খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর তিন সমুদ্রবন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০২৪, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর তিন সমুদ্রবন্দর

কালের আলো রিপোর্ট:

সম্প্রতি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য ও কারফিউর কারণে স্থবির থাকার পর আবারও আগের মতোই কর্মব্যস্ততা আর প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠেছে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ায় স্বাভাবিক হয়েছে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম। আমদানি-রপ্তানি নতুন চালান শুল্কায়নের মাধ্যমে পণ্য খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ শুরু হয়েছে। সড়কের পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় ইতোমধ্যেই খালাস পণ্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে নিতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই তিনটি সমুদ্র বন্দরই তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছেন। পাশাপাশি বন্দরসমূহের নিরাপত্তায় সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান দ্রুতই পরিস্থিতি উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বড় ধরণের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। তিনি বন্দরে কর্মরত ৬ হাজার ৭০০ শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। সেদিন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অচলাবস্থায়ও চট্টগ্রাম বন্দর থেমে থাকেনি। চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডেলিং ঠিকভাবে হওয়ায় এখানে একটা কনটেইনারের উপরে চারটা-পাঁচটা করে কনটেইনার বসানো হয়েছে। এ দুর্যোগের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর সাত আট হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করেছে। কিন্তু সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারেনি। কারণ আমাদের কাস্টমস পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কনটেইনার জট লেগে গেছে। করোনাকালে আমরা বিভিন্ন অফ ডকে কনটেইনার রেখে কাস্টমসের সহযোগিতায় সবগুলো রিলিজ করেছিলাম। আশা করি, এবারও আমরা সবার সহযোগিতা পাবো।’

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র, বঙ্গবন্ধু টানেল, ইস্টার্ন রিফাইনারি, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অয়েল কোম্পানিসহ উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে নৌবাহিনী। এসব কার্যক্রম সরেজমিন দেখতে গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে যান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) একইভাবে তিনি মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেন। সকল বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নিজেদের সতর্ক অবস্থানের কথা জানান নৌবিহিনী প্রধান।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি বেড়েছে। শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলার পণ্য নিতে বন্দরে প্রবেশ করছে। মাল বোঝাই করে এগুলো চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্য জমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসে কাজের চাপ বেড়েছে। জমে যাওয়া কনটেইনার ডেলিভারি দিতে দিতে জাহাজ থেকে নামছে আরও নতুন পণ্যের চালান। গত কয়েক দিনের অচলাবস্থার কারণে বন্দরের ভেতরে আমদানি পণ্যের স্তূপ বেড়ে গিয়েছিল। খালাস না হওয়ায় প্রায় ৪১ হাজার কনটেইনারের স্তূপ জমে বন্দরে। পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় এ সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। পণ্য খালাসের চাপের কারণে বন্দরের ভেতরে যান চলাচলে জট লেগে গেছে। এই চাপ স্বাভাবিক হতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম সোহায়েল বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বন্দরের সবগুলো জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামার কাজ স্বাভাবিকই ছিল৷ কিন্তু ডেলিভারিতে সমস্যা হয়ে যায়। সে কারণে বন্দরে থাকা কন্টেইনারের সংখ্যা বেড়ে যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাস্টমসে কিছু পণ্যের শুল্কায়ন ম্যানুয়ালি করতে শুরু করায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু পুরো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে আরও কিছু দিন সময় লাগতে পারে।’

মোংলা সমুদ্র বন্দর
খালাসকরা পণ্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে নিতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। গত পাঁচ দিনে বিদেশ থেকে মোংলা বন্দরে ১৩টি জাহাজে করে প্রায় ৯৪ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার, খাদ্যশস্য, পাথর বন্দরে খালাস হয়। কিন্তু সড়কে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল না করার তা নির্ধারিত স্থানে নিতে পারেনি আমদানিকারকরা। গত বুধবার থেকে এসব পণ্য সড়কপথে নিজ গন্তব্যে নেওয়া শুরু হয়। একই সঙ্গে নৌপথেও খালাস পণ্য নেওয়া হচ্ছে। গত পাঁচ দিনে যেসব জাহাজ ক্লিংকার ও খাদ্যশস্য নিয়ে বন্দরে এসেছিল তা কনটেইনারবাহী ছিল না। ফলে সেগুলো কোনো পণ্য না নিয়ে ফিরে গেলেও রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেনি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ‘বন্দরের কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক। দাপ্তরিক সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। নিরাপত্তার জন্য বন্দরের জেটি ও বন্দরের সদর দপ্তরের সামনে নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দর জেটিতে একটি নৌবাহিনীর জাহাজ রাখা আছে। এ ছাড়া কোস্টকার্ডসহ বন্দরের নিজস্ব বাহিনী টহলে আছে।’

পায়রা সমুদ্র বন্দর
পায়রা বন্দরের দাপ্তরিক সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরীর নেতৃত্বে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত পায়রা বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লাবাহী ৪টি মাদার ভেসেল। এর মধ্যে ১৫ জুলাই ওয়ান ব্রাইট ২৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা, ১৯ জুলাই সি স্প্রিট ২৪ হাজার মেট্রিক টন ও সর্বশেষ ২০ জুলাই এম ভি আবদুল্লাহ ২৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে নোঙর করেছে বন্দরের জেটিতে। পর্যায়ক্রমে এসব জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করা হয় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এমনকি এমভি আবদুল্লাহ মাদার ভেসেল কয়লা খালাস করে বন্দর ছেড়ে গন্তব্যে চলে গেছে। এছাড়াও মোট ৩১টি লাইটার জাহাজে বিভিন্ন পণ্য হ্যান্ডেলিং করা হয়েছে। মোট ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আসছে বন্দরে। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ লাখ টন কয়লা রয়েছে। শুধু তাই নয় পটুয়াখালীতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে মাদার ভেসেল এসেছে পায়রা বন্দরে। জাহাজ ৪টি কয়লা খালাস করে আবার ফিরে গেছে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী বলেন, কারফিউয়ের মধ্যেও বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বন্দরের ৩১ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৪৮ জন আনসার সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৪২ জন সদস্য কাজ করছেন। বন্দর সচল রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এ কারণে এখন পর্যন্ত পায়রা সমুদ্র বন্দরকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এমএএএমকে

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই চার্জশিট দাখিল করেছি। আমরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের এ প্রক্রিয়াকে ন্যায় বিচারের মানদণ্ডে যেমন স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হয় তাদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরন্তরভাবে পথ চলছি, নিরলসভাবে চলছি।‘

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মেধা ও মনন মঞ্চ আয়োজিত দ্যা গ্রান্ড ফিনাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এর সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা জড়িত নই, সরকার জড়িত না। এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জড়িত। ইতিমধ্যেই আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি এবং ফাঁসির আসামিদের বিষয়ে শাস্তি ও বিচার এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই পদক্ষেপ নেব। এইভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। ঠিক রামিসার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যতগুলো ফাঁসির আসামি সেই নির্জন সেলে আছেন তাদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব ইনশাল্লাহ।’

‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সেনসেটিভ যে কয়টি হত্যা মামলা ছিল তার মধ্যে ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগও আশা করি এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’

মেধা ও মনন মঞ্চ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। এটাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই এ সংগঠনটি, এই মঞ্চটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এই সোসাইটির ওয়াচডগ হিসেবে থাকুক।’

মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ সোয়েটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে শৈলকুপা থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

 কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি প্রাথমিক খসড়া নথি পেয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার। এর বিনিময়ে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেবে।

তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং বাস্তব যাচাই ছাড়া ইরান কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এম/এএইচ

নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘অত্যাচারী শাসক’ আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নিপীড়ন ও আগ্রাসন চালানোর কারণে একদিন মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নেতানিয়াহুকে একটি কঠোর ও উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।

বুধবার ইস্তাম্বুলের কামলিকা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, নেতানিয়াহু নামক এই স্বৈরশাসক বিশ্বের মুসলমানদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করবে।’

পৃথকভাবে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বার্তায় এরদোয়ান ঈদুল আযহাকে একটি ‘আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি আশা করেন এই উৎসবটি তুরস্ক, তুর্কি জাতি, ইসলামী বিশ্ব এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি তুরস্কে এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উদযাপনের ওপর ছায়া ফেলেছে।

গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমাদের আধ্যাত্মিক ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গাজায় যে সমস্ত ভাই-বোনেরা দুঃখ, কষ্ট এবং গভীর বেদনার মধ্য দিয়ে এই ঈদকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আমি আমার ও আমার দেশের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি এবং তাদের প্রত্যেককে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, এরদোয়ান ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ এবং গাজা সংঘাত নিয়ে তাদের বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। গাজায় নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে তীব্র সমালোচনা করে তাকে বিভিন্ন সময়ে ‘গাজার কসাই’, ‘ফেরাউন’ ও ‘আধুনিক হিটলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও প্রথম থেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আনাদোলু

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ