খুঁজুন
                               
, ,
           

সাগরে বিলীন হচ্ছে পারকি সৈকত, ঝুঁকিতে পর্যটক

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাগরে বিলীন হচ্ছে পারকি সৈকত, ঝুঁকিতে পর্যটক

চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকত দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় ভাঙন, দূষণ, দখল ও অব্যবস্থাপনার কবলে পড়ে সংকুচিত হচ্ছে। এতে দেশের অন্যতম এ পর্যটনকেন্দ্রটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। একই সঙ্গে পর্যটক ও স্থানীয়দের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২০ সালের পর থেকে ধাপে ধাপে এক হাজার মিটারের বেশি সৈকত এলাকা সাগরে বিলীন হয়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রায় এক কিলোমিটার ঝাউবনও হারিয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাস, উচ্চ জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। জোয়ারের সময় বেলাভূমির বড় অংশ পানির নিচে চলে যায়।

সৈকত রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করলেও এগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন ঝুঁকি। বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ার পর এসব গর্তে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকে। এর সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভাঙা স্থাপনার কংক্রিট ও বর্জ্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য পর্যাপ্ত সাইনবোর্ডও নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আনোয়ার বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, গাছপালা ধ্বংস ও পরিবেশের প্রতি উদাসীনতার কারণে পারকির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু জাফর মজুমদার বলেন, জিও টিউব ও জিও ব্যাগ নদী রক্ষার নকশায় ব্যবহার করা হচ্ছে। সমুদ্র রক্ষায় উপযোগী নকশা প্রয়োজন। এ জন্য পাউবো ‘পারকি সি-বিচ সংরক্ষণ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে সৈকত রক্ষা করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলম বলেন, জিও ব্যাগ সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকালেও দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই নয়। স্থায়ী ও সাশ্রয়ী বিকল্প খুঁজে বের করা জরুরি। পরিবেশবান্ধব ম্যানগ্রোভ বনায়নের পাশাপাশি আধুনিক গ্রোয়েন বাঁধের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভিন বলেন, পারকির পর্যটন সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। পরিকল্পিত উপকূলীয় সুরক্ষা নীতি না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সমুদ্রে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৈকত রক্ষায় পাউবো ৫৪৮ কোটি ১৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘পারকি সি-বিচ সংরক্ষণ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৩ দশমিক ৪৬০ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ, ২ দশমিক ৭৩০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ, সড়ক নির্মাণ ও খাল খননসহ বিভিন্ন কাজ করা হবে। এতে পারকি সৈকতের পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক, স্থানীয় বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত হবে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নকশা প্রস্তুতের কাজ চলছে। অনুমোদন পেলে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

পারকি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কাশেম বলেন, ভাঙনের কারণে পর্যটক কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পারকি তার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য নতুন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এর অন্তর্নিহিত ঝুঁকি এখনো উল্লেখযোগ্য থাকায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এতে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

ডেপুটি গভর্নর জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির ১৪তম সভায় সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নিয়ন্ত্রণে আসার যথেষ্ট প্রমাণ এখনো নেই। বৈশ্বিক জ্বালানির দাম, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি, দেশে জ্বালানির নিয়ন্ত্রিত মূল্যের সমন্বয় এবং নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, আগেভাগে নীতি শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ওই সময়ে শিল্প উৎপাদন ০ দশমিক ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে সহায়তার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ এবং কৃষি, সিএমএসএমই ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের কথা মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা ও বিতরণ এখনো দুর্বল। ২০২৬ সালের আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বিনিয়োগে ধীরগতি, ঋণগ্রহীতাদের উচ্চ ঝুঁকি ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুনে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছানোর তথ্যও দেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যালেন্স অব পেমেন্টসের উদ্বৃত্ত ছিল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে।

আগামী দিনের অর্থনীতির ঝুঁকি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য বিঘ্ন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য, কঠোর বৈশ্বিক মুদ্রানীতি, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রাজস্ব খাতের চাপ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত না করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করাই মুদ্রানীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাংলাদেশে রোবট ফোন আনল অনার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে রোবট ফোন আনল অনার

বাংলাদেশের বাজারে স্মার্টফোনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইসসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে বড় পরিসরে স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে অনার বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি রোবট ফোন প্রদর্শন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘অনার কানেক্ট’ অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে নতুন লোগোও উন্মোচন করা হয়।

স্মার্টফোনের পাশাপাশি আসছে টিভি-ল্যাপটপ

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এতদিন বাংলাদেশে মূলত স্মার্টফোনের জন্য পরিচিত থাকলেও এখন পণ্যের পরিধি বাড়াতে যাচ্ছে অনার। এর অংশ হিসেবে দেশের বাজারে ল্যাপটপ ও টেলিভিশন নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।

অনারের টেলিভিশন সিরিজে ৩২ থেকে ১০০ ইঞ্চি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের পর্দার মডেল থাকবে। এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের পাশাপাশি ঘর ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের বাজারেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

অনারের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জিটিএম পরিচালক লিও পেই বলেন, বাংলাদেশে অনারের যাত্রা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে শুরু হলেও এখন ফোন তাদের বৃহত্তর স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেমের একটি অংশ। ফোন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনকে পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে প্রযুক্তিপণ্য

বাংলাদেশে অনারের অংশীদার স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, অনার বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করছে। এসব পণ্যের মান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কারখানায় তৈরি পণ্যের সমমানের বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ধাপে ধাপে অনারের আরও বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে আসা হবে।

প্রথমবার প্রদর্শিত রোবট ফোন

‘অনার কানেক্ট’ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অনারের তৈরি রোবট ফোন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত এই ডিভাইসটি নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের পাশাপাশি আগ্রহ দেখান নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও।

চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফী রোবট ফোনটি হাতে নিয়ে বলেন, ডিভাইসটি দিয়ে পরীক্ষামূলক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, প্রচলিত ফিল্ম ক্যামেরা আকারে বড় হওয়ায় অনেক জায়গায় শুটিং করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু রোবট ফোনটি বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করে তুলনামূলক কঠিন পরিস্থিতিতেও শুটিং করা সম্ভব হতে পারে।

আসছে নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে ২৮ সেপ্টেম্বর উন্মোচিত অনারের ম্যাজিক৯ প্রো ম্যাক্স মডেলটি শিগগিরই বাংলাদেশের বাজারে আনা হবে।

এর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয় অনারের ম্যাজিক ভি৬ ভাঁজযোগ্য ফোন, বিভিন্ন ট্যাবলেট, ইয়ারবাড, হেডফোন, স্মার্টঘড়ি, স্মার্ট গ্লাস, ল্যাপটপ ও টেলিভিশন।

অনার বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রধান আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পণ্য ও বিপণনপ্রধান সৈয়দ মো. বদরুল আরেফিনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে শুধু স্মার্টফোন বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে একটি সমন্বিত স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে অনার বাংলাদেশ।

কালের আলো/এসএ

হাসপাতালে দালাল ও ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর স্বাস্থ্য বিভাগ

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে দালাল ও ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর স্বাস্থ্য বিভাগ

রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা সদর হাসপাতাল ও ৬৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নুরুল ইসলামের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমটি তদারকি করছেন রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

বিভাগীয় পরিচালক প্রতি মাসে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। পরিদর্শনকালে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকদের হাসপাতাল চত্বরে দালালদের প্রবেশ এবং কর্মঘণ্টায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবস্থান ঠেকাতে কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত তদারকি ও অভিযানের ফলে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে রাজশাহী জেলার পবা, দুর্গাপুর, মোহনপুর, চারঘাট, পুঠিয়া, বাঘা, গোদাগাড়ী, তানোর ও বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল জাহিদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিভাগীয় পরিচালকের কঠোর নির্দেশনার পর হাসপাতাল চত্বরকে দালালমুক্ত করা হয়েছে।

নাটোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। নাটোর সদর হাসপাতালে অভিযানের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এক দালালকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। রাজশাহী বিভাগে বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতাল গরিব মানুষের ভরসার জায়গা। সেখানে দালাল বা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কোনো স্থান নেই। রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে দালালদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি