খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলার আকাশে জে-১০সি-ই: ঢাকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায় কেন অস্বস্তি দিল্লিতে?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলার আকাশে জে-১০সি-ই: ঢাকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায় কেন অস্বস্তি দিল্লিতে?

বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। চীন থেকে ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জে-১০সি-ই কেনার বিষয়ে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সম্ভব না হলে ২০২৭ সালের মধ্যে এসব যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি জে-১০সি-ই কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য, অস্ত্র প্যাকেজ ও সরবরাহের সময়সূচি চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শুধু নতুন যুদ্ধবিমান কেনার কারণে নয়; বরং দীর্ঘ বিরতির পর বিমানবাহিনীতে আধুনিক মাল্টিরোল কমব্যাট প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কারণেও। সর্বশেষ ২০০০ সালে রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ।

কেন জে-১০সি-ই?
একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে শুধু বিমানটির দাম নয়—রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা, সেন্সর, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অস্ত্র প্যাকেজ মিলিয়ে প্রকৃত ব্যয় নির্ধারিত হয়। এই জায়গায় জে-১০সি-ই বাংলাদেশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তুলনামূলক কম ব্যয়ে একটি আধুনিক মাল্টিরোল প্ল্যাটফর্ম, সক্রিয় ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে বা এইএসএ রাডার এবং দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা—সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের বিদ্যমান যুদ্ধবিমান বহরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোফাইটার টাইফুন বা রাফালের মতো পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মের ক্রয় ও পরিচালন ব্যয় সাধারণত বেশি। ফলে বাংলাদেশের মতো সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশের জন্য শুধু ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ বিমান নয়, বরং দাম, সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই জে-১০সি-ইকে সম্ভাব্য একটি ‘কস্ট-ইফেকটিভ’ বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৬ বছর পর নতুন মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে মিগ-২৯ ও ইয়াক-১৩০-এর পাশাপাশি বিভিন্ন পুরোনো এফ-৭ সিরিজের যুদ্ধবিমান রয়েছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। একটি কার্যকর বিমানবাহিনীর জন্য প্রয়োজন আধুনিক রাডার, ডেটা-লিংক, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমন্বিত কমান্ড ও কন্ট্রোল আল্লাহ কাঠামো। জে-১০সি-ই সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে এই সক্ষমতার একটি নতুন স্তর তৈরি হতে পারে। এটি তাই শুধু নতুন একটি ফাইটার স্কোয়াড্রন সংযোজন নয়; বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো আধুনিকায়নের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তাহলে ভারতের উদ্বেগ কোথায়?
ঢাকা যদি নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত করার জন্য যুদ্ধবিমান কেনে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—এতে ভারতের উদ্বেগের কারণ কী?এর উত্তর খুঁজতে গেলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ভূরাজনীতির দিকে তাকাতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, দুই দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক পরিকল্পনা অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত, বঙ্গোপসাগর এবং ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলকে ঘিরে যেকোনো সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তন ভারতীয় কৌশলবিদদের নজরে আসা স্বাভাবিক।

জে-১০সি-ই যদি দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের জন্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রসহ বাংলাদেশে যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশকারী যেকোনো বিমানকে মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের আকাশসীমাকে ঘিরে সামরিক হিসাবও কিছুটা পরিবর্তিত হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান নিচ্ছে। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আক্রমণাত্মক নীতি—দুটি এক বিষয় নয়।

পিএল-১৫ : উদ্বেগের অন্যতম কারণ?
জে-১০সি-ই নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসে চীনের পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের নাম। দূরপাল্লার এই এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলকে আধুনিক আকাশযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর উপস্থিতি একটি যুদ্ধবিমানের ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ বা বিভিআর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে পারে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের বিমানকে চোখে দেখার আগেই শনাক্ত, ট্র্যাক এবং আক্রমণের সক্ষমতা আধুনিক আকাশযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশের হাতে এমন সক্ষমতা এলে দেশের আকাশসীমা রক্ষার ক্ষেত্রে তা নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তন হবে। একই সঙ্গে আশপাশের দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাতেও নতুন হিসাব যুক্ত হতে পারে।

ভারতের তেজাস কি বিকল্প হতে পারত?
ভারতের জন্য আরেকটি প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ যদি আধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতেই চায়, তাহলে ভারতীয় তেজাস কেন নয়? তাত্ত্বিকভাবে এটি একটি সম্ভাব্য বিকল্প। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধবিমান বিক্রি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহের সময়সূচি, অস্ত্র ও সেন্সর প্যাকেজ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্রেতার আস্থাও বড় বিষয়। ভারত নিজেই তেজাসের উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে দ্রুত বড় সংখ্যায় যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা কতটা বাস্তবসম্মত—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এর বিপরীতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। ফলে নতুন চীনা যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বিদ্যমান কাঠামো কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।

চীন-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় একটি অংশ বহু বছর ধরে চীন থেকে এসেছে। যুদ্ধবিমান, নৌযান, সাবমেরিন ও স্থলবাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। এই বাস্তবতায় জে-১০সি-ই যুক্ত হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চীনা প্রযুক্তির উপস্থিতি আরও গভীর হবে। এখানেই ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের জায়গাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি শুধু ২০টি যুদ্ধবিমানের হিসাব নয়। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকায়নের সঙ্গে চীনের প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কতটা গভীর হচ্ছে। কারণ, ভারত ও চীনের নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা রয়েছে। ফলে ভারতের প্রতিবেশী কোনো দেশে চীনা সামরিক প্রযুক্তির বড় ধরনের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নয়াদিল্লির কৌশলগত পর্যবেক্ষণের বিষয় হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরের সমীকরণেও কি পরিবর্তন আসবে?
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে। ফলে বাংলাদেশের বিমান ও নৌ সক্ষমতা বাড়লে এর প্রভাব শুধু স্থলভিত্তিক আকাশসীমায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে ২০টি জে-১০সি-ই দিয়ে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে ভারতের সামরিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অতিরঞ্জিত হবে। বরং বলা যায়, এটি বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিরোধক্ষমতা বা ডিটারেন্স বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। একটি ছোট বা মাঝারি শক্তির রাষ্ট্রের জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া—আকাশসীমা লঙ্ঘন বা সামরিক চাপ প্রয়োগের মূল্য দিতে হবে।

ইউরোফাইটার থেকে জেএফ-১৭—বিকল্প ছিল একাধিক
বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনায় শুধু জে-১০সি-ই নয়, বিভিন্ন সময়ে ইউরোফাইটার টাইফুন ও পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডারের কথাও এসেছে। ইউরোফাইটার টাইফুন প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত সক্ষম একটি প্ল্যাটফর্ম হলেও এর ক্রয়, অস্ত্র প্যাকেজ, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাংলাদেশের জন্য বড় বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। অন্যদিকে, জেএফ-১৭ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও সক্ষমতার দিক থেকে জে-১০সি-ইয়ের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করলে বিষয়টি আরও জটিল। ফলে ঢাকার সামনে প্রশ্নটি শুধু ‘কোন বিমান ভালো?’ নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো—কোন বিমান বাংলাদেশের বাজেটের মধ্যে থেকে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধক্ষমতা, নির্ভরযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সুবিধা দিতে পারবে? এই হিসাবেই জে-১০সি-ই এগিয়ে থাকলে সেটি বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তববাদী পছন্দ হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ যুদ্ধবিমান কেনা নয়
তবে আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার পরই একটি দেশের বিমানবাহিনী আধুনিক হয়ে যায় না। জে-১০সি-ইয়ের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে আধুনিক বিভিআর মিসাইল, প্রশিক্ষিত পাইলট, গ্রাউন্ড ক্রু, সিমুলেটর, রাডার, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, ডেটা-লিংক, হ্যাঙ্গার ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে লাইফ-সাইকেল কস্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিমান কেনার প্রাথমিক মূল্য কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন, রক্ষণাবেক্ষণ, আপগ্রেড ও প্রশিক্ষণের খরচ বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে। তাই ২০টি বিমান কেনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সেগুলোকে আগামী দুই-তিন দশক কার্যকর রাখার সক্ষমতা তৈরি করা।

ভারতের উদ্বেগ—স্বাভাবিক, কিন্তু বাংলাদেশের সিদ্ধান্তও সার্বভৌম
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের স্বার্থ জড়িত। তাই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এলে ভারতের কৌশলগত মহলে আলোচনা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই উদ্বেগকে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতির মৌলিক যুক্তি হওয়া উচিত—কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন নয়, বরং নিজস্ব আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা তৈরি করা। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’—এই নীতির সঙ্গে আধুনিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার মধ্যে মৌলিক কোনো বিরোধ নেই।

জে-১০সি-ই কতটা বদলে দেবে বাংলাদেশের আকাশ?
বাংলাদেশ সত্যিই যদি ২০টি জে-১০সি-ই সংগ্রহ করে, তাহলে এটি দেশের সামরিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে। তবে এর গুরুত্ব শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। এই ক্রয়ের আসল তাৎপর্য হবে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীকে একটি আধুনিক নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক এয়ার কমবেট কাঠামোর দিকে কতটা এগিয়ে নেওয়া যায়, তার ওপর। অন্যদিকে, ভারতের জন্য এটি হয়তো নতুন কৌশলগত বাস্তবতা। বিশেষ করে বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হলে দিল্লিকে তার পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন কিছু হিসাব যোগ করতে হতে পারে। তবে বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি ভিন্ন—নিজের আকাশসীমা রক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়; এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রয়োজন। জে-১০সি-ই তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি নতুন যুদ্ধবিমান নয়। এটি হতে পারে দীর্ঘ ২৬ বছরের বিরতির পর দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

কালের আলো/এম/এএইচ

‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা,সন্ধানী বার্তা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক কথোপকথন নজর কেড়েছে। চট্টগ্রাম সফরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে অভ্যর্থনা জানাতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এসপি মাসুদ আলমকে দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ জবাবে মাসুদ আলমও ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন। তাঁদের এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের দৃশ্য সামনে আসার পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে চট্টগ্রাম সফরে যান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা, শুভেচ্ছা বিনিময়
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী সামরিক বিমানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত ৭টা ৪০ মিনিটে বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। বিমান থেকে নেমে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতিও নজর কাড়ে। করমর্দনের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাগত’।

এসপি মাসুদকে দেখে প্রধানমন্ত্রীর খোঁজখবর
শুভেচ্ছা বিনিময়ের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের সঙ্গে করমর্দন করেন তারেক রহমান। এ সময় তাঁর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ জবাবে এসপি মাসুদ আলম ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন সফরের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছে। তবে তাঁদের কথোপকথনের বাইরে কোনো বিশেষ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

আলোচনায় এসেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়
মাসুদ আলম এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সে সময় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ আলোচনায় আসে। ২৮তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০২৬ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী
বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে যান। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সফরসূচিতে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও ছিল। চট্টগ্রাম সফরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই এসপি মাসুদ আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত কথোপকথনটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

লাউয়াছড়ার পাশে বেগুনি ফুলের মেলা, মুগ্ধ পর্যটকরা

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
লাউয়াছড়ার পাশে বেগুনি ফুলের মেলা, মুগ্ধ পর্যটকরা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য নজর কাড়ছে পর্যটক ও পথচারীদের। বড় বড় সবুজ পাতার ফাঁকে লম্বা মঞ্জরিতে ফুটে থাকা বেগুনি রঙের ফুলে সেজেছে সড়কের পাশের বনাঞ্চল। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। উদ্ভিদটির নাম কুডজু। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ফুলের দেখা মেলে। শরতের শেষভাগ থেকে শীতের আগমনী সময়ে লম্বা মঞ্জরিতে গুচ্ছাকারে ফোটা বেগুনি, গোলাপি-বেগুনি কিংবা লালচে-বেগুনি ফুল প্রকৃতিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। লাউয়াছড়া ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও মুগ্ধ হচ্ছেন এ ফুলের সৌন্দর্যে।

সড়কের পাশে নজর কাড়ছে কুডজু ফুল
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পথে ব্যাপকভাবে এ ফুলের উপস্থিতি চোখে পড়ে বছর দুয়েক আগে। এর আগে অনেকের কাছেই উদ্ভিদটি তেমন পরিচিত ছিল না। বর্তমানে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় সবুজ পাতার মধ্যে ফুটে থাকা বেগুনি ফুল সহজেই নজর কাড়ছে। কেউ কেউ গাড়ি থামিয়ে মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ধারণ করছেন ভিডিও। বনাঞ্চলের সবুজ পরিবেশের সঙ্গে বেগুনি ফুলের রঙিন সমাহার পথচারীদের জন্য তৈরি করছে মনোরম দৃশ্য।

কুডজু কেমন উদ্ভিদ
বৃক্ষ গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কুডজু শিম বা মটরশুঁটি পরিবারের একটি বহুবর্ষজীবী আরোহী লতা। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস কিউয়ের ‘প্ল্যান্টস অব দ্য ওয়ার্ল্ড অনলাইন’ তথ্যভান্ডারে এ উদ্ভিদের বিস্তৃতি এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উত্তর অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশও এর স্বাভাবিক বিস্তৃতির অন্তর্ভুক্ত।

কুডজুর ফুল সাধারণত লম্বা মঞ্জরিতে গুচ্ছাকারে ফোটে। ফুলের পাপড়ি বেগুনি, গোলাপি-বেগুনি অথবা লালচে-বেগুনি রঙের হতে পারে। ওপরের বড় পাপড়ির গোড়ায় হলুদ অংশও দেখা যায়। শিমজাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফুলগুলোর আকৃতি অনেকটা প্রজাপতির মতো। ফুলে সাধারণত মিষ্টি সুবাসও থাকে।

দ্রুত বেড়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়
ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং প্রকৃতিবিষয়ক লেখক-গবেষক চয়ন বিকাশ ভদ্রের মতে, কুডজু দ্রুতবর্ধনশীল একটি বহুবর্ষজীবী লতা। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও উপযুক্ত মাটি পেলে এটি দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে।

এর কাণ্ড লম্বা ও নমনীয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাণ্ড কিছুটা কাষ্ঠল হয়ে ওঠে। উপযুক্ত পরিবেশে লতাগুলো প্রায় ১০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। মাটির ওপর ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি অন্য গাছের কাণ্ড ও বিভিন্ন অবলম্বন আঁকড়ে ধরে ওপরের দিকে উঠে যায়।

কুডজুর পাতা সাধারণত তিনটি প্রশস্ত পত্রক নিয়ে গঠিত। পত্রকগুলো ডিম্বাকার থেকে হৃদপিণ্ডের মতো আকৃতির হতে পারে। ফুল ফোটার পর চ্যাপ্টা শুঁটির মতো ফল তৈরি হয়, যার ভেতরে থাকে বীজ। তবে শুধু বীজ নয়, মাটিতে ছড়িয়ে পড়া কাণ্ড ও শিকড়ের মাধ্যমেও উদ্ভিদটি নতুন জায়গায় বিস্তার লাভ করতে পারে।

উপকারিতা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে পরিবেশগত ঝুঁকি
কুডজুর রয়েছে নানা ব্যবহারিক গুরুত্ব। বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির ক্ষয়রোধ, অনাবাদি জমি আচ্ছাদন এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর শিকড় থেকে শ্বেতসারসমৃদ্ধ উপাদান সংগ্রহ করা হয়, যা পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে খাবার তৈরি ও ঘন করতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া এর লতা থেকে আঁশ সংগ্রহ করে বস্ত্র, কাগজ ও ঝুড়ি তৈরির নজির রয়েছে।

তবে দ্রুত বিস্তারের কারণে উদ্ভিদটি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। ঘন পাতার আচ্ছাদন ছোট গাছ, গুল্ম ও অন্যান্য উদ্ভিদের ওপর সূর্যালোক পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় কুডজুর আচ্ছাদনে থাকলে স্থানীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এ উদ্ভিদের ব্যাপক বিস্তারকে এ ধরনের পরিবেশগত সমস্যার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে বাড়ছে আগ্রহ
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন সড়কের পাশে ফুটে থাকা কুডজু ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের বাড়তি আকর্ষণ। সবুজ বনভূমির পাশে বেগুনি ফুলের এই সমাহার পর্যটকদের ভ্রমণে যোগ করছে বাড়তি আনন্দ।

তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি উদ্ভিদটির বিস্তার ও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রকৃতির এই রঙিন দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সচেতন থাকা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মোংলা বন্দর ও বেজা ইকোনমিক জোন দেখতে খুলনা-বাগেরহাটে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
মোংলা বন্দর ও বেজা ইকোনমিক জোন দেখতে খুলনা-বাগেরহাটে তারেক রহমান

মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোনের কার্যক্রম ঘুরে দেখতে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনব্যাপী সফরে তিনি একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দুই জেলায় নিরাপত্তা জোরদারসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সকালেই হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সকাল ৯টায় সেখান থেকে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।

সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে হিরণ পয়েন্টসংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন সরকারপ্রধান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করার কথা রয়েছে তাঁর।

নৌপথে যাবেন মোংলা নৌঘাঁটিতে
নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে সড়কপথে লঞ্চঘাটে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ডরুমে যাবেন সরকারপ্রধান। সেখানে মধ্যাহ্নবিরতির পর দুপুর পৌনে ২টায় ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল সোয়া ৩টায় প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) ইকোনমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।মোংলা বন্দরের কার্যক্রম ও সম্প্রসারণসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে খুলনা ও বাগেরহাটের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরেজমিনে দেখবেন সরকারপ্রধান।

বিকেলেই ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৫টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি জানানো হয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি