খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে বেড়েছে সক্ষমতা, বিশ্বেও সেরা সেনাবাহিনীর স্বপ্ন সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে বেড়েছে সক্ষমতা, বিশ্বেও সেরা সেনাবাহিনীর স্বপ্ন সেনাপ্রধানের

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, আকাশ ও সীমানা রক্ষায় সংযোজন হয়েছে দুরপাল্লার মিসাইল, ডিকটেশন যন্ত্র, মর্টার, রাডার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্রসহ আধুনিক প্রযুক্তি। একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত সেনাবাহিনী হিসেবে বিশ্বপরিমন্ডলে সুনাম-গৌরব অর্জন করেছে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক এই বাহিনী।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের গুণগত মান আরও বৃদ্ধি ও উন্নয়ন অর্জনের জন্য নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে গভীর মনোযোগী প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে শক্তি ও সক্ষমতা বেড়েছে নিজেদের। যারপরেনাই এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা সেনাবাহিনীতে রূপান্তরিত হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, হৃদয়তন্ত্রিতে তুমুল আলোড়ন তুলে এমন স্বপ্ন দেখেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ব্যপ্ত করেছেন সর্বজয়ী হওয়ার মানসিকতা।

ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান যেকোন হুমকি মোকাবেলায় সেনা সদস্যদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। দৃঢ়তার সঙ্গেই নিজ বাহিনীর সদস্যদের পবিত্র সংবিধান ও দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের এমআর চৌধুরী প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯টি ইউনিটের রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠানেও সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ আশাবাদের আলোকবর্তিকার মতোই প্রত্যয়দীপ্ত অঙ্গীকারে উদ্বেলিত করেছেন দেশপ্রেমিক সেনাদের। মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনি:শেষ প্রেরণায় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুমাত্রিক প্রাজ্ঞময় নেতৃত্বের নিজেদের অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে ঐতিহাসিক পথযাত্রায় তিনি সংযোজন করেন নতুন প্রাণাবেগের।

এদিন সকালে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে এম আর চৌধুরী প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন কালার অর্জন করা ৯ ইউনিটের প্রধান ও সেনা সদস্যরা। সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম তাকে অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় ৩২ বীর এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান হাবিব রাজীবের নেতৃত্বে একটি সম্মিলিত চৌকস দল কুচকাওয়াজ প্রদর্শন এবং সেনাবাহিনী প্রধানকে সালাম প্রদান করেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান রেজিমেন্টাল কালারপ্রাপ্ত ইউনিটসমূহকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এই বিশেষ দিনে আমি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেই সাথে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লক্ষ বীর শহিদদের।’

‘কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এদেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতা বেড়েছে-এমন উচ্চারণ করেন প্রগাঢ় লাল আলতার রঙে। সম্মোহনী নেতৃত্বগুণে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আধুনিক ও যুগোপযোগী সরঞ্জামাদি মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর দক্ষতা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ও বিশ্বের আস্থা অর্জন করেছে।

ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন হচ্ছে। আমাদের সামরিক শক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সেনাবাহিনীর অনেক আধুনিক সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্র সংযোজন করা হয়েছে। সমন্বিত আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক সময় বিশ্বের অন্যতম একটি সেরা সেনাবাহিনীতে রূপান্তরিত হবে।’

অনুষ্ঠানে ঢোলের তালে তালে নাচের মুদ্রার মতোই যেন এগিয়ে আসতে থাকে সেনাবাহিনীর বাদক দলের সদস্যরা। এরপর একে একে ৯ টি ইউনিটের অধিনায়করা সেনাপ্রধানের কাছ থেকে রেজিমেন্টাল কালার বা ইউনিটের পতাকা বুঝে নেন। সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ইতিহাসে এটিও একটি ঐতিহ্য। ইতিহাস বলে, যুদ্ধের সময় দল বা ইউনিট প্রধানের অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য পতাকা বহন করতে হতো।

সেই রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। সেনাবাহিনীর যেকোন ইউনিট বা রেজিমেন্টের সফলতা উদ্দীপনা তেজোদীপ্তের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয় এই রেজিমেন্টাল কালার। এবার চট্টগ্রামের মাটিতে কালার পতাকা দেওয়া হয় ১৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২০ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন, ২৪ বীর, ২৭ বীর, ২৮ বীর, ৩০ বীর, ৩১ বীর, ৩২ বীর এবং ৩৩ বীরকে। এজন্য দীর্ঘ ৫ বছর কঠোর অধ্যাবসায়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় ইউনিট সদস্যদের। তাই স্ব স্ব ইউনিটের সম্মান ধরে রাখতে ইউনিট সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সেনাবাহিনী অতীতের চেয়ে আরও আধুনিক উল্লেখ করে তিনি বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্তি যেকোন ইউনিটের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। যে ইউনিটসমূহকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করা হয়েছে তা সমুন্নত রাখতে ইউনিটের সকল সদস্য যেকোন ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকবে। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইউনিটের মর্যাদা ও সুনাম উত্তরোত্তর আরও বৃদ্ধি পাবে।’

দায়িত্বশীলতার শাণিত শপথ আর সময়ের প্রতিটি স্পন্দনের ঘটমানতাকে সুনিপুণ দক্ষতায় নিজের জবানীতে তুলে এনে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এদেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার সাংবিধানিক ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এই বাহিনীর সদস্যরা দেশ গঠন ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে। তাই সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় ইসলাম পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহণের বাসে ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। হতাহতদের উদ্ধার করে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাগেরহাটের মংলার লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) ও পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের রবিউল ইসলাম (২২)।

জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির ইসলাম পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় আকাশ পরিবহণের বাসটি দুমড়ে-মুছড়ে গেছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন বলেন, নর্দায় একটা কাউন্টার থাকায় জায়গাটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন একটি বাস বেপরোয়া গতিতে নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক ক্রস করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

বেপরোয়া গতির কারণে গাড়িটি রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনে ধাক্কা দেয়। গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিলেন ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের ধাক্কায় আকাশ পরিবহন ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী নিহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বাকি একজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইসলাম পরিবহনের যাত্রীদের বরাত দিয়ে এসআই নেসারউদ্দিন জানান, পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলাচ্ছিল। চালক ও হেলপারও ছিল বেপরোয়া। রাস্তায় যাত্রী নামাতে নামাতে আসছিল। সারা রাস্তায় চিল্লাচিল্লি করেছে চালক।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিস্তানমুখী আকাশ পরিবহণের বাসটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস পুলিশ সরিয়ে নিয়েছে।

পরে যান চলা স্বাভাবিক হয়। ইসলাম পরিবহনের চালক হেলপারকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া হতাহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি