খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বঙ্গবন্ধু ম্যারাথনে ছন্দ-গতির সকাল, জীবনের জয়গানে দৌড়বিদরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
বঙ্গবন্ধু ম্যারাথনে ছন্দ-গতির সকাল, জীবনের জয়গানে দৌড়বিদরা

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

ঘন কুয়াশার ধবল চাদরে নিমগ্ন চারপাশ। হিমশীতল অনুভূতি। মাঘের শীত আর কুয়াশার আড়মোড়া ভেঙে তখনও জেগে ওঠেনি ইট-পাথরের যান্ত্রিক রাজধানী। আলস্যের চাদর অবমুক্ত করে কুয়াশার ধূম্রজাল চিরে এ সময়টিতে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার যেন হয়ে ওঠলো যেন ঘুমন্ত নগরীকে জাগিয়ে তোলা সাইরেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ঘড়িতে তখন ভোর সাড়ে ৫ টা। জোড়া জোড়ায় পা পড়তে শুরু করে নগরীর পথে।

এক পা দু পা করে সামনের দিকে এগোতে থাকেন দেশ-বিদেশের ২ হাজার ১৬৩ জন দৌড়বিদ। শীতের সকাল ভিন্নরকম, বৈচিত্র্যময় এক রূপেই তারা ধরা দিলেন তাঁরা। কোন আলসতা নেই। শীতল হাওয়াকে উবে দিয়ে কুয়াশার চাদর পেরিয়ে ছন্দ আর গতিময়তায় তাঁরা ছুটে চললেন ৩০০ ফিট সড়কে। সবার গন্তব্য কাঞ্চন ব্রিজের আগ পর্যন্ত। আবার একই সড়কে ফিরলেন বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে। সবশেষে কেউ হন প্রথম, কেউ আবার শেষ। কোন রূপকথার রাজ্য নয়। সম্মিলিত দেশ-বিদেশের দৌড়বিদদের জীবন্ত এক ছবি। বিশালতার উপমায় যেখানে সমস্বরে সবাই গেয়ে উঠলেন জীবনের জয়গান। এমন সফল রূপায়নে শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২৩’।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২৩’ আয়োজন ও সম্পন্ন করে সক্ষমতার জ্যোতির্বলয়ে নিজেদের মেলে ধরেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বঙ্গবন্ধু স্মরণে বাঙালি জাতিসত্ত্বা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপনের পাশাপাশি যুবাদের স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আত্মার স্পন্দনে স্মৃতিরেখায় নিজেদের উদ্ভাসিত করলেন আপন আলোয়। ম্যারাথনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

ভোরের আলো ফুটার আগে শিশিরমাখা, শিরশিরে বাতাসে দেশ-বিদেশের দৌড়বিদদের একরাশ সজীব স্বপ্নের এক অনবদ্য মিলন মেলার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

ম্যারাথন শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথনের প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন পুরস্কার। এ সময় সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কর্মকর্তা ও ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ফুল ম্যারাথনে এলিট দৌড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন কেনিয়ার স্ট্যানলি কিপ্রোটিস বেট এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ইথিওপিয়ার বাসাঙ্কি ইমোসি বিলো। ফুল ম্যারাথনে সাফ দৌড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ভারতের বাঙ্গরিয়া ভিক্রম বারাতসিন এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন নেপালের পুস্পা ভান্ডারি। এছাড়া হাফ ম্যারাথনে এলিট দৌঁড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন মরক্কোর আব্দিল আজিজ বাঘাজি এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন উগান্ডার রিস্পা চিরোপ। হাফ ম্যারাথনে সাফ দৌঁড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ভারতের অভিষেক পাল এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ভারতের রেশমা দত্ত কিভেত। ফুল ম্যারাথনে বাংলাদেশি দৌড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন মো. আল আমিন এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন পাপিয়া খাতুন। হাফ ম্যারাথনে বাংলাদেশি দৌড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন এম এলাহি সরদার এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন সুস্মিতা ঘোষ।

আইএসপিআর’র তথ্য মতে, ফুল ম্যারাথন এবং হাফ ম্যারাথনে মোট ২ হাজার ১৬৩ জন দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী এলিট দৌড়বিদদের মধ্যে ফুল এবং হাফ ম্যারাথনে ২১ জন পুরুষ এবং ১৭ জন মহিলা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সাফ দৌঁড়বিদদের মধ্যে ফুল এবং হাফ ম্যারাথনে ২৩ জন পুরুষ এবং ২০ জন মহিলা অংশগ্রহণ করেন। এ ম্যারাথনে কেনিয়া, ইথিওপিয়া, মরক্কো, ইউক্রেন, রুয়ান্ডা, লিথুনিয়া এবং উগান্ডা থেকে ৩৮ জন এলিট দৌড়বিদ এবং ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল ও মালদ্বীপ থেকে ৪৩ জন সাফ দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ফুল ম্যারাথনে ৫৩২ জন এবং হাফ ম্যারাথনে ১ হাজার ৫৫০ জন দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া ম্যারাথনে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, জাপান, নেদারল্যান্ডস এবং নরওয়ে’র দৌড়বিদরাও অংশগ্রহণ করেন।

ইতিহাসের মহানায়কে শ্রদ্ধা, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সেনাপ্রধানের
পূর্ব আকাশে সূর্য উঁকি দিয়ে জানান দিয়েছে। ঢেলে দিয়েছে মায়াবী রোদ। অপরিমেয় উচ্ছ্বাস-আনন্দের আবাহনে ম্যারাথন শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে ম্যারাথন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

একই সঙ্গে চলতি বছরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন আয়োজন এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২৩ বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে সামাজিক এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেনাপ্রধান।

প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মরণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন আয়োজনের ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২৩ এ অংশগ্রহণকারী সকল দেশি-বিদেশি দৌড়বিদ ও আয়োজনকে সাফল্যমন্ডিত করার পেছনে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ম্যারাথন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

কালের আলো/এমএএএমকে

অভিনেত্রীর বাড়িতে বোমা মারার হুমকি!

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
অভিনেত্রীর বাড়িতে বোমা মারার হুমকি!

দক্ষিণ ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের চেন্নাইয়ের বাসভবনে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তামিলনাড়ু পুলিশের কন্ট্রোল রুমে আসা একের পর এক ইমেইল বার্তায় এই হুমকি দেওয়া হয়।

ইমেইলগুলোতে দাবি করা হয়, অভিনেত্রীর বাড়িতে শক্তিশালী বোমা রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তা বিস্ফোরিত হতে পারে। খবরটি জানাজানি হওয়ার পর তৃষার ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত তৃষার চেন্নাইয়ের বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ ও বোম ডিসপোজাল স্কোয়াডের (বিডিডিএস) একটি বিশেষ দল। সঙ্গে নেওয়া হয় স্নিফার ডগ।

পুরো বাড়ি এবং এর আশপাশ এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তবে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর সেখানে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ নিশ্চিত করে যে, এটি একটি ভুয়া হুমকি বা ‘হকস’ কল ছিল।

তৃষার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। পুলিশ রেকর্ডে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর রাতেও ঠিক একইভাবে অভিনেত্রীর বাড়িতে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তল্লাশিতে কিছুই পাওয়া যায়নি।

একই অভিনেত্রীকে বারবার কেন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ পুলিশ প্রশাসনও। কে বা কারা এই ইমেইল পাঠাচ্ছে, তাদের শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে।

হুমকি এবং আতঙ্ক একদিকে থাকলেও তৃষা বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময় পার করছেন। মেগাস্টার চিরঞ্জীবীর বিপরীতে ‘বিশ্বম্ভরা’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। বড় বাজেটের এই ফ্যান্টাসি থ্রিলার ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে রয়েছে প্রবল আগ্রহ।

কালের আলো/এসএকে

টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’

পহেলা বৈশাখে কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়।

টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার সুরুজ এলাকার কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেবেন তারেক রহমান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা, ভর্তুকি ও সরকারি সহায়তা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারের মতে, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের অন‌্যতম আকর্ষণ বৈশাখী শোভাযাত্রা উপভোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা। তাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৪ এ‌প্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণের সামনে দাঁ‌ড়িয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন সস্ত্রীক এ‌সে‌ছেন বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখ‌তে। এ ছাড়া, শোভাযাত্রা দেখ‌তে এ‌সে‌ছেন ভারত, ইউরোপ, মধ‌্যপ্রাচ‌্য ও দ‌ক্ষিণ-পূর্ব এ‌শিয়া মিশনের কয়েকজন কূটনীতিক‌। তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় প্রশাসন।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেনকে শোভাযাত্রা বেশ উপভোগ করতে দেখা গেছে। দুই রাষ্ট্রদূতই তাদের মোবাইল ফোনে শোভাযাযাত্রার ছ‌বি তোলাসহ সেল‌ফি‌ তুল‌ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) বিদেশি কূটনীতিকদের দেখভালের দা‌য়িত্বে ছিলেন। তি‌নি বলেন, শোভাযাত্রা অনুষ্ঠান দেখতে বি‌ভিন্ন দেশের কূটনী‌তিকরা এসেছেন। দুইজন রাষ্ট্রদূত এসেছেন, আরও অ‌নেক মিশনের কূটনী‌তিকরা এসেছে; তা‌রা সস্ত্রীক এসেছেন।

আজ সকাল ৯টার পর ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে এই শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউটার্ন নেয়। সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হয়।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা শুরু করে।

২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে মঙ্গল শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। এবার এ শোভাযাত্রার নাম দেওয়া হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা।

বৈশাখের প্রথম প্রভাতে রমনা বটমূলে বঙ্গব্দ ১৪৩৩ কে বরণ করে নেওয়ার মধ‌্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ