খুঁজুন
                               
, ,
           

গণপূর্তে বদলি-পদায়ন: লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
গণপূর্তে বদলি-পদায়ন: লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তাদের গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন, লটারির আগেই কর্মস্থল নির্ধারণ, জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পদায়ন ঘিরে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

গ্রেডিং শিট পরিবর্তনের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীদের এ-প্লাস, এ, বি, সি ও ডি—এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পদায়নের ব্যবস্থা করা হলেও ক্যাটাগরি নির্ধারণের লিখিত মানদণ্ড ও মূল্যায়নপদ্ধতি স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সততা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

একাধিক বাক্সে আলাদাভাবে কর্মকর্তাদের নাম রেখে লটারি প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, ক্যাটাগরি নির্ধারণের ভিত্তি ও লটারির নিয়ম প্রকাশ করা হলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করা সহজ হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার চার-পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগে কোন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে, তা লটারির আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন এনে কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে আ ন ম মাজহারুল ইসলাম, মো. জিয়াউর রহমান, আহসান হাবীব, রেজা তাইমুর মালিক, মাসুম বিল্লাহ ও রাশেদ আহসানসহ কয়েকজনের পদায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাজহারুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংসদ ভবন, এমপি হোস্টেল, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পদায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, প্রশাসনিক অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাই যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

কয়েকজন কর্মকর্তার পদায়ন ঘিরে অভিযোগ

সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় এবং বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এ পদায়ন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রেজা তাইমুর মালিক, রাশেদ আহসান ও রাজিবুল ইসলামসহ কয়েকজনের কর্মস্থল পরিবর্তন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে কারও নাম লটারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও কারও নাম বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কেন এমন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দেড় হাজার প্রকৌশলীর বদলি

অভিযোগ অনুযায়ী, অল্প সময়ের ব্যবধানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল), ২০০ জন সহকারী প্রকৌশলী, ২১৯ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং ১২০ জন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে।

এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, লটারিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা, নাম অন্তর্ভুক্তি, ক্যাটাগরি নির্ধারণ ও পদায়নের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন।

১২০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের পাশাপাশি কথিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অভিযোগ যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, সম্পদ কেনার অর্থের উৎস এবং নিকটাত্মীয়দের নামে অর্জিত সম্পদের তথ্য পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মসংক্রান্ত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

লটারি পদ্ধতির পক্ষে মন্ত্রীর বক্তব্য

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছিলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের উপযুক্ত কর্মস্থলে পদায়নের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে, আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে এবং ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩০ জনকে এ পদ্ধতিতে বদলি-পদায়ন করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যক্তিকে উপযুক্ত স্থানে পদায়নের পাশাপাশি গণপূর্ত বিভাগকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চায় সরকার। রূপপুর প্রকল্প ঘিরে গণপূর্ত বিভাগের যে বদনাম হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পদায়নে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করলে তা উদ্বেগের বিষয়। তাই গ্রেডিং শিট, লটারির নথি, কর্মকর্তাদের তালিকা, পদায়নের অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চালক ও গাড়ির ফিটনেস যাচাইয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
চালক ও গাড়ির ফিটনেস যাচাইয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই: সড়কমন্ত্রী

চালকদের দক্ষতা ও যানবাহনের ফিটনেস নিয়ে কথা বললে চালক ও মালিকেরা একজোট হয়ে যান বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সব চালক অদক্ষ নন। তবে যাঁদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

পরিবহন মালিকদের উপযুক্ত চালক নিয়োগে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মালিকেরা যোগ্য চালক নির্বাচন করে তাঁদের নাম সুপারিশ করলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। চালকের যোগ্যতার বিষয়ে মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক হারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবে সব ধরনের দুর্ঘটনাকে একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত না করে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।

বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং প্রতিদিন গড়ে ৮৪ জনের প্রাণহানির যে তথ্য সামনে আসে, তা কতটা সঠিক, কারা কীভাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কতটুকু—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত তথ্য ছাড়া সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, চালকদের আচরণ, সচেতনতা ও দক্ষতার ঘাটতি এবং যানবাহনের ফিটনেসের সমস্যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চালকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চালকেরা নিজের জীবনের পাশাপাশি অন্যের জীবনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন ও নির্দেশনা না মানলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই চালকদের আচরণ ও দায়িত্ববোধে পরিবর্তন আনতে হবে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারের নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এসব এলাকার ঝুঁকি কমানোর কাজও চলছে। এ ছাড়া মহাসড়কের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকা সংযোগস্থলগুলো চিহ্নিত করে যান চলাচলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

যাত্রীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, অনুপযুক্ত যানবাহনে যাতায়াত, চলন্ত বাসে ঝুলে থাকা এবং যেখানে-সেখানে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। যথাযথ যাচাই ছাড়াই কোনো যানবাহন বা চালককে সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান, সড়ক সম্পর্কিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস এবং সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তেলের দাম নির্ভর করবে বিশ্ববাজার ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
তেলের দাম নির্ভর করবে বিশ্ববাজার ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর: বাণিজ্যমন্ত্রী

আসন্ন রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেশীয় বাজারে ডালের সরবরাহ নিয়ে এক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমদানির পাইপলাইনে থাকা পণ্যের পরিমাণ দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। তবে আমদানি করা পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে। এ দুই ক্ষেত্রে পরিবর্তন হলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়বে।

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম উৎসবাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে আমদানি খরচেও প্রভাব পড়ে। আগামী কয়েক মাসে বিশ্ব পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

সরকার ও ভোক্তা—সবাই চান পণ্যের দাম যতটা সম্ভব কম থাকুক এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে থাকুক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহনব্যবস্থার অনিশ্চয়তার কারণে কয়েক মাস পরের দাম নিয়ে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের উদ্যোগ

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। কোনো আকস্মিক পরিস্থিতিতে যেন পণ্যের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত বুকিং ও আমদানির পাইপলাইনে পণ্য রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে রমজান পর্যন্ত সব পণ্যের বুকিং এখনই নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের বাধ্য করা যায় না বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এটি ব্যবসায়ীদের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্তের বিষয়। কারণ, এখন বেশি দামে পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে গেলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়তে পারেন।

এ ছাড়া পণ্য আমদানির বুকিং দেওয়া হলেও জাহাজে পণ্য ওঠানোর সময় পরিবহনভাড়া নির্ধারিত হয়। ফলে পণ্যের চূড়ান্ত আমদানি ব্যয় একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

ছোলার দাম নিয়ে আলোচনা

বাজারে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছিল। এ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার।

ছোলার দাম আবার কমবে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট আশ্বাস না দিয়ে তিনি বলেন, সবাই চান পণ্যের দাম কমুক। তবে এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

এলসি খোলায় বাড়তি সুবিধার পরিকল্পনা নেই

আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজন দেখছে না সরকার।

তবে ব্যবসায়ীরা কোথাও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লে সরকারকে জানাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কের ভিত্তিতে এলসির মার্জিন নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা ব্যত্যয় দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংককে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সমস্যা সরকারের নজরে আসেনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছয় মাসে পুলিশের ওপর ৩১৭ হামলা, মব নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
ছয় মাসে পুলিশের ওপর ৩১৭ হামলা, মব নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপের তাগিদ

দেশে পুলিশের ওপর হামলা, দায়িত্ব পালনে বাধা এবং মব তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আক্রান্ত করার ঘটনা মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। দায়িত্ব পালনের সময় বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মনোবল, পেশাগত দক্ষতা ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে পুলিশের ওপর ৩১৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ছয় মাসে ৩১৭ হামলা

পুলিশ সদর দপ্তরের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুলিশের ওপর ৪২টি হামলার ঘটনা ঘটে। ফেব্রুয়ারিতেও ৪২টি হামলা নথিভুক্ত হয়। মার্চে ৬৩টি, এপ্রিলে ৬৬টি, মে মাসে ৫৫টি এবং জুনে ৪৯টি হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আগে এ ধরনের হামলা মূলত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান বা দুর্গম এলাকায় বেশি দেখা গেলেও এখন দিনের বেলায় জনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও ঘটছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুজব ছড়িয়ে জনতাকে সংগঠিত করে হামলা চালানো হচ্ছে। এতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সরকারি যানবাহন ও স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গুজব ও উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা

গত ২৪ অক্টোবর গোপালগঞ্জের রঘুনাথ ইউনিয়নের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকার সেতুসংলগ্ন বাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল চলাকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। চার সদস্যের একটি টহল দল সেখানে থামলে মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং সদস্যদের মারধর করেন। এতে এসআই ফুল মিয়া ও কনস্টেবল মাহবুবুর রহমান আহত হন।

এর আগে ১ এপ্রিল যশোরের কেশবপুরের হিজলডাঙ্গা গ্রামে এক দণ্ডিত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এমন ঘোষণা মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয়। এরপর স্থানীয় ৫০ থেকে ৬০ জন বাসিন্দা জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেন। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

৯ জুলাই বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আটক ব্যক্তির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে হামলা চালানো হয়। শত শত মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর ও থানা ভাঙচুর করেন। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হন, যাঁদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য। পরে হামলায় জড়িত ৬০ জনকে শনাক্ত করা হয় এবং ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সরকারি জমি উদ্ধার ও ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরেও। ২০ মে ঢাকার পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধ বস্তিতে সরকারি জমি উদ্ধারের সময় পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে অন্তত ছয় থেকে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার অভিযানের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদল হকার পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। একটি পুলিশ গাড়ি ও একটি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় আট থেকে নয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে

পুলিশের ওপর হামলার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের গুরুতর আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ৫ সেপ্টেম্বর সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা হাউজিংয়ে একটি বিরোধ থামাতে গিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম হামলার শিকার হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া জুলাইয়ে পাবনার সুজানগর, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, ঢাকার মোহাম্মদপুর ও জুরাইন এবং চট্টগ্রামের আমবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, সদস্যদের আহত করা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৬৩টি মব-সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৬৫ জন আহত হয়েছেন।

বডি ক্যামেরা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা এবং মব সহিংসতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, মামলার তদন্ত ও তদারকি জোরদার করতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতা বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের এআইজি কামারুন মুনিরা  বলেন, পুলিশ সদস্যদের মনোবল, পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে মোটিভেশনাল ও ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, জনসচেতনতামূলক সভা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি দেওয়া। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, মানসিক সুস্থতা, উন্নত কর্মপরিবেশ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মব নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ বিচার জরুরি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে শুধু বক্তব্য বা মৌখিক সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়; কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি  বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ন্যায়বিচার না পেলে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। একপর্যায়ে কেউ কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার পথ বেছে নেন। তবে ন্যায়বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ কখনোই মব সৃষ্টি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দিতে পারে না।

তাঁর মতে, মব তৈরির পেছনে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থাকলেও অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা মব তৈরি করে, হামলায় অংশ নেয় কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, নিরপেক্ষভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতা অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, মব নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের কার্যকর পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি