খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বঙ্গবন্ধু ম্যারাথনে ছন্দ-গতির সকাল, জীবনের জয়গানে দৌড়বিদরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
বঙ্গবন্ধু ম্যারাথনে ছন্দ-গতির সকাল, জীবনের জয়গানে দৌড়বিদরা

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

ঘন কুয়াশার ধবল চাদরে নিমগ্ন চারপাশ। হিমশীতল অনুভূতি। মাঘের শীত আর কুয়াশার আড়মোড়া ভেঙে তখনও জেগে ওঠেনি ইট-পাথরের যান্ত্রিক রাজধানী। আলস্যের চাদর অবমুক্ত করে কুয়াশার ধূম্রজাল চিরে এ সময়টিতে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার যেন হয়ে ওঠলো যেন ঘুমন্ত নগরীকে জাগিয়ে তোলা সাইরেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ঘড়িতে তখন ভোর সাড়ে ৫ টা। জোড়া জোড়ায় পা পড়তে শুরু করে নগরীর পথে।

এক পা দু পা করে সামনের দিকে এগোতে থাকেন দেশ-বিদেশের ২ হাজার ১৬৩ জন দৌড়বিদ। শীতের সকাল ভিন্নরকম, বৈচিত্র্যময় এক রূপেই তারা ধরা দিলেন তাঁরা। কোন আলসতা নেই। শীতল হাওয়াকে উবে দিয়ে কুয়াশার চাদর পেরিয়ে ছন্দ আর গতিময়তায় তাঁরা ছুটে চললেন ৩০০ ফিট সড়কে। সবার গন্তব্য কাঞ্চন ব্রিজের আগ পর্যন্ত। আবার একই সড়কে ফিরলেন বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে। সবশেষে কেউ হন প্রথম, কেউ আবার শেষ। কোন রূপকথার রাজ্য নয়। সম্মিলিত দেশ-বিদেশের দৌড়বিদদের জীবন্ত এক ছবি। বিশালতার উপমায় যেখানে সমস্বরে সবাই গেয়ে উঠলেন জীবনের জয়গান। এমন সফল রূপায়নে শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২৩’।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২৩’ আয়োজন ও সম্পন্ন করে সক্ষমতার জ্যোতির্বলয়ে নিজেদের মেলে ধরেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বঙ্গবন্ধু স্মরণে বাঙালি জাতিসত্ত্বা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপনের পাশাপাশি যুবাদের স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আত্মার স্পন্দনে স্মৃতিরেখায় নিজেদের উদ্ভাসিত করলেন আপন আলোয়। ম্যারাথনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

ভোরের আলো ফুটার আগে শিশিরমাখা, শিরশিরে বাতাসে দেশ-বিদেশের দৌড়বিদদের একরাশ সজীব স্বপ্নের এক অনবদ্য মিলন মেলার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

ম্যারাথন শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথনের প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন পুরস্কার। এ সময় সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কর্মকর্তা ও ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ফুল ম্যারাথনে এলিট দৌড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন কেনিয়ার স্ট্যানলি কিপ্রোটিস বেট এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ইথিওপিয়ার বাসাঙ্কি ইমোসি বিলো। ফুল ম্যারাথনে সাফ দৌড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ভারতের বাঙ্গরিয়া ভিক্রম বারাতসিন এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন নেপালের পুস্পা ভান্ডারি। এছাড়া হাফ ম্যারাথনে এলিট দৌঁড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন মরক্কোর আব্দিল আজিজ বাঘাজি এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন উগান্ডার রিস্পা চিরোপ। হাফ ম্যারাথনে সাফ দৌঁড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ভারতের অভিষেক পাল এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ভারতের রেশমা দত্ত কিভেত। ফুল ম্যারাথনে বাংলাদেশি দৌড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন মো. আল আমিন এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন পাপিয়া খাতুন। হাফ ম্যারাথনে বাংলাদেশি দৌড়বিদদের মধ্যে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন এম এলাহি সরদার এবং মহিলা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন সুস্মিতা ঘোষ।

আইএসপিআর’র তথ্য মতে, ফুল ম্যারাথন এবং হাফ ম্যারাথনে মোট ২ হাজার ১৬৩ জন দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী এলিট দৌড়বিদদের মধ্যে ফুল এবং হাফ ম্যারাথনে ২১ জন পুরুষ এবং ১৭ জন মহিলা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সাফ দৌঁড়বিদদের মধ্যে ফুল এবং হাফ ম্যারাথনে ২৩ জন পুরুষ এবং ২০ জন মহিলা অংশগ্রহণ করেন। এ ম্যারাথনে কেনিয়া, ইথিওপিয়া, মরক্কো, ইউক্রেন, রুয়ান্ডা, লিথুনিয়া এবং উগান্ডা থেকে ৩৮ জন এলিট দৌড়বিদ এবং ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল ও মালদ্বীপ থেকে ৪৩ জন সাফ দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ফুল ম্যারাথনে ৫৩২ জন এবং হাফ ম্যারাথনে ১ হাজার ৫৫০ জন দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া ম্যারাথনে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, জাপান, নেদারল্যান্ডস এবং নরওয়ে’র দৌড়বিদরাও অংশগ্রহণ করেন।

ইতিহাসের মহানায়কে শ্রদ্ধা, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সেনাপ্রধানের
পূর্ব আকাশে সূর্য উঁকি দিয়ে জানান দিয়েছে। ঢেলে দিয়েছে মায়াবী রোদ। অপরিমেয় উচ্ছ্বাস-আনন্দের আবাহনে ম্যারাথন শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে ম্যারাথন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

একই সঙ্গে চলতি বছরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন আয়োজন এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২৩ বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে সামাজিক এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেনাপ্রধান।

প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মরণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন আয়োজনের ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২৩ এ অংশগ্রহণকারী সকল দেশি-বিদেশি দৌড়বিদ ও আয়োজনকে সাফল্যমন্ডিত করার পেছনে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ম্যারাথন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

কালের আলো/এমএএএমকে

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে, দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগে এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সময়ে নতুন করে ৯৩৩ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪০ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

তবে আশার খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৭৩ দিনে মোট ৬৭ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনের শরীরে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ