খুঁজুন
                               
, ,
           

দুর্গাপূজায় মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, থাকবে মনিটরিং টিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, থাকবে মনিটরিং টিম

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। সভায় উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার পূজামণ্ডপের সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। গত বছর দেশে প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ হয়েছে।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) একটি অ্যাপ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনো অঘটন ঘটলে দ্রুত তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই অ্যাপটি ব্যবহার করা হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং টিমের পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও ফোন নম্বর সংশ্লিষ্ট থানায় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনে তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মণ্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। জেনারেটরেও সমস্যা হলে চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি এবার তিন দিন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় কার্যত পাঁচ দিনের ছুটি হবে।

এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোথাও ঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পূজার প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো খবর সত্য হলে পুলিশ প্রধান বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেবেন।

চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপরাধীদের তালিকা পুলিশের কাছে নিয়মিত থাকে এবং তা হালনাগাদ করা হয়। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে মনে হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক-দুইটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের আরও সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের আরও সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে চীনের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংকট সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের আরও বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ আঞ্চলিক যোগাযোগের বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

এ সময় মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এসব উদ্যোগ যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

এ সময় এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

জ্যাকি চ্যানের মৃত্যু! ভাইরাল ছবি ঘিরে রহস্য

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
জ্যাকি চ্যানের মৃত্যু! ভাইরাল ছবি ঘিরে রহস্য

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও মার্শাল আর্ট তারকা জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর খবর আবারও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ৭২ বছর বয়সী এই অভিনেতার মৃত্যুর দাবি করে একটি সাদাকালো ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি। তবে এই খবরের কোনো সত্যতা নেই। জ্যাকি চ্যান জীবিত আছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সাদাকালো ছবিতে জ্যাকি চ্যানের নামের পাশে ‘১৯৫৪-২০২৬’ লেখা দেখা যায়। ছবিটি দেখতে অনেকটা স্মরণবার্তার মতো হওয়ায় অনেকেই এটিকে তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে ধরে নেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে তার মৃত্যুর গুজব।

ভাইরাল ছবিতে বিভ্রান্তি

ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভক্ত শোক প্রকাশ করতে শুরু করেন। এক্সেও (সাবেক টুইটার) ছবিটি ব্যবহার করে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে পোস্ট করা হয়। এরই মধ্যে পোস্টটি বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

তবে ভাইরাল হওয়া ওই ছবির সঙ্গে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হেরাল্ড অনলাইনও খবরটিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

বরং সাম্প্রতিক সময়ের তথ্য বলছে, জ্যাকি চ্যান এখনো জীবিত এবং চলতি বছরের জুলাইয়েও তাকে প্রকাশ্য একটি অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।

জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরে ছিলেন জ্যাকি চ্যান

চলতি বছরের ৭ জুলাই সিঙ্গাপুরের পেই চুন পাবলিক স্কুলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন জ্যাকি চ্যান। সেখানে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক তাকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে উশু, সিংহ ও ড্রাগন নৃত্য পরিবেশন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের শৈশব, দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেতা।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের একটি গানও পরিবেশন করেন জ্যাকি চ্যান। ফলে তার মৃত্যুর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

আগেও বহুবার ছড়িয়েছে মৃত্যুর গুজব

জ্যাকি চ্যানকে ঘিরে মৃত্যুর গুজব অবশ্য এবারই প্রথম নয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।

২০১১ সালে ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা আফ্রিকা চেক জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর এমন একটি গুজব নথিভুক্ত করেছিল। এরপর ২০১৫ সালেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তার মৃত্যুর মিথ্যা খবর। সে সময় ভক্তদের আশ্বস্ত করতে জ্যাকি চ্যান নিজেই জানান, তিনি জীবিত আছেন।

২০২৫ সালেও ফেসবুকে একই ধরনের একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে সেটিও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।

ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ার

জ্যাকি চ্যান ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিনোদনজগতে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি মার্শাল আর্ট, স্টান্ট এবং নিজস্ব অ্যাকশনধর্মী অভিনয়শৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

‘ড্রাংকেন মাস্টার’, ‘পুলিশ স্টোরি’, ‘রাশ আওয়ার’, ‘দ্য ক্যারাটে কিড’ ও ‘কুংফু পান্ডা’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে হংকংয়ের চলচ্চিত্র থেকে হলিউড—দুই অঙ্গনেই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান তৈরি করেছেন এই তারকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও, ভাইরাল ছবিটি তার মৃত্যুর প্রমাণ নয়। এ ধরনের সংবেদনশীল খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার পর সরাসরি বিশ্বাস না করে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

কৃষকের হাতে কার্ড, বদলাবে সহায়তার পথ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
কৃষকের হাতে কার্ড, বদলাবে সহায়তার পথ

যে হাত মাটিতে বীজ ছড়ায়, যে হাত ফসলের শীষে ভবিষ্যৎ খোঁজে—সেই হাতেই এবার উঠবে একটি কার্ড। শুধু পরিচয়ের জন্য নয়, সরকারি সহায়তার দরজা সরাসরি খুলে দিতে। কৃষকের ঘাম আর রাষ্ট্রের সহায়তার মাঝখানে যে দূরত্ব, সেই দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’।

  • আগামীকাল ১ অক্টোবর ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধন
  • প্রথম ধাপেই এক লাখ ১০ হাজার কৃষক, লক্ষ্য প্রকৃত কৃষককে রাষ্ট্রীয় সহায়তার কেন্দ্রে আনা
  • কিউআর কোডে পরিচয়, ব্যাংকে প্রণোদনা, এক প্ল্যাটফর্মে কৃষকের তথ্য

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর ফুলগাজী থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একটি কার্ডের যাত্রা শুরু হবে সেখান থেকে, যার পরিধি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়বে দেশের প্রত্যন্ত কৃষি ব্লক পর্যন্ত। প্রথম ধাপে ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলা ও ৭৭ কৃষি ব্লকের এক লাখের বেশি কৃষক যুক্ত হচ্ছেন। একই দিনে নির্বাচিত কৃষকের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি পৌঁছাবে প্রণোদনার অর্থ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন। ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলা ও ৭৭ কৃষি ব্লকের এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ জন কৃষকের কাছে সরাসরি প্রণোদনার টাকা দেওয়া হবে।’ সচিব জানান, ফেনীর ছয় উপজেলার প্রথম ব্যাচে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষকের কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ব্যাচে আরও এক লাখ ২ হাজার ৫২২ জন কৃষকের জন্য কার্ড বিতরণের প্রস্তুতিও শেষ।

একটি কার্ড, পেছনে বিশাল স্বপ্ন
দেখতে ছোট একটি কার্ড। কিন্তু এর ভেতরে রাখা হচ্ছে কৃষকের বড় একটি পরিচয়। কৃষকের নাম, জমির পরিমাণ, উৎপাদনের ধরন, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার তথ্য—ধীরে ধীরে সবকিছুকে একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের কাছে শুধু ‘একজন কৃষক’ হিসেবে নয়, প্রত্যেক কৃষকের আলাদা একটি তথ্যভিত্তিক পরিচয় থাকবে। কোথায় কত কৃষক, কার জমি কত, কে কোন ফসল ফলান, কে কী সহায়তা পেয়েছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আর কাগজের স্তূপে হাতড়াতে হবে না।

প্রণোদনা যাবে কৃষকের হাত ঘুরে জমিতে
প্রাথমিকভাবে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই টাকা শুধু হাতে পৌঁছালেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। নির্ধারিত সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ কেনার জন্যই অর্থটি ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ কৃষকের হাতে যাওয়া টাকা আবার ফিরে যাবে জমিতে—বীজে, সারে, ফসলে। কৃষকের ঘামে যে উৎপাদন, সেই উৎপাদনের পেছনেই সরকারি সহায়তাকে বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা থাকছে। এক লাখ কৃষককে এই হারে প্রণোদনা দিতে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে ২৫ কোটি টাকা।

কিউআর কোডে খুলবে কৃষকের পরিচয়
কার্ডের গায়ে থাকবে কিউআর কোড। একবার স্ক্যান করলেই উঠে আসবে নিবন্ধিত কৃষকের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য। প্রযুক্তির এই ছোট্ট সংযোজনটি বড় একটি কাজ করতে পারে। একই কৃষক একাধিকবার সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তালিকায় ভুয়া নাম ঢুকেছে কি না কিংবা কোনো কৃষক আগে কী সহায়তা পেয়েছেন—এসব যাচাই সহজ হবে।

নির্ধারিত কৃষি উপকরণের দোকানেও বসানো হচ্ছে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন। কার্ড দেখিয়ে কৃষক নির্ধারিত উপকরণ কিনতে পারবেন। ফলে প্রণোদনা দেওয়ার পর অর্থের গতিপথও নজরে রাখার সুযোগ থাকবে।

ব্যাংকের পথ পেরিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছে
কৃষকের ব্যাংক হিসাবও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রণোদনার অর্থ লেনদেনে যুক্ত হয়েছে সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক। ইতোমধ্যে এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ফলে সরকারি অর্থ পৌঁছাবে সরাসরি কৃষকের হিসাবে। মাঝখানের অনাবশ্যক স্তর কমবে, অর্থের হিসাবও থাকবে স্পষ্ট।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে প্রকৃত কৃষক? কৃষক কার্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি যেমন সঠিক তথ্য, সবচেয়ে বড় পরীক্ষাও সেখানেই। জমির পরিমাণকে প্রাথমিক ভিত্তি ধরে কৃষক শনাক্ত করা হচ্ছে। পাঁচ শতাংশের কম জমির মালিককে ভূমিহীন, পাঁচ থেকে ৪৯ শতাংশকে প্রান্তিক এবং ৫০ থেকে ১৪৯ শতাংশ জমির মালিককে ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রামের কৃষি বাস্তবতা শুধু জমির দলিলে আটকে নেই। বর্গাচাষি আছেন, ভাগচাষি আছেন, অন্যের জমিতে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলানো মানুষ আছেন। তাই কার্ডের তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম তোলা এবং সেই তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখাই হবে কর্মসূচির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

এক লাখ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ
ফুলগাজীর প্রথম আয়োজনটি আসলে একটি দীর্ঘ যাত্রার শুরু। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

আর পাঁচ বছরের মধ্যে ৬৪ জেলার ৫০৩ উপজেলা ও ১৮ হাজার ১৮০ কৃষি ব্লকের প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ আজকের এক লাখ কৃষক আগামী দিনের বিশাল কৃষক ডেটাবেসের প্রথম সারির অংশ।

বদলাবে সহায়তার ভাষা
একজন কৃষকের জমি থেকে ব্যাংক হিসাব—সব তথ্য যখন একটি ব্যবস্থায় থাকবে, তখন কৃষি সহায়তার চেহারাও বদলাতে পারে। কৃষিঋণ, কৃষিবীমা, সেচ, সার-বীজ, কৃষিযন্ত্র কিংবা দুর্যোগের সময় জরুরি সহায়তা—সবকিছুই আরও নির্দিষ্ট কৃষকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ফেনীতে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত সব কৃষকই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

ফুলগাজীতে আজ ১ অক্টোবর তাই শুধু একটি কার্ড বিতরণের দিন নয়। মাটির সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও সরাসরি করার একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু। একটি কার্ড হয়তো ছোট। কিন্তু সেই কার্ডে লেখা থাকবে কৃষকের পরিচয়, জমির হিসাব, প্রাপ্য সহায়তা আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। মাটির মানুষের হাতে সেই কার্ড পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে কৃষিকে তথ্যের শক্তিতে এগিয়ে নেওয়ার নতুন যাত্রা।

কালের আলো/আরআই/এমকে