খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর তিন সমুদ্রবন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০২৪, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর তিন সমুদ্রবন্দর

কালের আলো রিপোর্ট:

সম্প্রতি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য ও কারফিউর কারণে স্থবির থাকার পর আবারও আগের মতোই কর্মব্যস্ততা আর প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠেছে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ায় স্বাভাবিক হয়েছে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম। আমদানি-রপ্তানি নতুন চালান শুল্কায়নের মাধ্যমে পণ্য খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ শুরু হয়েছে। সড়কের পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় ইতোমধ্যেই খালাস পণ্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে নিতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই তিনটি সমুদ্র বন্দরই তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছেন। পাশাপাশি বন্দরসমূহের নিরাপত্তায় সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান দ্রুতই পরিস্থিতি উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বড় ধরণের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। তিনি বন্দরে কর্মরত ৬ হাজার ৭০০ শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। সেদিন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অচলাবস্থায়ও চট্টগ্রাম বন্দর থেমে থাকেনি। চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডেলিং ঠিকভাবে হওয়ায় এখানে একটা কনটেইনারের উপরে চারটা-পাঁচটা করে কনটেইনার বসানো হয়েছে। এ দুর্যোগের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর সাত আট হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করেছে। কিন্তু সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারেনি। কারণ আমাদের কাস্টমস পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কনটেইনার জট লেগে গেছে। করোনাকালে আমরা বিভিন্ন অফ ডকে কনটেইনার রেখে কাস্টমসের সহযোগিতায় সবগুলো রিলিজ করেছিলাম। আশা করি, এবারও আমরা সবার সহযোগিতা পাবো।’

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র, বঙ্গবন্ধু টানেল, ইস্টার্ন রিফাইনারি, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অয়েল কোম্পানিসহ উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে নৌবাহিনী। এসব কার্যক্রম সরেজমিন দেখতে গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে যান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) একইভাবে তিনি মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেন। সকল বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নিজেদের সতর্ক অবস্থানের কথা জানান নৌবিহিনী প্রধান।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি বেড়েছে। শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলার পণ্য নিতে বন্দরে প্রবেশ করছে। মাল বোঝাই করে এগুলো চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্য জমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসে কাজের চাপ বেড়েছে। জমে যাওয়া কনটেইনার ডেলিভারি দিতে দিতে জাহাজ থেকে নামছে আরও নতুন পণ্যের চালান। গত কয়েক দিনের অচলাবস্থার কারণে বন্দরের ভেতরে আমদানি পণ্যের স্তূপ বেড়ে গিয়েছিল। খালাস না হওয়ায় প্রায় ৪১ হাজার কনটেইনারের স্তূপ জমে বন্দরে। পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় এ সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। পণ্য খালাসের চাপের কারণে বন্দরের ভেতরে যান চলাচলে জট লেগে গেছে। এই চাপ স্বাভাবিক হতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম সোহায়েল বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বন্দরের সবগুলো জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামার কাজ স্বাভাবিকই ছিল৷ কিন্তু ডেলিভারিতে সমস্যা হয়ে যায়। সে কারণে বন্দরে থাকা কন্টেইনারের সংখ্যা বেড়ে যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাস্টমসে কিছু পণ্যের শুল্কায়ন ম্যানুয়ালি করতে শুরু করায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু পুরো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে আরও কিছু দিন সময় লাগতে পারে।’

মোংলা সমুদ্র বন্দর
খালাসকরা পণ্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে নিতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। গত পাঁচ দিনে বিদেশ থেকে মোংলা বন্দরে ১৩টি জাহাজে করে প্রায় ৯৪ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার, খাদ্যশস্য, পাথর বন্দরে খালাস হয়। কিন্তু সড়কে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল না করার তা নির্ধারিত স্থানে নিতে পারেনি আমদানিকারকরা। গত বুধবার থেকে এসব পণ্য সড়কপথে নিজ গন্তব্যে নেওয়া শুরু হয়। একই সঙ্গে নৌপথেও খালাস পণ্য নেওয়া হচ্ছে। গত পাঁচ দিনে যেসব জাহাজ ক্লিংকার ও খাদ্যশস্য নিয়ে বন্দরে এসেছিল তা কনটেইনারবাহী ছিল না। ফলে সেগুলো কোনো পণ্য না নিয়ে ফিরে গেলেও রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেনি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ‘বন্দরের কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক। দাপ্তরিক সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। নিরাপত্তার জন্য বন্দরের জেটি ও বন্দরের সদর দপ্তরের সামনে নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দর জেটিতে একটি নৌবাহিনীর জাহাজ রাখা আছে। এ ছাড়া কোস্টকার্ডসহ বন্দরের নিজস্ব বাহিনী টহলে আছে।’

পায়রা সমুদ্র বন্দর
পায়রা বন্দরের দাপ্তরিক সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরীর নেতৃত্বে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত পায়রা বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লাবাহী ৪টি মাদার ভেসেল। এর মধ্যে ১৫ জুলাই ওয়ান ব্রাইট ২৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা, ১৯ জুলাই সি স্প্রিট ২৪ হাজার মেট্রিক টন ও সর্বশেষ ২০ জুলাই এম ভি আবদুল্লাহ ২৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে নোঙর করেছে বন্দরের জেটিতে। পর্যায়ক্রমে এসব জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করা হয় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এমনকি এমভি আবদুল্লাহ মাদার ভেসেল কয়লা খালাস করে বন্দর ছেড়ে গন্তব্যে চলে গেছে। এছাড়াও মোট ৩১টি লাইটার জাহাজে বিভিন্ন পণ্য হ্যান্ডেলিং করা হয়েছে। মোট ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আসছে বন্দরে। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ লাখ টন কয়লা রয়েছে। শুধু তাই নয় পটুয়াখালীতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে মাদার ভেসেল এসেছে পায়রা বন্দরে। জাহাজ ৪টি কয়লা খালাস করে আবার ফিরে গেছে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী বলেন, কারফিউয়ের মধ্যেও বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বন্দরের ৩১ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৪৮ জন আনসার সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৪২ জন সদস্য কাজ করছেন। বন্দর সচল রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এ কারণে এখন পর্যন্ত পায়রা সমুদ্র বন্দরকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এমএএএমকে

তারেক-পেজেশকিয়ান বৈঠকে প্রবাসী ও জ্বালানি নিরাপত্তার আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
তারেক-পেজেশকিয়ান বৈঠকে প্রবাসী ও জ্বালানি নিরাপত্তার আলোচনা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে দুই নেতা বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব, বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, নৌপথ ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংঘাতের দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনার নিরাপদে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বাংলাদেশ আশঙ্কা করছে, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিক ও দেশের জ্বালানি সরবরাহে এর প্রভাব পড়তে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির পরে সাংবাদিকদের বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অধিবেশনের সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান শামা ওবায়েদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান শামা ওবায়েদের

উন্নয়নের অধিকার বাস্তবায়নে বিশ্বের সব দেশের অঙ্গীকার, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’ গ্রহণের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

উন্নয়ন অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার

বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, উন্নয়ন একটি অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বাংলাদেশের জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নারী ও তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি ‘রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন দেখে, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

তিনি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোকে আরও ন্যায়সঙ্গত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি উন্নয়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে পূর্বানুমেয়তা ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং উন্নয়নের অধিকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো উন্নয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান। চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের জলবায়ুজনিত ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

কালের আলো/এমএসআইপি