খুঁজুন
                               
, ,
           

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনের নির্দেশ আইজিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনের নির্দেশ আইজিপির

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। একই সঙ্গে অপপ্রচার ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ত্রৈমাসিক সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি এসব নির্দেশনা দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অতিরিক্ত আইজি, সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, ‘সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’ কোনো ঘটনা ঘটার আগেই সে বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশ দেশের জন্য ও জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। তিনি পুলিশ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সম্মেলনে এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসের দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।

এ সময় ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যা, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণের মামলা, মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচারের ফলাফল এবং সাজার হার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ আক্রান্তের মামলাগুলোতে তদারকি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মুলতবি মামলা কমানোর পাশাপাশি সাজার হার বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নিখোঁজসংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইউনিটগুলোর কার্যক্রম নিয়ে নির্দেশনা

সভায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. মোস্তফা কামাল, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, র‍্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এবং বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান অতিরিক্ত আইজি সরদার নুরুল আমিনসহ বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানেরা তাদের নিজ নিজ ইউনিটের কার্যক্রম সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সম্মেলনে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ পালনের সময় প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২৬ জন পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ দেওয়া হয়। আইজিপি তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শিক্ষার মানে অনন্য, স্বীকৃতিতেও সেরা ময়মনসিংহ কমার্স কলেজ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
শিক্ষার মানে অনন্য, স্বীকৃতিতেও সেরা ময়মনসিংহ কমার্স কলেজ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬-এ শিক্ষার মান, সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে ময়মনসিংহ কমার্স কলেজ। একই সঙ্গে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন কলেজটির অধ্যক্ষ এখলাস উদ্দিন খান।

একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের ধারাবাহিক ফল হিসেবেই এ স্বীকৃতি এসেছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে পুরস্কার ও সনদপত্র গ্রহণ করেন ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ সায়েম এবং অধ্যক্ষ এখলাস উদ্দিন খান।

অধ্যক্ষ এখলাস উদ্দিন খান বলেন, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান শ্রেষ্ঠ এবং তিনি শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় তারা আনন্দিত ও গর্বিত। এ অর্জন শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে কাজ করা হবে।

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ কমার্স কলেজটি শহরের প্রাণকেন্দ্র নতুন বাজারে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

কলেজটিতে এইচএসসির পাশাপাশি বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিএমটি শাখায় পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস পালনসহ নানা সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু পরীক্ষার ফলাফলের দিকে নজর না দিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরিতেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রায় দুই দশকের পথচলায় ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও সাফল্যের গল্প। সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছেন এবং কর্মক্ষেত্রেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬-এ বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং একই সঙ্গে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে। এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।

অনিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
অনিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রুল জারি

সারাদেশে অনিবন্ধিত অবস্থায় থাকা ৩৩ হাজার ৬১৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (৩০ আগস্ট)এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. কাওসার হোসাইন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ৩৪ হাজার ৬১২টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে নিবন্ধন রয়েছে মাত্র ৯৯৮টির। অর্থাৎ বাকি ৩৩ হাজার ৬১৪টি বিদ্যালয়ই অনিবন্ধিত।’

কাওসার হোসাইন আরও বলেন, ‘দ্য রেজিস্ট্রেশন অব প্রাইভেট স্কুল অর্ডিন্যান্স-১৯৬২ অনুযায়ী, অনিবন্ধিত অবস্থায় কোনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার সুযোগ নেই। এই আইনের ৩ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে, নিবন্ধন ছাড়া স্কুল পরিচালনা করলে তা বন্ধ করে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।’

আইনজীবী জানান, এই বিশাল সংখ্যক বিদ্যালয় অনিবন্ধিত থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করা হয়।

আদালত শুনানি শেষে বিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ঋণের নামে সাড়ে ৫ হাজার কোটি উধাও, ভাঙছে সাদ-মুসা গ্রুপের অর্থজাল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
ঋণের নামে সাড়ে ৫ হাজার কোটি উধাও, ভাঙছে সাদ-মুসা গ্রুপের অর্থজাল

চট্টগ্রামের বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী সাদ-মুসা গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যাংকঋণের নামে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এখন পর্যন্ত সংস্থাটির অনুসন্ধানে দেশের ১২টি ব্যাংক থেকে ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া ও অর্থ সরিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধান শেষ না হওয়ায় এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীর ঋণখেলাপির ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। দুদকের অনুসন্ধান ও ইতোমধ্যে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অভিযোগে যে পদ্ধতির কথা উঠে এসেছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে ব্যাংকঋণ অনুমোদন ও তদারকির কাঠামো নিয়েও। এক প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়ার পর তা অন্য প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে দেওয়া, পুরনো ঋণ সমন্বয়, কাগুজে বিল-এলসির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন এবং একই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অর্থ ঘোরানোর অভিযোগ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে একটি জটিল ঋণচক্রের চিত্র।

শুরু ১২০ কোটি থেকে, ঋণ ছাড়াল দুই হাজার কোটি
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকের সঙ্গে সাদ-মুসা গ্রুপের ব্যবসায়িক সম্পর্ক শুরু হয় ১২০ কোটি টাকার কম্পোজিট ঋণসীমার মাধ্যমে। কয়েক দফা বাড়িয়ে এই সীমা দাঁড়ায় ৯৫৯ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে সাদ-মুসা হোমটেক্স অ্যান্ড ক্লথিং লিমিটেডের নামে অনুমোদন করা হয় ৪১৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ। অভিযোগ রয়েছে, ঋণের একটি অংশ প্রকৃত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে অন্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। রেডিয়াম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও অনুসন্ধানে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে খোলা হিসাব ভুয়া বিল লেনদেনে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। দুদকের হিসাবে, সাদ-মুসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নামে-বেনামে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওনা ছিল ১ হাজার ১৮০ কোটি টাকার বেশি।

চারটি ঘটনায় উঠে আসছে একই কৌশল
সাদ-মুসা গ্রুপের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যেসব মামলার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলো পাশাপাশি রাখলে একটি অভিন্ন পদ্ধতির অভিযোগ দেখা যায়। ন্যাশনাল ব্যাংকের ৪৫৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় অভিযোগ—ঋণের অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ মোহসিনসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। আসামিদের মধ্যে ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও কর্মকর্তারাও রয়েছেন। প্রাইম ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবিলি রোড শাখার ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ঘটনায়ও অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাইয়ের ঘাটতি। ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণের মধ্যে ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পূবালী ব্যাংকের প্রায় ৯৫ কোটি টাকার ঘটনায় আবার সামনে এসেছে কাগুজে বিল ও লোকাল এলসির ব্যবহার। এমএ রহমান ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজের নামে ঋণ নিয়ে ২৫টি লোকাল এলসির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদ মোহসিন, তার স্ত্রী এবং ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান আলাদা হলেও অভিযোগের কাঠামোতে মিল—ঋণ নেওয়া, অর্থের গতিপথ বদলানো এবং কাগুজে লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়া।

করোনার প্রণোদনার ৪০৪ কোটি নিয়েও অভিযোগ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অধ্যায় করোনাকালীন প্রণোদনা ঋণ। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সরকার যে বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছিল, সাদ-মুসা গ্রুপ সেই অর্থেরও অপব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ দুদকের। ২০২৫ সালের মে মাসে ৪০৪ কোটি টাকা উত্তোলন, আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মোহাম্মদ মোহসিনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, ভুয়া কাগজপত্র ও অনুমোদনবিহীন প্রক্রিয়ায় ঋণ নেওয়া হয়। ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন যাচাই না করেই ঋণ অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ। পরে অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর, ফ্লোর কেনা, পুরনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এখানেই প্রশ্নটি আরও বড়—যে অর্থ সংকটে থাকা প্রকৃত ব্যবসা ও শ্রমিকের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেটি যদি পুরনো দায় মেটানো বা অন্য কাজে চলে যায়, তাহলে প্রণোদনা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হলো?

ব্যাংকের ভেতরের ভূমিকা কতটা?
এই কেলেঙ্কারির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—অভিযোগ শুধু ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে নয়। বিভিন্ন মামলায় ব্যাংকের পরিচালক ও কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদনের সময় গ্রাহকের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসার নগদ প্রবাহ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও পারস্পরিক লেনদেন কতটা যাচাই করা হয়েছিল? একই গোষ্ঠীর একাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর হয়ে থাকলে ব্যাংকের নজরদারি ব্যবস্থায় তা শনাক্ত হওয়ার কথা। অথচ অভিযোগ অনুযায়ী, একই ধরনের লেনদেন বিভিন্ন পর্যায়ে চলেছে। এতে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি কাঠামো নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জামানত কতটা নিরাপদ?
বিএফআইইউর অনুসন্ধানেও সাদ-মুসা গ্রুপের ঋণের বিপরীতে থাকা সম্পদ, কারখানা ও শিল্পপার্কের জমি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাদ-মুসা শিল্পপার্কে প্রায় ২০০ বিঘা জমির কথা উঠে এলেও বিপুল ঋণের তুলনায় এসব সম্পদের জামানত মূল্য যথেষ্ট কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ঋণ খেলাপি হলে কাগজে থাকা সম্পদ আর বাস্তবে দ্রুত উদ্ধারযোগ্য অর্থ—দুটি এক বিষয় নয়। সম্পদের প্রকৃত বাজারমূল্য, মালিকানা, দায় এবং আইনি জটিলতা ঋণ আদায়ের সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সাদ-মুসা গ্রুপের বাইরেও যে প্রশ্ন
দুদকের অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি। ফলে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার এই অঙ্কই চূড়ান্ত নয়। আরও প্রতিষ্ঠান, আরও ঋণ এবং অর্থের আরও গতিপথ সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এরই মধ্যে যে চিত্রটি স্পষ্ট, তা হলো—এটি শুধু একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নয়; একই সঙ্গে এটি ব্যাংকিং খাতে ঋণ অনুমোদন, গ্রাহক যাচাই, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের জবাবদিহির বড় পরীক্ষাও। তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে সাদ-মুসা গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঋণ অনুমোদন ব্যবস্থার দুর্বলতাও নতুন করে সামনে আসবে। আর অর্থ উদ্ধার না হলে প্রশ্নটি আরও কঠিন হবে—সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার দায় শেষ পর্যন্ত বহন করবে কে? শেষ পর্যন্ত তাই সাদ-মুসা গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির আসল গল্প শুধু ‘কত টাকা নেওয়া হয়েছে’ তা নয়; বরং কীভাবে এত টাকা নেওয়া সম্ভব হলো, কোথায় গেল সেই অর্থ এবং এতদিন তা ঠেকানো গেল না কেন—উত্তর খুঁজতে হবে এই তিন প্রশ্নের মধ্যেই।

কালের আলো/এম/এএইচ