খুঁজুন
                               
, ,
           

অত্যাধুনিক মিসাইল যুগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বহি:শত্রুর আক্রমণ রুখে দিতে আরও আত্মবিশ্বাসী সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
অত্যাধুনিক মিসাইল যুগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বহি:শত্রুর আক্রমণ রুখে দিতে আরও আত্মবিশ্বাসী সেনাপ্রধান

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

উন্নয়ন অবকাঠামোয় প্রতিনিয়ত দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে লাল-সবুজের চিত্রপটে আঁকা বাংলাদেশ। দূরদৃষ্টি ও তীক্ষ বুদ্ধিমত্তায় অবিচল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুমাত্রিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজন করে চলেছেন আধুনিক সমর সরঞ্জাম। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুগোপযোগী সামরিক সক্ষমতা তৈরিতে তুরস্ক থেকে কিনেছেন টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট মিসাইল সিস্টেম (এমএলআরএস)।

মাত্র ৪ মিনিটে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রটির মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের টেকনাফের শিলখালী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফায়ারিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সশরীরে উপস্থিত থেকে সেনাবাহিনীতে নব সংযোজিত টাইগার এমএলআরএস’র যৌথ জাহাজীকরণোত্তর ও স্থানীয় প্রশিক্ষণোত্তর ফায়ারিং অবলোকন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিসাইল যুগে প্রবেশের মাধ্যমে দেশপ্রেমী সেনাবাহিনীর সামরিক সক্ষমতায় যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। মিসাইল লঞ্চারগুলো একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

বহি:শত্রুর আক্রমণ রুখে দিতে মাতৃভূমির অখন্ডতা রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বিশেষ দিনটিতে চাকচিক্যে মোড়ানো আলোক ঝলকানো উৎসব নয় একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত সেনাবাহিনীকে সক্ষমতার নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রণীত ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নে পদে পদে সাফল্যের চিহ্ন রেখে নিজেদের টেকসই আভিযানিক সক্ষমতার মূলমন্ত্রকে বাস্তবে রূপ দিতে উজ্জীবিত করেছেন সেনা সদস্যদের। গতিশীল নেতৃত্বের দক্ষতায় নতুন সম্ভাবনায়
আলোর দিশা ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রত্যেকের চোখে।

জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাগত দক্ষতার উৎকর্ষতা সাধন ও যুগোপযোগী আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় প্রণীত ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জের ক্ষমতা সম্পন্ন টাইগার এমএলআরএস’র ফায়ারিং অনুষ্ঠিত হলো। যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।’

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি)। ঘড়ির কাঁটা তখন বেলা ১১ টার ঘর পেরিয়েছে। সবার চোখ শিলখালী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে। চলছে সেনাবহরে যুক্ত নতুন টাইগার মিসাইল সিস্টেমের সফল ফায়ারিং। বিকট শব্দে টিউব থেকে ছুটে যাচ্ছে মিসাইল। মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্চে গিয়ে আঘাত হানছে। মিনিট দশেক পরই টিউব থেকে ছোড়া হয় দ্বিতীয় মিসাইল। সাগরের সামনে বিশাল বালিয়াড়িতে রাখা ৩০ টন ওজনের ট্রাক ও রকেট লঞ্চার। যার উপর রয়েছে দু’টি টিউব। প্রতিটি টিউবে লোড করা হয়েছে টাইগার এমএলআরএস। কয়েক দফার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘন্টাব্যাপী এ সফল ফায়ারিং কার্যক্রম চলে।

ফোর্সেস গোল অর্জনে আধুনিকায়নের অগ্রযাত্রায় সেনাবাহিনী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ‘প্রতিরক্ষা নীতি’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করেন। ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে এ ‘প্রতিরক্ষা নীতি’ প্রণয়ন করেন। এরপর থেকেই ফোর্সেস গোল বাস্তবায়নে পুরোদমে মনোনিবেশ করে সরকার। লক্ষ্যপূরণে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জামের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী ও আধুনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। আশার কথা হচ্ছে-সামরিক শক্তি-সামর্থ্যরে দিক থেকে গত বছরের তুলনায় ৬ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

সেনাবাহিনীতে নব সংযোজিত টাইগার এমএলআরএস’র যৌথ জাহাজীকরণোত্তর ও স্থানীয় প্রশিক্ষণোত্তর ফায়ারিং অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, ‘আমাদের ফোর্সেস গোল অর্জনের জন্য এটি আমাদের সক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলো। আমরা আধুনিকায়নের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেলাম। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা যে অর্জনের মাধ্যমে এই পর্যন্ত এসেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা পরের ধাপেও পৌঁছাতে পারবো। আমাদের ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর সঠিক বাস্তবায়ন ইনশাআল্লাহ আমরা সঠিক সময়েই করতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই ফোর্সেস গোল-২০৩০ অ্যাপ্রুভ করেছেন। এটি বাস্তবায়নের জন্য যত প্রকার রিসোর্স ও সহযোগিতা দরকার হচ্ছে সেটি আমরা পাচ্ছি। আজকে মিসাইলযুগে প্রবেশ করাতে সেনাবাহিনীর মনোবল অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু সেনাবাহিনী নয় সামরিক বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধিতে অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। যেমন বাংলাদেশ নেভিতে যখন সাবমেরিন যুক্ত হয়েছে তখন আমাদের তখন আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। সামরিক সক্ষমতা যখন বাড়ে তখন সামরিক বাহিনীর যেকোন কারও কাছে সেটি ভালো লাগে। বাংলাদেশের জনগণ দে অলসো প্রাউড অব দেয়ার মিলিটারি। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ওই সক্ষমতার জায়গায় দেখতে চায় যেখানে আমরা আমাদের প্রদত্ত দায়িত্ব অর্থাৎ মাতৃভূমিকে সঠিকভাবে বহি:শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারবো।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক প্রমুখ।

কালের আলো/এমএএএমকে

পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ফসলি জমি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ফসলি জমি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, চলাচলের রাস্তা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রীরচর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গত কয়েক দিন ধরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই-তিন দিনে নদীর স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের মাত্রাও দ্রুত বেড়েছে।

বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পদ্মায় নতুন করে পানি প্রবেশের পর ভাঙন শুরু হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্রোতের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু বসতভিটা, কৃষিজমি, রাস্তা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীতে চলে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে পদ্মার স্রোতের চাপ তাদের এলাকায় বেশি পড়ছে। এতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল সরকার বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর তীব্রতা অনেক বেড়েছে। নদীর স্রোত একের পর এক বসতভিটা, রাস্তা ও ফসলি জমি ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই আতারপাড়া, উদয়নগর ও ডিগ্রীরচর গ্রাম অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, পদ্মায় নতুন করে পানি প্রবেশ করায় প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই তিন এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। দুর্গম সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে দ্রুত কাজ করা কিছুটা কঠিন।

তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পদ্মার ভাঙনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে বহু পরিবার বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ