আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেলের খসড়া
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া আজ সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটি নতুন পে-স্কেল দুই অর্থবছরে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। প্রাথমিক প্রস্তাবে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল।
তবে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। তবে বর্ধিত অর্থ পরিশোধ করা হবে ধাপে ধাপে। পে-স্কেল কীভাবে এবং কোন সময়সূচিতে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নতুন পে-স্কেল অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে নতুন পে-স্কেল নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করে ওই কমিটি।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে সচিব কমিটির চূড়ান্ত খসড়ায় ১০০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়নি।
কমিশনের প্রস্তাবে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। কমিশনের হিসাবে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বর্তমানে বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোয় থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও নতুন কাঠামো প্রণয়নের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array