খুঁজুন
                               
, ,
           

এখনই অবসর নয়, রোনালদোর চোখ ১ হাজার গোলের মাইলফলকে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
এখনই অবসর নয়, রোনালদোর চোখ ১ হাজার গোলের মাইলফলকে

বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন পর্তুগালের এই তারকা ফুটবলার। বরং জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ারে আরও একটি বড় মাইলফলক ছোঁয়ার লক্ষ্য ধরে রেখেছেন তিনি—ক্লাব ও দেশের হয়ে ১ হাজার গোল পূর্ণ করা।

রোনালদোর ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১ হাজার গোল পূর্ণ করতে বাকি রয়েছে আর ২১টি গোল। বয়স ৪১ পেরিয়ে গেলেও অবসর নিয়ে এখনই ভাবছেন না তিনি। বরং নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান পর্তুগিজ তারকা।

বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে যাওয়ার কথা সত্যিই ভেবেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে ভেবেছিলেন। নিজের সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ এমনকি বর্তমান নিয়েও তিনি নিয়মিত চিন্তা করেন। তবে এখন যেহেতু জাতীয় দলের সঙ্গে রয়েছেন, তার অর্থ তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী রোনালদো। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো এবং নতুন কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। জাতীয় দলকে এখনও কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে সাহায্য করার সামর্থ্য রয়েছে বলেও মনে করেন এই তারকা।

রোনালদোর মতে, শুধু গোল করাই নয়, মাঠের বাইরেও জাতীয় দলকে সহায়তা করতে চান তিনি। একই সঙ্গে নতুন ও তরুণ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

তবে জাতীয় দলে নিজের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে জোর করে থেকে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই রোনালদোর। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, যেদিন দল তাকে আর চাইবে না বা মনে হবে তিনি দলের জন্য কোনো অবদান রাখতে পারছেন না, সেদিন নিজেই সরে যাবেন।

নতুন কোচের আস্থায় রোনালদো

রোনালদোর জাতীয় দলে থাকা নিয়ে নতুন কোচ হোর্হে জেসুসেরও আস্থা রয়েছে। পর্তুগাল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই রোনালদোকে খেলানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নেশন্স লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগালের কোচ হিসেবে অভিষেক হবে জেসুসের। রবার্তো মার্তিনেজের স্থলাভিষিক্ত হওয়া এই কোচ রোনালদোকে পর্তুগাল জাতীয় দলের অন্যতম প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জেসুসের বক্তব্য, রোনালদো খেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি খেলোয়াড়ের নয়, কোচের। তার কথায় স্পষ্ট, নতুন কোচের পরিকল্পনায় এখনো রোনালদোর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে।

সমালোচনা নিয়েও নির্ভার

ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে সমালোচনাও কম শুনতে হচ্ছে না রোনালদোকে। তবে এসব নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে চান না তিনি। নিজের প্রতি এবং নিজের কাজের প্রতি আস্থা রাখাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রোনালদো বলেন, তিনি জানেন তিনি কে এবং ক্যারিয়ারে এতদূর আসতে কী করতে হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম তাকে উদাহরণ হিসেবে দেখে—এ বিষয়টিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অবসর নেওয়ার পরও, এমনকি ১০ বছর পরও, তিনি সেই প্রভাব ধরে রাখতে চান।

সমালোচকদের প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি এসবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সমালোচনার সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত। যেসব বিষয় নিজের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেগুলোতেই মনোযোগ দিতে চান তিনি। আর নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে চান না।

ক্যারিয়ারের শুরুর মাঠে ফিরছেন

বৃহস্পতিবার পর্তুগালের হয়ে লিসবনের জোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে ফিরবেন রোনালদো। এই মাঠের সঙ্গেই তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ২০০৩ সালে স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলার পর সেখান থেকেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

দীর্ঘ সময় পর লিসবনে জাতীয় দলের ম্যাচ খেলতে যাওয়াটা তাই রোনালদোর কাছে বিশেষ অনুভূতির। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর জায়গায় আবারও পর্তুগালের জার্সিতে নামার সুযোগকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন তিনি।

১ হাজার গোলই এখন বড় লক্ষ্য

এর মধ্যেই ক্যারিয়ারের ১ হাজার গোলের লক্ষ্য নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে যদি সেই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন, সেটিকে নিজের ক্যারিয়ারের ‘কেকের ওপর চেরি’ হিসেবে দেখবেন তিনি।

তবে মাইলফলকটি নিয়ে অতিরিক্ত আবিষ্ট হতে চান না রোনালদো। তার মতে, কোনো একটি বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে সেটি অর্জন করা কঠিন হয়ে যায়। তাই লক্ষ্য সামনে রেখে খেলাটাকে উপভোগ করেই এগিয়ে যেতে চান ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।

কালের আলো/এসএ

‘এআই আসবেই, তবে মানুষ সত্যিকারের জিনিস দেখতে চায়’: টম ক্রুজ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
‘এআই আসবেই, তবে মানুষ সত্যিকারের জিনিস দেখতে চায়’: টম ক্রুজ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে হলিউডে আলোচনা ও বিতর্ক বেশ পুরোনো। চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনি অভিনেতা, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন। এই বিতর্কের মধ্যেই এবার এআই নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা টম ক্রুজ।

তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। প্রযুক্তির এই অগ্রগতিকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও দর্শকদের চাহিদার জায়গায় খুব বড় পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, মানুষ এখনো পর্দায় ‘সত্যিকারের’ অভিজ্ঞতা দেখতে চায়।

সম্প্রতি লন্ডনে ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টসের (বাফটা) ‘লাইফ ইন পিকচার্স’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন টম ক্রুজ। সেখানে তাকে এআই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আসছে এবং এটা ঘটবেই।’ একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের মধ্যেও নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের সৃষ্টিশীল কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

এআই প্রসঙ্গে টম ক্রুজের এমন মন্তব্য তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সঙ্গেও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যাকশন সিনেমায় বাস্তবধর্মী অভিনয় ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট করার জন্য আলাদা পরিচিতি রয়েছে তার। অনেক সিনেমায় নিজের স্টান্ট নিজেই করার কারণে দর্শকদের কাছে তার অ্যাকশন দৃশ্যগুলো আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

এদিকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, সিনেমা দেখার মাধ্যম নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন টম ক্রুজ। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা বা সিরিজ দেখানোর বিষয়ে তার আপত্তি নেই বলে জানান তিনি। তবে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বড়পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন এই অভিনেতা।

টম ক্রুজের মতে, দর্শকের সঙ্গে বড়পর্দার সিনেমার যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, তা ঘরে বসে কোনো ডিভাইসে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার মতো নয়। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখা তার কাছে ‘একটি আলাদা শিল্পমাধ্যম’।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হলিউডে কাজ করছেন টম ক্রুজ। ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ থেকে ‘মিশন: ইমপসিবল’—বিভিন্ন সফল অ্যাকশন সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে বাস্তব লোকেশনে শুটিং এবং শারীরিক স্টান্টের ক্ষেত্রে তার আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।

ফলে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সময়েও দর্শক ‘সত্যিকারের’ অভিজ্ঞতা চায়—টম ক্রুজের এমন মন্তব্যকে তার নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা হচ্ছে।

নতুন সিনেমা নিয়েও উচ্ছ্বসিত

এদিকে টম ক্রুজের পরবর্তী সিনেমা ‘ডিগার’ নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গনজালেস ইন্যারিতু। এই প্রথম ইন্যারিতুর সঙ্গে কাজ করেছেন টম ক্রুজ।

‘দ্য রেভেন্যান্ট’-এর পর এটি ইন্যারিতুর প্রথম ইংরেজি ভাষার সিনেমা। ছবিতে টম ক্রুজকে দেখা যাবে ডিগার রকওয়েল নামের এক তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে।

সিনেমার গল্পে ওই ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড থেকেই একটি বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি ক্রমে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যার পরিণতি পারমাণবিক যুদ্ধের মতো ভয়াবহ সংকটের দিকেও গড়াতে পারে। নতুন এই সিনেমা নিয়ে টম ক্রুজ নিজেও বেশ আশাবাদী।

কালের আলো/এসএ

নিজের স্ট্রেচমার্ক নিয়ে গর্বিত পরিণীতি, ট্রোলিং নিয়ে ক্ষোভ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
নিজের স্ট্রেচমার্ক নিয়ে গর্বিত পরিণীতি, ট্রোলিং নিয়ে ক্ষোভ

মা হওয়ার পর একজন নারীর জীবনে বদলে যায় অনেক কিছু। বদলায় জীবনযাপন, দায়িত্ব, ঘুমের সময়, মানসিকতার সঙ্গে বদলে যায় শরীরও। কিন্তু সেই স্বাভাবিক পরিবর্তনই যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—একজন নারীকে কেন সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও আগের শরীরের মাপে ফিরে যাওয়ার হিসাব দিতে হবে?

এই প্রশ্নই এবার জোরালোভাবে তুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। সন্তান জন্মের পর নারীদের শরীরের পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি কিংবা স্ট্রেচমার্ক নিয়ে কটাক্ষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। এমনকি নতুন মায়েদের শরীর নিয়ে ট্রোলিংকে ‘একেবারেই অশিক্ষিত’ মানসিকতা বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি ‘জুম’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসব-পরবর্তী শরীর নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারী অভিনয়শিল্পীদের প্রতি বাড়তি নজরদারি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন পরিণীতি। নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন—গর্ভধারণের ফলে শরীরে যে পরিবর্তন আসে, সেটিকে কেন সৌন্দর্যের নেতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হবে?

‘সন্তান জন্ম দেওয়ার পর স্ট্রেচমার্ক থাকলে অভিনন্দন জানানো উচিত’

পরিণীতির মতে, একজন নারীর শরীরে সন্তান জন্মের পর যে পরিবর্তন আসে, সেটিকে লুকানোর বা দ্রুত মুছে ফেলার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।

অভিনেত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ জিম করে শরীরে পেশি তৈরি করলে মানুষ সেটিকে ইতিবাচকভাবে নেয়। কেউ সমুদ্রসৈকতে গিয়ে ত্বক তামাটে করে ফিরলে সেটিও স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়। তাহলে সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীরে পরিবর্তন এলে সেটিকে কেন নেতিবাচকভাবে দেখা হবে—এই প্রশ্নই তার।

পরিণীতির ভাষায়, “একজন নারীর দিকে তাকিয়ে যখন বলা হয়, ‘ওহ মাই গড, তুমি কি সন্তান জন্ম দিয়েছ?’ আর সে যখন বলে, ‘হ্যাঁ, আমার স্ট্রেচমার্ক দেখো, আমি সন্তান জন্ম দিয়েছি’, তখন আমার মনে হয়—‘বাহ, অভিনন্দন! তোমার সন্তান কেমন আছে?’”

তার প্রশ্ন, “এটা কখন নেতিবাচক হয়ে গেল?”

‘ছয় মাস পরই আগের চেহারায় ফিরতে হবে—এমন চাপ কেন?’

সন্তান জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই নারীদের আগের শারীরিক গঠনে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশাকেও প্রশ্ন করেছেন পরিণীতি।

তার মতে, মা হওয়ার পর একজন নারীর শরীরকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। সন্তান জন্মের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে শরীর আগের মতো না হওয়ায় তাকে নিয়ে মন্তব্য করা বা চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কে আপনাকে অধিকার দিয়েছে একজন প্রসব-পরবর্তী নারীকে বলার—‘তোমার সন্তান হওয়ার ছয় মাস হয়ে গেছে, এবার আগের অবস্থায় ফিরে আসো’? আমি এটাকে একেবারেই অশিক্ষিত মানসিকতা মনে করি।”

পরিণীতির বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিষয়—সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো নারীর শরীরের ‘ত্রুটি’ তৈরি করে না। বরং শরীরে থাকা প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা।

নিজের স্ট্রেচমার্ককে ‘সুন্দর’ মনে করেন পরিণীতি

নিজের শরীরের পরিবর্তন নিয়েও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, “আমি আমার স্ট্রেচমার্কের দিকে তাকিয়ে ভাবি—আমি জানি কেন এগুলো হয়েছে। কারণ আমি একটি সন্তান জন্ম দিয়েছি। আমার কাছে এটা খুবই সুন্দর।”

তার প্রশ্ন, “কখন এবং কীভাবে শরীরের এই পরিবর্তন বা স্ট্রেচমার্ক নেতিবাচক হয়ে গেল, সেটাই আমার কাছে অদ্ভুত লাগে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নতুন মায়েদের শরীর নিয়ে মন্তব্য করেন, তাদের এসব কথা গুরুত্ব না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তার মতে, অন্যের শরীর নিয়ে মন্তব্য করার পরিবর্তে মানুষের নিজের জীবন নিয়েই ব্যস্ত থাকা উচিত।

নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে কেন আলাদা মাপকাঠি?

শুধু প্রসব-পরবর্তী শরীর নিয়েই নয়, বলিউডে নারী ও পুরুষ শিল্পীদের জন্য আলাদা সামাজিক মাপকাঠি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিণীতি।

তার মতে, বিয়ের পর কোনো নারী অভিনয়শিল্পী যদি একটু অগোছালো বা ‘মেসি’ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন, তখনও তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য শুরু হয়। কিন্তু একই ধরনের চরিত্রে কোনো পুরুষ অভিনয় করলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণত এতটা আলোচনা হয় না।

এই দ্বৈত মানসিকতার বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন তিনি। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে, নারী অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন, শরীর, বিয়ে, মাতৃত্ব—প্রতিটি বিষয় নিয়েই যেন বাড়তি বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়।

ক্যাটরিনাকে ঘিরে ট্রোলিংয়ের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে

পরিণীতির এই মন্তব্যের সময় স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে আরেক বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের প্রসঙ্গ।

সন্তান জন্মের পর সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ক্যাটরিনার উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার চেহারা ও ওজন নিয়ে নানা মন্তব্য করেন কিছু নেটিজেন। বিষয়টি নিয়ে বলিউডের কয়েকজন তারকাও ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়ান। সালমান খানও প্রকাশ্যে এই ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই পরিণীতির বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ তিনিও সন্তান জন্মের পর কাজে ফিরেছেন এবং নিজের শরীরের পরিবর্তন নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলতে পিছপা হননি।

মা হওয়ার পর নতুন কাজে ফিরলেন পরিণীতি

২০২৫ সালে ছেলে নীরের মা হন পরিণীতি চোপড়া। মাতৃত্বের পর এবার অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। তার নতুন থ্রিলার সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ ২৪ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে। এটি মা হওয়ার পর তার প্রথম প্রজেক্ট।

সিরিজটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক মাকে ঘিরে, যার সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ নয় বছর ধরে সে সত্যের সন্ধান চালিয়ে যায়। যতই সময় গড়ায়, ততই সামনে আসতে থাকে নানা গোপন তথ্য ও সম্পর্কের জটিলতা।

রেনসিল ডি’সিলভা ও সিদ্ধার্থ পি. মালহোত্রার নির্মিত এই সিরিজে পরিণীতির সঙ্গে অভিনয় করেছেন জেনিফার উইঙ্গেট, তাহির রাজ ভাসিন, সোনি রাজদান, সুমিত ব্যাসসহ আরও অনেকে।

‘মা হওয়ার পর শরীর বদলাবে, এটাই স্বাভাবিক’

পরিণীতির বক্তব্য শুধু নিজের শরীর নিয়ে নয়, বরং সন্তান জন্মের পর প্রতিটি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।

একজন নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার শরীরে ওজন বাড়তে পারে, স্ট্রেচমার্ক দেখা দিতে পারে, আগের মতো শারীরিক গঠন নাও থাকতে পারে—এসবই মাতৃত্ব-পরবর্তী পরিবর্তনের অংশ। সেই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ বা দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে যাওয়ার চাপ তৈরি করার বদলে একজন নতুন মাকে সময় ও সম্মান দেওয়া উচিত—এটাই মূলত বলতে চেয়েছেন পরিণীতি।

তার নিজের ক্ষেত্রেও শরীরের পরিবর্তনকে তিনি কোনো নেতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখছেন না। বরং স্ট্রেচমার্ককে সন্তান জন্ম দেওয়ার স্মৃতি হিসেবেই দেখছেন।

আর তাই তার প্রশ্নটি খুব সরল—যে শরীর একটি নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে এনেছে, সেই শরীরের পরিবর্তনকে কেন লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হবে?

মাতৃত্বের পর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পরিণীতি যে বার্তা দিয়েছেন, তা শুধু বলিউডের নারী তারকাদের জন্য নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের শরীর নিয়ে মন্তব্য করা প্রত্যেকের জন্যই একটি ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে।

কালের আলো/জেএন

বিয়ের পর নতুন গান নিয়ে ফিরছেন টেলর সুইফট

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
বিয়ের পর নতুন গান নিয়ে ফিরছেন টেলর সুইফট

বিয়ের পর ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন মার্কিন পপ তারকা টেলর সুইফট। এবার সেই নতুন অধ্যায়কে আরও বিশেষ করে তুলতে নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন একক গান ‘প্যাশিয়েন্ট জিরো’।

গানটি মুক্তির সময়টিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, নতুন গান প্রকাশের মাত্র দুই দিন পরই মঞ্চে উঠবেন টেলর সুইফট। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (ভিএমএ) অনুষ্ঠানের আগে নতুন গান দিয়ে ভক্তদের চমক দিতে যাচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে নতুন গানের ঘোষণা দেন টেলর। সেখানে নতুন একটি ছবি প্রকাশ করে জানান, গানটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি দেওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সময়েই নতুন গানটির ঘোষণা দিলেন এই পপ তারকা। গত ৩ জুলাই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসিকে বিয়ে করেন টেলর। প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে ছিল তাদের নিজেদের লেখা শপথ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও ছিল বিশেষ আয়োজনের অংশ।

এদিকে টেলর সুইফটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে ‘প্যাশিয়েন্ট জিরো’ গানের প্রি-অর্ডারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মূল সংস্করণের পাশাপাশি গানটির অ্যাকুস্টিক ও পিয়ানো সংস্করণও প্রকাশ করা হবে। বিশেষ করে পিয়ানো সংস্করণের প্রচ্ছদ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেখানে টেলরকে তার বাগদানের আংটি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।

অ্যালবাম ও নতুন কাজ

টেলর সুইফটের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। প্রকাশের পর অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষে ১২ সপ্তাহ অবস্থান করে। অ্যালবামটিতে ‘দ্য ফেট অব ওপেলিয়া’ ও ‘ওপালাইট’-এর মতো আলোচিত গানও ছিল।

এর বাইরে চলতি বছর ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য ‘আই নিউ ইট আই নিউ ইউ’ গানটিও প্রকাশ করেছেন টেলর। ফলে নতুন একক গান প্রকাশের ঘোষণায় আবারও তার সংগীতজীবন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এমটিভি ভিএমএতে বিশেষ সম্মাননা

নতুন গান প্রকাশের পরপরই টেলর সুইফটের সামনে রয়েছে আরও একটি বিশেষ আয়োজন। ২৫ সেপ্টেম্বর গানটি প্রকাশের মাত্র দুই দিন পর এমটিভি ভিএমএ অনুষ্ঠানে তাকে প্রথমবারের মতো দেওয়া ‘আর্টিস্ট ডিরেক্টরস অনার্স’ সম্মানে ভূষিত করা হবে।

একই অনুষ্ঠানে নয়টি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছেন টেলর। ফলে নতুন গান, বিশেষ সম্মাননা ও একাধিক মনোনয়ন—সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষটা পপ তারকার ক্যারিয়ারে বেশ ব্যস্ত সময় হিসেবেই সামনে আসছে।

কালের আলো/এসএ