খুঁজুন
                               
, ,
           

ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা: শোবিজে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদের ঝড়

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা: শোবিজে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদের ঝড়

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেস্ত্রে শহরের একটি পার্কে অবস্থানকালে একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দেশের শোবিজ অঙ্গন। শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাঁধনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

‘একজন বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না’
হামলার পর নিজের ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার বিস্তারিত জানান বাঁধন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে। বাঁধন জানান, তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারা হয়। তার গায়ে হাত তোলা, মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া এবং কানের পাশেও আঘাত করার অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। পরিবারের সঙ্গে থাকা একটি শিশুও পুরো ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

অভিনেত্রীর দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাঁধন স্পষ্ট করে বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও নিজের অবস্থান থেকে তিনি সরে যাবেন না। তার ভাষায়, ‘একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না।’

ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে এবং তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলতে শোনা যায়। ভিডিওটি সামনে আসার পর বাঁধনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সরব হয়ে ওঠেন দেশের অভিনয় ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকে। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে শিল্পীর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যেও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি।

‘অপমান নয়, একজন শিল্পীর প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা’
বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী সাফা কবির। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনায় তিনি ভীষণভাবে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত। সাফার মতে, কোনো শিল্পীরই এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়। দেশের বাইরে চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের চলচ্চিত্র ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া একজন শিল্পীর প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা—অপমান, হয়রানি কিংবা আতঙ্ক নয়।

দেশের শিল্পীদের বারবার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে টেনে আনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সাফা বলেন, শিল্পীরা সত্য, ন্যায় ও মানুষের কথা বলবেন—এটাই তাদের স্বাধীনতা। সেই কণ্ঠের কারণে একজন শিল্পীকে কেন বারবার মূল্য দিতে হবে, সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি। তার ভাষায়, ‘একজন শিল্পীর কণ্ঠ, সম্মান ও নিরাপত্তা কখনোই রাজনীতির মূল্য হওয়া উচিত নয়।’ একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বাঁধনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

‘তীব্র নিন্দা জানাই’—প্রভার প্রতিবাদ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। এক পোস্টে তিনি ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

বাঁধনকে কেন সহজ টার্গেট করা হলো, প্রশ্ন দীপ্তির
দীপ্তির দাবি, জুলাইয়ের আন্দোলনে বাঁধনের অবস্থান, শিশু হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় না থাকাই তাকে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। নারী হওয়ার কারণেও তাকে সহজ টার্গেট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জুলাই আন্দোলনের অংশীদারিত্ব দাবি করা রাজনৈতিক দলগুলো এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেয়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন দীপ্তি।

ভিডিও শেয়ার করে ক্ষোভ পরীমণির
চিত্রনায়িকা পরীমণিও ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি কার্যত শিল্পীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নটিই সামনে এনেছেন। দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া একজন শিল্পীর সঙ্গে এমন আচরণে শোবিজ অঙ্গনের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

‘কিছুই ঠিক হচ্ছে না’—মমের উদ্বেগ
অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মমও বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। নারী ও শিশু নির্যাতন, খুন, সন্ত্রাস এবং নারীর প্রতি অসম্মানের মতো বিষয়গুলো সামনে এনে মম প্রশ্ন তুলেছেন, পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে। তার ভাষায়, ‘কিছুই ঠিক হচ্ছে না!

এই কর্মকাণ্ডগুলোর কোনোটাই ভালো হচ্ছে না’
মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নারী ও শিল্পীদের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান নিষ্ঠুরতা ও সংবেদনহীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।

নিরাপদে আছেন বাঁধন, যোগাযোগ কনস্যুলেটের
এদিকে ঘটনার পর সরকারি পর্যায়েও যোগাযোগ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন। মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাঁধনের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভেনিসে বাংলাদেশের প্রতিনিধি বাঁধন
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে গেছেন তিনি। কিন্তু দেশের সিনেমা ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে বিদেশের মাটিতে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ এখন শুধু বাঁধনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের শিল্পীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সীমা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তির প্রশ্নও।

তদন্তেই মিলবে ঘটনার প্রকৃত চিত্র
শোবিজ অঙ্গনের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের মধ্যে এখন মূল অপেক্ষা ইতালির তদন্তের দিকে। হামলার প্রকৃত কারণ কী ছিল, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় কী এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা—তদন্তের মাধ্যমে সেসব স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা।

একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতালির আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়। একজন শিল্পী হিসেবে বাঁধনের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি ইতোমধ্যেই জোরালো হয়েছে দেশের শোবিজ অঙ্গনে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মিষ্টিকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
মিষ্টিকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ

সংরক্ষিত নারী আসনের সদ্য পদত্যাগ করা সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় দল থেকেও তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

নির্দেশনা পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে পদত্যাগ কার্যকর হলে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।

পদত্যাগপত্রে মিষ্টি জানান, তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সেখানে পদত্যাগের কোনো কারণ উল্লেখ করেননি।

এর আগে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাড্ডা সেন্টারের ঘটনা তদন্তের দাবি জানান মিষ্টি। তিনি বলেন, তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, সেটিই গ্রহণযোগ্য হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিএনপির সিদ্ধান্ত যা হবে, সেটিই হবে।

রাড্ডা সেন্টারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়েও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় দল ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে শুক্রবার রাত পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসেনি। বিষয়টি এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতেই জানা গেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মহড়ার নামে একা ডাক, মাঝরাতে দরজায় নির্মাতা: স্বরার তিক্ত অভিজ্ঞতা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
মহড়ার নামে একা ডাক, মাঝরাতে দরজায় নির্মাতা: স্বরার তিক্ত অভিজ্ঞতা

বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যৌন হয়রানির অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানালেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। তার দাবি, একটি বড় বাজেটের সিনেমায় কাজের সময় মদ্যপ অবস্থায় এক পরিচালক মাঝরাতে তার দরজায় কড়া নাড়েন এবং তাকে জড়িয়ে ধরার অনুমতি চান।

স্বরা জানান, ‘তনু ওয়েডস মনু’ সিনেমার সাফল্যের পর তিনি একটি বড় বাজেটের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। ওই সিনেমার পরিচালক তাকে নিয়ে একাধিকবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন বলে দাবি তার।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমার দৃশ্যের মহড়ার কথা বলে পরিচালক তাকে একা ডেকে পাঠাতেন। ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি তাকে কবিতাও পাঠাতেন পরিচালক।

একদিন একটি রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়ার জন্য স্বরাকে একা ডাকা হয়। তখন তিনি জানতে চান, মহড়ার সময় আর কারা উপস্থিত থাকবেন। পরিচালক তাকে জানান, শুধু তারা দুজন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

স্বরার দাবি, তিনি এতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, অভিনেতা ও ক্যামেরাপারসনকে ডেকে মহড়া করার কথা। তাহলে তারা দুজন একা কেন মহড়া করবেন?

এরপরও পরিস্থিতি বদলায়নি বলে জানান স্বরা। তার ভাষ্য, একটি অতিথিকক্ষে গিয়ে তিনি দেখতে পান পরিচালক ও সিনেমাটোগ্রাফার সেখানে মদ্যপান করছেন। সেখানে চিত্রনাট্য পড়ার পর কোনোভাবে পরিস্থিতি সামলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

তবে ঘটনার সেখানেই শেষ হয়নি বলে জানান অভিনেত্রী। তার দাবি, ওইদিন মাঝরাতে পরিচালক তার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মনে হয়, পরিচালক হয়তো দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারেন।

স্বরা বলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি দরজা খুলতে বাধ্য হন। তখন মদ্যপ অবস্থায় পরিচালক তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি তাকে জড়িয়ে ধরতে পারেন।

অভিনেত্রীর দাবি, তিনি ওই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বরং কোনোভাবে পরিচালককে বুঝিয়ে দ্রুত সেখান থেকে বিদায় করেন। পরে ওই পরিচালকের সঙ্গে তার আরও অনেকবার দেখা হয়েছে বলেও জানান স্বরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সৌদিতে মাটিচাপায় মৃত্যু, ৩ লাখ টাকায় আটকে আছে মরদেহ ফেরানো

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
সৌদিতে মাটিচাপায় মৃত্যু, ৩ লাখ টাকায় আটকে আছে মরদেহ ফেরানো

পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন বরগুনার ইসমাইল হোসেন (৪০)। বিদেশে কাজ করে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মরত অবস্থায় মাটি ধসে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এখন অর্থের অভাবে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নিহত ইসমাইল হোসেন বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমজাদ হোসেনের বড় ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। পড়াশোনা শেষ করেও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়ায় পরিবারের সচ্ছলতার আশায় ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি শ্রমিক ভিসায় সৌদি আরবে যান তিনি।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর কয়েকদিন বেকার থাকার পর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় একটি চীনা কোম্পানির অধীনে শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন ইসমাইল। কাজ পাওয়ার পর পরিবারের আর্থিক সংকট কিছুটা কমলেও বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেননি তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় পাইপলাইনের গভীর গর্তে কাজ করছিলেন ইসমাইল। এ সময় হঠাৎ মাটি ধসে তিনি নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে।

ইসমাইলের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলেকে হারিয়ে মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বৃদ্ধ বাবা আমজাদ হোসেনও বাকরুদ্ধ। স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী সোনিয়া বেগম। আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

সোনিয়া বেগম জানান, প্রতিদিন সকালে স্বামীর সঙ্গে তার কথা হতো। বৃহস্পতিবার সকালেও তাদের কথা হয়। তখন দুপুরে আবার ফোন দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইসমাইল। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও ফোন না আসায় তিনি স্বামীর সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিকেল ৪টার দিকে তারা ইসমাইল দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার খবর দেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে তাকে জানানো হয়েছে, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অভাবের সংসারে এত টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

ইসমাইলের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, পরিবারের আর্থিক কষ্ট দূর করার আশায় ধার-দেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। উপার্জন করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে—এটাই ছিল তাদের স্বপ্ন। কিন্তু মাটিচাপায় সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো সামর্থ্যও তাদের নেই।

স্বজনেরা জানান, বিদেশ যাওয়ার সময় নেওয়া ঋণ এখনো পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। এর মধ্যে পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা আরও সংকটে পড়েছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করাও তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসমাইলের স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রামের বাড়িতে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি