খুঁজুন
                               
, ,
           

ভেনিস উৎসব থেকে ওটিটি, নানা অভিজ্ঞতা জানালেন সুনেরাহ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
ভেনিস উৎসব থেকে ওটিটি, নানা অভিজ্ঞতা জানালেন সুনেরাহ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনয়, নাচ ও উপস্থাপনা—বিনোদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। সম্প্রতি ‘ব্লেন্ডার্স চয়েস–দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এর পঞ্চম আসরে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘দাগি’ দর্শকপ্রিয়তার স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে সিনেমাটি দর্শকের প্রশংসা পেলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুরস্কারের মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে তাঁকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবন, শাস্ত্রীয় নৃত্যের অভিজ্ঞতা, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ এবং বদলে যাওয়া বিনোদনজগৎ নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি পুরস্কারের বাইরেও দর্শকের ভালোবাসাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

উপস্থাপনায় স্বচ্ছন্দ ছিলেন না সুনেরাহ
২০২২ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রথম আসরে উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুনেরাহ। তবে উপস্থাপনা তাঁর জন্য খুব সহজ কোনো কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। সুনেরাহর ভাষ্য, স্বভাবগতভাবে তিনি কিছুটা লাজুক। মানুষের সামনে কথা বলা কিংবা সাক্ষাৎকারে নিজের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও একসময় অস্বস্তি বোধ করতেন। ধীরে ধীরে সেই জড়তা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, আগে তিনি এখনকার মতো এতটা কথা বলতে পারতেন না। সময়ের সঙ্গে মানুষের সামনে নিজেকে প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। ফলে উপস্থাপনা ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

শাস্ত্রীয় নৃত্যে মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের
অভিনয়ের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় নৃত্যেও প্রশিক্ষণ রয়েছে সুনেরাহর। তবে তাঁর এই দক্ষতার কথা অনেকেরই জানা ছিল না। ওটিটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ‘পাতার বাঁশরি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নিজের এই প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। সুনেরাহ মনে করেন, ওই পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকেরা তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক দেখার সুযোগ পেয়েছেন। অনেকেই যে তাঁর শাস্ত্রীয় নৃত্যের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতেন না, সেটিও উপলব্ধি করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করাও ছিল তাঁর জন্য আনন্দের অভিজ্ঞতা। দুজনের ব্যক্তিত্ব আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে বলে জানান সুনেরাহ। মহড়ার সময় ইরফানকে নাচের ধাপ শেখাতে হয়েছে তাঁকে। বারবার অনুশীলন করার কারণে নিজের পরিবেশনাও আরও ভালো হয়েছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সহশিল্পীকে শেখানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বাড়তি মনোযোগী করেছে।

‘দাগি’ নিয়ে দর্শকের ভালোবাসাই বড় প্রাপ্তি
সুনেরাহ অভিনীত ‘দাগি’ সিনেমাটি দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। সম্প্রতি ছবিটি দর্শকপ্রিয়তার পুরস্কারও জিতেছে। কিন্তু সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেকে তাঁকে প্রশ্ন করছেন, এত প্রশংসা পাওয়ার পরও তিনি কেন ব্যক্তিগতভাবে কোনো পুরস্কারের মনোনয়ন পাননি। এ বিষয়ে সুনেরাহ জানিয়েছেন, ছবিটি মুক্তির পর থেকে এমন প্রশ্ন তাঁকে বারবার শুনতে হচ্ছে। দর্শকেরা সিনেমাটি পছন্দ করেছেন এবং পুরস্কার জেতার পরও তাঁর মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করছেন।

তবে পুরস্কারকেই স্বীকৃতির একমাত্র মাপকাঠি মনে করেন না তিনি। তাঁর কাছে একটি সিনেমার সামগ্রিক সাফল্য এবং দর্শকের ভালোবাসাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুনেরাহর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি চান ছবিটি ভালো করুক। কারণ, ‘দাগি’তে তিনি একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ছবিটির সাফল্য তাঁর কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ব্যক্তিগত পুরস্কার না পেলেও দর্শকের প্রশংসা তাঁর কাজের জন্য বড় প্রাপ্তি।

ভেনিস উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে অভিজ্ঞতা
সম্প্রতি নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন সুনেরাহ। সেখানে ছবিটি দর্শকেরা কীভাবে গ্রহণ করছেন, তা জানার বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। অভিনেত্রী জানান, প্রদর্শনীর সময় তিনি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ছবির গল্প, নির্মাণশৈলী ও অভিনয় দর্শকের কাছে কেমন লাগছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শকেরা সিনেমাটি উপভোগ করেছেন এবং বিভিন্ন দিকের প্রশংসা করেছেন।

ছবিতে তাঁর বিয়ের সাজও দর্শকদের নজর কেড়েছে। একজন দর্শক জানতে চেয়েছিলেন, পুরো সিনেমাজুড়ে কীভাবে একই ধরনের বিয়ের সাজ বজায় রেখেছিলেন তিনি। সুনেরাহ জানান, ভারী লেহেঙ্গা, পূর্ণাঙ্গ বিয়ের সাজ এবং হাতে-পায়ে আলতার মতো রং ব্যবহার করে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী কনের সাজে থাকতে হয়েছে। প্রতিদিন শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতেই কয়েক ঘণ্টা লেগে যেত। এমনকি মাথায় ঘোমটা ঠিকভাবে আটকে দেওয়ার পর শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশরুমে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত বলে জানান তিনি। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। তবে পর্দায় সেই সাজ সুন্দরভাবে ফুটে ওঠায় পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

ইউটিউব নাটক নিয়ে বদলে যাচ্ছে দর্শকের অভ্যাস
বর্তমানে ইউটিউব নাটকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দর্শকের দেখার অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় বিনোদনশিল্পকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে বলে মনে করেন সুনেরাহ। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস দেখা এবং দ্রুত এক ভিডিও থেকে অন্য ভিডিওতে চলে যাওয়ার অভ্যাস দর্শকের মনোযোগের ধরন বদলে দিয়েছে। পাশাপাশি বিনা মূল্যে ইউটিউব কনটেন্ট দেখার সুযোগও এই মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

তবে দর্শকের এই পরিবর্তনকে শুধু ইউটিউব নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখতে চান না তিনি। তাঁর মতে, সব মাধ্যমেই মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন। সুনেরাহ মনে করেন, নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে যেসব মানের কাজ দর্শকেরা দেখেন, স্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোকেও সেদিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে সিনেমা, সিরিজ ও টেলিভিশন নাটক—সব ধরনের কনটেন্টেরই প্রয়োজন রয়েছে।

কারণ, প্রতিটি মাধ্যমের দর্শক আলাদা এবং তাঁদের পছন্দও ভিন্ন। তাই দর্শকের রুচি ও চাহিদা বুঝে মানসম্মত কাজ তৈরি করতে পারলেই বিনোদনশিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়, নাচ ও উপস্থাপনায় নিজের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় কনটেন্টের মান নিয়ে ভাবছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। তাঁর কথায় উঠে এসেছে, পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ হলেও দর্শকের ভালোবাসা, কাজের মান এবং নতুন কিছু শেখার অভিজ্ঞতাও একজন শিল্পীর পথচলায় সমান তাৎপর্যপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ/জেএন

 

শীতের আগেই অতিথি পাখির মেলায় মুখর চলনবিল

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
শীতের আগেই অতিথি পাখির মেলায় মুখর চলনবিল

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনাজুড়ে বিস্তৃত চলনবিলে আসতে শুরু করেছে হাজারো অতিথি পাখি। বিলের অল্প পানিতে সাদা বক, গাংচিল, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক ও শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখির বিচরণে মুখর হয়ে উঠেছে জলাভূমি। সারাদিন পানিতে খাবার খোঁজার পর সন্ধ্যা নামলে ঝাঁক বেঁধে গাছের ডালে আশ্রয় নিচ্ছে তারা। পাখিদের ডানা ঝাপটানো, উড়ে বেড়ানো আর কোলাহলে মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে চলনবিলজুড়ে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলনবিলের বিভিন্ন অংশে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চোখে পড়ছে অতিথি পাখির আনাগোনা। বিশেষ করে নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে পাখিদের বিচরণ প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে চলনবিল। এর বড় একটি অংশ নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অবস্থিত। বিলের নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দুই পাশ এবং সিংড়া-বারুহাস-তাড়াশ ডুবন্ত সড়কের আশপাশে দেখা যাচ্ছে নানা প্রজাতির পাখি।

কাকডাকা ভোরে দল বেঁধে খাবারের সন্ধানে বের হয় পাখিরা। অল্প পানিতে ডুব দিয়ে মাছ ধরা, জলাশয়ের ওপর দিয়ে ডানা মেলে উড়ে যাওয়া কিংবা একসঙ্গে গাছের ডালে বসার দৃশ্য বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। সাদা বক, পানকৌড়ি, শামুকখোল ও বালিহাঁসের পাশাপাশি দেখা মিলছে নাম না জানা বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরও। শীতের মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই পাখিদের এমন উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ তৈরি করেছে। তবে পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে শিকারিদের তৎপরতা ঠেকানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলনবিলের পাখিদের মধ্যে সাদা বক কৃষকের উপকারী বন্ধু হিসেবে পরিচিত। মাগুড়া গ্রামের কৃষক সহিদুল ইসলাম ও তাজপুর গ্রামের বাবুল হোসেন জানান, এ বছর বিলে অতিথি পাখির সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। সাদা বক ও শামুকখোলের উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে।কৃষকদের ভাষ্য, জমিতে হালচাষের সময় সাদা বক দল বেঁধে কৃষকের পেছনে পেছনে ঘোরে। এ সময় মাটি থেকে বেরিয়ে আসা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসলের উপকার করে পাখিগুলো। ফলে পাখির উপস্থিতি শুধু বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, কৃষিকাজেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, তারা চলনবিলের পাখি শিকার করতে দেন না। পাখি ও প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা থেকেই এসব প্রাণী রক্ষায় সচেতন থাকার চেষ্টা করেন তারা। অতিথি পাখির আগমনে চলনবিল প্রাণবন্ত হয়ে উঠলেও কিছু শিকারির তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে পরিবেশবাদীদের। চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর এ সময়ে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি ও শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলে আসে। তাদের বিচরণে জলাভূমিতে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়।

তবে কিছু অসাধু শিকারি ফাঁদ পেতে এসব পাখি শিকার করে বলে জানান তিনি। পাখি শিকার বন্ধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংগঠনটির সদস্যরা ২০১২ সাল থেকে কাজ করছেন। তারা শিকারের ঘটনা সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অতিথি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। চলনবিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনও তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম।

সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি

শেখ হাসিনার ফেরার অপেক্ষায় সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার ফেরার অপেক্ষায় সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না; বরং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি দেশে ফিরলে বিচারের মুখোমুখি হবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফেরার পর আইনগত প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার, তা-ই হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পর কোনো ধরনের বেআইনি পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না। তাকে ঘিরে জনতার বিশৃঙ্খলা বা মব পরিস্থিতির পরিবর্তে আইনের মাধ্যমেই বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও জল্পনা চলছে বলে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, কখনো বলা হতে পারে তিনি ডিসেম্বরের পর জুনে ফিরবেন, আবার জুনের পর ডিসেম্বরের কথা বলা হতে পারে। এভাবে একই আলোচনা চলতে থাকবে। তবে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তাহলে তাকে আর বেঁধে আনতে হবে না।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রসঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টানেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন-পরবর্তী পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে বলেন, এরশাদ দেশে ছিলেন, কারাবরণ করেছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ওই সময়ও পুলিশ থানায় দায়িত্ব পালন করেছে। এই উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পর তার নিরাপত্তা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি দেশে ফিরলে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না। তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা কখনো কারও ন্যায়বিচার করেননি, আমরা সেটা ন্যায়বিচার দিয়ে করব।’ তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

জাতীয় বাংলাদেশ-জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

দ্রুতগতির রেল থেকে এআই, জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
দ্রুতগতির রেল থেকে এআই, জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করা, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার এবং দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি।

প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তারেক রহমান। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

এসব বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন তারেক রহমান। আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ ও অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। চুক্তিটির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়। বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আঞ্চলিক যোগাযোগ, অবাধ বাণিজ্য প্রবাহ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মিয়ানমারের পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত চিহ্নিত করা, সহযোগিতামূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তারেক রহমান। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান।

পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি