খুঁজুন
                               
, ,
           

ইউক্রেন যুদ্ধ জোরদারে রাশিয়ার প্রস্তুতির আশঙ্কা, ইউরোপেও বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
ইউক্রেন যুদ্ধ জোরদারে রাশিয়ার প্রস্তুতির আশঙ্কা, ইউরোপেও বাড়ছে উদ্বেগ

ইউক্রেন যুদ্ধ আরও জোরদার করতে রাশিয়া নতুন করে সেনা নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাইবার হামলা, নাশকতা, ড্রোন হামলা ও তথ্যযুদ্ধসহ ‘হাইব্রিড’ তৎপরতা বাড়াতে পারে মস্কো—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষে ‘স্টেলথ মোবিলাইজেশন’ বা গোপন ও ধাপে ধাপে সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এর আগে দাবি করেছিলেন, নির্বাচনের পর রাশিয়া আরও প্রায় তিন লাখ সেনা নিয়োগ করতে পারে।

তবে মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে তিন লাখ সেনা নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, একবারে বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে জনবল বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে রাশিয়া। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ইউরোপে হাইব্রিড হামলার আশঙ্কা

ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার হাইব্রিড তৎপরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইউরোপীয় নেতারা। সাইবার হামলা, নাশকতা, ড্রোন হামলা, তথ্যযুদ্ধ এবং অন্যান্য গোপন কার্যক্রমকে সাধারণত এ ধরনের হুমকির আওতায় ধরা হয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্স ও ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে সম্ভাব্য নাশকতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ম্যাক্রোঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন কমিয়ে আনতে ভয় দেখানোর কৌশল নিতে পারে রাশিয়া।

রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে পোল্যান্ডের সতর্কতা

রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হাইব্রিড হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে রাশিয়ার।

টাস্কের মতে, পোল্যান্ডও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। রাশিয়া কোনো হামলাকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া এবং জোটের সংহতি পরীক্ষা করার চেষ্টা হতে পারে।

তিন লাখ সেনা নিয়োগের দাবি

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েক মাস ধরেই রাশিয়ার নতুন সেনা নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করে আসছে। গত আগস্টে জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর রাশিয়া অতিরিক্ত তিন লাখ সেনা নিয়োগ করতে পারে।

পরে ইউক্রেনের গোয়েন্দা ও বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করে, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে মোট ছয় লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে মস্কোর।

তবে পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, এত বিপুলসংখ্যক নতুন সেনাকে দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা রাশিয়ার হাতে রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের ধারণা, প্রকাশ্য ও বড় আকারের গণনিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে জনবল বাড়ানোর কৌশল নিতে পারে মস্কো।

ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ

এদিকে ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইউরোপ থেকে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ খবর অস্বীকার করেছে।

এরই মধ্যে ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযান ভবিষ্যতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধেও আরও প্রকাশ্য পদক্ষেপের দিকে গড়াতে পারে।

ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা নিয়ে রাশিয়ার হুমকি

ইউক্রেনকে দূরপাল্লার হামলায় সহায়তা করা হলে ইউক্রেনে থাকা ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে মস্কো।

ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মস্কোয় ব্রিটিশ দূতাবাসের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করে। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই পদক্ষেপকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এর আগে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ১০ কোটি পাউন্ড সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য।

পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশের মূল্যায়ন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অর্থবহ শান্তি আলোচনার পরিবর্তে সামরিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে মস্কো। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে নতুন করে বড় ধরনের সেনা সমাবেশ বা ইউরোপে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

কালের আলো/এসএ

অতীতের কষ্ট পেরিয়ে নতুন সংসারে শবনম ফারিয়ার এক বছর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
অতীতের কষ্ট পেরিয়ে নতুন সংসারে শবনম ফারিয়ার এক বছর

প্রথম সংসারের তিক্ততা, নানা টানাপোড়েন ও মানসিক সংগ্রাম পেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। ব্যাংক কর্মকর্তা তানজিম তৈয়বের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীর প্রথম প্রহরে ঘরোয়াভাবে কেক কেটে উদযাপন করেন ফারিয়া ও তানজিম। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান অভিনেত্রী।

নিজের জীবনের নানা ভুলের কথা স্মরণ করে ফারিয়া জানান, সামাজিকতা রক্ষার জন্য অনেক সময় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যায় সহ্য করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল।

অতীতের সেই সময় কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং ও থেরাপির সহায়তাও নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, জীবনের বেশ কয়েকটি বছর সেই জমে থাকা কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় কেটে গেছে।

তবে দীর্ঘ সেই সময়ের পর তানজিমকে জীবনে পাওয়া এবং নতুন একটি পরিবারের অংশ হতে পারাকে বড় উপহার হিসেবে দেখছেন ফারিয়া। স্বামীর পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের কাছ থেকেও ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে স্বামীকে নিয়ে মিষ্টি খুনসুটিও করেছেন অভিনেত্রী। তানজিমের জন্য তাঁর ‘নতুন বছরের’ পরামর্শ—ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট, ফ্যান ও এসি বন্ধ করা এবং ফ্রিজ থেকে পানি নেওয়ার পর দরজা বন্ধ করা!

ফারিয়ার বার্তায় উঠে এসেছে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা, মানসিক লড়াই পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং নতুন সংসারে পাওয়া ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের গল্প।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্রথম স্বামী হারুনুর রশীদ অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্মকর্তা তানজিম তৈয়বকে বিয়ে করেন ফারিয়া। তানজিম অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে ফিন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত।

কালের আলো/এসএ

খান জাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকের ভিড়

বাগেরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
খান জাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকের ভিড়

বাংলাদেশের মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম অনন্য নিদর্শন বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, বিশাল আয়তন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে মসজিদটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

ঐতিহাসিক সূত্র ও প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর সময় লেগেছিল। তবে মসজিদটির নামকরণ কীভাবে ‘ষাটগম্বুজ’ হলো, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ।

বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মধ্যে ষাটগম্বুজ মসজিদ অন্যতম। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরীকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

মসজিদটির নির্মাণের সঙ্গে সুফি সাধক ও শাসক খান জাহান আলী (রহ.)-এর নাম জড়িয়ে রয়েছে। তিনি এ অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

৭৭ গম্বুজ, তবু নাম ষাটগম্বুজ

নাম ষাটগম্বুজ হলেও মসজিদটির মূল ছাদে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ। এর চার কোণের চারটি বুরুজ যুক্ত করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টি। মসজিদের ভেতরে রয়েছে সারিবদ্ধ স্তম্ভ ও অসংখ্য খিলান। এসব স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য মসজিদটির স্বাতন্ত্র্য ও প্রাচীন নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে।

মসজিদের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত রয়েছে। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে, মসজিদের স্থাপত্য ও গম্বুজের বিন্যাসের সঙ্গে ‘ষাটগম্বুজ’ নামটির সম্পর্ক রয়েছে। আবার অন্যদের মতে, স্থানীয় উচ্চারণ, প্রচলন ও ঐতিহাসিক বিবর্তনের মাধ্যমে নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে নামকরণের নির্ভুল ইতিহাস নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র

ঐতিহাসিক এই মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাগেরহাটে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দর্শনার্থীরা মসজিদের প্রাচীন স্থাপত্য, অভ্যন্তরের কারুকার্য, স্তম্ভ ও খিলান ঘুরে দেখেন। ইতিহাস ও স্থাপত্যের অনন্য সমন্বয় হওয়ায় ষাটগম্বুজ মসজিদ বাগেরহাটের অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান হিসেবে এখনও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে আছে।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

২৫ বছরেই বিদায়, স্মৃতিতে আজও অমলিন সালমান শাহ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
২৫ বছরেই বিদায়, স্মৃতিতে আজও অমলিন সালমান শাহ

বাংলা চলচ্চিত্রে মাত্র তিন বছরের পথচলা। অথচ এই অল্প সময়েই দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন সালমান শাহ। অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক, চুলের স্টাইল, চলন-বলন—সবকিছুতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন তরুণ প্রজন্মের আইকন।

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, এই ক্ষণজন্মা নায়কের জন্মদিন। ১৯৭০ সালের এই দিনে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী।

১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। একই সিনেমায় অভিষেক ঘটে মৌসুমীর। প্রথম সিনেমাতেই সাফল্য পাওয়ার পর দ্রুতই ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন তিনি।

বড় পর্দায় আসার আগে ছোট পর্দাতেও অভিনয় করেছেন সালমান শাহ। ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘দোয়েল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করেছেন তিনি। বিজ্ঞাপনেও ছিল তার উপস্থিতি।

মাত্র তিন বছরের চলচ্চিত্রজীবনে সালমান শাহ অভিনয় করেন ২৭টি সিনেমায়। এর মধ্যে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুজন সখী’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।

সালমান শাহর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন শাবনূর। তারা একসঙ্গে ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেন। তাদের পর্দার রসায়ন এখনো ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি হিসেবে স্মরণ করা হয়।

‘বুকের ভেতর আগুন’ ছিল সালমান শাহ অভিনীত শেষ সিনেমা। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসায় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও হয়েছে।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে চলে গেলেও সালমান শাহর জনপ্রিয়তা কমেনি। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি যে স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী ও তারকা-ইমেজ তৈরি করেছিলেন, তা কয়েক দশক পরও বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।

কালের আলো/এসএ