খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা, গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা, গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ সদস্য

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন পুলিশ সদস্য। এ সময় সরকারি স্থাপনা, দোকানপাট ও সুপারমার্কেটে হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দেশটির বিভিন্ন শহরে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু গ্রেপ্তার ও পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্যের বরাতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

শিক্ষার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষ যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং দেশের সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেও অনেক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়।

দ্রব্যমূল্যের চাপ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন পরিষেবার ব্যয় বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে সামাজিক কল্যাণমূলক সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর দাবির মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত কর্মসূচিতেও অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। ফলে আন্দোলনটি নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর দাবির বাইরে গিয়ে বৃহত্তর সামাজিক অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরে।

তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবাই সহিংসতায় জড়িত ছিলেন না। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন। কিছু স্থানে সহিংস গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সরকারি ভবন ও দোকানপাটে হামলা, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস
বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকটি শহরে সরকারি ভবন, বিলাসবহুল পণ্যের দোকান এবং সুপারমার্কেটকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতার ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সহিংসতার ব্যাপকতা এবং পুলিশের আহত হওয়ার সংখ্যা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি সামনে এনেছে।

সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ অভিযোগ করেন, মূল বিক্ষোভ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে ‘কাস্যুর’ নামে পরিচিত সুযোগসন্ধানী দুষ্কৃতকারীরা সহিংসতা ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এসব গোষ্ঠী লুটপাট চালানোর সুযোগ পেয়েছিল। তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যারা সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সহিংসতার ঘটনায় সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ মোকাবিলার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনা নেই সরকারের
বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। একই সঙ্গে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

জরুরি অবস্থা জারি না করার সিদ্ধান্তের অর্থ, সরকার আপাতত বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার মধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়। তবে গ্রেপ্তার অভিযান, পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কার্যক্রম কীভাবে এগোবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ধরন ও তীব্রতা এক রকম ছিল না। অনেক জায়গায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ও লুটপাট পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

লিমোজে সিটি হলে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বিক্ষোভ চলাকালে ফ্রান্সের লিমোজ শহরে একটি সিটি হলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ভবনটির অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আগুনে সেটি ‘প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে গেছে’। এতে স্থানীয় প্রশাসনিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিটি হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বিক্ষোভের সহিংস রূপকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে লিমোজের এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফ্রান্সের সামনে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অসন্তোষ মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ
ফ্রান্সজুড়ে এই বিক্ষোভ দেশটির অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগের পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে। একদিকে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ রয়েছে, অন্যদিকে বিক্ষোভের পেছনে থাকা মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ ও সামাজিক সুরক্ষাসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষণগতভাবে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক অসন্তোষের সমাধান করা কঠিন হতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা এবং জনসাধারণের আস্থার মতো বিষয়গুলোও পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে আপাতত ফ্রান্স সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হচ্ছে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আহত পুলিশ সদস্যদের ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। আগামী দিনে বিক্ষোভের তীব্রতা কমে আসে কি না এবং সরকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা পর্যবেক্ষণে থাকবে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/এএএন/এসএ

সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সফররত জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহযোগিতা চান। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় ও আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপ। প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক মনোভাব অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান বিশেষ দূত। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং শরণার্থী সেলের প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিনিয়র পলিটিক্যাল অফিসার ডানকান কেইথ উইলসন, পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার প্নু পেই দেট চায়েলসহ অন্য সদস্যরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

বয়স ৩০ কিংবা ৪০ পেরিয়ে গেছে। কৈশোরের ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তার দিনও অনেক আগেই শেষ হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন আয়নায় তাকিয়ে দেখলেন, চিবুক কিংবা চোয়ালের পাশে উঠেছে যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ। কয়েক দিন পর আবারও দেখা দিল নতুন ফুসকুড়ি। অথচ রূপচর্চার রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন আনেননি। তাহলে বয়স বাড়ার পরও কেন ফিরে আসছে ব্রণের সমস্যা?

কৈশোরের সঙ্গে ব্রণের সম্পর্ক বেশি হলেও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে এই সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকের ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। আবার কারও ত্বক বছরের পর বছর পরিষ্কার থাকার পর ৩০ বা ৪০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো ব্রণ দেখা দিতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যবহৃত প্রসাধনীসহ নানা কারণে এমনটা হতে পারে। তবে বারবার মুখ ধুলেই যে ব্রণ থেকে মুক্তি মিলবে, বিষয়টি তেমন নয়।

হরমোনের পরিবর্তন কি ব্রণের কারণ?
প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে হরমোনের পরিবর্তন। বিশেষ করে চিবুক ও চোয়ালের চারপাশে বারবার ব্রণ দেখা দিলে হরমোনের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা ও পেরিমেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামা ত্বকের তেল উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের (পিসিওএস) কারণেও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীর ইনসুলিনের প্রতি যথাযথভাবে সাড়া না দিলেও হরমোনের কার্যক্রম ও ত্বকের তেল উৎপাদনে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব ব্রণের পেছনে হরমোন দায়ী নয়। ব্রণ যদি নিয়মিত ফিরে আসে এবং এর পাশাপাশি অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে শুধু প্রসাধনী পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মানসিক চাপ বাড়লেও ত্বকে দেখা দিতে পারে ব্রণ
কাজের অতিরিক্ত চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের দুশ্চিন্তা শুধু মনেই প্রভাব ফেলে না, ত্বকেও তার ছাপ পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে ত্বকের প্রদাহ ও ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। রাতের পর রাত কম ঘুমানো এবং বিশ্রামের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। বিশেষ করে কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি ত্বকে ব্রণ ওঠার প্রবণতা লক্ষ্য করেন, তাহলে নিজের ঘুম ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।ত্বকের যত্নে বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কি ব্রণের সম্পর্ক রয়েছে?
খাদ্যাভ্যাসও কিছু মানুষের ব্রণের সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার, যেমন সাদা রুটি, মিষ্টি পানীয় ও পেস্ট্রি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের প্রবণতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার কিংবা শরীরচর্চার পর ব্যবহৃত হুই প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার শরীরে খাবারের প্রভাব এক রকম নয়।তাই মুখে ব্রণ দেখা দিলেই দুধ, পনির বা শরীরচর্চার সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। বরং কোন খাবার খাওয়ার পর ব্রণ বাড়ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ব্রণ ঢাকতে ব্যবহৃত প্রসাধনীই কি সমস্যার কারণ?
অনেক সময় ব্রণ ঢাকার জন্য যে মেকআপ বা প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়, সেটিই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ত্বকের উপযোগী নয় এমন ভারী মেকআপ, ময়েশ্চারাইজার কিংবা অন্যান্য স্কিনকেয়ার পণ্য লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রসাধনীর কারণে সৃষ্ট এ ধরনের ব্রণকে ‘অ্যাকনে কসমেটিকা’ বলা হয়। সম্প্রতি নতুন কোনো ফাউন্ডেশন, ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার শুরু করার পর ব্রণ দেখা দিলে পণ্যটির সঙ্গে সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একসঙ্গে অনেক নতুন প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। প্রসাধনী কেনার সময় ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। সাধারণত এ ধরনের পণ্য লোমকূপ বন্ধ করার প্রবণতা কমাতে তৈরি করা হয়। পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে মেকআপ ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। বাইরের ধুলাবালি ও দূষণ ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। তবে ত্বক পরিষ্কারের নামে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা বারবার এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ব্রণের সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মুখ অপরিষ্কার থাকলেই কি ব্রণ হয়?
ব্রণ নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, মুখ ঠিকমতো পরিষ্কার না রাখার কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু বাস্তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ নয়। লোমকূপে তেল ও মৃত ত্বককোষ জমে যাওয়া, প্রদাহ এবং হরমোনসহ বিভিন্ন কারণ এতে ভূমিকা রাখে। তাই ব্রণ কমানোর আশায় শক্তিশালী ফেসওয়াশ দিয়ে বারবার মুখ ধোয়া কিংবা জোরে ঘষে পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বাড়তে পারে।প্রতিদিনের ত্বক পরিচর্যার রুটিন সহজ রাখাই ভালো। মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা, ত্বকের উপযোগী নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি ব্রণ খোঁটা বা চেপে ফাটানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এতে প্রদাহ বাড়ার পাশাপাশি স্থায়ী দাগ কিংবা গর্ত তৈরি হতে পারে।

কোন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মাঝেমধ্যে এক-দুটি ব্রণ উঠলে তা নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে ব্রণ যদি বারবার ফিরে আসে, গভীর ও যন্ত্রণাদায়ক হয় কিংবা ত্বকে স্থায়ী দাগ তৈরি করে, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ব্রণের পাশাপাশি মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা মুখে অতিরিক্ত লোম গজানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। এসব লক্ষণ পিসিওএসের মতো হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে শুধু ব্রণ বা এসব উপসর্গের উপস্থিতি দিয়েই কোনো রোগ নিশ্চিত করা যায় না; প্রয়োজন হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ করবেন।

বয়স বাড়লেও ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব
৩০ কিংবা ৪০ বছর বয়সে ব্রণ দেখা দেওয়ার পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ সব সময় কাজ করে না। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং অনুপযুক্ত প্রসাধনী—এককভাবে কিংবা একাধিক কারণ একসঙ্গে এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই হঠাৎ ব্রণ দেখা দিলে নিজে থেকে একের পর এক ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার না করে ত্বকের পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। সূত্র: টাইমস ইন্টারটেইনমেন্ট

কালের আলো/ডিএইচ/এসএ

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, প্রক্রিয়াগত ঘাটতি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

কুটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, প্রক্রিয়াগত ঘাটতি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ার কোথাও ঘাটতি রয়েছে, যা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে তথ্য বিনিময়ের ঠিক কোন পর্যায়ে ঘাটতি ছিল, কী ধরনের তথ্য পাওয়া বা জানানো যায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়েও দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের ঘাটতির সঙ্গে জেনেভা কনভেনশনের কোনো নির্দিষ্ট বিধানের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তবে সংশ্লিষ্ট দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কখন কী তথ্য পেয়েছিল—এসব বিষয়ে সরবরাহ করা বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য নেই।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি