খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরের টাকার আর্থিক ঘাটতি ৪৩২ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪, ৭:০০ অপরাহ্ণ
শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরের টাকার আর্থিক ঘাটতি ৪৩২ কোটি টাকা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

নিয়ম অনুযায়ী ২৫ বছর এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি থেকে অবসরে গেলে সর্বনিম্ন সাড়ে ৭ লাখ টাকা অবসর সুবিধা পান। আর একজন অধ্যক্ষ প্রায় ৫০ লাখ টাকা পান। প্রতিমাসে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অবসর সুবিধাবোর্ডে জমা হয় ৭৩ কোটি টাকা। এই হিসেবে বাৎসরিক জমা হয় ৯শ কোটি টাকা। তবে এর বিপরীতে বাৎসরিক চাহিদা ১৩শ কোটি টাকা। সে হিসেবে প্রতিবছরে আর্থিক ঘাটতি প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা।

২০০২ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন হয়। জানা গেছে, এখন ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত জমা পড়া আবেদনের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি মাসের (জুলাই) আবেদন নিষ্পত্তি করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জানা গেছে, প্রতি মাসে অবসর সুবিধার জন্য গড়ে ৩ থেকে সাড়ে তিনশ আবেদন জমা হয়। ধারাবাহিকভাবে সেগুলো বোর্ডের পক্ষ থেকে নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্যে মৃত্যুজনিত, হৃদরোগসহ বড় ধরণের অসুস্থতা, হজে যাওয়ার জন্য আগ্রহীদের আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কখনো কখনো নিষ্পত্তি করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত (২০২৪ সালের জুলাই) ৪০ হাজার আবেদনের বিপরীতে অবসর সুবিধা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। সে হিসেবে গত চার বছরের অনিষ্পন্ন আবেদনের অনুকূলে আর্থিক সুবিধা দিতে হলে দরকার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সবশেষ শিক্ষক-কর্মচারীদের ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় অবসরের টাকাও বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। একজন শিক্ষকের প্রতিটি ইনক্রিমেন্টের বিপরীতে অবসর ভাতায় দিতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একজন শিক্ষক-কর্মচারী অন্তত সাতটি ইনক্রিমেন্ট পান চাকরিকালে। এই ইনক্রিমেন্টের কারণে তিনি অবসর ভাতায় ১৩ লাখ ৪ হাজার ১০০ টাকা বেশি পান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারের কাছে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তি কমাতে এক হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ চেয়েছিল অবসর সুবিধা বোর্ড। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র ৩শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এই টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন অবসর বোর্ডের কর্মকর্তারা।

শিক্ষকদের এসব কষ্টের কথা নিয়ে সংসদে কথা বলার পর সংশ্লিষ্টরা বেশ নড়েচড়ে বসেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ নিয়ে ১৬ সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটি প্রাথমিকভাবে প্রথম বৈঠকে আগামী তিন বছরের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের সকল পাওনা পরিশোধের রোডম্যাপ নির্ধারণ করেছে বলে জানা যায়। এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) মো. রবিউল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি কাজ করছি। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কীভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের কষ্ট লাঘব করা যায় সেজন্য কাজ করছি।’

এসব বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘অবসরে গিয়ে টাকা না পাওয়া অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর হয়রানির কথা প্রতিদিন শুনতে হয়। আশা করি সংকট কেটে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ কষ্ট দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করছি।’

কালের আলো/ডিএস/এমএম

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই চার্জশিট দাখিল করেছি। আমরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের এ প্রক্রিয়াকে ন্যায় বিচারের মানদণ্ডে যেমন স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হয় তাদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরন্তরভাবে পথ চলছি, নিরলসভাবে চলছি।‘

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মেধা ও মনন মঞ্চ আয়োজিত দ্যা গ্রান্ড ফিনাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এর সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা জড়িত নই, সরকার জড়িত না। এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জড়িত। ইতিমধ্যেই আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি এবং ফাঁসির আসামিদের বিষয়ে শাস্তি ও বিচার এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই পদক্ষেপ নেব। এইভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। ঠিক রামিসার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যতগুলো ফাঁসির আসামি সেই নির্জন সেলে আছেন তাদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব ইনশাল্লাহ।’

‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সেনসেটিভ যে কয়টি হত্যা মামলা ছিল তার মধ্যে ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগও আশা করি এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’

মেধা ও মনন মঞ্চ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। এটাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই এ সংগঠনটি, এই মঞ্চটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এই সোসাইটির ওয়াচডগ হিসেবে থাকুক।’

মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ সোয়েটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে শৈলকুপা থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

 কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি প্রাথমিক খসড়া নথি পেয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার। এর বিনিময়ে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেবে।

তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং বাস্তব যাচাই ছাড়া ইরান কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এম/এএইচ

নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘অত্যাচারী শাসক’ আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নিপীড়ন ও আগ্রাসন চালানোর কারণে একদিন মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নেতানিয়াহুকে একটি কঠোর ও উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।

বুধবার ইস্তাম্বুলের কামলিকা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, নেতানিয়াহু নামক এই স্বৈরশাসক বিশ্বের মুসলমানদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করবে।’

পৃথকভাবে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বার্তায় এরদোয়ান ঈদুল আযহাকে একটি ‘আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি আশা করেন এই উৎসবটি তুরস্ক, তুর্কি জাতি, ইসলামী বিশ্ব এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি তুরস্কে এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উদযাপনের ওপর ছায়া ফেলেছে।

গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমাদের আধ্যাত্মিক ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গাজায় যে সমস্ত ভাই-বোনেরা দুঃখ, কষ্ট এবং গভীর বেদনার মধ্য দিয়ে এই ঈদকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আমি আমার ও আমার দেশের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি এবং তাদের প্রত্যেককে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, এরদোয়ান ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ এবং গাজা সংঘাত নিয়ে তাদের বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। গাজায় নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে তীব্র সমালোচনা করে তাকে বিভিন্ন সময়ে ‘গাজার কসাই’, ‘ফেরাউন’ ও ‘আধুনিক হিটলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও প্রথম থেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আনাদোলু

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ