খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

পুলিশে ‘শুদ্ধি অভিযান’ অব্যাহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০২৪, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
পুলিশে ‘শুদ্ধি অভিযান’ অব্যাহত

কালের আলো রিপোর্ট:

ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের বিভিন্ন স্তরে ‘শুদ্ধি অভিযান’ অব্যাহত রয়েছে। শুরুতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রদবদলের পর এবার মাঠ পর্যায়েও শুরু হয়েছে ‘শুদ্ধি অভিযান’। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া দলবাজ জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (২১ আগস্ট) ১০ জেলার এসপিসহ ১১ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে বদলী করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (২০ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ৩ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরের দিন গত ৬ আগস্ট রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। তার জায়গায় নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. ময়নুল ইসলামকে। পরদিন ৭ আগস্ট বদলি করা হয় পুলিশের শীর্ষ তিন কর্মকর্তাকে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ডিজি, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। সদর দপ্তরে সংযুক্ত অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমানকে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) করা হয়। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মাইনুল হাসান ডিএমপি কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্যারিস্টার মো.হারুন-অর-রশিদকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে এবং ডিএমপি কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমানকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। গত ১৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনে দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোসহ উচ্চ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার বদলি এবং ডিএমপি এলাকায় দায়িত্বরত বেশিরভাগ উপ-কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলামকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। এসবি প্রধানের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি শাহ আলমকে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি তৌফিক মাহবুব চৌধুরীকে পিবিআই-এর প্রধান হিসেবে বদলি করা হয়। এছাড়া সিআইডির প্রধান মোহাম্মদ আলীকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি আনোয়ার হোসেনকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। পরে গত ২০ আগস্ট তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার জয়নুল আবেদিন, শাহেদ মাসুদ, মশিউর রহমান, হুমায়ুন কবীর, রবিউল ইসলাম, মানস কুমার পোদ্দার, কাজী মনিরুজ্জামান, রাজীব আল মাসুদ, আশরাফুল ইসলাম, হায়াতুল ইসলাম খান, মো. ইকবাল হোসেন, মাহবুজ জামান, এইচ এম আজিমুল হক, কাজী আশরাফুল আজিমকে সরিয়ে বিভিন্ন জেলা ও রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে গত ১৫ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতর থেকে পৃথক ৬টি প্রজ্ঞাপন ও কার্যালয় আদেশের মাধ্যমে আরও ৩২ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।

কর্মকর্তাদের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলামকে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট), পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১-এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলামকে এলআইসি শাখায় এবং অ্যাডিশনাল ডিআইজি শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামানকে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১)-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল ইসলামের সই করা পৃথক তিন আদেশে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার ও উপকমিশনারের বেশ কিছু পদে রদবদল হয়। এরমধ্যে ডিএমপি উপকমিশনার ইসরাইল হাওলাদারকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত, ক্রাইম), ডিএমপির উপকমিশনার মো. মাসুদ করিমকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ট্রান্সপোর্ট), ডিএমপির উপকমিশনার খোন্দকার নজমুল হাসানকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (পিওএম), ডিএমপির উপ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত, অপারেশন), ডিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার, ডিএমপির উপকমিশনার রনওক জাহানকে ডিএমপির রমনা বিভাগের (ট্রাফিক) উপকমিশনার এবং তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. রিয়াজুল হককে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার পদে পদায়ন করা হয়।

অপর এক আদেশে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) খোন্দকার নুরুন্নবীকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার সদর দপ্তরে সংযুক্ত, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) লিটন কুমার সাহা, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ট্রান্সপোর্ট) এবিএম মাসুদ হোসেন, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আসমা সিদ্দিকা মিলিকে (পিওএম) ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির রমনা বিভাগ উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. আলমগীর হোসেনকে ডিএমপির সদর দপ্তরে উপকমিশনার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

আইজিপির অপর এক আদেশে ১৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে ডিএমপিতে বদলি করা হয়েছে র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শামীম হোসেনকে, পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার জাহান, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রাজীবুল হাসান, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মইনুল হক, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন, এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী, এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু লাইচ মো. ইলিয়াচ জিকু, এবিপিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম শাহরিয়ার আব্দুল্লাহ-বিন-ফরিদ ও নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সুমন রেজাকে।

অন্য পাঁচ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন– রাজশাহী সারদার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে পুলিশ টেলিকম সংস্থা, র‌্যাবের শাহেদা সুলতানাকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত, টাঙ্গাইল পিটিসির ফারিয়া আফরোজকে পুলিশ সদর দফতরে, দিনাজপুর বীরগঞ্জের মো. রাশেদ হাসানকে এসবি এবং ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানীকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার তিন নারী কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ডিএমপি সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রশাসন) কাজী মাকসুদা লিমাকে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত উপকমিশনার, ডিএমপির ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফারজানা ইয়াছমিনকে ডিএমপির সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রশাসন) এবং ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত উপকমিশনার কাজী রোমানা নাসরিনকে ডিএমপির ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার পদে পদায়ন করা হয়। গত শনিবার (১৭ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার ১২ জন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদা এক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।

আরও জানা যায়, বুধবার (২০ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে পুলিশের ৩ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর কথা জানানো হয়। এদের মধ্যে মো. আসাদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়াও মো. আনোয়ার হোসেন উপপুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ অধিদফতর, ঢাকা (অতিরিক্ত আইজি সুপারনিউমারারি) এবং মো. আতিকুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদেরকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। তিনি বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দেশের সব রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে বদলি
বাংলাদেশ পুলিশের সব বিভাগের রেঞ্জ ডিআইজি ও মহানগরের পুলিশ কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২১ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি করা হয়। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনাকে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি শাহ মিজান শফিউর রহমানকে রেলওয়ে পুলিশে, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনিসুর রহমানকে নৌ পুলিশে, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মঈনুল হককে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটে সংযুক্ত এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেনকে ট্যুরিস্ট পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. সাইফুল ইসলামকে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে টিঅ্যান্ডআইএমে সংযুক্ত, সিলেট মহানগরের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. জাকির হোসেন খানকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনিভেস্টিগেশনে (পিবিআই) সংযুক্ত, গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. মাহবুব আলমকে রেলওয়ে পুলিশে সংযুক্ত এবং বরিশাল মহানগরের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) জিহাদুল কবিরকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনিভেস্টিগেশনে (পিবিআই) সংযুক্ত করা হয়েছে।

১০ জেলার পুলিশ সুপারসহ ১১ কর্মকর্তাকে প্র‌ত্যাহার
বাংলাদেশ পুলিশের ১০ জেলার পুলিশ সুপারসহ ১১ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (২১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি/পদায়ন করা হলো।

তালিকায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ ও কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানকে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, মাগুরার পুলিশ সুপার মো. মশিউদ্দৌলাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, নাটোরের পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মন্ডলকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. কামাল হোসেনকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার আক্তার হোসেনকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে এবং পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবদুস ছালামকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. আজবাহার আলী শেখকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক দলীয়করণ করে। প্রশাসনের সব স্তরে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রশাসনের পুলিশ বিভিন্ন স্তর থেকে তাদের সরানো হচ্ছে। এবার মাঠ প্রশাসনেও এ শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দলবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে করে সংস্কার ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তাও বাস্তবায়ন সহজ হবে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম : তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম : তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি আশা করি। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম।’

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘চীন মৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা.জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসে আসেন কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাঁদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাঁদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার তাঁদের মনে রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো ছোট, কিন্তু জনমনে এর প্রভাব অনেক বেশি বলেই আমি মনে করি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরও মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তিনি বলেন, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং, এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়; এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা। সরকারপ্রধান আরও বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের অঙ্গীকারগুলো এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে আমি পুনরায় বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই না। শুধু এটুকু বলবো, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সুতরাং, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’।

বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। তিনি বলেন, জনগণ যদি মালিক হয়, তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস-আদালতে তাঁদের সমস্যা নিয়ে যান, তাঁরা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন; সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি।

একজন সাধারণ মানুষ যখন কোনো সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পুরো সরকার ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। ধরা যাক, একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে কিংবা কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান, তবে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না, বরং রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং, রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো সবার সবকিছু সমাধান করে দেওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্মানো জরুরি যে, আপনি কিংবা আপনার অফিস তাঁর সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য হলেও সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তবে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের বাংলাদেশ। যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায় বের করতে হবে। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। আমাদের মনে করা দরকার, একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ইউনিট হলো একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো পরিবারের সম্মিলনই হলো আমাদের রাষ্ট্র। সুতরাং, পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয়। #

কালের আলো/আরআই/এমকে

চারদিনের ডিসি সম্মেলনে একগুচ্ছ নির্দেশনা

মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। শুধু তাই নয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুতদারি রোধে ডিসিদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত রোববার (০৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন।

আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন ‘আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।’ মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সঙ্গে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার-যোগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (০৬ মে) বিকেলে সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় ডিসি সম্মেলন। এই সম্মেলনের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সমাপনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এরপর সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনাররা নৈশভোজে অংশ নেন। শেষ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের নয়টি কার্য অধিবেশন ছিল।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।’ তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

  • মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা
  • উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জোর
  • মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে
  • জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে
  • দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তা
  • ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের নির্দেশ

জানা যায়, এবারের ডিসি সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসি এবং ৮ বিভাগীয় কমিশনার মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা করেন। সরকারের নীতিনির্ধারকরা নানা বিষয়ে তাদেরকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, গায়েবি মামলা প্রত্যাহার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন জেলা প্রশাসকরা।

গত ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৬ মে শেষ হওয়া এই সম্মেলনে দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। প্রথম দিন উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা পেয়েছেন ডিসিরা। শেষ দিন সন্ধ্যায় মুক্ত আলোচনায় এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভায়ও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে ডিসিদের বলা হয়, মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তাও দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ডিসি সম্মেলনে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়। কৃষি ও মৎস্য খাতে চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে বন্ধ কারখানা চালু করা, নতুন শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সম্মেলনের তৃতীয় দিনে যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, যানবাহনের লোড নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ ও রেলপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং আসন্ন ঈদে যানজট নিরসনে মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নদী-খাল পুনঃখনন, নদীভাঙন রোধ এবং বজ্রপাত থেকে কৃষকদের রক্ষায় বিশেষ শেল্টার নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ছন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত কাজ খুব জরুরি, যেগুলোতে হাত দেওয়া যেতে পারে, যেমন মিস-ইনফরমেশন এবং ডিস-ইনফরমেশনকে কমব্যাট (মোকাবিলা) করা, ফেস করা যতটা সম্ভব গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রেখে এটা নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে আনা, সেগুলোর দিকে আমরা মনোযোগ দেব।’

সম্মেলন সম্পর্কে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। সরকারের যেকোনও কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করবো।’ সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লাইসেন্সধারী প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা না দেওয়ায় সেগুলো দ্রুত উদ্ধার ও লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় সেবার মান উন্নয়ন এবং হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিলাসী প্রকল্প ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডিসিদের সামনে ৪৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স ও অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন করতে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু, অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিষয়েও নির্দেশনা আসে। সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সম্মেলন শেষে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা নিয়ে আমরা জেলায় ফিরছি। এগুলো জনগণের জন্য কল্যাণকর উদ্যোগ হবে বলে আশা করি।

কালের আলো/আরআই/এমকে

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাহিনীটির প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বুধবার (৬ মে) ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বিমানবাহিনীর এয়ার অফিসার্স সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমানবাহিনী প্রধান সম্মেলনে উপস্থিত বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামমূলক বক্তব্য দেন। দেশের আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি তিনি দেশমাতৃকার সেবায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

এসময় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান এবং বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য আগামী দিনে দেশ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করেন।

জানা গেছে, বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সংশ্লিষ্ট এয়ার অফিসার ও বিমান সদরের পরিচালক সরাসরি এবং ঢাকার বাইরে অবস্থিত বিমানবাহিনী ঘাঁটির এয়ার অধিনায়কসহ সংশ্লিষ্ট এয়ার অফিসাররা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ