খুঁজুন
                               
, ,
           

তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করেছে প্রধান বিরোধীদলসহ জোটের সংসদ সদস্যরা। সংবিধান সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি সদস্যদের দিবসে সরকারি বিল উত্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে তারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলাকালে এই ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে।

ওয়াকআউটের আগে দেওয়া বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কারখানা বন্ধের মতো জনদুর্ভোগ নিয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুরোধ আমলে নেওয়া হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের ৭০ শতাংশের রায় পাওয়া সংবিধান সংস্কারের বিষয়টিও উপেক্ষিত হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার বেসরকারি সদস্যদের জন্য নির্ধারিত দিবস হওয়া সত্ত্বেও সরকারি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সংসদকে একপেশে করে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার ও নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল বা ল্যাপস হওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা নীতিগতভাবে এ ধরনের খণ্ডিত বিলে অংশগ্রহণ করতে চাই না। আমরা আশঙ্কা করছি, এর মাধ্যমে সংস্কারের মূল দাবিকে চাপা দেওয়া হবে।’

সংস্কারের মূল দাবি বাস্তবায়নের পক্ষে বিরোধীদলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা খণ্ডিত কোনো প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাই না। তাই এই পর্বে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’

তবে পরবর্তীতে জনস্বার্থে বিরোধীদলের দেওয়া চারটি নোটিশ নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হলে তারা আবার সংসদে যোগ দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মূল্যস্ফীতি কমেছে, বাজারের আগুন কমেনি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
মূল্যস্ফীতি কমেছে, বাজারের আগুন কমেনি

মূল্যস্ফীতির হার কমছে—সরকারি পরিসংখ্যান অন্তত সেই বার্তাই দিচ্ছে। কিন্তু বাজারের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। চাল, ডিম, চিনি, পোলাওয়ের চাল থেকে শুরু করে সাবান-ডিটারজেন্ট—নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই আগের তুলনায় বেশি। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার খবর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এখনো স্বস্তি আনতে পারেনি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে, যা আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে, যা নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে। কিন্তু এখানেই রয়েছে পরিসংখ্যান ও বাস্তব জীবনের বড় পার্থক্য।

মূল্যস্ফীতির হার কমেছে মানেই পণ্যের দাম কমেছে—এমন নয়। বরং আগের তুলনায় দাম যে হারে বাড়ছে, সেই বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। দীর্ঘ সময়ের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারের সামগ্রিক মূল্যস্তর যে জায়গায় পৌঁছেছে, সেখানেই রয়েছে বড় চাপ।

আয় বাড়ছে, ক্রয়ক্ষমতা কমছে
সাধারণ মানুষের সংকটের সবচেয়ে বড় জায়গা আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান। জুলাইয়ে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ গড়ে মানুষের আয় যতটা বাড়ছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে তার চেয়েও বেশি হারে। আর এই ব্যবধান এক মাসের নয়। টানা ৫৩ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে রয়েছে। ফলে বেতন বা মজুরি বাড়লেও বাস্তবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে না। বরং একই আয় দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে। মধ্যবিত্তের সঞ্চয় কমছে, নিম্নআয়ের মানুষের সংসার চালাতে গিয়ে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানও মনে করেন, মূল্যস্ফীতি কমলেও মূল্যস্তর এখনো অনেক উঁচুতে রয়েছে। তাঁর মতে, উচ্চ মূল্যস্তরের ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতি যোগ হচ্ছে বলেই মানুষের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

বাজারে কমেনি নিত্যপণ্যের চাপ
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পণ্যের দাম বরং বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, আগে প্রতি কেজি চিনি পাইকারিতে ১০০ টাকা দরে কিনে ১২০ টাকায় বিক্রি করা হলেও এখন পাইকারিতেই প্রায় ১২০ টাকা দিতে হচ্ছে। ডিমের দামও ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকার কাছাকাছি উঠেছে। সিদ্ধ চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। পোলাওয়ের চালের দাম ১৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৫ টাকা হওয়ার পর বর্তমানে কোনো কোনো বাজারে ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সাবান, ডিটারজেন্টসহ গৃহস্থালি পণ্যের দাম। ফলে চাল বা মাংসের মতো কয়েকটি পণ্যের দাম কমার সুফল অন্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দিয়ে অনেকটাই মুছে যাচ্ছে।

জ্বালানি সংকটও বাড়াচ্ছে ব্যয়
নিত্যপণ্যের বাজারে চাপের পেছনে শুধু সরবরাহ ঘাটতি নয়, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। এরপর চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি এবং সবশেষ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুনের ঘটনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে পড়ে। ফলে জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা না এলে নিত্যপণ্যের বাজারেও স্থায়ী স্বস্তি ফেরানো কঠিন।

সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯২ শতাংশে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমার অন্যতম কারণ হিসেবে চাল ও মাংসের দাম কমার কথা উল্লেখ করেছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্ধারিত হয় আরও বিস্তৃত পণ্য ও সেবার দামের ওপর। একটি পরিবারের মাসিক বাজেটে শুধু চাল-মাংস নয়; ডিম, মাছ, সবজি, পরিবহন, বাসাভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ও গৃহস্থালি পণ্যের ব্যয়ও থাকে। এসব খাতে চাপ থাকলে একটি-দুটি পণ্যের দাম কমে সামগ্রিক সংসার খরচে বড় স্বস্তি আসে না।

মূল্যস্ফীতি কমানোর পাশাপাশি দরকার মূল্যস্তর নিয়ন্ত্রণ
সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ শুধু মূল্যস্ফীতির হার কমানো নয়, বরং বাজারের উচ্চ মূল্যস্তরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা। এর জন্য উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা, পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানুষের আয় ও মজুরি বৃদ্ধির হার যেন দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, সেই পরিবেশও তৈরি করতে হবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে যদি মানুষের আয় বৃদ্ধির চেয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি বাড়ে, তাহলে মূল্যস্ফীতি কমলেও অর্থনৈতিক স্বস্তি আসবে না। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনীতির সাফল্যের মাপকাঠি কোনো একটি পরিসংখ্যান নয়। মাপকাঠি হলো—মাসের আয় দিয়ে মাসের বাজার কতটা সহজে করা যাচ্ছে।সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। তাই সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও মানুষের জীবনে বাজারের আগুন এখনো পুরোপুরি নেভেনি।

কালের আলো/এম/এএইচ

তৃণমূলকে শক্তিশালী করাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য: আলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
তৃণমূলকে শক্তিশালী করাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য: আলাল

তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের দৃষ্টান্ত বিএনপিই তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান—বিএনপির নেতৃত্ব তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংগঠনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ এ অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম পুরোনো কাঠামো। নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

আলাল আরও বলেন, জনকল্যাণে এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে পৌঁছাতে বিএনপির নেতৃত্ব বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তারেক রহমানের ২০০৪ সালের ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকার ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, দাবিগুলো সুনির্দিষ্টভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের কাছে এসব দাবি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আলাল বলেন, বর্তমান বাজারব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করার কথাও জানান তিনি।

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়, জনবল ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন আলাল। উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি সার মজুত আছে: কৃষিমন্ত্রী

ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি সার মজুত আছে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই, আমরা চাহিদার তুলনায় আগামী চার মাসের জন্য প্রয়োজনীয় সার অতিরিক্ত মজুত রেখেছি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও দুষ্কৃতিকারীরা মিলে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় পেঁয়াজ ও পাট চাষীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুর পেঁয়াজ উৎপাদনে করে দেশীয় চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণ করে। আমরা পেঁয়াজ চাষীদের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন দিয়েছি, যা দিয়ে দীর্ঘদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া আগামী মৌসুমের আগেই আরো অনেক চাষিদের এই এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ফরিদপুর পাট উৎপাদনে বিখ্যাত, পাটের সঠিক মূল্য যেন চাষিরা পান, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো চালুর জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরি নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন, জেলা বিএনপির আব কমিটির সদস্য ও মহানগর কৃষক দলের সভাপতি মামুন ও রশিদ মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চাষিরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ