খুঁজুন
                               
, ,
           

অর্থের পেছনে না ছুটে যোগ্য আইনজীবী হওয়ার পরামর্শ আইনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
অর্থের পেছনে না ছুটে যোগ্য আইনজীবী হওয়ার পরামর্শ আইনমন্ত্রীর

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনজীবীদের পেশাগত জীবনে সবকিছুকে অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী নবীন আইনজীবীদের মেধা, সততা ও পরিশ্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুরুতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। সময়ের সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বাড়বে।

তিনি বলেন, পেশাগত জীবনের শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে নিজেকে একজন যোগ্য আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়।

মেধা, সততা, নীতি-নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় স্বচ্ছতার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় কোনো ধরনের নেপোটিজমের সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে ইউএপির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সম্মাননাপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির আইন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি

বিদ্যুৎখাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎখাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি রিজভীর

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তির আইন পাস করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে; কোনো খাতই এর বাইরে থাকতে পারে না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও বাস্তবায়ন’।

বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির তাগিদ
রিজভী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহি জনগণের কাছে থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো খাতে অনিয়মের সুযোগ থাকলে তা দূর করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

শতভাগ বিদ্যুতের দাবি, তবু বঞ্চিত অনেক মানুষ
দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য, অনেক দরিদ্র পরিবারকে বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। ফলে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দিয়ে হতদরিদ্র মানুষের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণ করতে হলে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা এবং পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা এক বিষয় নয়—তাই তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মানুষের প্রকৃত জীবনযাত্রার পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

গবেষণার ফল যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব
বিদ্যুৎ ব্যবহার ও দারিদ্র্য নিরূপণ নিয়ে আয়োজকদের গবেষণাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তাঁর মতে, গবেষণার মাধ্যমে নতুন ধারণা ও প্রশ্ন সামনে আসা প্রয়োজন। কোনো পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে না নিয়ে তা যাচাই-বাছাই করা জরুরি। তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল মূল্যায়নের সময় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং মানুষের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে নীতিনির্ধারণে আরও বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা মিলতে পারে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হলে সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, বিকল্প উৎসের ওপর জোর
রিজভী বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহসহ সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি এ পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান। দেশ এগিয়ে যাবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গণসংলাপে ক্যাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসংলাপে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম। এ ছাড়া গবেষণার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আলোচনায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের বাস্তব চিত্র, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিদ্যুৎপ্রাপ্তি, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা এবং বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জাপানি বিনিয়োগ টানতে নতুন খাতের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
জাপানি বিনিয়োগ টানতে নতুন খাতের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন শিল্প খাতে ব্যবসার সুযোগ তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান
বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা প্রত্যাশা
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণেও জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে প্রচলিত রপ্তানি খাতের পাশাপাশি নতুন পণ্য ও শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে ঐকমত্য
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে। চুক্তিটির মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণের উদ্যোগ তরুণদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এসব উদ্যোগ দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বিষয়টি দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় দেশ মনে করছে জেটরো
বৈঠকে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের বিষয়ে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশের বাজার, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব বলে বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে কাতাওকা সুসুমুকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ ছাড়া ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে আলোচনার পর কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্প, অর্থের পরিমাণ বা বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দলবদ্ধ কুকুরের তাড়ায় কাপাসিয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
দলবদ্ধ কুকুরের তাড়ায় কাপাসিয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও জনবহুল এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণে বাড়ছে উদ্বেগ। দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ানো এবং পথচারীদের তাড়া করার ঘটনায় শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কুকুরের তাড়া খেয়ে ভারসাম্য হারিয়ে সড়কে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে প্রায়ই বেওয়ারিশ কুকুরের দল দেখা যায়। রিকশা, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচলের সময়ও কোনো কোনো কুকুর তেড়ে আসে। এতে পথচারীদের পাশাপাশি যানবাহনের চালকেরাও বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে এসব এলাকায় চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ শুধু পথচারীদের আতঙ্কের কারণ নয়, বরং সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়কে কুকুরের এমন বিচরণের কারণে শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। কুকুরের তাড়া খেয়ে কেউ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলে কিংবা চলন্ত যানবাহনের সামনে চলে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। তাই জনবহুল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ চান তাঁরা। বেওয়ারিশ কুকুরের বিচরণ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। বীর উজলী বাজারের পল্লীচিকিৎসক মনির হোসেন জানান, এলাকায় কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অনেকে ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। তাঁদের কারও কারও শরীরে গভীর ক্ষতও তৈরি হচ্ছে।তাঁর মতে, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বেওয়ারিশ কুকুরের কামড় ও আঁচড় থেকে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এম কে এম আতিকুর রহমান বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের মধ্যে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকতে পারে। কুকুরে কামড়ালে বা আঁচড় দিলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকাদানের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কুকুরে কামড়ালে বা আঁচড় দিলে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে কামড় বা আঁচড়ের পরপরই চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে অবহেলা প্রাণঘাতী হতে পারে। কাপাসিয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ, পথচারীদের তাড়া করা এবং কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ, টিকাদান এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি