খুঁজুন
                               
, ,
           

আড়াই লাখ কোটি টাকার ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
আড়াই লাখ কোটি টাকার ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন

রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে দুটি চলমান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধন এবং একটি নতুন প্রকল্প রয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্প তিনটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট।

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুটের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটের দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ। নতুন এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

তিনটি প্রকল্পের মধ্যে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্প আগে থেকেই বাস্তবায়নাধীন। একনেক সভায় এসব প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি নতুন করে অনুমোদন পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। পরে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও একই সভায় উপস্থাপন করা হয়।

তিন প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পে। এরপর এমআরটি লাইন-৫ নর্দান এবং এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে ব্যয় হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এসআই আলতাফ হত্যায় সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
এসআই আলতাফ হত্যায় সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ

সাভারের আমিনবাজারে হামলায় স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

সাক্ষাৎকালে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখতে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কর্মজীবনে সততা, নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আলতাফ হোসেনকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন তিনি।

যেভাবে হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ

গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ হোসেন।

প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে হামলা চালানো হয়।

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন তার ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও।

পরে স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

৪০ বছরের পুলিশি জীবন

মো. আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

২০১১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম (৩০) ও ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামকে (২৪) রেখে গেছেন। বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ফার্মাসি সম্পন্ন করেছেন। ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম ইউসেপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত।

কালের আলো/এমএসআইপি/এসকে 

ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পাশে চান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পাশে চান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মানুষের আচরণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি এটিকে নিছক পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে না দেখে, একটি জীবন বাঁচানোর আন্তরিক সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্যাশন নিয়ে সৃজনশীল কাজ করার অনুরোধ জানান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে দেশের শীর্ষস্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতা ও সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিকেটরদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে জানানো হয়, গতানুগতিক সরকারি প্রচারণার বৃত্ত ভেঙে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে দেশের জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পাশে চায়  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত  বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী তিন মাসের একটি সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতালগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিন হাজার চিকিৎসককে রিফ্রেশার ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, স্যালাইনের সরবরাহ এবং বেড প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তবে শুধু চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়িয়ে মৃত্যু ও সংক্রমণ কমানো সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন মানুষের আচরণগত পরিবর্তন। মানুষ যাতে সচেতন হয়ে সরাসরি পদক্ষেপ নেয়, সেই কার্যকর কাজটি করতে পারেন আপনারা—কনটেন্ট নির্মাতারা।

তিনি আরও যোগ করেন, মানুষ আপনাদের কথা শোনে। এটাকে কেবল বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে না দেখে ভেতরের তাগিদ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দেখুন। আপনার বানানো একটি সৃজনশীল ভিডিও হয়তো কারো পরিবারের একটি প্রাণ রক্ষা করতে পারে।

বৈঠকে আগামী তিন মাসের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারী ক্রিয়েটর ও এজেন্সিগুলোকে শীঘ্রই তাদের প্রাথমিক ধারণা ও রূপরেখা জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ২০ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে এ ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের কনটেন্ট প্রচারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

লং মার্চে ছদ্মবেশে নাশকতার আশঙ্কা, দাবি রাশেদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
লং মার্চে ছদ্মবেশে নাশকতার আশঙ্কা, দাবি রাশেদের

বিরোধী দলের লং মার্চকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।

রাশেদ খান তার পোস্টে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের ব্যানারে কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা না থাকায় সাধারণ বেশে বিরোধীদের লং মার্চে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে নাশকতা চালিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।

তিনি বলেন, ১৬ বছর ধরে প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে যে ‘আওয়ামীকরণ’ হয়েছে, তা থেকে দেশকে রক্ষা ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে বিরোধী দলের যথেষ্ট মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খানের ভাষ্য, বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচি আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ তৈরি করতে পারে এবং লং মার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা থেকে রংপুরের দূরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত দীর্ঘ পথজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকলেও কর্মসূচিতে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, কোনো অঘটন ঘটলে এর দায় বর্তমান বিরোধী দল বিএনপির সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা হতে পারে। এ বিষয়ে অতীতের একটি ঘটনার উদাহরণও দেন তিনি।

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনা করে কর্মসূচি নেওয়া উচিত। অন্যথায় ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব পুরো জাতিকে বহন করতে হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি