খুঁজুন
                               
, ,
           

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সামান্য সংক্রমণও হতে পারে প্রাণঘাতী, সেপসিসের লক্ষণ চিনবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
সামান্য সংক্রমণও হতে পারে প্রাণঘাতী, সেপসিসের লক্ষণ চিনবেন যেভাবে
সাধারণ সংক্রমণও কখনো কখনো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা যখন অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখন দেখা দিতে পারে সেপসিস। এটি এমন একটি গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, যা দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা না হলে কিডনি, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগী সেপটিক শকে আক্রান্ত হতে পারেন, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, সেপসিসের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণের লক্ষণের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি, প্রস্রাব কমে যাওয়া কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নবজাতক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

সেপসিস কী, কেন বিপজ্জনকসেপসিসকে অনেক সময় রক্তদূষণ বলা হলেও এটি শুধু রক্তে জীবাণু প্রবেশ করার ঘটনা নয়। বরং সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থার অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়ায় নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করাই সেপসিসের মূল বৈশিষ্ট্য। রক্তের কালচার পরীক্ষায় জীবাণু শনাক্ত না হলেও সেপসিস হতে পারে।

এ অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে। রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে এবং রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে রোগী সেপটিক শকে আক্রান্ত হতে পারেন। এ পর্যায়ে নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

কোন কোন সংক্রমণ থেকে সেপসিস হতে পারে

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাকসহ বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ থেকে সেপসিস তৈরি হতে পারে। শরীরের কোনো একটি স্থানে শুরু হওয়া সংক্রমণ জটিল হয়ে উঠলে এবং তার বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়া অনিয়ন্ত্রিত হলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

নিউমোনিয়া সেপসিসের অন্যতম পরিচিত কারণ। এ ছাড়া কিডনি ও মূত্রনালির সংক্রমণ, পেটের ভেতরের সংক্রমণ, পেরিটোনাইটিস, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, মেনিনজাইটিস, ত্বকের গভীর সংক্রমণ এবং সংক্রমিত ক্ষত থেকেও সেপসিস হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর কিংবা ক্যাথেটার ব্যবহারের সময় সংক্রমণ হলেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে সব সংক্রমণই সেপসিসে রূপ নেয় না। সংক্রমণের ধরন, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

জ্বর, দ্রুত শ্বাস ও হৃৎস্পন্দন বাড়লে সতর্ক হোন

সেপসিসের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ সংক্রমণের মতো মনে হতে পারে। জ্বর, শরীর কাঁপা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ একা সেপসিস নিশ্চিত করে না; রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্রমণের পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন কিংবা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত শ্বাস নেওয়া উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ

সেপসিসের বিপজ্জনক দিক হলো, এতে শরীরের একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। কিছু লক্ষণ দেখে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠার আশঙ্কা বোঝা যায়।

মস্তিষ্ক: রোগী হঠাৎ বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন, অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন কিংবা স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হতে পারেন। গুরুতর অবস্থায় অচেতন হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

কিডনি: প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এটি কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

ফুসফুস: শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে।

রক্তসংবহন: রক্তচাপ কমে গেলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা ত্বক ফ্যাকাশে বা ছোপছোপ দেখানোর মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

লিভার ও রক্তের উপাদান: গুরুতর অবস্থায় জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং ল্যাকটেটের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এসব পরিবর্তন পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।

এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে সেপসিস হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নিজে থেকে নেওয়া উচিত নয়। তবে সংক্রমণের সঙ্গে এমন উপসর্গ থাকলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

কারা সেপসিসের বেশি ঝুঁকিতে

বয়স্ক ব্যক্তি, নবজাতক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁদের সেপসিসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ডায়াবেটিস, কিডনি বা লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী, অস্ত্রোপচারের পর থাকা ব্যক্তি কিংবা যাঁদের শরীরে ক্যাথেটার বা অন্য কোনো চিকিৎসা-সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও সংক্রমণের লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

সেপসিসের চিকিৎসায় কী করা হয়

সেপসিস একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি। সন্দেহ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখার প্রয়োজনও হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক ও পরীক্ষা: ব্যাকটেরিয়াজনিত সেপসিস সন্দেহ হলে চিকিৎসকেরা দ্রুত উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করেন। সম্ভব হলে চিকিৎসায় অযথা দেরি না করে আগে রক্তের কালচারসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার ফল, সংক্রমণের উৎস এবং রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পরে ওষুধ পরিবর্তন করা হতে পারে।

শিরায় তরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: রক্তচাপ কমে গেলে বা রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হলে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী শিরায় তরল দেওয়া হয়। হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির অবস্থা বিবেচনা করে তরলের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়। প্রয়োজন হলে রক্তচাপ বাড়ানোর ওষুধও দেওয়া হয়।

অক্সিজেন ও অঙ্গের সহায়তা: রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে অক্সিজেন দেওয়া হয়। গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হতে পারে। কিডনি বা অন্য অঙ্গের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে বিশেষায়িত সহায়ক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ: শরীরে পুঁজ জমলে তা নিষ্কাশন, সংক্রমিত ক্যাথেটার অপসারণ কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।

নিবিড় পর্যবেক্ষণ: চিকিৎসার সময় রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস, অক্সিজেনের মাত্রা, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। রোগীর অবস্থার পরিবর্তন অনুযায়ী চিকিৎসায় সমন্বয় আনা হয়।

সেপসিস প্রতিরোধে যা করবেন

সেপসিস প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। এ জন্য কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

  • খাওয়ার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং হাত ময়লা হলে সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
  • শরীরের কাটা-ছেঁড়া ও ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
  • ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়াসহ প্রাসঙ্গিক সংক্রমণ প্রতিরোধী টিকা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।
  • ডায়াবেটিস, কিডনি ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও মেয়াদ সম্পর্কে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
  • জ্বর বা সংক্রমণের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

সেপসিসের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দেরি করা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই সংক্রমণের পাশাপাশি রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: ডা. খাজা নাজিমুদ্দিন, অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

কালের আলো/এসএ