খুঁজুন
                               
, ,
           

দলের সিদ্ধান্ত ও আল্লাহর মেহেরবানিতেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
দলের সিদ্ধান্ত ও আল্লাহর মেহেরবানিতেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনো ভাবেননি যে রাষ্ট্রপতি হবেন। দলের সিদ্ধান্ত ও মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর হেয়ার রোডে নিজের সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হবো। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, সবসময় জনগণের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকবো।’

সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে সংগঠনের সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক ও সমকালের দেলোয়ার হোসেন, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মানিকুল আজাদ, সহসভাপতি ও স্টার টিভির মাহবুব আলম রাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কালবেলার শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক ও বাসসের জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭১ টেলিভিশনের আব্দুল লতিফ, প্রচার সম্পাদক ও জিটিভির সাজ্জাদ হোসেন এবং নারী বিষয়ক সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের মোছা. শিউলী বেগম নাহিদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য ৭১ টেলিভিশনের নূর তাজমিন নীর, স্টার টিভির ফরহাদ বিন নূর, কালের কণ্ঠের মো. নবাব শরীয়তুল্লাহ (সৌম্য সরকার), সাম্প্রতিক দেশকালের নাসরিন আখতার, যুগান্তরের ইমরান খান, চ্যানেল আইয়ের তাফহিমুল ইসলাম ও নিউজ এজেন্সি এবিপির বিশেষ প্রতিনিধি আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক মশিউর রহমান, প্রথম আলোর তুহিন সাইফুল্লাহ এবং বাসসের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহাবুর আলম সোহাগও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

অর্থবছরের সময় বদলের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

মোস্তফা কামাল:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
অর্থবছরের সময় বদলের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

দেশের প্রথাগত অর্থবছরের সময়কাল বদলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জুলাই টু জুনের বদলে অর্থবছরের নতুন সময়কাল হবে এপ্রিল টু মার্চ । আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। পাকা সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রি পরিষদে। তা কার্যকরের আগে, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে। চেঞ্জমেকিং বা নতুন বন্দোবস্তের চিন্তা-মেধা সবার হয় না। সেই উদ্যোগ নেয়ার সাহসও সবার হয় না। অর্থবছর বদলানো কেবল ক্যালেন্ডারের কয়েকটি পাতা উল্টে দেওয়া নয়। জুলাইর জায়গায় এপ্রিল, জুনের জায়গায় মার্চ নিয়ে আসা নয়। রাষ্ট্রের অর্থবছর কোনো সাধারণ ক্যালেন্ডার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাজেট, উন্নয়ন প্রকল্প, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, কৃষি, ব্যবসা বাণিজ্য, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, করব্যবস্থা, সরকারি হিসাবরক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত নাগরিকের জীবন।

আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বড় অংশ বাস্তবায়নের তৎপরতা দেখা যায় অর্থবছরের শেষ দিকে। ফলে জুনের শেষ মুহূর্তে প্রকল্প বাস্তবায়নের যে তাড়াহুড়া, তার সঙ্গে যখন বর্ষার পানি যুক্ত হয়, তখন তৈরি হয় এক অদ্ভুত বাস্তবতা। যে রাস্তা শুকনো মৌসুমে করার কথা, সেটি করা হচ্ছে বৃষ্টির মধ্যে। যে বাঁধের কাজ আগে শেষ হওয়ার কথা, সেটি চলছে নদীর পানি বাড়ার সময়। যে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বছরের শুরুতেই অর্থ বরাদ্দ ছিল, সেটির বড় অংশের কাজ শুরু হচ্ছে অর্থবছরের শেষ কয়েক মাসে। তখন প্রশ্ন ঘোরে এ উন্নয়ন কতো দিনের? এ কথাও সত্য বাংলাদেশের সমস্যা শুধু অর্থবছরের সময়সূচিতে নয়। সমস্যা আরো অনেক জায়গায়। প্রকল্প পরিকল্পনা, ক্রয়প্রক্রিয়া, অনুমোদনব্যবস্থা, জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র, ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প পরিচালনা, তদারকি এবং জবাবদিহিতায় অনেক ঘাটতি।

প্রকৃতিতভাবে জুলাই-আগস্টে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলে। এতে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও নষ্ট হয়। সেইসাথে হয় জনদুর্ভোগ। এপ্রিল–মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ করা যাবে। অর্থ বছরের এমন সময় বদল একটা বহুল-প্রতিক্ষীত পরিবর্তন। বাংলা ক্যালেন্ডার ধরে পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র অর্থবছর ধরার একটা দাবিও ঘুরছিল অনেক দিন ধরে। যা করা হয়েছে তাও বাংলা ক্যালেন্ডারের কাছাকাছিই। বেসরকারিভাবে গ্রাম-বাংলার দোকান-পাট অর্থাৎ হালখাতা ও জমির খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে বৈশাখ-চৈত্র মাসে অর্থাৎ এপ্রিল- মার্চ মাসে। এ প্রথাটি মোঘল সম্রাট আকবরের চিন্তার জের। মোগল সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা নববর্ষ চালু হয়। রাজস্ব আহরণের দৃষ্টিকোণ থেকে তখন অর্থবর্ষ গণনা শুরু হয় এপ্রিল মাসে। পরে উপনিবেশ আমলে ১৮৬০ সালের ৭ এপ্রিল ভারতের প্রথম বাজেট দেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্কটিশ অর্থনীতিবিদ জেমস উইলসন। তখন থেকে এপ্রিল মাসে অর্থবছরের শুরু হয়। এই ব্যবস্থা চলে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ পর্যন্ত। পরে ভারত এপ্রিল–মার্চ সময়কালকে নিজেদের অর্থবছর হিসেবে বজায় রাখে। অন্যদিকে পঞ্চাশের দশকে পাকিস্তান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে জুলাই–জুন ধরে অর্থবছর গণনা শুরু করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে একই ধারা বজায় রেখে জুলাই–জুন সময় ধরেই অর্থবছর গণণা অব্যাহত রাখা হয়।

সময়ের বিবর্তনে খোদ ব্রিটেন তাদের অর্থবছর তিন মাস এগিয়ে এনে এপ্রিলে স্থিত করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলংকা এবং নেপাল তাদের অর্থ বছর পাল্টিয়ে ৬ মাস এগিয়ে এনেছে। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই জানুয়ারি–ডিসেম্বর সময়কাল ধরেই অর্থবছর হিসাব করা হয়। বিশেষ করে উন্নত দেশে এটি বেশি। জানুয়ারি–ডিসেম্বর সময়কাল ধরে অর্থবছর গণনা করা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রাজিল, রাশিয়া, কোরিয়া। পার্শ্ববর্তী শ্রীলঙ্কাও জানুয়ারি–ডিসেম্বর ধরেই অর্থবছরের সব হিসাব–নিকাশ করে। অন্যদিকে জুলাই–জুন ধরে যেসব দেশ অর্থবছর হিসাব করে, সেসব দেশের মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান। আর এপ্রিল–মার্চ অর্থবছরের দেশগুলো মধ্যে আছে ভারত, যুক্তরাজ্য। তবে অনেক দেশে কর দেওয়ার সময় এবং অর্থবছরের সময়ের মধ্যে ভিন্নতা আছে।

অর্থবছর হলো সরকারের আর্থিক হিসাবের এক বছর। এই অর্থবছর ধরেই সরকার কত আয় করবে, কত খরচ করবে, তা নিয়ে বাজেট করে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দও অর্থবছর হিসাবেই দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়ন করে। অর্থবছরের নতুন সময়কাল বাস্তবায়ন শুরু হলে কেবল সরকারি পরিকল্পনায়ই পরিবর্তন আসবে না। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায়ও আসবে নতুন সময়সূচি। এ ছাড়া মানুষের জীবনে প্রতিবছরের আয়–ব্যয়ের হিসাব, কর ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতেই হবে। প্রভাব পড়বে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব–নিকাশেও। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ও প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), শুল্ক–কর, বিনিয়োগ, দেশি–বিদেশি ঋণ ও দায়দেনা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ–লোকসানের হিসাব অর্থবছর ধরেই করা হয়। এসব বিবেচনায় নিয়েই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সংক্রান্ত তেমন আগাম তথ্য ছিল না গণমাধ্যমে। সরকার চায় উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকাণ্ডে গতি বাড়াতে। নতুন সময়কালে, অর্থাৎ এপ্রিল–মার্চ অর্থবছরে বাজেট কার্যকর করা হলে অর্থবছর শুরু হবে গ্রীষ্মের শুরুতে। ফলে এপ্রিল–জুনের শুকনো মৌসুমেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এ ছাড়া প্রতিবছরই দেখা যায়, অর্থবছরের শেষ সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা খরচ বেড়ে যায়। বিশেষ করে জুন মাসে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করেন অনেক ঠিকাদার। এভাবে কাজ করে বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিবছরই। জুনে বৃষ্টির কারণে অনেক সময় কাজের মানও ঠিক থাকে না। অর্থবছরের শুরুতেই এপ্রিল মাস থেকে অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু করা গেলে অর্থবছরের শেষ চার–পাঁচ মাসে (নভেম্বর–মার্চ) শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গতি বাড়ানো সম্ভব হবে। সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বর্ষার বাধা কিছুটা কমবে বলেও আশা করা যায়। এ ছাড়া অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটাই শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে। প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কী হবে? অবশ্যই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব–নিকাশও পরিবর্তন করতে হবে। করব্যবস্থা ও কোম্পানির হিসাবের সঙ্গে নতুন অর্থবছরের সামঞ্জস্য করতে হবে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের হিসাব–নিকাশের সফটওয়্যারে আপডেট আনতে হবে। এতে নতুন করে কিছু খরচ বাড়বে, প্রাপ্তিও ঘটবে। সাধারণ মানুষও পরিবর্তনের তাগিদ পাবে। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। করবর্ষ ও অর্থবছর এক হওয়ায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর গণনার সময় বদলে যাবে। এখন জুলাই–জুন সময়ের আয়ের ওপর কর দিতে হয়। আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসবে। নতুন ব্যবস্থায় এপ্রিল–মার্চ সময়ের ওপর ভিত্তি করে রিটার্ন জমা ও কর দিতে হবে।

সামগ্রিক বিবেচনায় ১ এপ্রিল–৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। বর্ষাকালের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচির অসামঞ্জস্য কমিয়ে প্রকল্পের গতি ও মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু অর্থবছরের সময়সূচি বদলালেই উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি, অর্থছাড়ে বিলম্ব বা দুর্বল বাস্তবায়ন সক্ষমতার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দূর হবে না। বরং নতুন কাঠামো কার্যকর করতে বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, সরকারি হিসাব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন হবে। তাই এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক সংস্কার হিসেবে দেখার পাশাপাশি এর বাস্তবায়ন কতটা পরিকল্পিত ও দক্ষ হচ্ছে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, জবাবদিহি ও তদারকি নিশ্চিত করা গেলে অর্থবছর পরিবর্তন দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে। এমন আশাবাদ ও উচ্চ্বাশার সমান্তরালে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে সত্য। একটি দেশে ৫৫ বছর পর অর্থবছরের সময়সীমায় পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ খাপ খাওয়াতে একটু সময় লাগবে সত্য। সময় পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়, সরকারি হিসাব পরিচালনা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয় ও অর্থছাড় ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার দিনে দিনে চলে আসবে, তা ভাবা যায় না। প্রত্যাশিত সুফল পেতে সময় লাগবে। অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, করব্যবস্থা, সরকারি হিসাবরক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থছাড়ের পদ্ধতিতে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, সেই হোম ওয়ার্ক সরকার করেছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় আনার আগে বিভিন্ন পর্যায়ে মতামত নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের অনেকে প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, অর্থছাড়, সরকারি ক্রয় এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের পুরো কাঠামোয় সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন। প্রকল্পের শুরুতেই সঠিক পরিকল্পনা এবং সময়মতো অর্থছাড় নিশ্চিত করতে বলেছেন। বারবার মেয়াদ বাড়ানোর প্রবণতা রুখতে বলেছেন।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা দুর্বলতার কারণে প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা যেন না হয় সে ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হতে হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতার সামঞ্জস্য আনতে হবে। বলাই বাহুল্য শিল্প, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো কিছু মন্ত্রণালয় ঐতিহাসিকভাবেই বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বল। আবার স্থানীয় সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতো কিছু মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন সক্ষমতা তুলনামূলক ভালো। এসব ফের কমাতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগে ব্যয় কাঠামোয় সংস্কার আনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেইসথে প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মনে করার দরকার রয়েছে, ২০১০ সালেও জুলাই-জুনের পরিবর্তে অন্য সময়সীমায় অর্থবছর নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবারের প্রেক্ষিত ভিন্ন। নতুন বাংলাদেশ, রূপান্তরিত বাংলাদেশের কথা মুখে মুখে সবাই বলছেন। এবার বাস্তব দেখার অপেক্ষা।

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নি‌য়ে কোনো হালনাগাদ তথ‌্য না থাকার বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবা‌দিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তি‌নি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অগ্রগতি জান‌তে চাই‌লে প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নাই। প্রধানমন্ত্রীর সফর যখন যে দেশে ঠিক হবে, তার অফিস থেকে আপনারা জানতে পারবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চল‌তি মা‌সে সরকারপ্রধা‌নের দি‌ল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের ম‌ধ্যে আলোচনা চল‌ছিল। ত‌বে প্রধানমন্ত্রীর সফ‌রের পূ‌র্বে দি‌ল্লি‌কে অনুকূল পরিবেশ তৈ‌রির তা‌গিদ দি‌য়ে‌ছে বাংলা‌দেশ।

ঢাকার চাওয়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যাবর্তন চুক্তির মাধ্যমে ফেরত এবং সন্দেহভাজন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকারীদের প্রত‌্যার্প‌ন কর‌বে ভারত।

তা‌রেক রহমানের সফর নিয়ে ভারতকে যে বার্তা দিয়েছে, তার উত্তরের জন‌্য অপেক্ষা করছে ঢাকা।

এ ছাড়া, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রীকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারত। ব্রিকসে যোগ দিতে ভারত যে আমন্ত্রণ পা‌ঠি‌য়েছে তাতে তা‌রেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী উ‌ল্লেখ না করে শুধুমাত্র বিমস‌টেক চেয়ার বলা হ‌য়ে‌ছে, যা পছন্দ হয়‌নি বাংলাদে‌শের।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাতে ঘুমানোর আগে হঠাৎ পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
রাতে ঘুমানোর আগে হঠাৎ পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে কেন?

সারাদিনের ব্যস্ততায় কত কিছুই না ঘটে। কাজ, পড়াশোনা, ফোনকল, মানুষের সঙ্গে কথা বলা- সব মিলিয়ে মাথায় যেন চিন্তার ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু রাতে বিছানায় যাওয়ার পর যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে আসে, তখনই হঠাৎ মনে পড়ে যেতে পারে বহুদিন আগের কোনো ঘটনা, প্রিয় মানুষের কথা কিংবা জীবনের কোনো পুরোনো মুহূর্ত। কখনো আবার এমন স্মৃতিও ফিরে আসে, যেটি নিয়ে দিনের বেলায় একবারও ভাবা হয়নি।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা ও অভিজ্ঞতার স্মৃতিকে autobiographical memory বলা হয়। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়াকে বলা হয় involuntary retrieval-অর্থাৎ স্মৃতিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা না করলেও তা হঠাৎ চেতনায় চলে আসে।

রাতে কেন বেশি মনে হয়?

এর একটি বড় কারণ হতে পারে নিরিবিলি পরিবেশ। দিনের ব্যস্ত সময়ে বাইরের নানা উদ্দীপনা আমাদের মনোযোগ ধরে রাখে। কিন্তু রাতে কাজের চাপ ও চারপাশের ব্যস্ততা কমে গেলে নিজের চিন্তার দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ বাড়ে। তখন অবচেতনভাবে পুরোনো ঘটনা বা ব্যক্তিগত স্মৃতি মনে পড়ে যেতে পারে।

কোনো গন্ধ, গান, ছবি, জায়গা কিংবা কথাও আবার পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে। মনোবিজ্ঞানে এমন অনিচ্ছাকৃত স্মৃতি ফিরে আসার ঘটনাকে ‘Proust phenomenon’-এর সঙ্গে ব্যাখ্যা করা হয়।

আবেগের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতি বেশি ফিরে আসে

সব স্মৃতি সমানভাবে মনে থাকে না। কোনো ঘটনা যদি আমাদের কাছে আবেগপূর্ণ হয়- যেমন প্রথম প্রেম, বিচ্ছেদ, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো সময়, অপমান, সাফল্য কিংবা কোনো বিশেষ দিনের ঘটনা- তাহলে সেটি দীর্ঘদিন মনে থাকার সম্ভাবনা থাকে।

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক স্মৃতি সংরক্ষণ ও আবেগ প্রক্রিয়াজাত করার বিভিন্ন কাজ করে। বিশেষ করে NREM ও REM ঘুমের পর্যায় স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘অসমাপ্ত’ বিষয়ও মাথায় ঘুরতে পারে

কখনো কোনো পুরোনো ঘটনা মনে পড়ার পেছনে বর্তমান জীবনের কোনো অনুভূতিও কাজ করতে পারে। ধরুন, দিনের কোনো ঘটনা আপনাকে পুরোনো কোনো অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ব্যস্ততার কারণে তখন সেটি নিয়ে ভাবার সুযোগ হয়নি। রাতে যখন চারপাশ শান্ত, তখন সেই চিন্তাটি আবার সামনে চলে আসতে পারে।

এ কারণেই অনেকের কাছে ঘুমানোর আগের সময়টা হয়ে ওঠে ‘নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলার সময়’।

তাহলে কি এটা অস্বাভাবিক?

সবসময় নয়। মাঝেমধ্যে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়া মানুষের স্বাভাবিক মানসিক অভিজ্ঞতার অংশ। বরং স্মৃতি, আবেগ ও ঘুমের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

তবে যদি রাতে চিন্তা বা পুরোনো স্মৃতি এত বেশি ফিরে আসে যে নিয়মিত ঘুমাতে সমস্যা হয়, দীর্ঘসময় উদ্বেগ তৈরি করে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ঘুমের আগে মনকে ধীরে ধীরে শান্ত করার জন্য কিছু সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা, শিথিল হওয়ার অভ্যাস এবং মাথায় ঘুরতে থাকা বিষয়গুলো লিখে রাখা সহায়ক হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, রাতে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়া মানেই আপনি অতীতে আটকে আছেন-এমন নয়। দিনের কোলাহল থেমে গেলে মস্তিষ্কের ভেতরের গল্পগুলোই তখন একটু বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর সেই গল্পের পাতায় কখনো কখনো বহুদিন আগের কোনো মানুষ, কোনো বিকেল কিংবা ভুলে যাওয়া একটি মুহূর্ত আবার ফিরে আসে।

তথ্যসূত্রঃ আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও স্লিপ ফাউন্ডেশন

কালের আলো/এসএ