অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়লেন তানজিদ
কাল পেসার হাসান মাহমুদের দাপট, আজ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের আলোচনার কেন্দ্রে তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে বাঁহাতি এই ওপেনার জানিয়ে দিলেন—টেস্ট ক্রিকেটেও তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে প্রস্তুত।
ডারউইনের সবুজ উইকেটে প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও শন অ্যাবটদের মতো অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামলে ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেছেন তানজিদ। ১৮৮ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে গড়েছেন নতুন এক ইতিহাস—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান তিনি।
গত মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তানজিদের। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি এরই মধ্যে নিজেকে পরিচিত করে ফেলেছেন। ৪০ ওয়ানডেতে একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে ৯টি ফিফটি। ৫৩ টি-টোয়েন্টিতে করেছেন ১৩টি ফিফটি। টেস্টে দেখার অপেক্ষা ছিল, এই সংস্করণে তিনি কতটা মানিয়ে নিতে পারেন।
ডারউইনে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তানজিদ ব্যাট হাতেই।
মুমিনুল হকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে তাঁর ১০২ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়। এরপর নাজমুল হোসেনের সঙ্গে ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। ড্রাইভ, পেছনের পায়ে ভর করে পাঞ্চ কিংবা ওয়েবস্টারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারা ছক্কা—সবকিছুতেই ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ।
তানজিদের প্রথম ৫০ রান আসে ১০২ বলে, পাঁচটি চারে। পরের ৫০ রান করতে মাত্র ৮৬ বল খেলেন তিনি। এই সময়ে মেরেছেন আরও তিনটি চার ও একটি ছক্কা। সেঞ্চুরি করার পর ১০১ রানেই থামতে হয় তাঁকে।
তাঁর সেঞ্চুরির আরেকটি বিশেষত্ব, এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ডও অক্ষত থাকল। মুমিনুলের সঙ্গে তানজিদের ১০২ রানের জুটি অল্পের জন্য ভাঙতে পারেনি ২০০৩ সালে কেয়ার্নসে হাবিবুল বাশার ও হান্নান সরকারের গড়া ১০৮ রানের রেকর্ড।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে শেষ করার পর বাংলাদেশ আগের দিনই ১ উইকেটে ৯৬ রান করেছিল। দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে মুমিনুল ও তানজিদ মিলে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের আরও চাপে ফেলেন। অথচ প্রথম দিনের শেষে স্টিভেন স্মিথ বলেছিলেন, ডারউইনের উইকেট ‘ট্রিকি’ এবং বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং সহজ হবে না।
তবে তানজিদের ব্যাটিংয়ে সেই ‘ট্রিকি’ উইকেটের ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি। গতি, বাউন্স, সুইং কিংবা অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডারদের কথার চাপ—কোনোটিই যেন তাঁর মনোযোগ নষ্ট করতে পারেনি।
মজার ব্যাপার, তানজিদের সেঞ্চুরিতে স্মিথেরও সামান্য অবদান আছে। ব্যক্তিগত ৬২ রানের সময় স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন তানজিদ। কিন্তু সেটি নিতে পারেননি স্মিথ। শেষ পর্যন্ত সেই জীবনই কাজে লাগিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাংলাদেশের ওপেনার।
ডারউইনের ‘ট্রিকি’ উইকেটে তাই শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা উইকেট নিয়ে নয়, বরং তানজিদের ব্যাটিং নিয়েই—দ্বিতীয় টেস্টেই যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের বোলিং সামলেছেন, তাতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন এক নির্ভরতার নাম হয়ে উঠতে যাচ্ছেন কি না, সেই আলোচনাই এখন সবচেয়ে বেশি।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array