খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

৩৮ বছর আগের আবেগময় স্মৃতিতে সেনাপ্রধান,ধমনীতে বহমান ইস্ট বেঙ্গল’র রক্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
৩৮ বছর আগের আবেগময় স্মৃতিতে সেনাপ্রধান,ধমনীতে বহমান ইস্ট বেঙ্গল’র রক্ত

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

‘সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি’-রবিঠাকুরের এই গানটিই সম্ভবত তাঁর কন্ঠে গুঞ্জরিত হচ্ছিল। আবেগ আর অকৃত্রিম ভালোবাসার পানসিতে চড়ে ফিরলেন ৩৮ বছর আগের স্মৃতিতে। সুখমাখা সেই স্বর্ণালী স্মৃতি আজও যেন জ্বলজ্বল। সময়ের অবিশ্রান্ত ধারায়, যাপিত জীবনের ব্যস্ততার ঘূর্ণিপাকের ভেতরেও নিজের বক্তব্যের শুরুতেই গভীর সেই অনুভবকেই মোটা দাগে নিজের জবানীতে উপস্থাপন করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুনঃ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘১৬তম কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ হলেন সেনাপ্রধান

অবারিত আনন্দের ফল্গুধারায় উচ্ছ্বসিত কন্ঠেই উচ্চারণ করলেন-‘আজ থেকে ৩৮ বছর আগে, আমি সেনাবাহিনীর এই রেজিমেন্টে একজন গর্বিত সৈনিক হিসেবে জন্ম লাভ করি। আজকে আপনাদের ‘কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ হওয়ার দূর্লভ সুযোগ পেলাম, যা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। আর তাই আমি আজ অত্যন্ত আনন্দিত ও বিমোহিত।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূল চালিকাশক্তি এবং প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১৬তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর বুধবার (০৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের শহীদ এম আর চৌধুরী প্যারেড গ্রাউন্ডে এমনটিই বলছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

নজরকাড়া এই অভিষেক অনুষ্ঠানে নিজের সৈনিক জীবনের প্রারম্ভিক অনন্য মুহুর্তের কথা বলতে গিয়ে এমনই বর্ণিল এক মায়াজালেই নিজেকে যেন আচ্ছন্ন করলেন এই চারতারকা জেনারেল।

স্মৃতির পথ ধরেই খানিক সময়ের জন্য নিজেকে সমর্পণ করলেন হারানো সেই সময়ের সীমারেখায়। বাস্তবতার স্পর্শে অন্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকা সেকালকে বেঁধে দিলেন একালের সঙ্গে; এক অসাধারণ মায়ার মিতালীতে।

বলতে থাকলেন- ‘আজকের অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরো গভীরভাবে আমি এই রেজিমেন্টের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারলাম। আমার সেনাবাহিনীর চাকুরি জীবন শুরু হয় এই ঐতিহ্যবাহী রেজিমেন্টে, তাই ইস্ট বেঙ্গল এর রক্ত আমার ধমনীতে বহমান।

চাকুরী জীবনে আমি সর্বদাই আমার পল্টন, ব্রিগেড ও ডিভিশনের উন্নয়ন ও উন্নতির জন্য কাজ করে গিয়েছি।

আর এখন কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ায় আমার সার্বক্ষণিক ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা হবে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সকল সদস্যকে নিয়ে রেজিমেন্টের উন্নয়ন ও নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য নিজেদেরকে   প্রস্তুত করা।’

বঙ্গবন্ধু ও ৩০ লক্ষ শহীদদের স্মরণ; প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন
নিজের বক্তব্যের পরতে পরতে সেনাপ্রধান স্মরণ করলেন বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অবিস্মরণীয় মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৩০ লক্ষ শহীদদের।

গর্বভরে উচ্চারণ করলেন, আত্মোৎসর্গকারী সেই শহীদদের মধ্যে গৌরবময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২ হাজার ৮৩৩ জন সদস্যদের। যার মধ্যে  দু’জন বীরশ্রেষ্ঠসহ ২৩১ জন খেতাবপ্রাপ্ত শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

কৃতজ্ঞচিত্তে উপস্থাপন করলেন সতের কোটি বাঙালির আশার বাতিঘর, বিশ্বনেতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আগ্রহ এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভূতপূর্ব আধুনিকায়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

স্মৃতির বাতায়নে বসে মুহুর্তেই ফিরে যান ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঐশ্বর্যময় ৭৪ বছরের পথচলার ইতিহাসে। আবির মাখা সোনালী সময়ের স্বপ্নসারথীদের হৃদমাঝে তুলে এনে বলেন, ‘অভিষেক প্যারেডের মাধ্যমে আমাকে কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে বরণ করার এই তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তে আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট’র প্রতিষ্ঠাতা মেজর এম এ গণি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে।

আমি আরও স্মরণ করছি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূতপূর্ব সকল কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও পাপা টাইগার্সসহ সকল প্রাক্তন সদস্যদের, যাদের দূরদর্শিতা, নিরলস পরিশ্রম ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই রেজিমেন্ট আজ সুদৃঢ় ভিত্তির উপর অধিষ্ঠিত হয়েছে।’

‘এই রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠার ৭৪ বছরে কঠোর পরিশ্রম, সময়োপযোগী পরিকল্পনা এবং দেশপ্রেমের দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে আজকের এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন হয়েছে। সৌম্য, শক্তি, ক্ষিপ্রতা এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত এই রেজিমেন্ট উৎকর্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘জাতীয় পতাকা’ লাভের দুর্লভ সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে’ যোগ করেন জেনারেল শফিউদ্দিন।

গড়তে চান উদ্যমী পদাতিক বাহিনী
সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পদাতিক রেজিমেন্ট আমাদের সেনাবাহিনীর মূল চালিকা শক্তি। সেনাবাহিনীর ইতিহাস যত সুদীর্ঘ, এই রেজিমেন্টের ইতিহাসও ততো পুরনো। যে কোন সেনাবাহিনীতে পদাতিক রেজিমেন্টই যুদ্ধের মূল বিজয় অর্জনকারী। আর তাই এই রেজিমেন্টের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের সাথে সেনাবাহিনীর উন্নয়নও সরাসরিভাবে সম্পৃক্ত।

তাই কর্ণেল অব দি রেজিমেন্ট হিসেবে আমার সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা থাকবে পদাতিক রেজিমেন্টের চলমান আধুনিকায়ন ব্যবস্থাকে আরো বেগবান করা এবং নতুন সামরিক সরঞ্জাম সংযোজিত করে আরো উদ্যমী পদাতিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা।

আমার উপর অর্পিত এই পবিত্র দায়িত্ব পালনকালে রেজিমেন্টের জন্য কল্যাণকর যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকবো। সেজন্য রেজিমেন্টের অগ্রযাত্রাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

কালের আলো/জিকেএম/এমএএএমকে

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় ইসলাম পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহণের বাসে ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। হতাহতদের উদ্ধার করে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাগেরহাটের মংলার লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) ও পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের রবিউল ইসলাম (২২)।

জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির ইসলাম পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় আকাশ পরিবহণের বাসটি দুমড়ে-মুছড়ে গেছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন বলেন, নর্দায় একটা কাউন্টার থাকায় জায়গাটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন একটি বাস বেপরোয়া গতিতে নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক ক্রস করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

বেপরোয়া গতির কারণে গাড়িটি রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনে ধাক্কা দেয়। গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিলেন ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের ধাক্কায় আকাশ পরিবহন ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী নিহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বাকি একজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইসলাম পরিবহনের যাত্রীদের বরাত দিয়ে এসআই নেসারউদ্দিন জানান, পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলাচ্ছিল। চালক ও হেলপারও ছিল বেপরোয়া। রাস্তায় যাত্রী নামাতে নামাতে আসছিল। সারা রাস্তায় চিল্লাচিল্লি করেছে চালক।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিস্তানমুখী আকাশ পরিবহণের বাসটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস পুলিশ সরিয়ে নিয়েছে।

পরে যান চলা স্বাভাবিক হয়। ইসলাম পরিবহনের চালক হেলপারকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া হতাহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহনের মতো বিশাল চাপের মধ্যেও দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ঈদযাত্রা স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলছে।

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। বিআরটিএ’র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিবহন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও আমরা চেষ্টা করেছি একটি সাবলীল ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করছে, যা একটি বড় ধরনের ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুর পরিবহনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীই নির্ধারিত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে, যা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ওই অংশে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে চাপ তৈরি হয়।

তবে এটি ব্যবস্থাপনার কোনো বড় ত্রুটি নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, বড় ধরনের চাপের সময় এ ধরনের ধীরগতি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা চলাকালে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি সর্বনিম্ন রাখা যায়।

রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নারীদের জন্য কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে আলাদা কোচ সংযোজন করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। তবে সব ট্রেনে তা সম্ভব হয়নি, কারণ আগেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কোচের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। নৌপথেও অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা ইজারা দিয়েছে বা অর্থ নিয়েছে, দায় তাদের ওপরই বর্তায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন