খুঁজুন
                               
, ,
           

কন্যাসন্তানের বাবা-মা ডিলান-বারবারা

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
কন্যাসন্তানের বাবা-মা ডিলান-বারবারা

প্রথম কন্যাসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন মার্কিন অভিনেতা ডিলান স্প্রাউস ও সুপারমডেল বারবারা পালভিন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় ভক্তদের সঙ্গে সুখবরটি ভাগ করে নিয়েছেন তারকা দম্পতি।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের জার্সি পরে ডিলান ও বারবারা তাঁদের নবজাতক কন্যাকে কোলে নিয়ে একসঙ্গে বেসবল খেলা উপভোগ করছেন। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিনন্দনে ভরে ওঠে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

শ্রম দিবসেই জন্ম কন্যার

সন্তানের জন্মের বিষয়টি জানাতে গিয়ে বেশ রসিকতার আশ্রয় নিয়েছেন ডিলান ও বারবারা। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দিবস বা লেবার ডে উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তাঁরা ইঙ্গিত করেছেন, এ বছর দিনটিকে তাঁরা আক্ষরিক অর্থেই ‘শ্রম দিবস’-এ পরিণত করেছেন।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দিবসেই জন্ম হয়েছে তাঁদের কন্যার। তবে সন্তান জন্মের প্রায় তিন সপ্তাহ পর তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে সুখবরটি প্রকাশ্যে আনলেন।

নবজাতকের ছবি শেয়ার করলেও এখনো মেয়ের নাম প্রকাশ করেননি এই তারকা দম্পতি। ফলে তাঁদের কন্যার নাম নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

২০২৩ সালে বিয়ের পর প্রথম সন্তান

ডিলান স্প্রাউস ও বারবারা পালভিন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ ছিল। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম সন্তান আসার খবর জানান তাঁরা।

এরপর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে বারবারা পালভিনের বেবি বাম্পের ছবি সামনে আসে। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দম্পতির প্রথম সন্তান আসার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কন্যাসন্তানের বাবা হওয়ার আনন্দ

জুলাই মাসে নিজের পডকাস্ট ‘ওয়াইল্ডমেন’-এ কন্যাসন্তান আসার কথা জানিয়েছিলেন ডিলান স্প্রাউস। তখন তিনি বলেছিলেন, একজন কন্যাসন্তানের বাবা হতে চলেছেন—এটি ভাবতেই তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত।

অভিনেতার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। এখন ডিলান ও বারবারার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে তাঁদের কন্যাকে ঘিরে।

ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন দম্পতি

সন্তানের জন্মের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ভক্ত ও সহকর্মীরা। যদিও মেয়ের নাম কিংবা জন্মের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেননি ডিলান ও বারবারা।

তবে বেসবল ম্যাচ উপভোগের সেই পারিবারিক মুহূর্তের ছবি দিয়ে তাঁরা যে নতুন সদস্যকে ঘিরে নিজেদের আনন্দ ভাগ করে নিতে চেয়েছেন, সেটিই এখন তাঁদের ভক্তদের কাছে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশসহ ২০ দেশের ওষুধে শুল্ক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশসহ ২০ দেশের ওষুধে শুল্ক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বিরল রোগসহ কয়েকটি বিশেষ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ও এসব ওষুধ তৈরির সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে বাংলাদেশ, ভারতসহ ২০টি দেশ ও অঞ্চলের জন্য শূন্য শতাংশ পণ্যভিত্তিক শুল্কের সুবিধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের প্রকাশিত তালিকায় এসব দেশ ও অঞ্চলের নাম রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্ট করা ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ পণ্যভিত্তিক শুল্ক কার্যকরের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট যোগ্য পণ্য এই শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।

যেসব ওষুধে শূন্য শুল্ক

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশ অনুযায়ী, শূন্য শতাংশ শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্ধারিত ওষুধ। এর পাশাপাশি বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, কোষভিত্তিক চিকিৎসা, জিনভিত্তিক চিকিৎসা এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট (ADC) ধরনের ওষুধও এই সুবিধার আওতায় রয়েছে।

নির্দিষ্ট প্রাণী চিকিৎসার ওষুধও শূন্য শুল্কের সুবিধা পাবে। এসব ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট উপাদানের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

তালিকায় বাংলাদেশ-ভারতসহ ২০ দেশ

শূন্য শুল্কের সুবিধা পাওয়া দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত এসব দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা যোগ্য পণ্য শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পেতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বা ভবিষ্যতে কার্যকর হতে যাওয়া বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোসংক্রান্ত চুক্তির বিষয়টিও ছাড় দেওয়ার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০০ শতাংশ শুল্কের আওতায় কোন ওষুধ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কাঠামোর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্ট করা ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপাদানে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক ৩১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে। অন্য যেসব কোম্পানি নতুন ব্যবস্থার আওতায় পড়বে, তাদের ক্ষেত্রে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে সাধারণ জেনেরিক ওষুধ এবং এসব ওষুধ তৈরির সংশ্লিষ্ট উপাদান এই শুল্কের আওতায় পড়ছে না বলে বাণিজ্য বিভাগের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর নতুন শুল্ক কাঠামো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২ এপ্রিলের ঘোষণার ধারাবাহিকতায় পেটেন্ট করা ওষুধ, জীবপ্রযুক্তিতে তৈরি ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের আমদানিতে শুল্ক কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

নতুন নোটিশে ‘ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেল’ বলতে কী বোঝানো হবে, সেটিও আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রস্তুত ওষুধ, সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান এবং ওই উপাদান তৈরির প্রধান কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পেটেন্টবিহীন প্রাণী চিকিৎসার পণ্যগুলোকে জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের সংজ্ঞার আওতায় স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কাঠামোয় একদিকে নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্ট করা ওষুধ ও উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে, অন্যদিকে বিরল রোগ, বন্ধ্যত্ব, কোষ ও জিনভিত্তিক চিকিৎসাসহ কয়েকটি বিশেষ চিকিৎসায় ব্যবহৃত যোগ্য ওষুধ ও তাদের উপাদান ২০টি নির্দিষ্ট দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাস করে এবং সাংবাদিকদের অবাধ কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। তবে অপতথ্য, গুজব, ভুয়া প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যমকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন উদ্বেগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যমকে আমরা কন্ট্রোল করতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী কন্ট্রোল করতে চান না, সরকার কন্ট্রোল করবে না।’ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন, অসত্য তথ্য ও গুজব নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে। সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে।

সাংবাদিকদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির একটি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। নিবন্ধিত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে। সাংবাদিকদের অবাধ কাজ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সুরক্ষা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

তবে মূলধারার গণমাধ্যমের বাইরে সাংবাদিক পরিচয়ে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি কঠোরভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে অনেক সময় মানুষের সম্মানহানি করা হচ্ছে। এমনকি কোনো ব্যক্তিকে এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এসব ঘটনা সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় তৈরি করছে।

বৈঠকে ডিআরইউর বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। দাবিগুলো কীভাবে পূরণ করা যায় এবং গণমাধ্যমের উন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

যুক্তরাজ্য অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসে নিয়ম বদলের ইঙ্গিত যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্য অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসে নিয়ম বদলের ইঙ্গিত যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে বিদেশিদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। লেবার পার্টির ভেতরে এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে আপত্তি ওঠার পর তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার কিছু অংশ নিয়ে ন্যায্যতার প্রশ্ন থাকায় সরকার বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনা করছে।

পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরের প্রস্তাব

যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রেইমেন’ বা আইএলআর নামে পরিচিত। বর্তমানে অনেক দক্ষ কর্মী এবং স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতের নির্দিষ্ট ভিসাধারীরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন।

সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তনে অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কম বেতন ও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত বেসলাইন সময় ১৫ বছর হতে পারে।

লেবার পার্টির ভেতরেই আপত্তি

প্রস্তাবটি নিয়ে লেবার পার্টির মধ্যেই বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। সাবেক ডেপুটি লেবার নেতা ও হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার বিশেষ করে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা পরিচর্যা কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তনের সমালোচনা করেছেন।

ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসনও প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির মহাসচিব আন্দ্রেয়া ইগান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি পরিচর্যা কর্মীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং কর্মী সংকটে থাকা এই খাত থেকে অভিজ্ঞ কর্মীরা চলে যেতে পারেন।

‘ন্যায্যতার ভারসাম্য’ চান মাহমুদ

লেবার পার্টির সম্মেলনে শাবানা মাহমুদ বলেন, বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসে নতুন জীবন শুরু করা মানুষের প্রতি যেমন ন্যায্যতা থাকতে হবে, তেমনি ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি জানান, পরামর্শ প্রক্রিয়ায় অনেকে প্রস্তাবের কিছু অংশকে অন্যায্য বলেছেন এবং সরকার এসব মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত অবস্থান নেবে।

এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাব নিয়ে পাওয়া বিপুলসংখ্যক মতামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

পরিচর্যা কর্মীদের নিয়ে বিশেষ বিতর্ক

প্রস্তাবের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো বিদেশি পরিচর্যা কর্মীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা। বর্তমান ব্যবস্থায় যারা পাঁচ বছরের রুটে রয়েছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ওই সময়ের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। নতুন ব্যবস্থায় সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের ক্ষেত্রে ১৫ বছরের বেসলাইন প্রস্তাব করা হয়েছে।

এরই মধ্যে বিদেশি পরিচর্যা কর্মীদের সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলো নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি

শাবানা মাহমুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, স্থায়ী বসবাসের নতুন নিয়মের কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা বৈধ অভিবাসী ও পরিচর্যা কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কীভাবে কার্যকর হবে, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফলে পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর বা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ১৫ বছর অপেক্ষার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় বাস্তবায়িত হবে, তা সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

কালের আলো/এসএ