কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ৪ সেনা, আহত ৩৯
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ঘাসে লাগা আগুনে চার সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু সেনাসদস্য। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। আগুনে আহত মোট ৩৯ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটের একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার (১৮ অক্টোবর) কর্মকর্তারা হতাহতের তথ্য জানান।
প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সামরিক ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় ঘাসে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে যায়। আগুনের দ্রুত বিস্তার প্রশিক্ষণরত সেনাসদস্যদের জন্য বড় বিপদ তৈরি করে। এতে চারজনের মৃত্যু হয় এবং আরও ৩৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিহত চার সেনার পরিচয় প্রকাশ
এ ঘটনায় নিহত চার সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং ও প্রাইভেট হেইডেন লাইকমার্ক।
নিহত সেনাসদস্যদের সম্মানে কানাডাজুড়ে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এ ঘটনায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
জীবন্ত গোলাবারুদ নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন ৮৫ সেনা
আগুন লাগার সময় ওই এলাকায় ৮৫ জন সেনাসদস্য জীবন্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। তাঁরা লাটভিয়ায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কানাডার সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে লাটভিয়ায়। ফলে বিদেশে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলা প্রশিক্ষণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আগুনের কারণে প্রশিক্ষণরত সেনাসদস্যদের মধ্যে ঠিক কীভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
আহতদের কয়েক মাস পর্যন্ত চিকিৎসা লাগতে পারে
আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। কারও কারও চিকিৎসা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। আহত সেনাসদস্যদের এডমন্টন, ওয়েনরাইট, ক্যালগারি ও রেড ডিয়ারের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা ১৯ জনের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত
সামরিক ঘাঁটিতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ওই এলাকার তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন না কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে বাইরে থেকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে, এমন সম্ভাবনাও তাঁরা নাকচ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে এলেও আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার পরিস্থিতি এবং প্রাণহানির কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
কালের আলো/এমএসআইপি/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]