খুঁজুন
                               
, ,
           

বীর ইউনিটকে আরও কার্যকর পদাতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
বীর ইউনিটকে আরও কার্যকর পদাতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা সেনাপ্রধানের

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক শক্তিকে আরও সুসংগঠিত, দক্ষ ও কার্যকর করে তুলতে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের (বীর) সদস্যদের দেশমাতৃকার সেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বীর ইউনিটগুলো ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর পদাতিক বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (বিআইআরসি) শহীদ নকীব হলে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ২১তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা ও প্রত্যাশার কথা জানান।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সম্মেলনে সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়কদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি ইউনিটগুলোর কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সদস্যদের দেশ ও জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বে গুরুত্ব
সেনাপ্রধানের বক্তব্যে শুধু দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাই নয়, বরং একটি দক্ষ ও পেশাদার পদাতিক বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যাশাও প্রতিফলিত হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে পদাতিক বাহিনীর ভূমিকা বহুমাত্রিক হওয়ায় প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে সেনাপ্রধান মূলত ইউনিটগুলোর বিদ্যমান সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি তা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

পদাতিক বাহিনীর মেরুদণ্ড’ হওয়ার প্রত্যাশা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে পদাতিক বাহিনীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে বীর ইউনিটগুলোকে পদাতিক বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা সেনাপ্রধানের বক্তব্যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি শুধু একটি প্রশংসাসূচক মন্তব্য নয়; বরং ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটগুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপেরও ইঙ্গিত দেয়। কার্যকর প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে এসব ইউনিট সেনাবাহিনীর সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

দায়িত্বশীলতা ও দেশসেবার বার্তা
সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় দেশসেবা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিও দায়িত্বশীল থাকার বিষয়টি এ বার্তার গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে অধিনায়ক সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক আয়োজনে ইউনিট পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সেনাবাহিনীর নীতিগত নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সম্মেলনে অনুষ্ঠানে আর্টডকের ভারপ্রাপ্ত জিওসি মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান, ইবিআরসি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ, সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সাজেদুর রহমান, বিআইআরসি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আফতাব হোসেন, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ, এসআইএন্ডটি’র কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মাহমুদুল কবিরসহ সেনাসদর ও সংশ্লিষ্ট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা; বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের অধিনায়ক এবং বিভিন্ন সংস্থার সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ২১তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন শুধু একটি নিয়মিত সামরিক আয়োজন নয়; বরং প্রশিক্ষণ, পেশাদারিত্ব, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং দেশসেবার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। সেনাপ্রধানের প্রত্যাশা অনুযায়ী বীর ইউনিটগুলো যদি এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নয়ন ধরে রাখতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা, রাতে কমতে পারে তাপমাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা, রাতে কমতে পারে তাপমাত্রা

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাতের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৯ শতাংশ।

মঙ্গলবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকায় মঙ্গলবার সূর্যাস্ত হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে। বুধবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কেন্দুয়ায় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নেএকোনা(কেন্দুয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কেন্দুয়ায় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

‘রাখি চারপাশ পরিষ্কার, করি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিকার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উদ্বোধনের পর সংসদ সদস্য নিজেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

এ সময় ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সড়ক ও আশপাশে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা স্থান এবং এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য উৎসগুলো পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে কেন্দুয়া পৌরসভা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন N1 Kendua। কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আমদানিতে বড় ছাড়, বাড়ছে নিয়মের শৃঙ্খলা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
আমদানিতে বড় ছাড়, বাড়ছে নিয়মের শৃঙ্খলা

ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সহজ করা, আমদানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সামঞ্জস্য জোরদার করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’ জারি করেছে সরকার। সোমবার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেটে প্রকাশিত নতুন নীতিতে একদিকে আমদানিকারকদের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে, অন্যদিকে পণ্যের উৎপত্তি, মান, পরীক্ষণ, সনদ ও বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পালনে আনা হয়েছে আরও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা।

আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ আদেশ ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নতুন নীতির সামগ্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের লক্ষ্য শুধু আমদানির বাধা কমানো নয়; বরং ব্যবসার পরিবেশকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানো।

মোটরসাইকেলে বড় পরিবর্তন
নতুন নীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি মোটরসাইকেল আমদানিতে। এখন সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে। আগের ২০২১–২০২৪ সালের নীতিতে এ সীমা ছিল ১৬৫ সিসি। অর্থাৎ এক লাফে আমদানিযোগ্য মোটরসাইকেলের সিসি সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

এর ফলে দেশের মোটরসাইকেল বাজারে বড় ইঞ্জিনের মডেলের সরবরাহ বাড়তে পারে। ভোক্তাদের সামনে যেমন নতুন মডেলের বিকল্প তৈরি হবে, তেমনি আমদানিকারকদের জন্যও নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এর প্রভাব শুধু বাজারে নতুন মডেল আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বড় সিসির মোটরসাইকেলের আমদানি বাড়লে সংশ্লিষ্ট শুল্ক, রাজস্ব, বাজার প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় সংযোজন বা উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এলসি ছাড়াই চুক্তিতে আমদানির সুযোগ
নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ। এখন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা এলসি খোলার পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন।

ব্যবসার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিটি লেনদেনের জন্য একই ধরনের অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর নয়। কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহকারী ও ক্রেতার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক, চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ কিংবা বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।

মূল্যসীমা তুলে দেওয়ার ফলে এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের নমনীয়তা বাড়বে। বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও নিয়মিত সরবরাহ প্রয়োজন এমন পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুবিধার সঙ্গে বাড়ছে দায়ও
তবে নীতির এই শিথিলতাকে শুধু ‘আমদানিতে ছাড়’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। নতুন কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—ব্যবসা সহজ করার সঙ্গে সঙ্গে নথিপত্র ও তথ্যের দায়ও বাড়ানো হয়েছে। পণ্যের উৎপত্তি, মান, স্পেসিফিকেশন, পরীক্ষণ, পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট সনদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে আমদানিকারকদের শুধু পণ্য আনার ব্যবস্থা করলেই হবে না; পণ্য কোথায় উৎপাদিত, কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে এবং নির্ধারিত মান পূরণ করছে কি না—এসব তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করতে হবে।

এতে একদিকে ভুয়া উৎপত্তি, ভুল ঘোষণা বা নিম্নমানের পণ্য আমদানির ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে প্রস্তুতিমূলক কাগজপত্র ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনায় দুর্বল ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

‘পণ্যের দেশ’ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি পণ্যের Country of Origin বা উৎপত্তির দেশ নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো পণ্য এক দেশে তৈরি হয়ে অন্য দেশে সংযোজন, প্রক্রিয়াজাত কিংবা পুনঃরপ্তানি হলে প্রকৃত উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। নতুন আমদানি নীতিতে এ বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের জন্য উৎপত্তি সনদ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের যথার্থতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠবে।

এটি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি যাচাইয়ের প্রয়োজনও বাড়বে। সঠিক নথিপত্র না থাকলে বিশেষ শুল্ক সুবিধা কিংবা বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মানের প্রশ্নে ছাড় নয়
আমদানির পরিমাণ বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, আমদানি করা পণ্যের মান নিশ্চিত করাও ততটাই জরুরি। নতুন নীতিতে পণ্যের স্পেসিফিকেশন, পরীক্ষণ ও পরিদর্শনের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পাশাপাশি Technical Barriers to Trade (TBT), Codex Alimentarius এবং বিএসটিআই-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, বিশেষ করে খাদ্য, ভোগ্যপণ্য ও মাননিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের শুধু আমদানির অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি দেখলেই চলবে না; পণ্যের মান ও প্রয়োজনীয় সনদের বিষয়টিও আগেই নিশ্চিত করতে হবে।

ভোক্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ইতিবাচক হতে পারে। আমদানির প্রক্রিয়া সহজ হলেও মান নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে বাজারে নিম্নমানের বা অনিরাপদ পণ্যের প্রবেশের ঝুঁকি থাকে। নতুন নীতির কাঠামো সেই জায়গায় একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে।

বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা, তবে শর্তসাপেক্ষ
নতুন নীতিতে এফটিএ, সিইপিএ, ইপিএ, পিটিএ ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাও। কোনো বাণিজ্য চুক্তির আওতায় শুল্ক সুবিধা পাওয়া গেলে শুধু চুক্তি থাকলেই হবে না; পণ্যের উৎপত্তির নিয়ম, প্রয়োজনীয় সনদ এবং অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

অর্থাৎ নতুন নীতির বার্তা অনেকটা এমন—আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দরজা আরও খোলা হবে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে প্রবেশের নিয়মও স্পষ্টভাবে মানতে হবে।

মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
নতুন আদেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমদানি সুবিধা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আমদানিকে শুধু ভোগের সঙ্গে না দেখে উৎপাদন ও রপ্তানির সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দ্রুত ও সহজে কাঁচামাল সংগ্রহ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় ও সময় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের জন্য আসল পরীক্ষা বাস্তবায়নে
নতুন আমদানি নীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বাস্তবায়ন। কাগজে নিয়ম সহজ হলেও মাঠপর্যায়ে যদি একই ধরনের তথ্য বারবার চাওয়া হয়, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা থাকে কিংবা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হয়, তাহলে নীতির কাঙ্ক্ষিত সুফল ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি পাবেন না। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদেরও আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কমপ্লায়েন্স, তথ্য সংরক্ষণ, উৎপত্তি সনদ, মান যাচাই ও সঠিক নথিপত্রে। অর্থাৎ নতুন নীতিতে ‘সহজ আমদানি’ মানেই ‘কম দায়িত্ব’ নয়।

সব মিলিয়ে আমদানি নীতি ২০২৬–২০২৯ বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোটরসাইকেল আমদানির সীমা বাড়ানো কিংবা চুক্তিভিত্তিক আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি আনতে পারে। একই সঙ্গে উৎপত্তি, মান ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির শর্তকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে আমদানি ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। চ্যালেঞ্জ এখন একটাই—নীতির সুবিধা যেন কাগজে আটকে না থাকে। আমদানি প্রক্রিয়া সত্যিই দ্রুত, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করা গেলে নতুন নীতি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। আর বাস্তবায়নে জটিলতা থেকেই গেলে নতুন নিয়মও পুরোনো আমলাতান্ত্রিক বাধার কাছে তার কাঙ্ক্ষিত কার্যকারিতা হারাতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ