খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সবার সহযোগিতায় দেশকে সুশৃঙ্খল ও শান্তির পথে নিয়ে যেতে চান সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ আগস্ট, ২০২৪, ৮:০০ অপরাহ্ণ
সবার সহযোগিতায় দেশকে সুশৃঙ্খল ও শান্তির পথে নিয়ে যেতে চান সেনাপ্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেশজুড়ে সংগঠিত হচ্ছে পুলিশ। থানায় থানায় জোরদার হচ্ছে পুলিশের কার্যক্রম। স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও। পুরো কার্যক্রম নিজ চোখে দেখতে সেনাবাহিনীর ডিভিশন এরিয়াগুলো পরিদর্শন শুরু করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সোমবার (১২ আগস্ট) ৫৫ পদাতিক ডিভিশনে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেন সেনাপ্রধান। তাঁর হিসাবে দেশের ৯০ শতাংশের ওপরে থানা ও রাজধানীর ৮৫ শতাংশ থানায় পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পুলিশ সংগঠিত হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে জড়িত অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন সেনাবাহিনী কবে কখন সেনানিবাসে ফিরে যাবে সেই কথাও। বলেছেন, ‘পুলিশ ফোর্স যখন আবার সুন্দরভাবে তাদের কাজ শুরু করতে পারবে তখন আমরা সেনানিবাসে ফেরত যাবো।’ দেশকে সুশৃঙ্খল ও শান্তির পথে নিয়ে যেতে দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

পুলিশ ফোর্সকে বিভিন্ন থানায় কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে প্রটেকশন দিচ্ছি
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, দেশে একটি উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। অরাজক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়। ৫ তারিখ বা তাঁর পরবর্তী সময়টা আরও একটু ভিন্ন। সেখানে অনেক ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট হয়েছে। অগ্নিসংযোগ হয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ ফোর্সের ওপরে আক্রমণ হয়েছে। পুলিশ ফোর্সের সংখ্যা ২ লক্ষ। এই একটা বড়সংখ্যক পুলিশ ফোর্স যখন ইন অ্যাকটিভ (অকার্যকর) ছিল তখন এটাকে কভার করা সেনাবাহিনীর জন্য দুরূহ হয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে আমরা সুন্দরভাবে আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। পুলিশ ফোর্সকে বিভিন্ন থানায় কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে তাদের প্রটেকশন দিচ্ছি, তারা কার্যক্রম শুরু করেছে।’

প্রধান উপদেষ্টাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ
খুলনা ডিভিশনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আত্মতুষ্টির কোন কারণ নেই জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের আরও ভালোভাবে কাজ করতে হবে। পুলিশকে আরও সংগঠিত করতে হবে তাহলে আমরা নিশ্চিত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত যেতে পারবো। এজন্য আমরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশনগুলো ডেপ্লয় আছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়। ইনশাআল্লাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। পুলিশ ফোর্স যখন আবার সুন্দরভাবে তাদের কাজ শুরু করতে পারবে তখন আমরা সেনানিবাসে ফেরত যাবো। আজকে সকালেও প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার কাছ থেকে ব্রিফ নিয়েছেন। দেশের ৯০ শতাংশের ওপরে থানা ও রাজধানীর ৮৫ শতাংশ থানা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এ পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।’

দেশের ২০ জেলায় ৩০টি মাইনরিটি রিলেটেড অপরাধ
মাইনরিটি রিলেটেড (সংখ্যালঘু সংক্রান্ত) অপরাধ বিষয়ে নিজের স্টাডির কথা তুলে ধরেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘আমি স্টাডি করে দেখেছি দেশে ২০টি জেলায় ৩০টি মাইনরিটি রিলেটেড (সংখ্যালঘু সংক্রান্ত) অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ লুটপাট ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি। আমি আশা করি এই বিষয়গুলো নরমাল হয়ে যাবে। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করবো তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তারা যেন কোন ধ্বংসাত্মক কাজ না করে। তাঁরা বুঝবেন জনগণের দাবি কী? যদি জনগণ অরক্ষিত থাকে, যদি অশান্তি বিরাজ করে আমি নিশ্চিত তারা সেই রাজনীতি করবেন না, সেটি জনগণের রাজনীতি হবে না। আমি নিশ্চিত সবাই আমাদের সাহায্য করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবশ্যই স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হবো। সেই উদ্দেশ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আসুন আমরা দেশকে সুশৃঙ্খল ও শান্তির পথে নিয়ে যাই।’

রাজনীতি থাকবে, রাজনীতি থাকতেই হবে
রাজধানী ঢাকায় ডাকাতির সুলুক সন্ধান করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘ডাকাতি হচ্ছে এর ৮০ পার্সেন্ট প্যানিক, ২০ পার্সেন্ট ফ্যাক্ট। মানুষের মধ্যে হানাহানি কমে আসছে। কমে আসলে এগুলো থাকবে না। অতীতেও রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়েছে, এটি কাম্য না। রাজনীতি থাকবে। রাজনীতি থাকতেই হবে, মিটিং মিছিল হবে। কিন্তু ধ্বংসাত্মক কোন কার্যকলাপ আমরা চাই না। এটি কখনো দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক না। পুলিশকে আমরা সংগঠিত করে ফেলেছি। যারা যতো অপকর্ম করেছে তার জন্য অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটি অবশ্যই দু:খজনক। পুলিশ সংগঠিত হলে তদন্ত করবে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, বিজিবি ও র‍্যাবও তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। আপনারা আমাদের সাহায্য করেন। সবাই মিলে দেশকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে যাবো। প্রেসক্লাব বা জনগণের টাকায় নির্মিত স্থাপনা পুড়িয়ে দিলে, ধ্বংস করে দিলে জনগণের ক্ষতি। সবাইকে এটি বুঝতে হবে।

এ সময় সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ, খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেক, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার, কেএমপি কমিশনারসহ উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সেনাপ্রধান গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার গোপীনাথপুরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সেনাসদস্যদের দেখতে যশোর সিএমএইচ এ গমন করেন। এরপর তিনি খুলনায় অবস্থিত সেনাবাহিনী ক্যাম্পে মোতায়েনরত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সকল পদবির সেনাসদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই চার্জশিট দাখিল করেছি। আমরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের এ প্রক্রিয়াকে ন্যায় বিচারের মানদণ্ডে যেমন স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হয় তাদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরন্তরভাবে পথ চলছি, নিরলসভাবে চলছি।‘

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মেধা ও মনন মঞ্চ আয়োজিত দ্যা গ্রান্ড ফিনাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এর সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা জড়িত নই, সরকার জড়িত না। এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জড়িত। ইতিমধ্যেই আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি এবং ফাঁসির আসামিদের বিষয়ে শাস্তি ও বিচার এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই পদক্ষেপ নেব। এইভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। ঠিক রামিসার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যতগুলো ফাঁসির আসামি সেই নির্জন সেলে আছেন তাদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব ইনশাল্লাহ।’

‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সেনসেটিভ যে কয়টি হত্যা মামলা ছিল তার মধ্যে ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগও আশা করি এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’

মেধা ও মনন মঞ্চ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। এটাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই এ সংগঠনটি, এই মঞ্চটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এই সোসাইটির ওয়াচডগ হিসেবে থাকুক।’

মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ সোয়েটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে শৈলকুপা থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

 কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি প্রাথমিক খসড়া নথি পেয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার। এর বিনিময়ে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেবে।

তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং বাস্তব যাচাই ছাড়া ইরান কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এম/এএইচ

নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘অত্যাচারী শাসক’ আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নিপীড়ন ও আগ্রাসন চালানোর কারণে একদিন মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নেতানিয়াহুকে একটি কঠোর ও উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।

বুধবার ইস্তাম্বুলের কামলিকা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, নেতানিয়াহু নামক এই স্বৈরশাসক বিশ্বের মুসলমানদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করবে।’

পৃথকভাবে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বার্তায় এরদোয়ান ঈদুল আযহাকে একটি ‘আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি আশা করেন এই উৎসবটি তুরস্ক, তুর্কি জাতি, ইসলামী বিশ্ব এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি তুরস্কে এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উদযাপনের ওপর ছায়া ফেলেছে।

গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমাদের আধ্যাত্মিক ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গাজায় যে সমস্ত ভাই-বোনেরা দুঃখ, কষ্ট এবং গভীর বেদনার মধ্য দিয়ে এই ঈদকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আমি আমার ও আমার দেশের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি এবং তাদের প্রত্যেককে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, এরদোয়ান ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ এবং গাজা সংঘাত নিয়ে তাদের বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। গাজায় নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে তীব্র সমালোচনা করে তাকে বিভিন্ন সময়ে ‘গাজার কসাই’, ‘ফেরাউন’ ও ‘আধুনিক হিটলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও প্রথম থেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আনাদোলু

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ