খুঁজুন
                               
, ,
           

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ৪ সেনা, আহত ৩৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ৪  সেনা, আহত ৩৯

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ঘাসে লাগা আগুনে চার সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু সেনাসদস্য। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। আগুনে আহত মোট ৩৯ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটের একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার (১৮ অক্টোবর) কর্মকর্তারা হতাহতের তথ্য জানান।

প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সামরিক ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় ঘাসে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে যায়। আগুনের দ্রুত বিস্তার প্রশিক্ষণরত সেনাসদস্যদের জন্য বড় বিপদ তৈরি করে। এতে চারজনের মৃত্যু হয় এবং আরও ৩৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিহত চার সেনার পরিচয় প্রকাশ
এ ঘটনায় নিহত চার সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং ও প্রাইভেট হেইডেন লাইকমার্ক।
নিহত সেনাসদস্যদের সম্মানে কানাডাজুড়ে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এ ঘটনায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

জীবন্ত গোলাবারুদ নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন ৮৫ সেনা
আগুন লাগার সময় ওই এলাকায় ৮৫ জন সেনাসদস্য জীবন্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। তাঁরা লাটভিয়ায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কানাডার সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে লাটভিয়ায়। ফলে বিদেশে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলা প্রশিক্ষণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আগুনের কারণে প্রশিক্ষণরত সেনাসদস্যদের মধ্যে ঠিক কীভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

আহতদের কয়েক মাস পর্যন্ত চিকিৎসা লাগতে পারে
আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। কারও কারও চিকিৎসা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। আহত সেনাসদস্যদের এডমন্টন, ওয়েনরাইট, ক্যালগারি ও রেড ডিয়ারের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা ১৯ জনের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত
সামরিক ঘাঁটিতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ওই এলাকার তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন না কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে বাইরে থেকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে, এমন সম্ভাবনাও তাঁরা নাকচ করেছেন।

প্রাথমিকভাবে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে এলেও আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার পরিস্থিতি এবং প্রাণহানির কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এমএসআইপি/এসএ

পিছিয়ে পড়েও নেইমারদের দারুণ জয়

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
পিছিয়ে পড়েও নেইমারদের দারুণ জয়

ব্রাজিলিয়ান লিগে ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দারুণ জয় তুলে নিয়েছে সান্তোস। নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে গাবিগোলের সমতাসূচক গোল এবং ফিলিপে কুতিনহোর জয়সূচক গোলে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও বিরতির পর আক্রমণে গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে সান্তোস। শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পোর তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে কুতিনহো জয় নিশ্চিত করেন।

শুরুতেই ধাক্কা খায় সান্তোস
ম্যাচের শুরুতে লুয়ান পেরেসের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগায় ফ্লুমিনেন্স। সেই আক্রমণে ইগর রাবেলোর মাধ্যমে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন কাস্তিয়ো। শুরুতেই গোল হজম করে চাপে পড়ে সান্তোস। গোলরক্ষক দিওগেনেসের ভুলও ওই গোলের ঘটনায় আলোচনায় আসে। তবে পরবর্তী সময়ে সাভারিনোর দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে হাল্কের গোলের সুযোগও নস্যাৎ করেন এই গোলরক্ষক।

গাবিগোলের গোলে সমতায় ফেরে সান্তোস
পিছিয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে সান্তোস। রক্ষণভাগে নির্ভরযোগ্য ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও অবদান রাখেন রদিনি। তাঁর পা থেকেই আসে গাবিগোলের সমতাসূচক গোলের অ্যাসিস্ট। গোলটি সান্তোসকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেয়। এরপর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে বিরতির পর সান্তোসের খেলায় আরও বেশি সমন্বয় ও গতির ছাপ দেখা যায়।

বোন্তেম্পোর ক্রসে কুতিনহোর জয়সূচক গোল
দ্বিতীয়ার্ধে সান্তোসের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম কারিগর ছিলেন গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পো। তাঁর ক্রস থেকেই জয়সূচক গোল করেন ফিলিপে কুতিনহো। এই গোলেই ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে এগিয়ে যায় সান্তোস। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে রোলহাইসারও আক্রমণে উজ্জ্বলতা দেখান। তবে ফ্লুমিনেন্সের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফাবিওর দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাননি তিনি। অন্যদিকে মাঝমাঠে সুরক্ষা ও ভারসাম্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গুস্তাভো এনরিকে।

চোটে মাঠ ছাড়লেন ভেরিসিমো
রক্ষণভাগে লুকাস ভেরিসিমো প্রথমার্ধে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও পরে নিজেকে গুছিয়ে নেন। তবে ম্যাচের শেষদিকে বাঁ পায়ের ঊরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। তাঁর বদলি হিসেবে অভিষেক হয় জোয়াও আলেনকারের। নতুন দায়িত্বে নেমে তিনি নিজের কাজ ভালোভাবেই সামলান। এদিকে বারিয়াল রক্ষণে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণেও অবদান রাখেন। বাঁ দিক দিয়ে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন রনি। এভারটনও গাবিগোলকে একটি ভালো পাস দিয়েছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত ড্রিবলিংয়ের কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি গাবিগোল।

বিরতির পর বদলে যায় সান্তোসের খেলা
মাঝমাঠে স্থিরতা আনতে বদলি হিসেবে নামেন অলিভা। গাবিগোলের বাড়ানো বল থেকে গোল করার সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাঠে নামেন রাফায়েল গোনজাগা।প্রথমার্ধের ভুলত্রুটি কাটিয়ে বিরতির পর দলকে নতুনভাবে সাজান কোচ কুকা। তাঁর কৌশলগত পরিবর্তনে সান্তোসের আক্রমণ আরও সংগঠিত হয়ে ওঠে। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। সব মিলিয়ে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সান্তোস। গাবিগোলের সমতা ফেরানো গোল এবং কুতিনহোর জয়সূচক ফিনিশিংয়ে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে ওঠে দলটির জন্য।

কালের আলো/এএএন/এসএ

৯ মাসে ডাকাতি-খুন-নারী নির্যাতন কমেছে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
৯ মাসে ডাকাতি-খুন-নারী নির্যাতন কমেছে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশে ডাকাতি, খুন, নারী নির্যাতন, দস্যুতা, শিশু নির্যাতন ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা কমেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তুলনামূলক পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এ পরিসংখ্যানে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপরাধের সংখ্যার তুলনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ডাকাতির ঘটনা ১৫১টি এবং খুনের ঘটনা ২৫৪টি কমেছে। একই সময়ে নারী নির্যাতনের ঘটনা কমেছে ১ হাজার ৮৪টি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডাকাতির ঘটনা ছিল ৫৩৮টি। চলতি বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮৭টিতে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ডাকাতির ঘটনা কমেছে ১৫১টি।

একই সময়ে খুনের ঘটনা ২ হাজার ৯১৩টি থেকে কমে ২ হাজার ৬৫৯টিতে নেমেছে। এতে খুনের ঘটনা কমেছে ২৫৪টি।  নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রেও কমতির চিত্র উঠে এসেছে সরকারি পরিসংখ্যানে। গত বছরের প্রথম নয় মাসে নারী নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৯ হাজার ২৬২টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৭৮টিতে। অর্থাৎ, এ ধরনের ঘটনা কমেছে ১ হাজার ৮৪টি।

দস্যুতা, দাঙ্গা ও শিশু নির্যাতনও কমেছে

মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রেও কমতির তথ্য দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দস্যুতার ঘটনা ছিল ১ হাজার ৪৮৩টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৪টিতে। একই সময়ে দাঙ্গার ঘটনা ৬২টি থেকে কমে ১৭টিতে নেমেছে। শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৩ হাজার ৫৯১টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৫১টিতে। এ ছাড়া অপহরণের ঘটনা ৮১২টি থেকে কমে ৭৬৯টিতে নেমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব অপরাধের প্রতিটিতেই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরেও কমতির চিত্র

চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যানেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিভিন্ন অপরাধ কমার তথ্য উঠে এসেছে। এ সময়ে ডাকাতির ঘটনা ২০২৫ সালের ১৭১টি থেকে কমে চলতি বছরে ১২৩টিতে দাঁড়িয়েছে। দস্যুতার ঘটনা ৫১১টি থেকে কমে ৪৬৭টিতে নেমেছে। একই সময়ে খুনের ঘটনা ৯৮০টি থেকে কমে ৮৮১টিতে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দাঙ্গার ঘটনা ৯টি থেকে কমে ৫টি হয়েছে। চুরির ঘটনা ২ হাজার ৬৯৩টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৭৬টিতে নেমেছে। শিশু নির্যাতনের ঘটনা ১ হাজার ৪৩২টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৮টিতে। অপহরণের ঘটনাও কমেছে। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ছিল ২৯৫টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে ২৪২টিতে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত ৮ জুন সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে অপরাধের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, দায় স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, দায় স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

ভারতের মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি এ হামলা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালক আহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য দাবি করে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফুটবল মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় হামলা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জুহু এলাকার একটি ফুটবল মাঠ থেকে বের হচ্ছিলেন টাইগার শ্রফ। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। হামলায় টাইগার অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালক আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভিডিওতে দায় স্বীকারের দাবি
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেন। ভিডিওতে তিনি জানান, তাদের নির্দেশ না মানা এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করার কারণে টাইগার শ্রফকে নিশানা করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি আরও হুমকি দেন, বলিউডে যারা তাদের সঙ্গে সমন্বয় না করে কাজ করবেন কিংবা সালমান খানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাঁদের হত্যা করা হবে। সালমান খান লরেন্স বিষ্ণোই ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা না চাইলে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। তবে ভিডিওতে করা দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

সালমান খানকে আগেও হত্যার হুমকি
গুজরাটের কারাগারে বন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এর আগেও সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে সালমান খানকে লক্ষ্য করে একাধিক হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। নতুন করে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর বলিউডের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বাবা সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডেও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম
২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সাবেক মহারাষ্ট্র মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। সালমান খানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সে সময় আলোচনায় আসে। ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ও বিষ্ণোই গ্যাং স্বীকার করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাবা সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের পর বলিউডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায়ও সেই উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে। তবে সর্বশেষ হামলার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ভিডিওতে দেওয়া দাবির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিওতে দায় স্বীকারের দাবি থাকলেই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় না। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/ডএইচ/এসএ