খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

সরকারের দৃঢ় ভূমিকায় অনুপ্রাণিত সেনাবাহিনী, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার শপথ সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২২, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
সরকারের দৃঢ় ভূমিকায় অনুপ্রাণিত সেনাবাহিনী, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার শপথ সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মুন্সীয়ানায় দেশের অসামান্য অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েকটি পালক। মুজিবশতবর্ষ ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশবাসীর জন্য আরও চারটি নতুন উপহার দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সওজ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাস্তবায়িত এই চারটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন: আন্ডারপাসসহ তিন প্রকল্পের হাইলাইটস

সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে সরকারের দৃঢ় ভূমিকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ে তোলারও দৃপ্ত শপথের কথাও উচ্চারণ করেছেন সেনাপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘দেশ ও জাতির উন্নয়নে এবং মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও স্বত:স্ফূর্তভাবে কাজ করে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’

আরও পড়ুন: পাহাড়ের পদ্মাসেতু, খুলে দিলো সম্ভাবনার দূয়ার

বুধবার (১২ জানুয়ারি) গণভবনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত ঢাকা-এয়ারপোর্ট মহাসড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস, সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক ৪ লেন মহাসড়ক, বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুনধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগ সড়ক এবং রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরে চেংগী নদীর উপর ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের এমন মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন সেনাপ্রধান।

প্রধামন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো.নজরুল ইসলাম প্রকল্প বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্যচিত্র তুলে ধরেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ নিজের বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, মহান স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন দেশ।’

তিনি স্মরণ করেন স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদদেরও। এ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, ‘যাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। আমি স্মরণ করছি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সকল শহীদদের, যারা শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের প্রয়োজনে দেশ-বিদেশে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি পদ্মাসেতু
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্ব ও সময়োচিত দিকনির্দেশনায় ঢাকা মহানগরীসহ সমগ্র দেশে ভৌত অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও অসামান্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আজ আমরা পদ্মাসেতু নিজেরাই তৈরি করেছি। এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে দেশের উন্নয়নের অংশীদার হবার সুযোগ দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুনধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগ সড়ক’, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে শহিদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন আন্ডারপাস’, ‘সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক ৪ লেন মহাসড়ক’ এবং ‘রাঙ্গামাটি জেলার নারিয়ারচরে চেংগী নদীর ওপর ৫শ’ মিটার দীর্ঘ সেতু’- এই চারটি প্রকল্প নির্মাণে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশেষভাবে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স সর্বোচ্চ দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

তারা সকল প্রতিকূলতা দূর করে গুণগতমান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পসমূহের কাজ শেষ করেছে। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে সরকারের দৃঢ় ভূমিকা সর্বদা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ঐকান্তিক আগ্রহ এবং সকল মন্ত্রণালয়ের সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহের আপামর জনসাধারণের আন্তরিক সহযোগিতায় উল্লেখিত প্রকল্পসমূহ কাঙ্খিত সময়ের পূর্বে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পসমূহ সফলতা ও দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নে আমি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী, সচিব ও সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চীফ ও ২৪ ও ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সকল সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

অনুপ্রেরণা প্রধানমন্ত্রীর, দিকনির্দেশনা সেনাপ্রধানের
প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক অনুপ্রেরণায় এবং সেনাপ্রধানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই চারটি প্রকল্প বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ডেলিকেটেড পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করেছে বলে জানান সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান।

নিজের স্বাগত বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ বা প্রতিকূলতা ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীর প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আকুন্ঠ আস্থা এবং জাতির যে ভরসা তাতে করে চ্যালেঞ্জ কোন শব্দ আছে বলে আমরা মনে করি না। আমাদের ওপর অর্পিত যে কোন দায়িত্ব আমরা করতে পারছি এবং করবো এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি।

সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ বলেন, আন্ত:সংস্থার সমন্বয়ের নিরিখে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেনাবাহিনীর পারস্পারিক সহযোগিতা নি:সন্দেহে দৃষ্টান্তমূলক। সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য সন্মানিত সেনাবাহিনী প্রধানকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর অবিচল আস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমানের প্রত্যয় পুনরায় উচ্চারণ করেন তিনি।

কালের আলো/এমএএএমকে

ঢাকার একটি পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার একটি পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল

আসন্ন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকেন্দ্র ‘ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ’ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে গত ১৫ মার্চ কেন্দ্রটি বাতিলের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপেক্ষিতেই বোর্ড কর্তৃপক্ষ আসন্ন পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা থেকে ইমপিরিয়াল কলেজের নাম বাদ দিয়েছে। এর ফলে এই কলেজের নির্ধারিত পরীক্ষার্থীদের বিকল্প কেন্দ্রে আসন বিন্যাস করা হবে।

ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ কেন্দ্রটি বাতিল হলেও পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ঢাকা বোর্ড নতুন পাঁচটি পরীক্ষাকেন্দ্রের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় শিক্ষা কার্যক্রমের সুবিধার্থে আরও চারটি কেন্দ্র পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

নতুন অনুমোদন পাওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগরের মাতুয়াইল হাজী আবদুল লতিফ ভূইয়া কলেজ অন্যতম। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে টাঙ্গাইলের চাপড়ী বহুমুখী গণ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের থানেশ্বর স্কুল এন্ড কলেজ, শরীয়তপুরের শহীদ সিরাজ সিকদার ডিগ্রী কলেজ এবং মাদারীপুরের সাহেবরামপুর কবি নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ।

শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্ট লাঘব করতে নরসিংদীর নারায়নপুর রাবেয়া কলেজ, কিশোরগঞ্জের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজ, মাদারীপুরের চরমুগরিয়া মহাবিদ্যালয় এবং রাজবাড়ীর ডা. আবুল হোসেন কলেজ কেন্দ্র চারটি পুনরায় সচল করেছে।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,  আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার স্বার্থেই এই প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ কেন্দ্র বাতিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের নতুন আসন বিন্যাস সম্পর্কে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহিত করা হবে। পরীক্ষার্থীদের যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে বোর্ডের নিয়মিত নোটিশ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বোর্ড কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নতুন কেন্দ্রগুলোর প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

কালের আলো/এসএকে

‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং একে আরও উন্নত করার রূপরেখা তৈরি করতে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে রেশমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন তলানিতে। এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে; তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

রেশম শিল্পের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই দক্ষ কারিগরদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং সিল্কের প্রসার ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চীন ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোতে দেশীয় সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশাসহ রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/ইএম

জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে রাজধানীর জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি নাম হওয়ায় মানুষের কল্যাণে এই খাল নিয়ে কিছুই করেনি অবৈধ সরকার। আপাতত সিটি করপোরেশনের অর্থে খালটিতে অবৈধ স্থাপনাসহ সব কাজ চলছে।

সব খাল দখলমুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয় বিএনপি সরকার। যেহেতু বিনাভোটে নির্বাচিত হইনি সেক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।

কালের আলো/এসএকে