খুঁজুন
                               
, ,
           

রূপপুরে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
রূপপুরে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা কারিগরি প্রতিকূলতা পেরিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরুর এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। তবে এ অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এখনই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়া নয়। গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিললেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের অনুমোদন নিতে হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ব্যবস্থার সেফটি ভালভের প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে অনুমোদন পেতে বিলম্ব হয়েছিল। পরে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করা হয়। এর ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি রূপপুর প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধাপ। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর নিষ্ক্রিয় অবস্থা থেকে সক্রিয় পরিচালন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

এরপর শুরু হবে ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ প্রক্রিয়া। এ সময় রিঅ্যাক্টরকে নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিমাত্রায় পরিচালনা করে প্রাথমিক পর্যায়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রিঅ্যাক্টরের বিভিন্ন পরামিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ এ প্রক্রিয়ায় আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে।

পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো হবে। ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ সফলভাবে শেষ হলে প্রকল্পটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এ ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো, টারবাইনের সঙ্গে জেনারেটরের সমন্বয় এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সংযোগ স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

তবে এ পর্যায়ে প্রবেশের জন্য পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে পৃথকভাবে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে। রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও জরুরি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, উৎপাদন শুরু হলে প্রথমে রিঅ্যাক্টরকে তিন শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালনা করে ধাপে ধাপে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে টানা সাত থেকে আট মাস পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আর্দ্র আবহাওয়ায় চুলের ফ্রিজি ভাব কমাবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
আর্দ্র আবহাওয়ায় চুলের ফ্রিজি ভাব কমাবেন যেভাবে

যত্ন করে চুল আঁচড়ানো, শ্যাম্পু ও সিরাম ব্যবহার—সবকিছুর পরও আর্দ্র আবহাওয়ায় চুল হয়ে উঠতে পারে এলোমেলো ও রুক্ষ। কিছুক্ষণ বাইরে থাকলেই চুল ফুলে ওঠে, হারিয়ে যায় সাজানো চেহারা। বিশেষ করে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলে কোঁকড়া, ঢেউখেলানো ও শুষ্ক চুলে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

তবে চুলের ফ্রিজি ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব সময় দামি প্রসাধনীর প্রয়োজন হয় না। চুল পরিষ্কার করা, কন্ডিশনার ব্যবহার, শুকানোর পদ্ধতি এবং প্রতিদিনের পরিচর্যায় কিছু পরিবর্তন আনলেই চুলকে অনেকটা মসৃণ ও গোছানো রাখা সম্ভব।

আর্দ্র আবহাওয়ায় চুল ফ্রিজি হয় কেন?

চুলের বাইরের স্তরকে বলা হয় কিউটিকল। এটি চুলের ভেতরের অংশকে সুরক্ষা দেয়। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে চুল জলীয় বাষ্প শোষণ করতে পারে। এতে চুলের গঠন ও বিন্যাসে পরিবর্তন আসে। ফলে চুল ফুলে ওঠে, এলোমেলো দেখায় এবং ফ্রিজি ভাব তৈরি হয়।

শুষ্ক, কোঁকড়া, ঢেউখেলানো কিংবা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত চুলে এ সমস্যা বেশি চোখে পড়ে। চুলের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ঘর্ষণ কমানো ফ্রিজি ভাব নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

শ্যাম্পু ব্যবহারে যে ভুল এড়িয়ে চলবেন

চুল পরিষ্কার রাখতে শ্যাম্পু প্রয়োজন। তবে অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা বাড়তে পারে। তাই মাথার ত্বক ও চুলের ধরন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু বেছে নেওয়া ভালো।

শ্যাম্পু করার সময় মূলত মাথার ত্বক পরিষ্কার করুন। চুলের দৈর্ঘ্যে জোরে ঘষাঘষি না করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। অন্যদিকে চুলের আগা শুষ্ক হলে সেখানে অতিরিক্ত ঘষাঘষি এড়িয়ে চলুন।

শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল নরম থাকে, জট কমে এবং আঁচড়ানোর সময় চুল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।

ফ্রিজি ভাব কমাতে কন্ডিশনার ও সিরাম

চুলের বাইরের স্তর মসৃণ রাখতে কন্ডিশনার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। চুলের মাঝের অংশ থেকে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগানো ভালো। মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে সেখানে অতিরিক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার না করাই ভালো।

চুল ধোয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী লিভ-ইন কন্ডিশনার বা অল্প পরিমাণ অ্যান্টি-ফ্রিজ সিরাম ব্যবহার করা যায়। এসব পণ্য চুলের ওপর মসৃণ আবরণ তৈরি করে ঘর্ষণ ও আর্দ্রতার প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে সব পণ্য সব ধরনের চুলে একইভাবে কাজ করে না। পাতলা চুলে ভারী সিরাম বা অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে চুল চিটচিটে দেখাতে পারে। তাই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন এবং চুলের প্রতিক্রিয়া বুঝে ব্যবহার বাড়ান।

ভেজা চুল শুকানোর সঠিক নিয়ম

ভেজা অবস্থায় চুল তুলনামূলক বেশি নাজুক থাকে। এ সময় তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষলে চুলে ঘর্ষণ বাড়ে, ফলে চুল ভেঙে যেতে পারে এবং ফ্রিজি ভাবও বাড়তে পারে।

এ সমস্যা এড়াতে নরম মাইক্রোফাইবার তোয়ালে বা পরিষ্কার সুতির কাপড় দিয়ে আলতোভাবে চুলের পানি শুষে নিন। সম্ভব হলে স্বাভাবিকভাবে চুল শুকাতে দিন।

হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে কম তাপমাত্রা বেছে নিন। প্রয়োজনে তাপ থেকে সুরক্ষা দেয় এমন পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত তাপ চুলকে শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে তুলতে পারে।

বারবার চুল আঁচড়ানো বন্ধ করুন

আর্দ্র আবহাওয়ায় চুল শুকানোর পর বারবার আঁচড়ালে, বিশেষ করে কোঁকড়া ও ঢেউখেলানো চুলে, ফ্রিজি ভাব বেড়ে যেতে পারে। চুলের ধরন অনুযায়ী চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। কোঁকড়া চুলে কন্ডিশনার লাগানো অবস্থায় আলতোভাবে জট ছাড়ানো যেতে পারে।

চুলে বারবার হাত দেওয়া, জোরে টেনে আঁচড়ানো কিংবা শক্ত করে বেঁধে রাখাও এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর সময় মসৃণ কাপড়ের বালিশের কভার ব্যবহার করলে চুলের সঙ্গে কাপড়ের ঘর্ষণ কিছুটা কমতে পারে।

ঘরোয়া যত্নে কী করবেন, কী করবেন না?

চুলের ফ্রিজি ভাব কমাতে নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। চুলের ধরন অনুযায়ী অল্প পরিমাণ তেল ব্যবহার করলে শুষ্কতা ও ঘর্ষণ কমতে পারে। তবে তেল বাতাসের আর্দ্রতা পুরোপুরি ঠেকাতে পারে না।

অন্যদিকে, লেবুর রস, বেকিং সোডা বা অপরীক্ষিত ঘরোয়া মিশ্রণ চুল ও মাথার ত্বকে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এসব উপাদান শুষ্কতা বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে।

মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা খুশকির সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

বাইরে যাওয়ার আগে নিন ছোট্ট প্রস্তুতি

আর্দ্র আবহাওয়ায় বাইরে যাওয়ার আগে চুলের ধরন অনুযায়ী অল্প লিভ-ইন কন্ডিশনার বা অ্যান্টি-ফ্রিজ সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। বৃষ্টিতে চুল ভিজে গেলে সুযোগমতো পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে আলতোভাবে শুকিয়ে নিন।

চুলে জট তৈরি হলে জোরে টানাটানি না করে ধীরে ধীরে ছাড়িয়ে নিন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তাপ দিয়ে চুল সোজা করা বা স্টাইল করার অভ্যাস কমিয়ে আনুন।

আর্দ্র আবহাওয়ায় চুলের স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি অপরিবর্তিত রাখা সব সময় সম্ভব নয়। তবে সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন, কোমলভাবে চুল শুকানো, ঘর্ষণ কমানো এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ফ্রিজি ভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। দামি প্রসাধনীর চেয়ে চুলের ধরন বুঝে নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যাই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/জেএন

লিভার ক্যানসারের আগাম সংকেত হতে পারে শরীরের এই ৭ পরিবর্তন

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
লিভার ক্যানসারের আগাম সংকেত হতে পারে শরীরের এই ৭ পরিবর্তন

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব—এসব কারণে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি। উদ্বেগের বিষয় হলো, লিভারে চর্বি জমলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অজান্তেই দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে সমস্যা। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি ধীরে ধীরে লিভারে প্রদাহ, টিস্যুতে ক্ষত এবং সিরোসিসের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। এতে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তবে ফ্যাটি লিভার হলেই লিভার ক্যানসার হবে, এমন নয়। রোগের অগ্রগতি, লিভারে প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছে কি না—এসব বিষয় ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শরীরে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি কীভাবে বাড়ে?

লিভারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চর্বি জমলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছায় না। তবে কারও কারও লিভারে চর্বি জমার পাশাপাশি প্রদাহ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন প্রদাহ চলতে থাকলে লিভারের টিস্যুতে ক্ষত বা দাগ তৈরি হয়, যাকে ফাইব্রোসিস বলা হয়। ক্ষতি আরও বাড়লে তা সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।

সিরোসিস লিভার ক্যানসারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তবে কিছু ক্ষেত্রে সিরোসিস না থাকলেও লিভার ক্যানসার হতে পারে। তাই শুধু ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হওয়াই নয়, লিভারের সামগ্রিক অবস্থা ও রোগের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা জরুরি।

শরীরের যে ৭ লক্ষণ অবহেলা করবেন না

ফ্যাটি লিভার ও লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ থাকে না। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ মানেই ক্যানসার নয়; অন্যান্য রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়।

১. কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া

খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় পরিবর্তন না এনেও যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস লিভারের সমস্যা ছাড়াও বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. ক্ষুধা কমে যাওয়া

আগের মতো খেতে ইচ্ছা না করা, দীর্ঘদিন ক্ষুধামন্দা থাকা কিংবা অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

৩. দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা

পেটে বারবার ব্যথা হওয়া বা দীর্ঘদিন অস্বস্তি থাকা অবহেলা করা উচিত নয়। এর পেছনে হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে লিভারের অসুস্থতাসহ নানা কারণ থাকতে পারে। নিজে থেকে রোগ নির্ধারণ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করানো ভালো।

৪. পেটের ডান পাশের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি

লিভার পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে অবস্থিত। এ জায়গায় বারবার ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিন। যদিও এ ধরনের ব্যথা হলেই লিভার ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়; অন্য কারণেও একই উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৫. পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া

পেটের আকার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বা পেটে তরল জমে ফোলাভাব তৈরি হওয়া গুরুতর লিভার রোগের লক্ষণ হতে পারে। হঠাৎ পেট ফুলে গেলে, বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে, দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৬. চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে তাকে জন্ডিস বলা হয়। লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া কিংবা পিত্তনালির সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে জন্ডিস হতে পারে। এ লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৭. বিশ্রামেও ক্লান্তি না কমা

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, শরীরে শক্তি না পাওয়া যায় কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতে কষ্ট হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। ক্লান্তির পেছনে রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, লিভারের অসুস্থতাসহ নানা কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে কী করবেন?

ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগের পর্যায় ও লিভারের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লিভারের কার্যকারিতা, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসনোগ্রাম বা লিভারে ফাইব্রোসিসের মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষাও করা হয়।

লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে কয়েকটি অভ্যাস সহায়ক হতে পারে—

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: প্রতিদিন হাঁটা এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • সুষম খাবার খান: অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয় ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার কমিয়ে পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন।
  • ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন: এসব সমস্যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
  • নিজে থেকে ওষুধ বা ভেষজ উপাদান গ্রহণ করবেন না: লিভার ভালো করার নামে কোনো ওষুধ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চোখ-ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া কিংবা পেট দ্রুত ফুলে ওঠার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভার মানেই লিভার ক্যানসার নয়। তবে রোগটিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সময়মতো পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

কালের আলো/জেএন

মক্কা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
মক্কা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ

সৌদি আরবের নেতৃত্বে মক্কা চুক্তির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চায় ঢাকা। সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি দেশটিতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে মক্কা চুক্তির বিষয়টিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের ভূমিকা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অবদান রাখতে চায়।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে উভয় দেশই কাজ করবে বলে আশা করছে সরকার।

সৌদি বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ

হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু শ্রমবাজারকেন্দ্রিক না রেখে বিনিয়োগ, অর্থনীতি ও কৌশলগত সহযোগিতার বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর জোর

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল পাঠানোর মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা ও অবস্থান আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী সৌদি আরবে কাজ করেন। দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর করার প্রত্যাশা করছে সরকার।

সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে শ্রমশক্তি বিনিময়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে।

কালের আলো/এসএ