খুঁজুন
                               
, ,
           

৩৮ বছর আগের আবেগময় স্মৃতিতে সেনাপ্রধান,ধমনীতে বহমান ইস্ট বেঙ্গল’র রক্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
৩৮ বছর আগের আবেগময় স্মৃতিতে সেনাপ্রধান,ধমনীতে বহমান ইস্ট বেঙ্গল’র রক্ত

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

‘সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি’-রবিঠাকুরের এই গানটিই সম্ভবত তাঁর কন্ঠে গুঞ্জরিত হচ্ছিল। আবেগ আর অকৃত্রিম ভালোবাসার পানসিতে চড়ে ফিরলেন ৩৮ বছর আগের স্মৃতিতে। সুখমাখা সেই স্বর্ণালী স্মৃতি আজও যেন জ্বলজ্বল। সময়ের অবিশ্রান্ত ধারায়, যাপিত জীবনের ব্যস্ততার ঘূর্ণিপাকের ভেতরেও নিজের বক্তব্যের শুরুতেই গভীর সেই অনুভবকেই মোটা দাগে নিজের জবানীতে উপস্থাপন করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুনঃ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘১৬তম কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ হলেন সেনাপ্রধান

অবারিত আনন্দের ফল্গুধারায় উচ্ছ্বসিত কন্ঠেই উচ্চারণ করলেন-‘আজ থেকে ৩৮ বছর আগে, আমি সেনাবাহিনীর এই রেজিমেন্টে একজন গর্বিত সৈনিক হিসেবে জন্ম লাভ করি। আজকে আপনাদের ‘কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ হওয়ার দূর্লভ সুযোগ পেলাম, যা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। আর তাই আমি আজ অত্যন্ত আনন্দিত ও বিমোহিত।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূল চালিকাশক্তি এবং প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১৬তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর বুধবার (০৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের শহীদ এম আর চৌধুরী প্যারেড গ্রাউন্ডে এমনটিই বলছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

নজরকাড়া এই অভিষেক অনুষ্ঠানে নিজের সৈনিক জীবনের প্রারম্ভিক অনন্য মুহুর্তের কথা বলতে গিয়ে এমনই বর্ণিল এক মায়াজালেই নিজেকে যেন আচ্ছন্ন করলেন এই চারতারকা জেনারেল।

স্মৃতির পথ ধরেই খানিক সময়ের জন্য নিজেকে সমর্পণ করলেন হারানো সেই সময়ের সীমারেখায়। বাস্তবতার স্পর্শে অন্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকা সেকালকে বেঁধে দিলেন একালের সঙ্গে; এক অসাধারণ মায়ার মিতালীতে।

বলতে থাকলেন- ‘আজকের অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরো গভীরভাবে আমি এই রেজিমেন্টের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারলাম। আমার সেনাবাহিনীর চাকুরি জীবন শুরু হয় এই ঐতিহ্যবাহী রেজিমেন্টে, তাই ইস্ট বেঙ্গল এর রক্ত আমার ধমনীতে বহমান।

চাকুরী জীবনে আমি সর্বদাই আমার পল্টন, ব্রিগেড ও ডিভিশনের উন্নয়ন ও উন্নতির জন্য কাজ করে গিয়েছি।

আর এখন কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ায় আমার সার্বক্ষণিক ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা হবে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সকল সদস্যকে নিয়ে রেজিমেন্টের উন্নয়ন ও নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য নিজেদেরকে   প্রস্তুত করা।’

বঙ্গবন্ধু ও ৩০ লক্ষ শহীদদের স্মরণ; প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন
নিজের বক্তব্যের পরতে পরতে সেনাপ্রধান স্মরণ করলেন বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অবিস্মরণীয় মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৩০ লক্ষ শহীদদের।

গর্বভরে উচ্চারণ করলেন, আত্মোৎসর্গকারী সেই শহীদদের মধ্যে গৌরবময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২ হাজার ৮৩৩ জন সদস্যদের। যার মধ্যে  দু’জন বীরশ্রেষ্ঠসহ ২৩১ জন খেতাবপ্রাপ্ত শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

কৃতজ্ঞচিত্তে উপস্থাপন করলেন সতের কোটি বাঙালির আশার বাতিঘর, বিশ্বনেতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আগ্রহ এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভূতপূর্ব আধুনিকায়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

স্মৃতির বাতায়নে বসে মুহুর্তেই ফিরে যান ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঐশ্বর্যময় ৭৪ বছরের পথচলার ইতিহাসে। আবির মাখা সোনালী সময়ের স্বপ্নসারথীদের হৃদমাঝে তুলে এনে বলেন, ‘অভিষেক প্যারেডের মাধ্যমে আমাকে কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে বরণ করার এই তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তে আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট’র প্রতিষ্ঠাতা মেজর এম এ গণি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে।

আমি আরও স্মরণ করছি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূতপূর্ব সকল কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও পাপা টাইগার্সসহ সকল প্রাক্তন সদস্যদের, যাদের দূরদর্শিতা, নিরলস পরিশ্রম ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই রেজিমেন্ট আজ সুদৃঢ় ভিত্তির উপর অধিষ্ঠিত হয়েছে।’

‘এই রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠার ৭৪ বছরে কঠোর পরিশ্রম, সময়োপযোগী পরিকল্পনা এবং দেশপ্রেমের দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে আজকের এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন হয়েছে। সৌম্য, শক্তি, ক্ষিপ্রতা এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত এই রেজিমেন্ট উৎকর্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘জাতীয় পতাকা’ লাভের দুর্লভ সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে’ যোগ করেন জেনারেল শফিউদ্দিন।

গড়তে চান উদ্যমী পদাতিক বাহিনী
সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পদাতিক রেজিমেন্ট আমাদের সেনাবাহিনীর মূল চালিকা শক্তি। সেনাবাহিনীর ইতিহাস যত সুদীর্ঘ, এই রেজিমেন্টের ইতিহাসও ততো পুরনো। যে কোন সেনাবাহিনীতে পদাতিক রেজিমেন্টই যুদ্ধের মূল বিজয় অর্জনকারী। আর তাই এই রেজিমেন্টের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের সাথে সেনাবাহিনীর উন্নয়নও সরাসরিভাবে সম্পৃক্ত।

তাই কর্ণেল অব দি রেজিমেন্ট হিসেবে আমার সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা থাকবে পদাতিক রেজিমেন্টের চলমান আধুনিকায়ন ব্যবস্থাকে আরো বেগবান করা এবং নতুন সামরিক সরঞ্জাম সংযোজিত করে আরো উদ্যমী পদাতিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা।

আমার উপর অর্পিত এই পবিত্র দায়িত্ব পালনকালে রেজিমেন্টের জন্য কল্যাণকর যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকবো। সেজন্য রেজিমেন্টের অগ্রযাত্রাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

কালের আলো/জিকেএম/এমএএএমকে

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

সেদিন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগদান করেছেন।

শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। ব্রিটেন থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী। এরপর ২০০৭ সালে তিনি হাইকোর্ট এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

পরে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডিএমপির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ৫৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ৫৪৬

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঘটনায় ৬২টি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৭ জন, লালবাগে ৪৫, ওয়ারীতে ৭৭, মতিঝিলে ৭৩, তেজগাঁওয়ে ১০৯, মিরপুরে ১২৫, গুলশানে ৪২, উত্তরা বিভাগে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন এবং সিটিটিসি বিভাগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানকালে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ৪ কেজি ১২০ গ্রাম গাঁজা, ২ হাজার ১৯৬ পিস ইয়াবা, ৫১ গ্রাম হেরোইন, ৩০ বোতল বিদেশি মদ, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন রাজপথে রক্ত দিতে না হয়: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন রাজপথে রক্ত দিতে না হয়: ডেপুটি স্পিকার

মেধার মূল্যায়ন ও প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার মতো বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেন অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আর রাজপথে নেমে জীবন দিতে না হয়, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ-উল আমীন অডিটরিয়ামে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলনে ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গবেষণা ও শিক্ষার পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনে তারা রাজপথেও নেমেছেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, ব্যবস্থাকে বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই বলছি, এনাফ ইজ এনাফ। আমরা ভবিষ্যতে আর রাজপথে গিয়ে বুলেটকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, প্রত্যেকের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে দাবি করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওই আন্দোলন কোনো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিল। অতীতে মেধার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়া এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে সুযোগবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি স্বপ্ন নিয়ে আসে। কেউ দরিদ্র বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে, কেউ কৃষক, শিক্ষক, চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলীর পরিবার থেকে আসে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্নের পাশাপাশি পরিবারের স্বপ্নও বহন করে। রাষ্ট্রকে সেই স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি নিজে কৃষক পরিবারের সন্তান। আমার বাবার অনেক প্রত্যাশা ছিল আমাকে নিয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণে ছাত্রজীবনে প্রত্যাশামতো পড়াশোনা করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

মুহসীন হলে থাকার সময় দেয়ালে লেখা ‘মানুষ তার আশার সমান বড় হয়’ বাক্যটি নিজের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, নেত্রকোনার গারো পাহাড়ের পাদদেশের একটি এলাকা থেকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলাম। আমাদের চোখের সামনে কোনো সীমানা রাখা যাবে না। আপনারা প্রত্যেকেই মেধাবী। কিন্তু সেই মেধার বিকাশের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও চর্চা প্রয়োজন। আমরা কেউ জানি না, ভবিষ্যতে কে কোথায় পৌঁছাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মেধা বিকাশের ‘চারণক্ষেত্র’ উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করার আহ্বান জানান।

নবীনবরণ শুধু ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করার অনুষ্ঠান নয় মন্তব্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এর মধ্য দিয়ে তাদের কাঁধে বাড়তি দায়িত্বও তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেই দায়িত্ব প্রথমে নিজের প্রতি, এরপর পরিবার, সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রতি।

বিসিএস ও সরকারি চাকরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বিসিএস একটি স্বপ্ন। তবে কর্মজীবনে ভালো অবস্থানে যাওয়ার পর যেন দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ হারিয়ে না যায়। নিজের ও পরিবারের ভালো থাকার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনাদের কেউ ভবিষ্যতে সামাজিক নেতা হবেন, কেউ গবেষক হবেন, কেউ বিশ্বখ্যাত অবস্থানে পৌঁছাবেন। কিন্তু একটি অনুরোধ, নিজের দায়িত্ব কখনও ভুলবেন না। সেই দায়িত্ব নিজের কাছ থেকে শুরু হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের তুলনায় পরে স্বাধীনতা পেলেও দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। শুধু স্বাধীন দেশ, পতাকা ও পাসপোর্ট পাওয়ার গর্বের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে প্রশ্ন করতে হবে, নিজের জায়গা থেকে দেশের জন্য কতটা কাজ করা হয়েছে।

সরকারের একার পক্ষে বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও ইতিবাচক কাজগুলোও আরও বেশি সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণা ও কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা বেশি আলোচিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া গবেষণা দেশকে যেভাবে সমৃদ্ধ করছে, তা তুলনামূলক কম আলোচনায় আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাম্প্রতিক বন্য প্রাণী সংরক্ষণসহ বিভিন্ন গবেষণা ও কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নবীনদের দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ব্যক্তিগত অবস্থান ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন কাটানো সম্ভব হলেও সেটিই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। নিজের জ্ঞান ও কর্মজীবনকে পরিবার, সমাজ ও দেশের কাজে লাগাতে পারলেই তা অর্থবহ হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের প্রসঙ্গ টেনে কায়সার কামাল বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন। কয়েক মাস আগে থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনকে দেখে আসার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাদের ত্যাগের উদ্দেশ্য হিসেবে মানুষের অধিকার, মেধার মূল্যায়ন এবং সবার জন্য ভালো থাকার মতো রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেফালী বেগমসহ শিক্ষক ও নবীণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ