খুঁজুন
                               
, ,
           

পুলিশে ‘শুদ্ধি অভিযান’ অব্যাহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০২৪, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
পুলিশে ‘শুদ্ধি অভিযান’ অব্যাহত

কালের আলো রিপোর্ট:

ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের বিভিন্ন স্তরে ‘শুদ্ধি অভিযান’ অব্যাহত রয়েছে। শুরুতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রদবদলের পর এবার মাঠ পর্যায়েও শুরু হয়েছে ‘শুদ্ধি অভিযান’। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া দলবাজ জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (২১ আগস্ট) ১০ জেলার এসপিসহ ১১ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে বদলী করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (২০ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ৩ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরের দিন গত ৬ আগস্ট রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। তার জায়গায় নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. ময়নুল ইসলামকে। পরদিন ৭ আগস্ট বদলি করা হয় পুলিশের শীর্ষ তিন কর্মকর্তাকে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ডিজি, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। সদর দপ্তরে সংযুক্ত অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমানকে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) করা হয়। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মাইনুল হাসান ডিএমপি কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্যারিস্টার মো.হারুন-অর-রশিদকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে এবং ডিএমপি কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমানকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। গত ১৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনে দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোসহ উচ্চ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার বদলি এবং ডিএমপি এলাকায় দায়িত্বরত বেশিরভাগ উপ-কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলামকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। এসবি প্রধানের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি শাহ আলমকে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি তৌফিক মাহবুব চৌধুরীকে পিবিআই-এর প্রধান হিসেবে বদলি করা হয়। এছাড়া সিআইডির প্রধান মোহাম্মদ আলীকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি আনোয়ার হোসেনকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। পরে গত ২০ আগস্ট তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার জয়নুল আবেদিন, শাহেদ মাসুদ, মশিউর রহমান, হুমায়ুন কবীর, রবিউল ইসলাম, মানস কুমার পোদ্দার, কাজী মনিরুজ্জামান, রাজীব আল মাসুদ, আশরাফুল ইসলাম, হায়াতুল ইসলাম খান, মো. ইকবাল হোসেন, মাহবুজ জামান, এইচ এম আজিমুল হক, কাজী আশরাফুল আজিমকে সরিয়ে বিভিন্ন জেলা ও রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে গত ১৫ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতর থেকে পৃথক ৬টি প্রজ্ঞাপন ও কার্যালয় আদেশের মাধ্যমে আরও ৩২ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।

কর্মকর্তাদের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলামকে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট), পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১-এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলামকে এলআইসি শাখায় এবং অ্যাডিশনাল ডিআইজি শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামানকে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১)-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল ইসলামের সই করা পৃথক তিন আদেশে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার ও উপকমিশনারের বেশ কিছু পদে রদবদল হয়। এরমধ্যে ডিএমপি উপকমিশনার ইসরাইল হাওলাদারকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত, ক্রাইম), ডিএমপির উপকমিশনার মো. মাসুদ করিমকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ট্রান্সপোর্ট), ডিএমপির উপকমিশনার খোন্দকার নজমুল হাসানকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (পিওএম), ডিএমপির উপ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত, অপারেশন), ডিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার, ডিএমপির উপকমিশনার রনওক জাহানকে ডিএমপির রমনা বিভাগের (ট্রাফিক) উপকমিশনার এবং তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. রিয়াজুল হককে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার পদে পদায়ন করা হয়।

অপর এক আদেশে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) খোন্দকার নুরুন্নবীকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার সদর দপ্তরে সংযুক্ত, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) লিটন কুমার সাহা, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ট্রান্সপোর্ট) এবিএম মাসুদ হোসেন, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আসমা সিদ্দিকা মিলিকে (পিওএম) ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির রমনা বিভাগ উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. আলমগীর হোসেনকে ডিএমপির সদর দপ্তরে উপকমিশনার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

আইজিপির অপর এক আদেশে ১৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে ডিএমপিতে বদলি করা হয়েছে র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার মো. শামীম হোসেনকে, পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার জাহান, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রাজীবুল হাসান, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মইনুল হক, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন, এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী, এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু লাইচ মো. ইলিয়াচ জিকু, এবিপিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম শাহরিয়ার আব্দুল্লাহ-বিন-ফরিদ ও নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সুমন রেজাকে।

অন্য পাঁচ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন– রাজশাহী সারদার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে পুলিশ টেলিকম সংস্থা, র‌্যাবের শাহেদা সুলতানাকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত, টাঙ্গাইল পিটিসির ফারিয়া আফরোজকে পুলিশ সদর দফতরে, দিনাজপুর বীরগঞ্জের মো. রাশেদ হাসানকে এসবি এবং ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানীকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার তিন নারী কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ডিএমপি সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রশাসন) কাজী মাকসুদা লিমাকে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত উপকমিশনার, ডিএমপির ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফারজানা ইয়াছমিনকে ডিএমপির সদর দফতর ও প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রশাসন) এবং ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত উপকমিশনার কাজী রোমানা নাসরিনকে ডিএমপির ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার পদে পদায়ন করা হয়। গত শনিবার (১৭ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার ১২ জন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদা এক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।

আরও জানা যায়, বুধবার (২০ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে পুলিশের ৩ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর কথা জানানো হয়। এদের মধ্যে মো. আসাদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়াও মো. আনোয়ার হোসেন উপপুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ অধিদফতর, ঢাকা (অতিরিক্ত আইজি সুপারনিউমারারি) এবং মো. আতিকুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদেরকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। তিনি বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দেশের সব রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে বদলি
বাংলাদেশ পুলিশের সব বিভাগের রেঞ্জ ডিআইজি ও মহানগরের পুলিশ কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২১ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি করা হয়। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনাকে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি শাহ মিজান শফিউর রহমানকে রেলওয়ে পুলিশে, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনিসুর রহমানকে নৌ পুলিশে, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মঈনুল হককে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটে সংযুক্ত এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেনকে ট্যুরিস্ট পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. সাইফুল ইসলামকে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে টিঅ্যান্ডআইএমে সংযুক্ত, সিলেট মহানগরের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. জাকির হোসেন খানকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনিভেস্টিগেশনে (পিবিআই) সংযুক্ত, গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. মাহবুব আলমকে রেলওয়ে পুলিশে সংযুক্ত এবং বরিশাল মহানগরের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) জিহাদুল কবিরকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনিভেস্টিগেশনে (পিবিআই) সংযুক্ত করা হয়েছে।

১০ জেলার পুলিশ সুপারসহ ১১ কর্মকর্তাকে প্র‌ত্যাহার
বাংলাদেশ পুলিশের ১০ জেলার পুলিশ সুপারসহ ১১ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (২১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি/পদায়ন করা হলো।

তালিকায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ ও কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানকে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, মাগুরার পুলিশ সুপার মো. মশিউদ্দৌলাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, নাটোরের পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মন্ডলকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. কামাল হোসেনকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার আক্তার হোসেনকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে এবং পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবদুস ছালামকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. আজবাহার আলী শেখকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক দলীয়করণ করে। প্রশাসনের সব স্তরে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রশাসনের পুলিশ বিভিন্ন স্তর থেকে তাদের সরানো হচ্ছে। এবার মাঠ প্রশাসনেও এ শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দলবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে করে সংস্কার ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তাও বাস্তবায়ন সহজ হবে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

দায়িত্ব ছাড়ার পর যেকোনো রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে: ডা. জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
দায়িত্ব ছাড়ার পর যেকোনো রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে: ডা. জাহেদ

রাষ্ট্রপতি যতদিন দায়িত্বে থাকেন, ততদিন তার বিরুদ্ধে কোনো লিগ্যাল প্রসিডিউর শুরু করা যাবে না। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পর যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই আগের ও পরের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন বিষয়ে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দায়মুক্তির বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। বাংলাদেশের একজন মানুষ তার পদে থাকাকালীন সময়ে কোনো লিগ্যাল ইস্যু ফেস করবেন না, রাষ্ট্রপতি যতদিন পদে আছেন।

কিন্তু যখন তিনি পদে নেই, তখন আগে করা কোনো বিষয়ে বা পরে কোনো কিছু থেকে থাকলে সেগুলোর জন্য নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এটা আমি বর্তমান কোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে বলছি না, এটি যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই সাধারণ নিয়ম।

যেমন প্রধানমন্ত্রী বা যেকোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মামলা করা যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যতদিন দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো লিগ্যাল প্রসিডিউর শুরু করা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতি পদে না থাকলে তা করা যাবে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, কোর্ট সরকার নয়। কোর্ট স্বাধীন এবং আইসিটি বা সব কোর্টই স্বাধীনভাবে কাজ করে। জনগণ বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আদালতে যেতে পারেন। সরকার কখনো কখনো কোনো মামলায় পক্ষ হয়।

তিনি বলেন, আদালতের সামনে সরকার একটি পক্ষ মাত্র। আদালত একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। সরকারের বিরুদ্ধে অনেক রিট হয় এবং অসংখ্য রিটে সরকার উচ্চ আদালতে পরাজিত হয়। সরকার কিছু করছে না-এটুকু আমি নিশ্চিত করতে পারি। আদালত স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

টানা ৫ মেডেন ওভারে ৫ উইকেট, টেস্ট ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়লেন জাস্টিন গ্রিভস

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
টানা ৫ মেডেন ওভারে ৫ উইকেট, টেস্ট ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়লেন জাস্টিন গ্রিভস

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইতিহাস গড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস। টেস্ট ক্রিকেটের তথ্য–উপাত্ত সংরক্ষণ শুরুর পর প্রথম বোলার হিসেবে টানা পাঁচ ওভারে মেডেন রেখে প্রতি ওভারেই একটি করে উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েছেন তিনি।

তৃতীয় দিনের শুরুতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৯৯ রান। মধ্যাহ্নবিরতির কিছু আগে ৬৩ ওভারে দলটির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৪৪। তখন পর্যন্ত গ্রিভসের বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৬ ওভারে ২৭ রান, কোনো উইকেট নয়। এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই ক্যারিবীয় পেসার।

৬৪, ৬৬, ৬৮, ৭০ ও ৭২তম ওভারে টানা পাঁচ মেডেন ওভার করেন গ্রিভস। অবিশ্বাস্যভাবে প্রতিটি ওভারেই তুলে নেন একটি করে উইকেট। তাঁর শিকার হন সেঞ্চুরিয়ান শান মাসুদ (১০৯), আমের জামাল, আলী উসমান, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং মোহাম্মদ আব্বাস। মধ্যাহ্নবিরতির পর প্রথম ওভারেই আব্বাসকে ফিরিয়ে ইনিংসে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।

গ্রিভসের দুর্দান্ত স্পেলে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে অলআউট হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩১১ রান করায় স্বাগতিকরা ২৯ রানের লিড পায়।

তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজও। পাকিস্তানের পেসারদের দাপটে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১২৬ রান। একসময় ৯৩ রানেই ৭ উইকেট হারালেও কেমার রোচ ও শামার জোসেফের অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটিতে দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৫৫ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নামবে তারা।

দিন শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গ্রিভস বলেন, “বল কিছুটা সুইং করছিল এবং আমি তার সুবিধা নিতে পেরেছি। যখনই আমাকে বোলিংয়ে আনা হয়, দলের প্রত্যাশা থাকে কঠিন পরিস্থিতিতে যেন আমি অবদান রাখতে পারি। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। তবে ম্যাচে এখনো আমাদের কাজ শেষ হয়নি।”

এদিকে গ্রিভসের ঐতিহাসিক স্পেলের পরও একটি সিদ্ধান্ত বিস্ময় তৈরি করেছে। ৭২তম ওভারে নিজের পঞ্চম উইকেট নেওয়ার পর তাঁকে আর টানা বোলিং করানো হয়নি। পরের ওভারে কেমার রোচ বল করার পর ৭৪তম ওভারে অধিনায়ক রোস্টন চেজ গ্রিভসকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে জেইডেন সিলসকে বোলিংয়ে আনেন।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫৫ রানে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের ফল এখনো খোলা। তবে গ্রিভসের টানা পাঁচ মেডেন ওভারে পাঁচ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি ইতোমধ্যেই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

জেন-জি’কে ‘জেনারেশন গাটার’ মন্তব্যে বিতর্কে কঙ্গনা রানাউত

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
জেন-জি’কে ‘জেনারেশন গাটার’ মন্তব্যে বিতর্কে কঙ্গনা রানাউত

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলন নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। আন্দোলনকারীদের ভাষা, আচরণ ও জীবনধারা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি তাদের ‘জেনারেশন গাটার’ (নর্দমার প্রজন্ম) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা।

দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। আন্দোলনের সময় তরুণদের বিভিন্ন স্লোগান, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে কিছু স্লোগান ও ভাষা নিয়ে সমালোচনাও হয়।

এই প্রেক্ষাপটে কঙ্গনা রানাউত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি জীবনে একসঙ্গে এত ‘নোংরা’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ ভাষা কখনো দেখেননি। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের ভিডিও ও পোস্ট ‘বমি আসার মতো’ এবং সেগুলো দেখে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। এমনকি তিনি ‘ডিজিটাল ডিটক্স’-এর প্রয়োজন অনুভব করছেন বলেও মন্তব্য করেন।

আন্দোলনকারীদের নিজেদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উপস্থাপনেরও সমালোচনা করেন কঙ্গনা। তাঁর ভাষ্য, ভারত বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দেশ, অথচ আন্দোলনকারীরা নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করছেন, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

এ ছাড়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণীদের উদ্দেশে কঙ্গনা বলেন, তথাকথিত পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে তারা ‘কলুষিত’ হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, তাদের অনেকেই সমাজের জন্য ইতিবাচক কোনো অবদান রাখতে পারবে না। জেন-জি প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই প্রজন্মের একটি অংশের আচরণ সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।

কঙ্গনার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা ভাই জগতাপ। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তরুণ-তরুণীদের ওপর যে ধরনের নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার হয়েছে, একজন নারী হয়েও সে বিষয়ে কঙ্গনার কোনো সহানুভূতি না থাকা বিস্ময়কর।

অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার ভাষার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন সাংসদের কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং জেন-জি প্রজন্মের কাছে কঙ্গনার ক্ষমা চাওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান, দলের সাংসদরা তরুণদের সম্পর্কে কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে নজর দিতে।

কঙ্গনার মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। একদিকে তাঁর সমর্থকেরা বক্তব্যকে ‘স্পষ্টভাষিতা’ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা এটিকে তরুণ প্রজন্মকে অপমান করার শামিল বলে মন্তব্য করছেন।

কালের আলো/এসএ