খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস : গর্ভাবস্থা ও সন্তান প্রসবের পর কেন বাড়ে রক্ত জমাটের ঝুঁকি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস : গর্ভাবস্থা ও সন্তান প্রসবের পর কেন বাড়ে রক্ত জমাটের ঝুঁকি
মানবদেহে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে রক্তনালির সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তের মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছায়। কিন্তু রক্তনালির ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে ব্যাহত হতে পারে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় থ্রম্বোসিস। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে এটি হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এমনকি আকস্মিক মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবস। রক্ত জমাট বাঁধার কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। ২০২৬ সালের প্রচারণায় নারীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়, ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট হরমোন চিকিৎসার সঙ্গে এ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।

থ্রম্বোসিস কী, কেন বিপজ্জনক?

আঘাত পেলে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য রক্ত জমাট বাঁধা শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু রক্তনালির ভেতরে অপ্রয়োজনে জমাট তৈরি হলে তা রক্তপ্রবাহ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে। এ অবস্থাই থ্রম্বোসিস।

রক্তনালির ধরন অনুযায়ী থ্রম্বোসিস প্রধানত দুই ধরনের—শিরাজনিত ও ধমনিজনিত। শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে শিরাজনিত থ্রম্বোসিস এবং ধমনিতে জমাট বাঁধলে ধমনিজনিত থ্রম্বোসিস বলা হয়।

শিরায় তৈরি জমাটের কোনো অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্তের সঙ্গে ফুসফুসের ধমনিতে পৌঁছালে ফুসফুসে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ অবস্থাকে পালমোনারি এম্বোলিজম বলা হয়, যা জীবনসংকট তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, হৃদ্‌যন্ত্রের ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক এবং মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি বন্ধ হলে ইস্কেমিক স্ট্রোক হতে পারে।

থ্রম্বোসিসের চারটি ধরন

গভীর শিরায় রক্ত জমাট: সাধারণত পায়ের উরু, পিণ্ডলি বা শ্রোণির গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধে। কখনো হাতের গভীর শিরাতেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত অঙ্গ ফুলে যাওয়া, ব্যথা ও ত্বক গরম হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ফুসফুসের ধমনিতে রক্ত জমাট: শিরায় তৈরি জমাটের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে ফুসফুসের ধমনিতে পৌঁছে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দিলে এ অবস্থা হয়। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ধমনিতে রক্ত জমাট: ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

উপরিভাগের শিরায় রক্ত জমাট: ত্বকের কাছাকাছি শিরায় জমাট ও প্রদাহ তৈরি হলে আক্রান্ত স্থানে ব্যথা, লালচে ভাব এবং শিরা শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

যেসব কারণে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে

থ্রম্বোসিসের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। রক্তপ্রবাহ ধীর হয়ে যাওয়া, রক্তনালির ক্ষতি এবং রক্তের জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া—এ তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে—

  • দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা বা শুয়ে থাকা।
  • বড় অস্ত্রোপচার, গুরুতর আঘাত কিংবা দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা।
  • ক্যানসার ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ।
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা।
  • ধূমপান।
  • বয়স বৃদ্ধি।
  • বংশগতভাবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা।
  • নিজের বা পরিবারের সদস্যদের আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস।
  • গর্ভাবস্থা ও সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়।
  • ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ও নির্দিষ্ট হরমোন চিকিৎসা।

তবে এসব ঝুঁকির উপাদান থাকলেই যে থ্রম্বোসিস হবে, তা নয়। আবার পরিচিত কোনো ঝুঁকির কারণ না থাকলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হতে হবে

থ্রম্বোসিসের লক্ষণ নির্ভর করে শরীরের কোথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে তার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলেও স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে।

পা বা হাতের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে সাধারণত এক পাশের পা বা হাত ফুলে যেতে পারে। আক্রান্ত স্থানে ব্যথা, চাপ দিলে অস্বস্তি, ত্বক গরম হয়ে যাওয়া কিংবা ত্বকের রং পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, ফুসফুসের ধমনিতে রক্ত জমাট পৌঁছালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নেওয়া বা কাশির সময় বুকব্যথা বেড়ে যাওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এসব লক্ষণকে সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা বা সাময়িক অসুস্থতা ভেবে অবহেলা করা বিপজ্জনক।

২০২৬ সালে নারীর স্বাস্থ্য কেন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে?

নারীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের পরিবর্তন এবং শারীরিক অবস্থার কারণে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময় এবং কিছু হরমোনভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি: গর্ভাবস্থায় প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। একই সঙ্গে জরায়ুর আকার বৃদ্ধির কারণে পায়ের শিরায় রক্তপ্রবাহ ধীর হতে পারে। এসব পরিবর্তন রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়।

গর্ভাবস্থায় এক পাশের পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া, নতুন করে ব্যথা কিংবা ত্বক গরম হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়: সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও কিছু সময় নারীর রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে প্রসবের পর প্রথম ছয় সপ্তাহ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি প্রায় তিন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী থাকা, অতিরিক্ত ওজন, আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস কিংবা প্রসবকালীন কিছু জটিলতা থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদে চলাফেরা, প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ও হরমোন চিকিৎসা: ইস্ট্রোজেনযুক্ত কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি এবং নির্দিষ্ট হরমোন চিকিৎসা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সব জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ঝুঁকি এক নয়। নিজের বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়া উচিত।

পুরুষ ও শিশুদেরও রয়েছে ঝুঁকি

থ্রম্বোসিস শুধু নারীদের সমস্যা নয়; পুরুষদেরও এ ঝুঁকি রয়েছে। বয়স বৃদ্ধি, ধূমপান, স্থূলতা, ক্যানসার, অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা এবং আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস পুরুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এক পাশের পা ফুলে যাওয়া, অকারণে ব্যথা কিংবা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

শিশুদের মধ্যে থ্রম্বোসিস তুলনামূলক বিরল হলেও গুরুতর হতে পারে। নবজাতক, গুরুতর অসুস্থ শিশু, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগী, দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশু এবং শিরায় নল স্থাপন করা শিশুদের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ক্যানসার, গুরুতর সংক্রমণ এবং কিছু বংশগত সমস্যাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

কীভাবে থ্রম্বোসিস শনাক্ত করা হয়?

শুধু লক্ষণ দেখে থ্রম্বোসিস নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা, বয়স, চিকিৎসার ইতিহাস এবং ঝুঁকির উপাদান বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

ডি-ডাইমার পরীক্ষা: রক্ত জমাট ভাঙার প্রক্রিয়ায় তৈরি পদার্থের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে এ পরীক্ষার স্বাভাবিক ফল থ্রম্বোসিসের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ডি-ডাইমারের মাত্রা বেড়ে গেলেই রক্ত জমাট বেঁধেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি: পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমাট শনাক্ত করতে শিরার রক্তপ্রবাহ পরীক্ষা বা ভেনাস আল্ট্রাসনোগ্রাফি বহুল ব্যবহৃত।

ফুসফুসের রক্তনালির বিশেষ চিত্রায়ণ: ফুসফুসের ধমনিতে রক্ত জমাটের সন্দেহ হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।

অন্যান্য পরীক্ষা: পরিস্থিতি অনুযায়ী হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম পরীক্ষা, হৃদ্‌যন্ত্রের আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। সব রোগীর জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না; চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

থ্রম্বোসিস প্রতিরোধে যা করবেন

রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে নিয়মিত বিরতিতে দাঁড়ান ও হাঁটুন।
  • দীর্ঘ ভ্রমণের সময় সম্ভব হলে প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পর হাঁটুন এবং বসে থাকাকালে পায়ের পেশি নাড়াচাড়া করুন।
  • চিকিৎসকের অনুমতি অনুযায়ী নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
  • ধূমপান পরিহার করুন।
  • অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদে চলাফেরা শুরু করুন।
  • ঝুঁকি বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত জমাট প্রতিরোধের ওষুধ বা বিশেষ চাপপ্রয়োগকারী মোজা ব্যবহার করুন।
  • গর্ভবতী নারী ও সদ্য সন্তান প্রসব করেছেন এমন নারীরা আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ বা হরমোন চিকিৎসা শুরুর আগে নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রক্ত জমাট প্রতিরোধ বা চিকিৎসার ওষুধ গ্রহণ করবেন না। এসব ওষুধে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।

সচেতনতাই পারে ঝুঁকি কমাতে

থ্রম্বোসিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে জানা, বিপদের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা নেওয়া। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, সদ্য সন্তান প্রসব করেছেন এমন নারী, অস্ত্রোপচার করা রোগী এবং দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকতে হয় এমন ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিশ্ব থ্রম্বোসিস দিবসের মূল বার্তাও হলো—রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা কিংবা এক পাশের অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।ু

সুত্রঃ ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

কালের আলো/এসএ

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে পোশাকের বাইরে নজর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বড় সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দেশটির মোট আমদানির বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিপণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিকসহ সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, পণ্যের সনদায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের উন্নয়ন এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে বহুমুখীকরণ

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৯৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়লেও পণ্যভিত্তিক বৈচিত্র্য এখনো সীমিত।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য বছরে প্রায় ৯৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বিপুল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি অংশীদারত্ব ১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে দেশটিতে রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বরং যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য তৈরি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিভিন্ন খাতের রপ্তানিযোগ্য সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পোশাকের বাইরে যেসব খাতে সম্ভাবনা

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিজাত পণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল এবং প্লাস্টিক খাতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের এসব খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো গেলে যুক্তরাজ্যের বাজারে নতুন ক্রেতা তৈরি এবং পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদনব্যবস্থা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মকানুন মেনে চলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) রপ্তানিমুখী উৎপাদনে যুক্ত করতে অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।

আন্তর্জাতিক মান ও সনদায়নে ঘাটতি দূর করার তাগিদ

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সিংহভাগ তৈরি পোশাকনির্ভর। অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মান, সনদায়ন, সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ অনুসরণযোগ্য করা, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং কমপ্লায়েন্স পরিপালনে আরও উন্নতি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই চলে না; ক্রেতাদের নির্ধারিত মান, নিরাপত্তা, পরিবেশগত শর্ত এবং শ্রমসংক্রান্ত বিধিবিধানও মেনে চলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে নতুন বাজারে প্রবেশ কিংবা বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার ও টেস্টিং সুবিধা বাড়ানো, পণ্যের সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এলডিসি উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন শর্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে অব্যাহত সুবিধা ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নিশ্চয়তা দেবে।

কর্মশালায় ব্রিটিশ সরকারের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর সুবিধা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ স্কিমের আওতায় প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের বাণিজ্য উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা এলি পার্কার কর্মশালায় ডিসিটিএস নিয়ে একটি কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন। এতে এলডিসি উত্তরণের পরও প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা গ্রহণের ব্যবহারিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর জোর

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি অশুল্ক বাধাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পণ্যের মান যাচাই, সনদায়ন, আমদানি বিধিবিধান এবং বাজারের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে গিয়ে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বাজারসংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের গভীর ধারণা অর্জন এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার আলোচনায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট-চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ আহমদ ফারহাদ, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ তানভীর, কাপকেক এক্সপোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির ওবায়েদ, এম ইউ সি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস এবং বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বক্তব্য দেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণই বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, উৎপাদনব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন খাতে বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি সক্ষমতা সম্প্রসারণ জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি