খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টার নেপথ্যে কারা?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০২৪, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টার নেপথ্যে কারা?

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

সাম্প্রতিক সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে তৃতীয় একটি পক্ষের পৈশাচিক নারকীয়তা দেখেছে দেশবাসী। গত কয়েকদিনের সহিংসতার ঘটনার পর বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সরকারি নির্দেশে মাঠে নামে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক গর্বের সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী। শান্তিপূর্ণভাবে সহিংসতা ও বীভৎস নাশকতা ঠেকানোর কাজের পাশাপাশি জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে বিশ্বজুড়ে নন্দিত, সুদক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুপ্রশিক্ষিত এই বাহিনী। কিন্তু সময় গড়াতেই পুরো ঘটনাপ্রবাহকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া দেশপ্রেমী এই বাহিনীটিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অসত্য, মিথ্যা এবং অপপ্রচার চলে দেদারছে, নজিরবিহীনভাবে। নানারকম বানোয়াট তথ্য ও ভুয়া ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করা হয়।

বিশেষ করে দেশের গণতন্ত্র বিরোধী, স্বঘোষিত ‘অজ্ঞেয়বাদী’, মস্তিষ্ক বিকৃত গুটিকয়েক কথিত বিশ্লেষক, ফেসবুক-ইউটিউবার দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-সঙ্কটে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সর্বোচ্চ পেশাদার মনোভাবসম্পন্ন সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। মূলত কুরুচিপূর্ণ গুজব ছড়ানো ও মিথ্যাচার এ চক্রটির পেশা ও নেশা। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনগণের স্বার্থে ও রাষ্ট্রের যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে বলে জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। একই সঙ্গে রোববার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বার্থান্বেষী মহলের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছে বলেও জানিয়েছে তিন বাহিনীর মুখপাত্র এ সংস্থা।

জানা যায়, মোতায়েনের পর থেকে রাজধানীসহ দেশের কোথাও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আগ্রাসী আচরণ করতে দেখা যায়নি। কিন্তু আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যম পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীকে নিয়ে অপপ্রচার শুরু করে। বিশেষ করে জার্মানির একটি গণমাধ্যমে ইউএন লোগো ব্যবহার করে এপিসি ব্যবহার করার প্রসঙ্গটি সামনে আনা হয়। কিন্তু ওই এপিসি কখনও কোন বিদ্রোহ দমন বা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়নি এবং ওই সাজোয়া যানগুলোর মালিকানাও বাংলাদেশের। কিন্তু এটিকে নিয়ে এখন জাতিসংঘ পর্যন্ত ইস্যু তৈরি করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে এক নম্বর পজিশনে থাকা বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকে বিতর্কিত করা। এজন্য বিভিন্ন কল্পকাহিনীর মাধ্যমে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে কুৎসা রটিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে ডিজিটাল প্রচার মাধ্যমকে যাচ্ছেতাই কায়দায় ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকটাই ‘পেইড এজেন্ট’ স্টাইলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর প্রকাশের মাধ্যমে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও যুক্তির প্রয়োগ করলেই অনুমান করা সম্ভব এসবের বিন্দুমাত্র গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নেই।

বাঙালি জাতির ঐক্য ও আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরই গণতন্ত্রের পক্ষে সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী এখন অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে পেশাদার ও বিশ্বমানের। নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর নেতৃত্বে তাঁরা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে আছেন। তাদের কোন রাজনৈতিক উচ্চভিলাষ নেই। কোন রকম বিভ্রান্তির প্রলোভনে তাঁরা গত দুই যুগে পা দেয়নি। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিত্ব ও কারিশমা বড় ভূমিকা রেখেছে।

আইএসপিআর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে, ‘দেশব্যাপী ক্রম অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জানমাল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে গত ২০ জুলাই ভোর থেকে নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দ্রুত নৈরাজ্য প্রশমন করতে সাহায্য করে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াসমূহে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য দেশে এবং বিদেশে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা বলে অনুমিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সংবিধান সমুন্নত রেখে প্রচলিত আইনের আওতায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দেশবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

সম্প্রতি পৃথক পৃথকভাবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, শেরপুর ও নরসিংদী জেলায় মোতায়েকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পর্যবেক্ষণ করেন নরসিংদী জেলা কারাগারও। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরাও কাজ করছেন বলে জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর স্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি পরিস্থিতির আরো উন্নতি করতে পারব।’ ওইদিন সেনাপ্রধান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আরও বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছেন।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে একটি রাজনৈতিক দুর্যোগকে স্বাগতম জানাতেই সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে জলঘোলার সব আয়োজন করেছে একটি চক্রের পোষা প্রাণীরা। এখন তাঁরা বীরের জাতি বাঙালির আস্থার ঠিকানা সেনাবাহিনীকে ঘৃণ্য কায়দায় অপতথ্যের মাধ্যমে ঘায়েল করতে সব রকমের হীন অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যদের অটল মনোভাব প্রমাণ করেছে শেষ পর্যন্ত কোন বড় রকমের রাজনৈতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে আঘাত হানতে সক্ষম হবে না।

বিশ্বের সব প্রান্তের দুর্গত, নিপীড়িত ও নিরীহ মানুষের সেবায় বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের হাত প্রসারিত। সংঘাতপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়েও তারা আর্তমানবতার সেবা করে চলেছেন। দেশে ও বিদেশে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে স্বীয় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য সব মহলের প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু চার দশকের বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সফল যাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি চিহ্নিত অপশক্তির সাম্প্রতিক দুরভিসন্ধিমূলক অবস্থানে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, প্রতিটি সেনা সদস্যের দক্ষতা ও বিচক্ষণতায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। সবার উচিত সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা। বরাবরের মতো এবারও দীর্ঘ চার দশকের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সফল অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপতৎপরতা সফল হবে না। মনে রাখতে হবে আমাদের সেনাবাহিনী দেশমাতৃকার সম্মান আর গৌরবের প্রতীক। জনগণের পাশে থেকেই তাঁরা পালন করে যাবে সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা।

কালের আলো/এমএএএমকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম

পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের স্কোয়াডে, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের স্কোয়াডে, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা

মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। একই দল নিয়েই নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে নামতে যাচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আজ (শনিবার) বিসিবির নবগঠিত নির্বাচক প্যানেল প্রথম দুই ওয়ানডের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। অপরিবর্তিত স্কোয়াড নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা– দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের আরও সুযোগ দিতে চান।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আমরা যখন দলটা দেখেছি, মনে হয়েছে সর্বশেষ সিরিজ তো সফল ছিল। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সেখানে কিছু খেলোয়াড় হয়তো সুযোগ পায়নি একাদশে। কিছু খেলোয়াড় নতুন এসেছে। আমাদের নীতি হলো, যখন কেউ আসবে, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। যারা খেলেছে তারা খারাপ খেলেনি। আমরা সুযোগ দেওয়ায় বিশ্বাস করতে চাই, সে কারণে আমরা এই সিরিজে দল পরিবর্তন করিনি।’

এক বছর পরই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর আগে বড় পরিবর্তন নয়, ম্যাচ জেতার দিকেই মূল নজর নির্বাচকদের। দুটো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচক জানান, ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনও বড় পরিবর্তন করতে চাই না। যদি কাউকে দেখতে হয়, তবে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে দেখে নেব। বাংলাদেশ দলের প্রথম প্রাধান্য হলো ম্যাচ জেতা। জেতার জন্য আমরা সেরা দলটাই বানাব। এর মধ্যে আমরা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। তবে জেতার মানসিকতা ত্যাগ করে নয়।’

এ ছাড়া পেসার ও বিভিন্ন পজিশনের ব্যাটারদের রোটেশন নীতি নিয়ে বাশার বলেন, ‘পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে আমাদের অনেক অপশন আছে। এখানে রোটেশন করলে আমরা খুব একটা কিছু মিস করছি না। ইনজুরি ম্যানেজমেন্টের জন্য আমরা পেসারদের রোটেট করে খেলাব। কিন্তু টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডারে আমাদের সেটেল হওয়া দরকার। সেখানে আমাদের কাজ করার আছে।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ এপ্রিল সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। ২০ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচ, প্রথম দুই ওয়ানডে হবে মিরপুর শের-ই বাংলায়। এরপর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে (২৩ এপ্রিল) খেলতে দুই দল চট্টগ্রামে উড়াল দেবে। ৫০ ওভারের ম্যাচগুলো শুরু হবে বেলা ১১টায়।

কালের আলো/এসএকে

১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, পাতে কমছে স্বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, পাতে কমছে স্বাদ

এক হাতে বাজারের ব্যাগ, আরেক হাতে হিসাব। প্রতিদিনের এই ছোট্ট লড়াইয়ে যেন হার মানছেন সাধারণ মানুষ। সবজির বাজারে ঢুকলেই চোখে পড়ে অস্বস্তির এক চিত্র। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। প্রয়োজন থাকলেও সাধ্যের সীমা টেনে ধরছে হাত। অনেকেই এখন কেজির বদলে কিনছেন আড়াইশ গ্রাম। এভাবেই সামলাচ্ছেন সংসার।

জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালী, রামপুরাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজিই ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০ টাকার নিচে রয়েছে মাত্র দু-একটি সবজি। গোল ও লম্বা দুই ধরনের বেগুনই কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা একদিন আগেও ছিল ১০০ টাকা। পটলের কেজি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

করলা ১০০-১২০, বরবটি ৮০-৯০, ঢেঁড়শ ৭০-৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, টমেটো ৫০, পেঁপে ৪০-৫০ ও লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম দু’তিন দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমে কেনা যেত। তবে সবচেয়ে দামি সবজি এখন কাঁকরোল। প্রতি কেজি কাঁকরোল কিনতে ক্রেতাদের ১৬০-১৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে। তবে কেজিপ্রতি আলুর দাম এখনও ২৫-৩০ টাকা।

মহাখালী সবজির বাজারে কথা হয় বখতিয়ার শিকদারের সঙ্গে। তিনি একটি বেসরকারি অফিসে পিয়ন হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন সবজি কেনার ইচ্ছা থাকলেও দাম বাড়ায় আধা কেজি বেগুন ও আলু কিনেই বাসায় ফিরতে হচ্ছে তাকে। তার দাবি, সরকার যদি কিছু নিয়ন্ত্রণ করত, তাহলে নিম্নআয়ের মানুষের উপকার হতো।

তিনি বলেন, মাছ-মাংসের পরিবর্তে আগে সবজি খেয়ে চাহিদা মেটাতাম। এখন সেটাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যায় না। স্বাদ জাগলেও আয়ের সঙ্গে কুলাতে না পেরে কোনোভাবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হয়। আজ শুধু বেগুন আর আলু কিনেছি। ঘরে থাকা ডিম দিয়ে এসব রান্না হবে।

বখতিয়ার আরও বলেন, ঈদের পরও বেগুনের কেজি ৪০-৬০ টাকা ছিল। এখন দ্বিগুণেরও বেশি। আগে এক কেজি কিনলেও এখন আধা কেজি বা আড়াইশ গ্রাম করে কিনতে হয়। পটল, করলার দামও বেশি। খেতে হয় বলেই সবজি কিনছি, না হলে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হতো।

অনেকটাই বখতিয়ারের সুরে কথা বলেন বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করেন তিনি। দাম বেশি হওয়ায় করলা আধা কেজি, ঢেঁড়শ আড়াইশ গ্রাম, শিম আধা কেজি ও পটল আড়াইশ গ্রাম কিনেছেন। এসব সবজির দাম কম থাকলে এক কেজি করেই কিনতেন বলে জানান তিনি। তার মতে, আগে একজন মানুষ ২০০ গ্রাম খেলে এখন ১০০ গ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।

জোয়ার সাহারা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মাহফুজার রহমান সিয়াম বলেন, দাম বাড়ার কারণ আমরাও স্পষ্ট করে বলতে পারি না। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। যে টাকা নিয়ে আমরা মালামাল কিনতে যাই, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। সরবরাহ কম বা সংকটের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে পাশাপাশি নতুন সবজির সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে। এসব কারণে পাইকাররা বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন। ফলে খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে