খুঁজুন
                               
, ,
           

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ তছনছ হয়ে গেল রাজধানীর ইসিবি চত্বরের একটি কর্মস্থল। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ব্রাউনফিশে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে সিসি ক্যামেরা, নষ্ট করা হয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাব। স্টুডিও থেকে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিউগ্রিন প্রপার্টিজের কার্যালয়ে অবস্থিত স্টুডিওটিতে এ ঘটনা ঘটে। তবে হামলায় স্টুডিওর কোনো কর্মী আহত হননি বলে জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান। রাত ১টা ৩৩ মিনিটে দেওয়া ওই ভিডিওতে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উঠে আসে তার উদ্বেগের আরেকটি দিক—এ ধরনের ঘটনা ছোট উদ্যোক্তা কিংবা সাধারণ কর্মজীবী মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে।

সালমান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিটা সামলে ওঠার সক্ষমতা তার আছে। নিজের চেষ্টায় আবার কাজ শুরু করার কথাও জানান তিনি। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে পড়া অন্যদের জন্য বিষয়টি এতটা সহজ নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তার বক্তব্যে উঠে আসে নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন। তিনি বলেন, কোনো নিউজ চ্যানেল, স্টুডিও কিংবা কর্মস্থল এভাবে আক্রান্ত হলে সংশ্লিষ্টদের জন্য সেটি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়; মানসিকভাবেও বড় ধাক্কা। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশের মানুষ কোথাও সেফ না’—এটাই তাকে বেশি ভাবাচ্ছে।

ভিডিওতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিও বক্তব্য রাখেন সালমান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রী তার দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত এবং তিনি কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সেটি মানুষ দেখতে পারছে।

পরে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে হামলার নেপথ্যে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা বলেন সালমান। তার দাবি, স্টুডিওটি যে স্থাপনায় ছিল, সেই জায়গার মালিকের সঙ্গে চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো একটি ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল।

চাঁদা না দেওয়ার জেরে তৈরি হওয়া বিরোধের প্রতিশোধের মধ্যে তাদের মতো ব্যক্তিরাও পড়ে গেছেন বলে দাবি তার।
ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক নিয়ে এখনই ভাবতে চান না সালমান। বরং আতঙ্কিত হয়ে পড়া কর্মীদের মানসিকভাবে সামলে তোলাকেই আপাতত সবচেয়ে জরুরি মনে করছেন তিনি।

ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কী কারণে হামলা এবং চাঁদা দাবির অভিযোগের পেছনের ঘটনা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তে। অভিযোগগুলোর সত্যতাও তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

সাড়ে ৪ লাখ মানুষের ভরসা, চিকিৎসক মাত্র ৭ জন

মিরপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
সাড়ে ৪ লাখ মানুষের ভরসা, চিকিৎসক মাত্র ৭ জন

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৪৪ জন চিকিৎসকের পদ থাকার বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র সাতজন। ফলে ৩৭টি পদই শূন্য রয়েছে।

চিকিৎসক সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, টিকিট কেটে চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকা অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা না পেয়ে নন-এমবিবিএস চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংকট চললেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। এতে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে বহির্বিভাগে রোগী দেখার সময় ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের নাম, পদবি ও সিল দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। রোগীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোগীদের ভাষ্য, ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের নাম, পদবি ও সিল থাকলে কে রোগী দেখেছেন তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে চিকিৎসাসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য মাত্র সাতজন চিকিৎসক দিয়ে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। এতে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তারা দ্রুত শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগ, বহির্বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকের পরিচয়সংবলিত সিল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং নষ্ট জেনারেটরসহ হাসপাতালের অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকটের সমাধান হবে এবং এলাকার মানুষ স্বাভাবিক ও মানসম্মত সরকারি চিকিৎসাসেবা পাবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল থেকেই কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু হবে। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা নিয়ে কোনো আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের কেউ নেই এবং তাদের সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শতভাগ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা হবে। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন, বিএনপি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছিল এবং সোনার বাংলাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি আবার সেই জামায়াতে ইসলামকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করবেন।’

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যখন সংসদে যায়, তখন এক ধরনের অবস্থান নেয়; আবার সংসদ থেকে বের হয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়। এমনকি এক দফার মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ফজলুর রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সবচেয়ে বেশি খর্ব করা হয়েছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সহজে বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি