খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

অত্যাধুনিক মিসাইল যুগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বহি:শত্রুর আক্রমণ রুখে দিতে আরও আত্মবিশ্বাসী সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
অত্যাধুনিক মিসাইল যুগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বহি:শত্রুর আক্রমণ রুখে দিতে আরও আত্মবিশ্বাসী সেনাপ্রধান

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

উন্নয়ন অবকাঠামোয় প্রতিনিয়ত দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে লাল-সবুজের চিত্রপটে আঁকা বাংলাদেশ। দূরদৃষ্টি ও তীক্ষ বুদ্ধিমত্তায় অবিচল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুমাত্রিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজন করে চলেছেন আধুনিক সমর সরঞ্জাম। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুগোপযোগী সামরিক সক্ষমতা তৈরিতে তুরস্ক থেকে কিনেছেন টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট মিসাইল সিস্টেম (এমএলআরএস)।

মাত্র ৪ মিনিটে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রটির মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের টেকনাফের শিলখালী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফায়ারিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সশরীরে উপস্থিত থেকে সেনাবাহিনীতে নব সংযোজিত টাইগার এমএলআরএস’র যৌথ জাহাজীকরণোত্তর ও স্থানীয় প্রশিক্ষণোত্তর ফায়ারিং অবলোকন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিসাইল যুগে প্রবেশের মাধ্যমে দেশপ্রেমী সেনাবাহিনীর সামরিক সক্ষমতায় যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। মিসাইল লঞ্চারগুলো একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

বহি:শত্রুর আক্রমণ রুখে দিতে মাতৃভূমির অখন্ডতা রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বিশেষ দিনটিতে চাকচিক্যে মোড়ানো আলোক ঝলকানো উৎসব নয় একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত সেনাবাহিনীকে সক্ষমতার নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রণীত ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নে পদে পদে সাফল্যের চিহ্ন রেখে নিজেদের টেকসই আভিযানিক সক্ষমতার মূলমন্ত্রকে বাস্তবে রূপ দিতে উজ্জীবিত করেছেন সেনা সদস্যদের। গতিশীল নেতৃত্বের দক্ষতায় নতুন সম্ভাবনায়
আলোর দিশা ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রত্যেকের চোখে।

জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাগত দক্ষতার উৎকর্ষতা সাধন ও যুগোপযোগী আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় প্রণীত ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জের ক্ষমতা সম্পন্ন টাইগার এমএলআরএস’র ফায়ারিং অনুষ্ঠিত হলো। যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।’

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি)। ঘড়ির কাঁটা তখন বেলা ১১ টার ঘর পেরিয়েছে। সবার চোখ শিলখালী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে। চলছে সেনাবহরে যুক্ত নতুন টাইগার মিসাইল সিস্টেমের সফল ফায়ারিং। বিকট শব্দে টিউব থেকে ছুটে যাচ্ছে মিসাইল। মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্চে গিয়ে আঘাত হানছে। মিনিট দশেক পরই টিউব থেকে ছোড়া হয় দ্বিতীয় মিসাইল। সাগরের সামনে বিশাল বালিয়াড়িতে রাখা ৩০ টন ওজনের ট্রাক ও রকেট লঞ্চার। যার উপর রয়েছে দু’টি টিউব। প্রতিটি টিউবে লোড করা হয়েছে টাইগার এমএলআরএস। কয়েক দফার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘন্টাব্যাপী এ সফল ফায়ারিং কার্যক্রম চলে।

ফোর্সেস গোল অর্জনে আধুনিকায়নের অগ্রযাত্রায় সেনাবাহিনী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ‘প্রতিরক্ষা নীতি’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করেন। ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে এ ‘প্রতিরক্ষা নীতি’ প্রণয়ন করেন। এরপর থেকেই ফোর্সেস গোল বাস্তবায়নে পুরোদমে মনোনিবেশ করে সরকার। লক্ষ্যপূরণে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জামের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী ও আধুনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। আশার কথা হচ্ছে-সামরিক শক্তি-সামর্থ্যরে দিক থেকে গত বছরের তুলনায় ৬ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

সেনাবাহিনীতে নব সংযোজিত টাইগার এমএলআরএস’র যৌথ জাহাজীকরণোত্তর ও স্থানীয় প্রশিক্ষণোত্তর ফায়ারিং অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, ‘আমাদের ফোর্সেস গোল অর্জনের জন্য এটি আমাদের সক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলো। আমরা আধুনিকায়নের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেলাম। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা যে অর্জনের মাধ্যমে এই পর্যন্ত এসেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা পরের ধাপেও পৌঁছাতে পারবো। আমাদের ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর সঠিক বাস্তবায়ন ইনশাআল্লাহ আমরা সঠিক সময়েই করতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই ফোর্সেস গোল-২০৩০ অ্যাপ্রুভ করেছেন। এটি বাস্তবায়নের জন্য যত প্রকার রিসোর্স ও সহযোগিতা দরকার হচ্ছে সেটি আমরা পাচ্ছি। আজকে মিসাইলযুগে প্রবেশ করাতে সেনাবাহিনীর মনোবল অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু সেনাবাহিনী নয় সামরিক বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধিতে অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। যেমন বাংলাদেশ নেভিতে যখন সাবমেরিন যুক্ত হয়েছে তখন আমাদের তখন আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। সামরিক সক্ষমতা যখন বাড়ে তখন সামরিক বাহিনীর যেকোন কারও কাছে সেটি ভালো লাগে। বাংলাদেশের জনগণ দে অলসো প্রাউড অব দেয়ার মিলিটারি। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ওই সক্ষমতার জায়গায় দেখতে চায় যেখানে আমরা আমাদের প্রদত্ত দায়িত্ব অর্থাৎ মাতৃভূমিকে সঠিকভাবে বহি:শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারবো।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক প্রমুখ।

কালের আলো/এমএএএমকে

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে, দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগে এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সময়ে নতুন করে ৯৩৩ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪০ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

তবে আশার খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৭৩ দিনে মোট ৬৭ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনের শরীরে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ