খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানিদের আমন্ত্রণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানিদের আমন্ত্রণ

জাপানি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করতে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানি ভ্রমণপ্রেমীদের বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানানো হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ওয়ার্ল্ড এয়ার সি সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত ব্যক্তি ও ভ্রমণকারীদের প্রায় ৮০ জন অংশ নেন।

সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। প্রচলিত খাতের পাশাপাশি পর্যটনের মতো উদীয়মান খাতেও বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার, টাঙ্গুয়ার হাওর, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও বাগেরহাটের মতো পর্যটন আকর্ষণগুলোর কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের হস্তশিল্প, বাউল সংগীতসহ লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং খাবারের ঐতিহ্যও তুলে ধরেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও দ্রুত ভিসা দেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জাপানি অতিথিদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানান।

সেমিনারে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত ও ভ্রমণকারীদের যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ওয়ার্ল্ড এয়ার সি সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ইয়োসুকে কিকুমা বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।

জাপান-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পর্যটন খাতে আরও বিস্তৃত করতে এ সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি সংকট সামলাতে প্রকল্প থেকে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিল বিপিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট সামলাতে প্রকল্প থেকে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিল বিপিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটসহ (ইআরএল-২) বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ রয়েছে।

জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থাপিত বিপিসির কার্যপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কার্যপত্রে বলা হয়, যুদ্ধ ও বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ সময়ে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন প্রকল্প খাত থেকে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলে ব্যবহার করা হয়।

প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের কারণে এসব প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও বিপিসি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এতে প্রকল্পগুলোর কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না। তাঁর ভাষ্য, ব্যবহৃত অর্থ বিপিসির নিজস্ব অর্থ। কোন প্রকল্পে কখন কত টাকা প্রয়োজন হবে, সেই হিসাব করে অগ্রাধিকার অনুযায়ী অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। প্রয়োজনের সময় প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থের ব্যবস্থা করা হবে।

বিপিসির কার্যপত্র অনুযায়ী, ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির কারণে সংস্থাটির চলতি মূলধনও কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৮৬ ডলার থাকলেও মার্চে তা বেড়ে ১৮৬ দশমিক ৫৯ ডলারে ওঠে। এপ্রিলে সর্বোচ্চ ২৮৪ দশমিক ৯৫ ডলারে পৌঁছায়। সেপ্টেম্বরে কার্যপত্র তৈরির সময় পর্যন্ত গড় দাম ছিল ১৬৫ দশমিক ৮২ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও জনস্বার্থে প্রায় পাঁচ মাস দেশে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়নি। ২০২৪ সালের মার্চে দেশে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু হয়।

সবশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। বর্তমানে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসি জানিয়েছে, লোকসান কমানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমাতেও দাম বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বিপিসি। বর্তমানে সংস্থা ও এর আওতাধীন বিভিন্ন কোম্পানির ৬৪টি ডিপো ও স্থাপনায় মোট ১৬ লাখ ২৭৩ টন জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা রয়েছে। এতে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে কার্যপত্রে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

অপারেশন ছাড়াই থাইরয়েডের গোটা কমানোর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
অপারেশন ছাড়াই থাইরয়েডের গোটা কমানোর উপায়

গলায় থাইরয়েডের নডিউল বা গোটা ধরা পড়লে অনেকের মধ্যেই ক্যানসারের ভয় তৈরি হয়। একই সঙ্গে মনে হয়, হয়তো অস্ত্রোপচার করেই সেটি অপসারণ করতে হবে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব থাইরয়েড নডিউল ক্যানসার নয় এবং সব নডিউলের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও পড়ে না।

ছোট আকারের অনেক নডিউল কোনো ধরনের উপসর্গ তৈরি না করলে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে রাখাই যথেষ্ট। তবে কোনো নডিউল ধীরে ধীরে বড় হলে কিংবা গলায় চাপ, অস্বস্তি, গিলতে সমস্যা, শ্বাসকষ্ট বা বাহ্যিক সৌন্দর্যে সমস্যা তৈরি করলে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতিতে গলায় বড় করে কাটাছেঁড়া না করেও কিছু থাইরয়েড নডিউলের আকার কমানো সম্ভব। এ পদ্ধতিকে বলা হয় থার্মাল অ্যাব্লেশন বা তাপপ্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা। বাংলাদেশেও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এ চিকিৎসা করা হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে থার্মাল অ্যাব্লেশন

থার্মাল অ্যাব্লেশনে আলট্রাসনোগ্রামের সাহায্যে খুব সরু একটি সুচের মতো যন্ত্র থাইরয়েডের নডিউলের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। এরপর নিয়ন্ত্রিত তাপ প্রয়োগ করে নডিউলের নির্দিষ্ট অংশ চিকিৎসা করা হয়।

চিকিৎসা করা অংশ ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শোষিত হতে থাকে। ফলে সময়ের সঙ্গে নডিউলের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

থার্মাল অ্যাব্লেশনের কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাব্লেশন (RFA)-এ রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে তাপ তৈরি করা হয়। অন্যদিকে মাইক্রোওয়েভ অ্যাব্লেশন (MWA)-এ মাইক্রোওয়েভ শক্তি ব্যবহার করে তাপ উৎপন্ন করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে লেজার দিয়েও একই ধরনের চিকিৎসা করা যায়।

সবার জন্য এই চিকিৎসা নয়

থার্মাল অ্যাব্লেশন সব ধরনের থাইরয়েড নডিউলের জন্য উপযুক্ত নয়। সাধারণত যেসব নডিউল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কিন্তু সেগুলোর কারণে রোগীর উপসর্গ, অস্বস্তি বা সৌন্দর্যগত সমস্যা তৈরি হচ্ছে—সেসব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বিবেচনা করা হয়।

কিছু নির্দিষ্ট রোগীর অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করা থাইরয়েড নডিউলের ক্ষেত্রেও অ্যাব্লেশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে চিকিৎসা শুরুর আগে নডিউলের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এজন্য আলট্রাসনোগ্রাম, প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা এবং সুচের মাধ্যমে কোষ বা টিস্যু পরীক্ষা করে ক্যানসারের ঝুঁকি যাচাই করা হয়।

কোনো নডিউলে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকলে শুধু অ্যাব্লেশন যথেষ্ট নয়। সে ক্ষেত্রে রোগীর জন্য অস্ত্রোপচারসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

বড় কাটাছেঁড়া নেই, দ্রুত ফিরতে পারেন স্বাভাবিক কাজে

থার্মাল অ্যাব্লেশনের অন্যতম সুবিধা হলো, সাধারণত গলায় বড় করে কাটতে হয় না। ফলে দৃশ্যমান দাগ হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম।

এ পদ্ধতিতে থাইরয়েডের সুস্থ অংশও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংরক্ষণ করা যায়। সম্পূর্ণ থাইরয়েড অপসারণ না করে শুধু নডিউলকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা করা সম্ভব হওয়ায় স্বাভাবিক থাইরয়েড কার্যক্রম বজায় রাখার সুযোগ থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান না করে স্থানীয়ভাবে অবশ করেই চিকিৎসাটি করা যায়। হাসপাতালে থাকার সময়ও তুলনামূলক কম এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, থাইরয়েডের বাকি অংশ স্বাভাবিকভাবে কাজ করলে চিকিৎসার পর আজীবন থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

জটিলতা একেবারে নেই, তা নয়

রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা মাইক্রোওয়েভ অ্যাব্লেশন সাধারণত নিরাপদ হলেও এর কিছু জটিলতা হতে পারে। চিকিৎসার পর সাময়িকভাবে গলাব্যথা, ফুলে যাওয়া, কালচে দাগ বা রক্ত জমাটের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খুব কম ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, রক্তপাত, সংক্রমণ, ত্বকে পোড়া কিংবা আশপাশের স্নায়ু ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো জটিলতাও হতে পারে।

তাই এ চিকিৎসা অবশ্যই আলট্রাসনোগ্রামের সাহায্যে এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা থাকা চিকিৎসকের মাধ্যমে করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে চিকিৎসা

থাইরয়েড নডিউলের চিকিৎসায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ অ্যাব্লেশন বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে রোগীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি উপযুক্ত কি না, তা নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তির মান সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গলায় গোটা বা নডিউল ধরা পড়লেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আবার নিজে থেকে এটিকে সাধারণ সমস্যা ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নডিউলের প্রকৃতি ও ঝুঁকি নির্ধারণের পরই চিকিৎসার পদ্ধতি ঠিক করা উচিত।

লেখক: ডা. মুহাম্মদ আবু বকর, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ

কালের আলো/এসএ

মিরপুর ১০-এ উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ‘ইন্ধনদাতাদের’ গ্রেপ্তারের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
মিরপুর ১০-এ উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ‘ইন্ধনদাতাদের’ গ্রেপ্তারের ঘোষণা

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ফুটপাত দখল ও হামলার পেছনে ‘ফ্যাসিবাদের আমলের সুবিধাভোগী ও তাদের দোসররা’ জড়িত বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে ফুটপাতে চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় অভিযান চালানোর সময় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে রাখা একটি গোষ্ঠী ও তাদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সংবাদকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, পরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। নগর সেবার স্বার্থে এবং পথচারীদের চলাচলের উপযোগী রাখতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঘটনার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, ‘আজ পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিবাদের দোসররা মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।’ এ ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

মিল্টন বলেন, পুলিশ ও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

মিরপুরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত সোমবার ১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটওভার ব্রিজের নিচে উচ্ছেদ অভিযান শেষে গাছ লাগানো হয়েছে। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে সৌন্দর্যবর্ধন ও উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

হামলায় আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মিরপুরের সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত চায়।

ভবিষ্যতে কোনো গোষ্ঠীর ইন্ধনে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় মিরপুর জোনের বিভাগীয় উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, কাফরুল ও মিরপুর থানার ওসি, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল হাসান এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েসসহ সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি