর- সবকিছুই একটি সুসংহত নকশায় বাস্তবায়িত হবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণজনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারাদেশে ইমাম মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয়গুরুদেরকেও সম্মানি ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো না কোনো উপায়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারপ্রধান বলেন, এভাবে চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।

‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের একটি পাইলট মডেল হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, এই উদ্যোগের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সারাদেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এসডিজি ভিলেজ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।

কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা। তিনি বলেন, আশা করি, তিনদিনের এই সম্মেলনে প্রতিটি সমন্বয়কারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের অভীষ্টভিত্তিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। এর একটি হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা। আরেকটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার হবে সর্বজনীন। এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র: বাসস

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ঘনিষ্ঠ ও জরুরি বন্ধু: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ঘনিষ্ঠ ও জরুরি বন্ধু: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবিক অর্থেই আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং জরুরি বন্ধু ও মিত্র।

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় বরিশালের গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চে আয়োজিত আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের উপস্থিতিতে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই এলাকার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আমরা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আবাস এলাকা হিসেবে একইসঙ্গে বসবাস করছি। আমাদের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি দীর্ঘদিন ধরে আমরা চর্চা করছি এবং বহন করছি, যা আজকের এই আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন করে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, আমাদের দেশ তুলনামূলকভাবে একটি অর্থনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, মার্কিন সরকারের তুলনায়। আমাদের এই অর্থনৈতিক সংগ্রামকে একটি সমৃদ্ধিশালী অর্থনীতিতে যদি আমরা নিতে চাই, তাহলে আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার।

সেই কারণে আমাদের দেশের সব বাসিন্দাদের মধ্যে একটি সামাজিক সম্প্রীতির সম্পর্ক দরকার। ফলে এটা কেবলমাত্র সুখ-শান্তির ব্যাপার নয়, এটা দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধিরও বিষয়।

আমরা যদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি করতে না পারি, তাহলে আমাদের নাগরিকদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারব না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে পণ্য উৎপাদন করে, সেটা আমরা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করি একক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

আমাদের দেশের অনেক অভিবাসীও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেন এবং সেখান থেকে তারা প্রচুর পরিমাণে রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। ফলে গার্মেন্টস রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

একইসঙ্গে আমাদের দেশে যে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই), সেক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে সবার আগে। তারা আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ফলে এই বিনিয়োগের টাকাও আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রক্রিয়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সেই বিবেচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবিক অর্থেই আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং জরুরি বন্ধু ও মিত্র। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

ঘণ্টাব্যাপী চলা সংলাপে চার্চের ফাদার লিটন ফ্রান্সিস গোমেজের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, বশির আহম্মেদ পান্না, ধর্মীয় নেতা মাওলানা আসাদুজ্জামান, যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রী ও ফাদার মাইকেল দেউরি।

সংলাপ শেষে দুপুরে তথ্যমন্ত্রীর গৌরনদী উপজেলার সরিকলস্থ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রদূত সস্ত্রীক গৌরনদীতে আসায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী।

সংলাপ শেষে গৌরনদী উপজেলার সরিকল এলাকায় তথ্যমন্ত্রীর বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী। রাষ্ট্রদূতের গৌরনদী সফরে আসায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১০ আগস্ট) এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ মিশনকে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুততম সময়ে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, রোববার (৯ আগস্ট) রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। সূত্র: বাসস।

কালের আলো/এসএকে

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এ আর রহমানের ছেলে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এ আর রহমানের ছেলে

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অস্কারজয়ী সুরকার ও সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের ছেলে আমিন। তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় কাঠিপাড়া ফ্লাইওভারের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আমিনের গাড়ি। কোয়েম্বাটোরের দিকে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে তার পোর্শে গাড়ির সংঘর্ষ হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি ওয়াগনার আর পাশের রাস্তা থেকে মূল সড়কে ওঠার সময় আমিনের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে আমিনের এক বন্ধুও ছিলেন। সংঘর্ষে দুজনই সামান্য আহত হন।

দুর্ঘটনার পর আমিন ও তার বন্ধুকে কাবেরী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তারা বাড়ি ফিরে যান।

অন্যদিকে ওয়াগনার আর গাড়িতে থাকা ব্যক্তিকেও দুর্ঘটনার পর একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে দুর্ঘটনাকবলিত দুটি গাড়িই আদিয়ার ট্রাফিক ইনভেস্টিগেশন উইংয়ের পুলিশ জব্দ করেছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে এ আর রহমানের ছেলে হিসেবে পরিচিতির বাইরে গিয়ে সংগীতজগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে কাজ করছেন আমিন। ২০১৫ সালে মণিরত্নমের একটি দক্ষিণী সিনেমার গানে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে তার অভিষেক হয়।

এরপর বিভিন্ন ভাষা ও ঘরানার সংগীতে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন আমিন। বাবার আন্তর্জাতিক কনসার্ট সফরেও নিয়মিত মঞ্চে পারফর্ম করেন তিনি। সম্প্রতি রাম চরণ অভিনীত ‘পেড্ডি’ সিনেমার একটি গানের তামিল সংস্করণেও কণ্ঠ দিয়েছেন আমিন। পাশাপাশি বিভিন্ন মিউজিক অ্যালবামেও তার কণ্ঠ প্রশংসিত হয়েছে।

কালের আলো/এসএ