খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর তিন সমুদ্রবন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০২৪, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর তিন সমুদ্রবন্দর

কালের আলো রিপোর্ট:

সম্প্রতি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য ও কারফিউর কারণে স্থবির থাকার পর আবারও আগের মতোই কর্মব্যস্ততা আর প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠেছে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ায় স্বাভাবিক হয়েছে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম। আমদানি-রপ্তানি নতুন চালান শুল্কায়নের মাধ্যমে পণ্য খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ শুরু হয়েছে। সড়কের পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় ইতোমধ্যেই খালাস পণ্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে নিতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই তিনটি সমুদ্র বন্দরই তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছেন। পাশাপাশি বন্দরসমূহের নিরাপত্তায় সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান দ্রুতই পরিস্থিতি উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বড় ধরণের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। তিনি বন্দরে কর্মরত ৬ হাজার ৭০০ শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। সেদিন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অচলাবস্থায়ও চট্টগ্রাম বন্দর থেমে থাকেনি। চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডেলিং ঠিকভাবে হওয়ায় এখানে একটা কনটেইনারের উপরে চারটা-পাঁচটা করে কনটেইনার বসানো হয়েছে। এ দুর্যোগের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর সাত আট হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করেছে। কিন্তু সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারেনি। কারণ আমাদের কাস্টমস পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কনটেইনার জট লেগে গেছে। করোনাকালে আমরা বিভিন্ন অফ ডকে কনটেইনার রেখে কাস্টমসের সহযোগিতায় সবগুলো রিলিজ করেছিলাম। আশা করি, এবারও আমরা সবার সহযোগিতা পাবো।’

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র, বঙ্গবন্ধু টানেল, ইস্টার্ন রিফাইনারি, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অয়েল কোম্পানিসহ উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে নৌবাহিনী। এসব কার্যক্রম সরেজমিন দেখতে গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে যান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) একইভাবে তিনি মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেন। সকল বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নিজেদের সতর্ক অবস্থানের কথা জানান নৌবিহিনী প্রধান।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি বেড়েছে। শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলার পণ্য নিতে বন্দরে প্রবেশ করছে। মাল বোঝাই করে এগুলো চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্য জমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসে কাজের চাপ বেড়েছে। জমে যাওয়া কনটেইনার ডেলিভারি দিতে দিতে জাহাজ থেকে নামছে আরও নতুন পণ্যের চালান। গত কয়েক দিনের অচলাবস্থার কারণে বন্দরের ভেতরে আমদানি পণ্যের স্তূপ বেড়ে গিয়েছিল। খালাস না হওয়ায় প্রায় ৪১ হাজার কনটেইনারের স্তূপ জমে বন্দরে। পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় এ সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। পণ্য খালাসের চাপের কারণে বন্দরের ভেতরে যান চলাচলে জট লেগে গেছে। এই চাপ স্বাভাবিক হতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম সোহায়েল বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বন্দরের সবগুলো জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামার কাজ স্বাভাবিকই ছিল৷ কিন্তু ডেলিভারিতে সমস্যা হয়ে যায়। সে কারণে বন্দরে থাকা কন্টেইনারের সংখ্যা বেড়ে যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাস্টমসে কিছু পণ্যের শুল্কায়ন ম্যানুয়ালি করতে শুরু করায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু পুরো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে আরও কিছু দিন সময় লাগতে পারে।’

মোংলা সমুদ্র বন্দর
খালাসকরা পণ্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে নিতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। গত পাঁচ দিনে বিদেশ থেকে মোংলা বন্দরে ১৩টি জাহাজে করে প্রায় ৯৪ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার, খাদ্যশস্য, পাথর বন্দরে খালাস হয়। কিন্তু সড়কে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল না করার তা নির্ধারিত স্থানে নিতে পারেনি আমদানিকারকরা। গত বুধবার থেকে এসব পণ্য সড়কপথে নিজ গন্তব্যে নেওয়া শুরু হয়। একই সঙ্গে নৌপথেও খালাস পণ্য নেওয়া হচ্ছে। গত পাঁচ দিনে যেসব জাহাজ ক্লিংকার ও খাদ্যশস্য নিয়ে বন্দরে এসেছিল তা কনটেইনারবাহী ছিল না। ফলে সেগুলো কোনো পণ্য না নিয়ে ফিরে গেলেও রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেনি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ‘বন্দরের কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক। দাপ্তরিক সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। নিরাপত্তার জন্য বন্দরের জেটি ও বন্দরের সদর দপ্তরের সামনে নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দর জেটিতে একটি নৌবাহিনীর জাহাজ রাখা আছে। এ ছাড়া কোস্টকার্ডসহ বন্দরের নিজস্ব বাহিনী টহলে আছে।’

পায়রা সমুদ্র বন্দর
পায়রা বন্দরের দাপ্তরিক সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরীর নেতৃত্বে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত পায়রা বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লাবাহী ৪টি মাদার ভেসেল। এর মধ্যে ১৫ জুলাই ওয়ান ব্রাইট ২৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা, ১৯ জুলাই সি স্প্রিট ২৪ হাজার মেট্রিক টন ও সর্বশেষ ২০ জুলাই এম ভি আবদুল্লাহ ২৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে নোঙর করেছে বন্দরের জেটিতে। পর্যায়ক্রমে এসব জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করা হয় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এমনকি এমভি আবদুল্লাহ মাদার ভেসেল কয়লা খালাস করে বন্দর ছেড়ে গন্তব্যে চলে গেছে। এছাড়াও মোট ৩১টি লাইটার জাহাজে বিভিন্ন পণ্য হ্যান্ডেলিং করা হয়েছে। মোট ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আসছে বন্দরে। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ লাখ টন কয়লা রয়েছে। শুধু তাই নয় পটুয়াখালীতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে মাদার ভেসেল এসেছে পায়রা বন্দরে। জাহাজ ৪টি কয়লা খালাস করে আবার ফিরে গেছে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী বলেন, কারফিউয়ের মধ্যেও বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বন্দরের ৩১ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৪৮ জন আনসার সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৪২ জন সদস্য কাজ করছেন। বন্দর সচল রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এ কারণে এখন পর্যন্ত পায়রা সমুদ্র বন্দরকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইরানের তেল চীন পাবে না: যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানের তেল চীন পাবে না: যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, চীন যেন ইরান থেকে তেল নিতে না পারে, সে জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তেল বহনকারী চীনা ট্যাংকারগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দেবে।

তিনি বলেন, তারা (চীন) তেল পাবে না। তারা তেল পেতে পারে, কিন্তু ইরানের তেল নয়।

বেসেন্ট চীনের সমালোচনা করে বলেন, বৈশ্বিক পর্যায়ে দেশটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে আচরণ করছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, চীন তেলের মজুত বাড়াচ্ছে এবং কিছু পণ্যের রপ্তানি সীমিত করছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এই বিরোধ প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য বেইজিং সফরে প্রভাব ফেলবে কিনা—সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

বেসেন্ট বলেন, এই সফরের মূল বার্তা হবে স্থিতিশীলতা। তাছাড়া যোগাযোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাজারে চলছে অস্থিরতা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
বাজারে চলছে অস্থিরতা

বাজারে নিতপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলে সরকার রেশনিং আরোপ করেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহণ খাতেও খরচ বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। যা এক মাস আগেও ১৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৭৫০ টাকা। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। আরেক দফা মূল্য বাড়াতে বাজার থেকে উধাও হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাশাপাশি সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে চিনির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ঈদের আগে ১০০ টাকা ছিল।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে। তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হবে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৮ টাকায়। বিআর-২৮ জাতের মাঝারি দানার চাল ৬৮ টাকা, সরু চালের মধ্যে মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০-১৩০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য পণ্যের দাম যেটুকু বাড়ার কথা তার তুলনায় বেশি দাম নেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৮০-৯০ টাকা। পটোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। যা আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম ৩ দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কম ছিল। মূলত ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। সেখান আমিসহ তাদের খাবার জোগাড় করতে মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল ৪ হাজার, ৫ লিটার তেল ৮৫০, বাসা ভাড়া ১২ হাজার, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ তরকারি রান্নার উপকরণ কিনতে ৮ হাজার, গ্যাস সিলিন্ডার ২০০০, সাবান-ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু ৫০০, মুদি বাজার আরও ২ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১০০০ ও মোবাইল টকটাইমে খরচ হয় ৫০০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে ভোজ্যতেলসহ একাধিক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই বাজারে কঠোরভাবে তদারকি দরকার।

কালের আলো/এম/এএইচ

বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমি-ফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার রাতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শুরুতেই আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং ২৪তম মিনিটে ফেররান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা, ফলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরে। তবে ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমান গোল করে আতলেতিকোকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন, যা শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

পুরো ম্যাচে প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সেলোনা আক্রমণ চালালেও দুই দলই নেয় ১৫টি করে শট; লক্ষ্যে ছিল বার্সেলোনার ৮টি ও আতলেতিকোর ৫টি। বারবার সুযোগ তৈরি করেও গোল বাড়াতে পারেনি কাতালানরা, বিপরীতে গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর দৃঢ়তায় টিকে থাকে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বার্সেলোনার জন্য। ৭৭তম মিনিটে এরিক গার্সি‌য়া লাল কার্ড দেখলে যোগ করা সময়সহ শেষ ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। প্রথম লেগেও তারা খেলেছিল ১০ জনে।

শেষদিকে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রোনাল্ড আরাওহো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জিতেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

অন্যদিকে প্রায় ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেই উল্লাসে মাতে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

কালের আলো/এসএকে