খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

গণমাধ্যমের মুখোমুখি জেনারেল শফিউদ্দিন, যুগোপযোগী চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোতে চান বিওকে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ
গণমাধ্যমের মুখোমুখি জেনারেল শফিউদ্দিন, যুগোপযোগী চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোতে চান বিওকে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

দলগত কাজে বিশ্বাস করেন বলেই কীনা সমন্বিত দক্ষতাকে কাজে লাগাতে চান। আগের চেয়ে ভালো করতে চান। উপহার দিতে চান দৃশ্যমান কিছু। হুটহাট নয়, নির্বাহী কমিটির সভা করেই নির্ধারণ করতে চান ‘অ্যাকশন প্ল্যান’। নিজের ভাবনা-চিন্তার অগ্রভাগেই রাখতে চান অলিম্পিককে। পদক জয়ের সুযোগ আছে এমন ইভেন্টগুলো বাছাই করে দিতে চান বাড়তি গুরুত্ব।

আরও পড়ুনঃ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অপার দেশপ্রেমের প্রতি শ্রদ্ধা-কৃতজ্ঞতা সেনাপ্রধানের

কেবলই তাই নয়, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অলিম্পিকের মতো বড় প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে কী কী করা প্রয়োজন এসবও যেন গেঁথে নিয়েছেন নিজের হৃদয়-মস্তিষ্কে। এই বিশ্ব আসরে পদক জয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন গেমসে বাড়াতে চান পদকের সংখ্যা। গ্রহণ করতে চান যুগোপযোগী চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুনঃ ‘ক্রীড়াবীদ’ সেনাপ্রধানের ‘সোনালী অধ্যায়’, অলিম্পিকের নেতৃত্বেও কাজে লাগাতে চান ‘অভিজ্ঞতা’

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) ১৬ তম সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করে সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েই যেন নিজের বাস্তবিক স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও লক্ষ্যই মোটা দাগে নিজের জবানীতে তুলে আনলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। নিজ নেতৃত্বাধীন এসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য পথযাত্রায় তিনি সংযোজন করতে চান নতুন প্রাণাবেগের।

এদিন নতুন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হওয়ার পর বিওএ সভাপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। লক্ষ্যপূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘আশীর্বাদ’ এবং নিজেদের ‘ইচ্ছা’কে এক সুতোয় গেঁথে বিশ্ব পরিমন্ডলে লাল-সবুজের পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ানোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে চান অলিম্পিক এসোসিয়েশনের চির স্বপ্নবাজ এই সভাপতি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সব সময় নতুন নতুন কনসেপ্টে বিশ্বাসী জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বরাবরই নিজেকে একজন ‘চেঞ্জ মেকার’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ফলে শতবর্ষীর পুরনো মন্ত্র ‘হার জিত বড় নয়, অংশগ্রহণই বড় কথা’ এর বদলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি ছকে খুলে দিতে চান সাফল্যের দরজা। যারপরেনাই তার হাত ধরেই জ্বলতে শুরু করেছে আশার প্রদীপ।

এই পরিচিতি সভায় বিওএ’র নতুন সভাপতিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা ও সহ-সভাপতি মাহবুব আরা বেগম গিনি এমপি।

ভাগ্যবান মনে করেন নিজেকে, কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি
মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আর শতাব্দীর মহানায়ক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আনন্দ উচ্ছ্বাসের অবগাহনে জেনারেল শফিউদ্দিন দায়িত্ব নিয়েছেন বিওএ’র সভাপতি হিসেবে। এ কারণেই নিজেকে ‘ভাগ্যবান’ মনে করেন।

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার ওপরে আস্থা রাখার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি যে আস্থা আমার ওপর রেখেছেন আমি তার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করবো।’

নতুন মাত্রায় উপস্থাপন প্রধানমন্ত্রীর ক্রীড়ানুরাগকে
প্রধানমন্ত্রীর ক্রীড়ানুরাগকে নতুন মাত্রায় উপস্থাপন করে সেনাপ্রধান বলেন, আমি ও শাহেদ (বিওএ মহাসচিব) ভাই দীর্ঘক্ষণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি ক্রীড়াকে খুবই ভালোবাসেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বলেছেন, তোমাদের কি কি লাগবে? তিনি সেগুলো আমাদের দেবেন। যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ আছে, আমাদের ইচ্ছাও আছে। ইনশাআল্লাহ কিছু করতে পারবো বলে আমাদের বিশ্বাস রয়েছে।’

নিজ সহকর্মীদের দক্ষতার প্রশংসা
দায়িত্ব নিয়েই নির্বাহী কমিটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি সভায় মিলিত হন বিওএ সভাপতি। এই কমিটির সবার দক্ষতার প্রশংসা করেন। এগিয়েও যেতে চান এই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়ে।

বলছিলেন এমন ‘যে কমিটি আমরা গঠন করেছি, সবাই যার যার জায়গায় একজন করে বিশেষজ্ঞ। তাদের সমন্বিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সাধারণ লক্ষ্য রেখেছি। যা আগের চেয়ে ভালো করার তাগিদ। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সবার সহযোগিতা পেলে আগের চেয়ে আমরা ভালো করতে পারবো। আমাদের উদ্দেশ্য থাকবে যে দৃশ্যমান কিছু দেওয়া। এই কমিটি আগের চেয়ে ভালো করেছে, তাই বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রে ভালো ফল এসেছে।’

নিজের দায়িত্ব গ্রহণ সম্পর্কে বলেন ‘আমি তো কেবল মাত্র দায়িত্ব নিলাম। আমাদের প্রথম পরিচিত সভায় আমরা একমত হয়েছি যে, শিগগিরিই আমরা এক্সিকিউটিভ কমিটির সভা করবো। সেখানেই অ্যাকশন প্ল্যান হবে। তখন আমি আপনাদের একটি পরিষ্কার ধারণা দিতে পারবো কিভাবে আমরা পূর্বের চেয়ে ভালো অর্জন করতে সক্ষম হবো।’

অলিম্পিক ভিলেজ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফিজিক্যাল একটি প্রজেক্ট হয়ে থাকলে তা হবে।

লক্ষ্য বহুদূর, বিশ্বাস করেন অর্জনে
দেশের খেলাধুলাতে যেখানে সম্ভাবনা আছে, সেখানে বেশি জোর দেওয়ার কথা বললেন বিওএ সভাপতি জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষ্য হচ্ছে – ‘আমাদের যেসব সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র আছে, সেসব জায়গায় বেশি করে বিনিয়োগ করবো। বিভিন্ন গেমসে লক্ষ্য রাখছি যেন পদকের সংখ্যা বাড়াতে পারি। এটাই হবে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন। অন্যথায় আপনি কাজ কেমন করেছেন, তা বিচার করতে পারবেন না। আমরা ফোকাস করছি কোন কোন জায়গায় পদক বাড়ানো যায়।’

অলিম্পিকে পদক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। স্বভাবতই আমি অলিম্পিক নিয়েই ভাববো। সেটা না ভেবে আমার কোনও উপায় নেই। আমরা এচিভেবল গোলে বিশ্বাস করি। আমাদের লক্ষ্য থাকতে হবে অনেক দূর। আজকে যদি আমি চাঁদে যাওয়ার চিন্তা করি, আজ হয়তো পারবো না। কিন্তু লক্ষ্য থাকা ভাল। টার্গেট হবে যেটা মডারেটলি চ্যালেঞ্জিং। হতাশা এসে যায় এমন চ্যালেঞ্জ নেওয়া ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, ‘কালকেই আমি অলিম্পিকে ১০০ মিটারে স্বর্ণ জিতবো, সেটা আবার বেশি হয়ে যাবে। আমরা পারবো না। অলিম্পিকে ভাল করার জন্য সাফ গেমস ও এশিয়ান গেমসে ভাল করতে হবে। এগুলো বড় জায়গায় যাওয়ার একটা স্টেপ মাত্র।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম

পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের স্কোয়াডে, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের স্কোয়াডে, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা

মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। একই দল নিয়েই নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে নামতে যাচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আজ (শনিবার) বিসিবির নবগঠিত নির্বাচক প্যানেল প্রথম দুই ওয়ানডের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। অপরিবর্তিত স্কোয়াড নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা– দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের আরও সুযোগ দিতে চান।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আমরা যখন দলটা দেখেছি, মনে হয়েছে সর্বশেষ সিরিজ তো সফল ছিল। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সেখানে কিছু খেলোয়াড় হয়তো সুযোগ পায়নি একাদশে। কিছু খেলোয়াড় নতুন এসেছে। আমাদের নীতি হলো, যখন কেউ আসবে, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। যারা খেলেছে তারা খারাপ খেলেনি। আমরা সুযোগ দেওয়ায় বিশ্বাস করতে চাই, সে কারণে আমরা এই সিরিজে দল পরিবর্তন করিনি।’

এক বছর পরই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর আগে বড় পরিবর্তন নয়, ম্যাচ জেতার দিকেই মূল নজর নির্বাচকদের। দুটো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচক জানান, ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনও বড় পরিবর্তন করতে চাই না। যদি কাউকে দেখতে হয়, তবে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে দেখে নেব। বাংলাদেশ দলের প্রথম প্রাধান্য হলো ম্যাচ জেতা। জেতার জন্য আমরা সেরা দলটাই বানাব। এর মধ্যে আমরা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। তবে জেতার মানসিকতা ত্যাগ করে নয়।’

এ ছাড়া পেসার ও বিভিন্ন পজিশনের ব্যাটারদের রোটেশন নীতি নিয়ে বাশার বলেন, ‘পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে আমাদের অনেক অপশন আছে। এখানে রোটেশন করলে আমরা খুব একটা কিছু মিস করছি না। ইনজুরি ম্যানেজমেন্টের জন্য আমরা পেসারদের রোটেট করে খেলাব। কিন্তু টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডারে আমাদের সেটেল হওয়া দরকার। সেখানে আমাদের কাজ করার আছে।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ এপ্রিল সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। ২০ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচ, প্রথম দুই ওয়ানডে হবে মিরপুর শের-ই বাংলায়। এরপর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে (২৩ এপ্রিল) খেলতে দুই দল চট্টগ্রামে উড়াল দেবে। ৫০ ওভারের ম্যাচগুলো শুরু হবে বেলা ১১টায়।

কালের আলো/এসএকে

১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, পাতে কমছে স্বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, পাতে কমছে স্বাদ

এক হাতে বাজারের ব্যাগ, আরেক হাতে হিসাব। প্রতিদিনের এই ছোট্ট লড়াইয়ে যেন হার মানছেন সাধারণ মানুষ। সবজির বাজারে ঢুকলেই চোখে পড়ে অস্বস্তির এক চিত্র। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। প্রয়োজন থাকলেও সাধ্যের সীমা টেনে ধরছে হাত। অনেকেই এখন কেজির বদলে কিনছেন আড়াইশ গ্রাম। এভাবেই সামলাচ্ছেন সংসার।

জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালী, রামপুরাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজিই ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০ টাকার নিচে রয়েছে মাত্র দু-একটি সবজি। গোল ও লম্বা দুই ধরনের বেগুনই কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা একদিন আগেও ছিল ১০০ টাকা। পটলের কেজি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

করলা ১০০-১২০, বরবটি ৮০-৯০, ঢেঁড়শ ৭০-৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, টমেটো ৫০, পেঁপে ৪০-৫০ ও লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম দু’তিন দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমে কেনা যেত। তবে সবচেয়ে দামি সবজি এখন কাঁকরোল। প্রতি কেজি কাঁকরোল কিনতে ক্রেতাদের ১৬০-১৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে। তবে কেজিপ্রতি আলুর দাম এখনও ২৫-৩০ টাকা।

মহাখালী সবজির বাজারে কথা হয় বখতিয়ার শিকদারের সঙ্গে। তিনি একটি বেসরকারি অফিসে পিয়ন হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন সবজি কেনার ইচ্ছা থাকলেও দাম বাড়ায় আধা কেজি বেগুন ও আলু কিনেই বাসায় ফিরতে হচ্ছে তাকে। তার দাবি, সরকার যদি কিছু নিয়ন্ত্রণ করত, তাহলে নিম্নআয়ের মানুষের উপকার হতো।

তিনি বলেন, মাছ-মাংসের পরিবর্তে আগে সবজি খেয়ে চাহিদা মেটাতাম। এখন সেটাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যায় না। স্বাদ জাগলেও আয়ের সঙ্গে কুলাতে না পেরে কোনোভাবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হয়। আজ শুধু বেগুন আর আলু কিনেছি। ঘরে থাকা ডিম দিয়ে এসব রান্না হবে।

বখতিয়ার আরও বলেন, ঈদের পরও বেগুনের কেজি ৪০-৬০ টাকা ছিল। এখন দ্বিগুণেরও বেশি। আগে এক কেজি কিনলেও এখন আধা কেজি বা আড়াইশ গ্রাম করে কিনতে হয়। পটল, করলার দামও বেশি। খেতে হয় বলেই সবজি কিনছি, না হলে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হতো।

অনেকটাই বখতিয়ারের সুরে কথা বলেন বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করেন তিনি। দাম বেশি হওয়ায় করলা আধা কেজি, ঢেঁড়শ আড়াইশ গ্রাম, শিম আধা কেজি ও পটল আড়াইশ গ্রাম কিনেছেন। এসব সবজির দাম কম থাকলে এক কেজি করেই কিনতেন বলে জানান তিনি। তার মতে, আগে একজন মানুষ ২০০ গ্রাম খেলে এখন ১০০ গ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।

জোয়ার সাহারা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মাহফুজার রহমান সিয়াম বলেন, দাম বাড়ার কারণ আমরাও স্পষ্ট করে বলতে পারি না। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। যে টাকা নিয়ে আমরা মালামাল কিনতে যাই, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। সরবরাহ কম বা সংকটের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে পাশাপাশি নতুন সবজির সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে। এসব কারণে পাইকাররা বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন। ফলে খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে