খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টার নেপথ্যে কারা?

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০২৪, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টার নেপথ্যে কারা?

সাম্প্রতিক সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে উত্তপ্ত দেশ। গত কয়েকদিনের সহিংসতার ঘটনার পর বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সরকারি নির্দেশে মাঠে নামে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক গর্বের সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী। শান্তিপূর্ণভাবে সহিংসতা ঠেকানোর কাজের পাশাপাশি জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে বিশ্বজুড়ে নন্দিত, সুদক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুপ্রশিক্ষিত এই বাহিনী। কিন্তু সময় গড়াতেই পুরো ঘটনাপ্রবাহকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া দেশপ্রেমী এই বাহিনীটিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অসত্য, মিথ্যা এবং অপপ্রচার চলে দেদারছে, নজিরবিহীনভাবে। নানারকম বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করা হয়।

গণতন্ত্র বিরোধী, স্বঘোষিত ‘অজ্ঞেয়বাদী’, মস্তিষ্ক বিকৃত গুটিকয়েক কথিত বিশ্লেষক, ফেসবুক-ইউটিউবার দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-সঙ্কটে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সর্বোচ্চ পেশাদার মনোভাবসম্পন্ন সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। মূলত কুরুচিপূর্ণ গুজব ছড়ানো ও মিথ্যাচার এ চক্রটির পেশা ও নেশা। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনগণের স্বার্থে ও রাষ্ট্রের যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে বলে জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। একই সঙ্গে রোববার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বার্থান্বেষী মহলের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছে বলেও জানিয়েছে তিন বাহিনীর মুখপাত্র এ সংস্থা।

জানা যায়, মোতায়েনের পর থেকে রাজধানীসহ দেশের কোথাও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আগ্রাসী আচরণ করতে দেখা যায়নি। তবুও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে এক নম্বর পজিশনে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্তিকে বিতর্কিত করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন কল্পকাহিনীর মাধ্যমে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে কুৎসা রটিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে ডিজিটাল প্রচার মাধ্যমকে যাচ্ছেতাই কায়দায় ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকটাই ‘পেইড এজেন্ট’ স্টাইলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর প্রকাশের মাধ্যমে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও যুক্তির প্রয়োগ করলেই অনুমান করা সম্ভব এসবের বিন্দুমাত্র গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নেই।

বাঙালি জাতির ঐক্য ও আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরই গণতন্ত্রের পক্ষে সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী এখন অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে পেশাদার ও বিশ্বমানের। নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর নেতৃত্বে তাঁরা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে আছেন। তাদের কোন রাজনৈতিক উচ্চভিলাষ নেই। কোন রকম বিভ্রান্তির প্রলোভনে তাঁরা গত দুই যুগে পা দেয়নি। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিত্ব ও ক্যারিশমা বড় ভূমিকা রেখেছে।

আইএসপিআর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে, ‘দেশব্যাপী ক্রম অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জানমাল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে গত ২০ জুলাই ভোর থেকে নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দ্রুত নৈরাজ্য প্রশমন করতে সাহায্য করে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াসমূহে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য দেশে এবং বিদেশে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা বলে অনুমিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সংবিধান সমুন্নত রেখে প্রচলিত আইনের আওতায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দেশবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

সম্প্রতি পৃথক পৃথকভাবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, শেরপুর ও নরসিংদী জেলায় মোতায়েকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পর্যবেক্ষণ করেন নরসিংদী জেলা কারাগারও। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরাও কাজ করছেন বলে জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর স্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি পরিস্থিতির আরো উন্নতি করতে পারব।’ ওইদিন সেনাপ্রধান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আরও বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছেন।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে জলঘোলার সব আয়োজন চলছে। এখন তাঁরা বীরের জাতি বাঙালির আস্থার ঠিকানা সেনাবাহিনীকে ঘৃণ্য কায়দায় অপতথ্যের মাধ্যমে ঘায়েল করতে সব রকমের হীন অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যদের অটল মনোভাব প্রমাণ করেছে শেষ পর্যন্ত তাঁরা দেশের স্বার্থ বিরোধী যেকোন অপকৌশল রুখে দিতে প্রস্তুত।

বিশ্বের সব প্রান্তের দুর্গত, নিপীড়িত ও নিরীহ মানুষের সেবায় বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের হাত প্রসারিত। সংঘাতপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়েও তারা আর্তমানবতার সেবা করে চলেছেন। দেশে ও বিদেশে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে স্বীয় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য সব মহলের প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু চার দশকের বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সফল যাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি চিহ্নিত অপশক্তির সাম্প্রতিক দুরভিসন্ধিমূলক অবস্থানে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, প্রতিটি সেনা সদস্যের দক্ষতা ও বিচক্ষণতায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। সবার উচিত সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা। বরাবরের মতো এবারও দীর্ঘ চার দশকের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সফল অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপতৎপরতা সফল হবে না। মনে রাখতে হবে আমাদের সেনাবাহিনী দেশমাতৃকার সম্মান আর গৌরবের প্রতীক। জনগণের পাশে থেকেই তাঁরা পালন করে যাবে সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা।

কালের আলো/এমএএএমকে

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই চার্জশিট দাখিল করেছি। আমরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের এ প্রক্রিয়াকে ন্যায় বিচারের মানদণ্ডে যেমন স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হয় তাদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরন্তরভাবে পথ চলছি, নিরলসভাবে চলছি।‘

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মেধা ও মনন মঞ্চ আয়োজিত দ্যা গ্রান্ড ফিনাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এর সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা জড়িত নই, সরকার জড়িত না। এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জড়িত। ইতিমধ্যেই আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি এবং ফাঁসির আসামিদের বিষয়ে শাস্তি ও বিচার এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই পদক্ষেপ নেব। এইভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। ঠিক রামিসার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যতগুলো ফাঁসির আসামি সেই নির্জন সেলে আছেন তাদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব ইনশাল্লাহ।’

‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সেনসেটিভ যে কয়টি হত্যা মামলা ছিল তার মধ্যে ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগও আশা করি এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’

মেধা ও মনন মঞ্চ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। এটাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই এ সংগঠনটি, এই মঞ্চটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এই সোসাইটির ওয়াচডগ হিসেবে থাকুক।’

মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ সোয়েটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে শৈলকুপা থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

 কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি প্রাথমিক খসড়া নথি পেয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার। এর বিনিময়ে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেবে।

তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং বাস্তব যাচাই ছাড়া ইরান কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এম/এএইচ

নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘অত্যাচারী শাসক’ আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নিপীড়ন ও আগ্রাসন চালানোর কারণে একদিন মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নেতানিয়াহুকে একটি কঠোর ও উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।

বুধবার ইস্তাম্বুলের কামলিকা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, নেতানিয়াহু নামক এই স্বৈরশাসক বিশ্বের মুসলমানদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করবে।’

পৃথকভাবে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বার্তায় এরদোয়ান ঈদুল আযহাকে একটি ‘আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি আশা করেন এই উৎসবটি তুরস্ক, তুর্কি জাতি, ইসলামী বিশ্ব এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি তুরস্কে এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উদযাপনের ওপর ছায়া ফেলেছে।

গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমাদের আধ্যাত্মিক ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গাজায় যে সমস্ত ভাই-বোনেরা দুঃখ, কষ্ট এবং গভীর বেদনার মধ্য দিয়ে এই ঈদকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আমি আমার ও আমার দেশের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি এবং তাদের প্রত্যেককে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, এরদোয়ান ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ এবং গাজা সংঘাত নিয়ে তাদের বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। গাজায় নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে তীব্র সমালোচনা করে তাকে বিভিন্ন সময়ে ‘গাজার কসাই’, ‘ফেরাউন’ ও ‘আধুনিক হিটলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও প্রথম থেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আনাদোলু

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ