খুঁজুন
                               
, ,
           

ফেসবুকজুড়ে ‘মাফিয়া ডন’, কেন এত জনপ্রিয় এআই ড্রামাটি?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
ফেসবুকজুড়ে ‘মাফিয়া ডন’, কেন এত জনপ্রিয় এআই ড্রামাটি?

ফেসবুক খুললেই সামনে আসছে একের পর এক রিল। কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্য শেষ হতেই মনে হচ্ছে—পরের পর্বে কী হলো? সেই কৌতূহলেই আবার খুঁজে দেখা হচ্ছে পরের ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে এআই-নির্ভর স্বল্পদৈর্ঘ্য ড্রামা ‘দ্য মাফিয়া ডন হায়ার্ড মি অ্যাজ হিজ ওয়াইফ’। বিশেষ করে নারী দর্শকদের মধ্যে সিরিজটির জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।

মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রত্যাখ্যাত নারী ও এক ছোট শিশুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ড্রামাটির গল্প। কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা।

স্বামী তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর কাজের সন্ধানে রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে একদিন একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান নোরা। বিজ্ঞাপনে প্রয়োজন একজন স্টেপমাদার। ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে গিয়ে তিনি পৌঁছান বিশাল এক প্রাসাদে।

সেখানেই নোরা জানতে পারেন, বাড়িটির মালিক লুকা একজন মাফিয়া ডন। তার ছোট ছেলে লিওর দেখাশোনার জন্যই একজন নারী খুঁজছেন তিনি।

তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। লিও প্রায় খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম ছেড়ে দিয়েছে। নোরার ইন্টারভিউয়ের শর্তও অদ্ভুত—তিনি যদি শিশুটিকে অন্তত এক চামচ খাবার খাওয়াতে পারেন, তাহলেই চাকরি নিশ্চিত।

কিন্তু নোরা এক চামচ নয়, পুরো প্লেট খাবার খাইয়ে দেন লিওকে। শুধু তা-ই নয়, সেদিন রাতে দীর্ঘ সময় পর শিশুটিও শান্তিতে ঘুমায়।

এতেই লুকার নজরে পড়ে যান নোরা। ছেলের জন্য তাকে প্রয়োজনীয় মনে হওয়ায় লুকা নোরাকে বাড়তি টাকা, গাড়ি এবং বেশি বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে দেন বিয়ের প্রস্তাবও।

নোরা অবশ্য শুরুতে রাজি ছিলেন না। তার কাছে বিষয়টি ছিল শুধুই চাকরি। কিন্তু লুকার যুক্তি ছিল, লিওর একজন মায়ের প্রয়োজন। নোরা যেন শুধু শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী না হয়ে তার জীবনে মায়ের জায়গাটিও নিতে পারেন।

শেষ পর্যন্ত চুক্তির বিয়েতে রাজি হন নোরা।

শুরুতে নোরা ও লুকার সম্পর্ক ছিল প্রয়োজনের। নোরার প্রয়োজন ছিল কাজ, আর লুকার প্রয়োজন ছিল ছেলের জন্য একজন যত্নশীল মানুষ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই হিসাব বদলে যেতে থাকে।

লিও খুব দ্রুত নোরার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। তার উপস্থিতিতে শিশুটির আচরণেও পরিবর্তন আসে। ধীরে ধীরে নোরাও লিওকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতে শুরু করেন।

শিশুটির সঙ্গে নোরার এই সম্পর্কই ধীরে ধীরে তাকে ও লুকাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।

লুকার চরিত্রের আরেকটি দিকও সামনে আসে। বাইরে থেকে তিনি কঠোর ও ভয়ংকর মাফিয়া ডন। কিন্তু ছেলের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন—আবেগপ্রবণ ও দায়িত্বশীল একজন বাবা।

একপর্যায়ে নোরার প্রতিও তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। চুক্তির ভিত্তিতে শুরু হওয়া সম্পর্ক ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভালোবাসায়।

ড্রামাটিতে শুধু প্রেমের গল্প নয়, নোরার ব্যক্তিগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নিজের অবয়বের কারণে স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নোরার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ভেঙে যায়। কিন্তু লিওর জীবনে নিজের প্রয়োজনীয়তা এবং লুকার আচরণ ধীরে ধীরে তাকে নিজের মূল্য বুঝতে সাহায্য করে।

যে নারীকে একসময় তার স্বামী মূল্যহীন করে দিয়েছিল, সেই নোরাই পরে হয়ে ওঠেন একটি শিশুর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষ এবং একজন মাফিয়া ডনের ভালোবাসার মানুষ।

এই পরিবর্তনের গল্পই সিরিজটিকে শুধু মাফিয়া-রোমান্সের মধ্যে আটকে রাখেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবার, মাতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন করে ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতি।

গল্পে দর্শকদের পরিচিত বেশ কিছু জনপ্রিয় উপাদান একসঙ্গে রয়েছে—মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রেম, শিশু, পারিবারিক আবেগ এবং প্রত্যাখ্যাত নারী থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার গল্প।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই-নির্ভর নির্মাণ। ফলে প্রচলিত নাটক বা ওয়েব সিরিজের বাইরে এটি দর্শকদের জন্য তৈরি করছে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা।

ছোট ছোট পর্ব ও রিলভিত্তিক উপস্থাপনাও ড্রামাটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করছে। একটি দৃশ্য শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পর্ব দেখার কৌতূহল দর্শকদের আটকে রাখছে।

অর্থাৎ, গল্পের পাশাপাশি উপস্থাপনার ধরনও এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

ড্রামাটির জনপ্রিয়তার পেছনে মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, শিশু ও প্রেমের মতো উপাদান থাকলেও নারী দর্শকদের কাছে পুরুষ চরিত্রগুলোর উপস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ ধরনের গল্পে পুরুষ চরিত্রগুলো সাধারণত ক্ষমতাবান ও ধনী হওয়ার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল, দায়িত্বশীল ও বিশ্বস্ত হিসেবে দেখানো হয়। তারা সঙ্গীর কথা শোনে, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকে এবং সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।

ফলে আকর্ষণ শুধু অর্থ, ক্ষমতা বা বাহ্যিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যত্ন, সম্মান, সততা ও নিরাপত্তার অনুভূতিও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

তাই কোনো নারী দর্শক এমন চরিত্র পছন্দ করলেই যে বাস্তবে একজন মাফিয়া ডন চান, বিষয়টি এমন নয়। বরং কল্পনার এই চরিত্রগুলোর মধ্যে থাকা কিছু গুণই তাদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।

এআই-নির্ভর এসব নাটকের গল্প বাস্তবতার চেয়ে অনেকটাই কল্পনানির্ভর। তবু এর জনপ্রিয়তা একটি বিষয় স্পষ্ট করে—গল্প যতই জাঁকজমকপূর্ণ হোক, দর্শকের কাছে ভালোবাসা, যত্ন, সম্মান ও নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয়গুলো এখনো বেশ শক্তিশালী আকর্ষণ তৈরি করে।

কালের আলো/এসএ

অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হলে কঠোর হাতে দমন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ
অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হলে কঠোর হাতে দমন: প্রধানমন্ত্রী

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সংকটকে পুঁজি করে কেউ দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি মানবিক রাষ্ট্র ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে। তবে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সমস্যাকে ব্যবহার করে কেউ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গণতান্ত্রিক রীতিনীতি সমুন্নত রাখবে। একই সঙ্গে যারা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় গত ১৬ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থা পেয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তিতে থাকা সাধারণ মানুষ ও শিল্পমালিকদের কাছে তিনি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে যেন এমন সংকট পুনরায় তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

কালের আলো/এমএসআইপি

ফেনীতে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ আছে, সাধারণ মানুষ অন্ধকারে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ আছে, সাধারণ মানুষ অন্ধকারে

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। আমরা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। এখন যাঁরা নতুন করে ফ্যাসিবাদ শুরু করবেন, তাঁদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না।’ তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি তাঁরা মেনে নেবেন না। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষোভ
দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ সংকটে ভুগলেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে। সংসদে বিদ্যুৎ থাকে, কিন্তু সাধারণ মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে না।’ একই সঙ্গে গত ছয় মাসে শাপলা চত্বর ও পিলখানার হত্যাকাণ্ডসহ বড় হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ জানান তিনি। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলো এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

‘এ দেশই আমাদের ঠিকানা’
দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রত্যয়ের কথাও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তাঁদের অন্য কোনো দেশের আশ্রয় বা বিকল্প ঠিকানা নেই। বাংলাদেশেই তাঁদের জন্ম এবং এই দেশই তাঁদের একমাত্র ঠিকানা।

সরকারের বিরুদ্ধে নাহিদ ইসলামের অভিযোগ
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত না করে নতুন নামে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ তোলেন তিনি। ১১-দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন করা হলে তার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, লংমার্চ শেষে ঢাকায় জনসভা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা রয়েছে। প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে সেই রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করার কথা বলেন তিনি। অলি আহমদের অভিযোগ, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলেও বর্তমান সরকার তাঁর সরকারের আদলেই দেশ পরিচালনা করছে। অন্যদিকে, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না।

বিএনপির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ
পথসভায় বক্তব্য দেওয়া একাধিক নেতা বিএনপির বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তোলেন। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের মানুষ ভালো নেই। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের পাশাপাশি বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিএনপির ওপর তাঁদের আর আস্থা নেই। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোনো একক রাজনৈতিক নেতার নয়; এটি শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ হবে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পথ বেছে নিতে হবে। দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেনও সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের পকেট কাটার অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে গণভোটের রায় নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা গ্রহণ করা হবে না বলে জানান তিনি।

ছয় দফা দাবিতে লংমার্চ
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে লংমার্চটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পথে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, চৌদ্দগ্রাম ও ফেনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভার আয়োজন করা হয়। জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ; প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা।

লংমার্চে মহাসড়কে যানজট
লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচলে পরিবর্তন আনা হয়। ওই লেনের গাড়িগুলো ঢাকামুখী লেন দিয়ে চলাচল করায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফেনীর মহিপালের পথসভায় ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

দলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিলে ছাড় নয়: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
দলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিলে ছাড় নয়: তারেক রহমান

দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা কষ্ট দিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সারা দেশের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকতে হবে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে দলকে বিব্রত করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটিই নেতাকর্মীদের প্রতিজ্ঞা ও শপথ হওয়া উচিত।

এ সময় তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নিহত, গুম ও আহত নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে দলটি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি