খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারে শঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তি জনমনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:২২ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারে শঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তি জনমনে

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v80), quality = 82?

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টানা তিনদিন সরকারবিহীন ছিল দেশ। ১৫ বছরের জবাবদিহিতাহীন শাসনের অবসানের পর ছাত্রদের অনুরোধে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। একটি স্বস্তিদায়ক ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। আবার, এ সময়টিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ভেঙে পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন। ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়ে উধাও হয়ে যায় পুলিশ। সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই পুলিশি ব্যবস্থা পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করে। ভীতিকর অবস্থা ও নৈরাজ্য বন্ধে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সারা দেশে সেনা মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট ঘোষণা দেন কোনভাবেই এই অন্তবর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় পাশে থাকবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

  • অন্তবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক মনে করছেন দেশের সাধারণ মানুষ
  • কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার কিংবা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারবেন সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা
  • সেনাবাহিনী কারও প্রতি অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না
  • নিয়ম-নীতি অনুযায়ী কাজ করে নির্মোহভাবে

পরবর্তীতে সেনা সদস্যদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও কর্মদক্ষতায় রাজধানীসহ দেশের জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সহিংসতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া অর্থনীতির চাকাও হতে থাকে সচল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেশের থানাগুলোতে চালু হয় পুলিশী কার্যক্রম। শিল্পাঞ্চলে নাশকতা-অস্থিরতা চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবিকে নিয়ে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর শক্ত কাঠামোর মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলে প্রাণান্তকর প্রয়াস। ইতোমধ্যেই সেনাপ্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। সেনাবাহিনীর দু’টি ব্রিগেড এই টাস্কফোর্স পরিচালনা করছে। কিন্তু দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টে এক মুহুর্তও থামেনি নানামুখী চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র।

সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটবে না
অধ্যাপক আসিফ নজরুল
উপদেষ্টা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অবশেষে গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সেনাবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করে সরকার। এখন থেকে কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার কিংবা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারবেন সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। দেশের দু:সময়ে ত্রাণকর্তা ও নির্ভরতার প্রতীক দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ায় জনমনে পুরোমাত্রায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। অন্তবর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবেই মনে করছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

জনগণের সুবিধার জন্য সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

তাঁরা বলছেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্রবাহিনীর রয়েছে গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা। সম্প্রতি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা কিংবা অতীতে সাইক্লোন ও ঘুর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনী সফলতার সঙ্গে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা
মোখলেস উর রহমান
সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয়ার ফলে জনমনে স্বস্তির প্রধান কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, দেশের সাধারণ মানুষ মনে করে যে সেনাবাহিনী কারও প্রতি অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না; বরং নিয়ম-নীতি অনুযায়ী নির্মোহভাবে তাঁরা কাজ করে। পাশাপাশি সিভিল প্রশাসন বা অন্য বাহিনীর লোকজনের কোন পদক্ষেপ সাধারণ মানুষ ঠিক তেমনভাবে মানতে চায় না। নির্দেশ অমান্য করতে চায়। কিন্তু সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে সাধারণত তেমনটি করেনা। একই সঙ্গে রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে একটি বুলেটও না ছুঁড়ে; ছাত্র-জনতার প্রতিপক্ষ না হয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও উজ্জ্বল করেছে নিজেদের ভাবমূর্তি। প্রমাণ করেছে, তাঁরা দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থের প্রশ্নে আপোসহীন, সৎ-নির্ভীক এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তাই তাদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে বহুগুণে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোমাত্রায় উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধী ও ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে নিরাপত্তার শঙ্কাকে কাটিয়ে তুলতেও তাঁরা সক্ষম হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সাধারণ মানুষ মনে করেন, সঠিক সময়েই সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পোশাক খাতসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অসন্তোষ দমনের পাশাপাশি পুরো দেশে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে এমন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ড.ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়। আগামী দুই মাস অর্থাৎ ৬০ দিন এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৭টি ধারা প্রয়োগের ক্ষমতা পেয়েছেন সেনা কর্মকর্তারা। ধারাগুলো হলো ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২।

দেশ বিরোধী সব অপতৎপরতা রুখে দেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
এ প্রসঙ্গে অন্তবর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নাশকতা, অরাজকতা এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার মতো কিছু কর্মকাণ্ড ঘটছে বলে আমরা লক্ষ্য করেছি। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে এই পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য। এসব অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার জন্য, মোকাবিলা করার জন্য।’ সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এর কোনো অপপ্রয়োগ ঘটবে না বলেও আশাবাদী এই আইন উপদেষ্টা।

জনগণের সুবিধার জন্য সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার (বিচারিক ক্ষমতা) দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪০তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডার কর্মকর্তা এবং ২৫তম ব্যাচ (পুরুষ) রিক্রুট সিপাহি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সেনাবাহিনী যেহেতু অনেকদিন ধরে মাঠে আছে, তাদের তো একটা ক্ষমতার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। আবার আমাদের অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে স্বল্পতা রয়ে গেছে, এটা পূরণ করার জন্য সেনাবাহিনী আনা হয়েছে। আর এ সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রি পাওয়ারটা ভোগ করবে বাংলার জনগণ।’

প্রায় একই রকম কথা বলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায়, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মোখলেস উর রহমান আরও বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে সব পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে। মানুষ যাতে আরও জনবান্ধব পরিবেশে চলাচল করতে পারে, নিরাপদ বোধ করে, মানুষের মধ্যে যাতে আস্থা থাকে- এ জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সববাহিনী একইসঙ্গে একই ছাতার নিচে কাজ করছে, এই ম্যাসেজটার জন্যই এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করেছে বিস্তৃত পর্যায়ে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সেনাবাহিনী কাজ করছে। তারা মনে করেছে, এটা (সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া) হলে জনগণ আরও নিরাপদ বোধ করবে। এই মুহূর্তে মনে হয়েছে এটা দরকার। টার্গেট (সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়ার সময়) বলে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬০ দিন।’

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আছে, এক্ষেত্রে কোনও দ্বন্দ্ব তৈরি করবে কি না- এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ সিনিয়র সচিব বলেন, প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কাজের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না। এটা কোনও ক্যাডারের ক্ষমতা না, এটা রাষ্ট্রের ক্ষমতা। এক রাষ্ট্র এক জনগণ এক সরকার। জনস্বার্থে আপনি কাজ করেন, আমি কাজ করি। এটা (সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া) ভালো ফল দেবে।

ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারে কী কী করতে পারবে সেনাবাহিনী?
সেনাবাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮’ এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। আইনের এসব ধারা অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যেসব ক্ষমতা রয়েছে- ৬৪ নম্বর ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার এবং হেফাজতে রাখার ক্ষমতা। ৬৫ নম্বর ধারায় গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা বা তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা যার জন্য তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। ধারা ৮৩/৮৪/৮৬ হচ্ছে- ওয়ারেন্ট অনুমোদন করার ক্ষমতা বা ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপসারণের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা। ধারা ৯৫(২) হলো- নথিপত্র ইত্যাদির জন্য ডাক ও টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনুসন্ধান এবং আটক করার ক্ষমতা। ১০০ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে- ভুলভাবে বন্দি ব্যক্তিদের হাজির করার জন্য অনুসন্ধান-ওয়ারেন্ট জারি করার ক্ষমতা। ধারা ১০৫ হচ্ছে- সরাসরি তল্লাশি করার ক্ষমতা, তার (ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি) উপস্থিতিতে যে কোনো স্থানে অনুসন্ধানের জন্য তিনি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করতে পারেন। ধারা ১০৭ হলো- শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা। ১০৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে-ভবঘুরে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির ভালো আচরণের জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীর ক্ষমতা। ধারা ১১০ হচ্ছে-ভালো আচরণের জন্য নিরাপত্তা প্রয়োজনীয় ক্ষমতা। ধারা ১২৬ এ উল্লেখ রয়েছে- জামিনের নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা। ধারা ১২৭ এ বলা হয়েছে- বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার আদেশ দানের ক্ষমতা। ধারা ১২৮ এ বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য বেসামরিক শক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা রয়েছে। ধারা ১৩০ হচ্ছে- বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা। ধারা ১৩৩ এ বলা হয়েছে- স্থানীয় উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবস্থা হিসেবে আদেশ জারি করার ক্ষমতা। ধারা ১৪২ হচ্ছে- জনসাধারণের উপদ্রবের ক্ষেত্রে অবিলম্বে ব্যবস্থা হিসেবে আদেশ জারি করার ক্ষমতা। উল্লিখিত এসব ক্ষমতা ছাড়াও, যে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর অধীনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য সরকার এবং সেই সঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারের মধ্যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনের অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে সংঘটিত অপরাধ বা ঘটনাস্থলে তার বা তার সামনে উন্মোচিত হওয়া অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারেন। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী অপরাধীকে সাজা দিতে পারেন। তবে কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে তা দুই বছরের বেশি হবে না।

কালের আলো/এমএএএমকে

জামদানির সাজে পূর্ণিমার স্নিগ্ধ উপস্থিতি

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
জামদানির সাজে পূর্ণিমার স্নিগ্ধ উপস্থিতি

ঢাকাই সিনেমার নন্দিত অভিনেত্রী পূর্ণিমা। বিশেষ করে রোমান্টিক সিনেমার নায়িকা হিসেবে একসময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘ভালোবাসার লাল গোলাপ’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তার অভিনয় এখনো দর্শকের মনে জায়গা করে আছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি পূর্ণিমার সৌন্দর্য ও রুচিশীল ফ্যাশন সেন্সও বরাবরই ভক্তদের নজর কেড়েছে। শাড়িতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া কিংবা আধুনিক পোশাকে—যেভাবেই হাজির হন, তার উপস্থিতিতে থাকে আলাদা আকর্ষণ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ছবি<< সংগৃহীত

জামদানিতে বাঙালি সাজ

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন পূর্ণিমা। ছবিগুলোতে তাকে দেখা গেছে ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়িতে। মাথার খোপায় ফুলের মালা, সঙ্গে স্নিগ্ধ সাজ—সব মিলিয়ে বাঙালি নারীর চিরচেনা রূপেই ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি<< সংগৃহীত

জামদানি শাড়ির নান্দনিক নকশার সঙ্গে খোপায় ফুলের মালা যোগ করেছে আলাদা সৌন্দর্য। অতিরিক্ত চাকচিক্যের বদলে ঐতিহ্য ও সরলতাকেই সাজের মূল উপজীব্য করেছেন পূর্ণিমা।

‘কখনো পুরোনো না হওয়া সৌন্দর্য’

ছবিগুলোর সঙ্গে পূর্ণিমা লিখেছেন, ‘জামদানির আবহ আর কখনো পুরোনো না হওয়া সৌন্দর্য…’

ছবি<< সংগৃহীত

তার এই ছোট্ট ক্যাপশনেই যেন ধরা পড়েছে জামদানি নিয়ে তার অনুভূতি। বাঙালি ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক এই শাড়ির সৌন্দর্য যে সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না, নিজের সাজের মধ্য দিয়েই যেন সেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। পূর্ণিমার প্রকাশ করা ছবিগুলো প্রকাশের পর ভক্তদের মধ্যেও বেশ সাড়া পড়ে। অনেকেই তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও সাদামাটা অথচ আভিজাত্যপূর্ণ সাজের প্রশংসা করেছেন।

ছবি<< সংগৃহীত

ঐতিহ্যেই মুগ্ধতা

পূর্ণিমার এবারের সাজে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে স্বাভাবিকতার ছোঁয়া। আধুনিক ফ্যাশনের নানা আয়োজনের মাঝেও ঐতিহ্যবাহী জামদানি ও খোপায় ফুলের মালা তাকে দিয়েছে এক ধরনের মায়াবী আবহ।

ছবি<< সংগৃহীত

বাঙালি ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজের সৌন্দর্যকে মিলিয়ে পূর্ণিমার এই উপস্থিতি যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—ফ্যাশনের ধরন বদলালেও জামদানির আবেদন কখনো পুরোনো হওয়ার নয়।

কালের আলো/এসএ

তৃতীয় কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সূচকের পতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
তৃতীয় কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সূচকের পতন

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইতে প্রধান সূচক কমেছে ২০ পয়েন্ট

মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে অন্য দুই সূচকও নিম্নমুখী ছিল।

শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সূচকের পতনের দিনে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ অবশ্য বেড়েছে। এদিন শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট মিলিয়ে মোট ৫৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ৫৩৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে

মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ২৭০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির দর।

এদিন লেনদেনের শীর্ষে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল, এপেক্স ফুডস, মালেক স্পিনিং, সোনালী লাইফ, ইভেন্সি টেক্সটাইল, সার্প ইন্ডাস্ট্রি, সেনা ইন্স্যুরেন্স ও একমি লিমিটেড।

সিএসইতেও সূচকের পতন

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মঙ্গলবার সূচকের পতন হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬২ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৭টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ১১০টির দর কমেছে এবং ১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেনের দিক থেকেও সিএসইতে কিছুটা মন্দাভাব ছিল। মঙ্গলবার সেখানে শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ১ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে মঙ্গলবার দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচক ছিল নিম্নমুখী। ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমায় বাজারে বিক্রির চাপই তুলনামূলক বেশি ছিল।

তথ্যসূত্র: ডিএসই ও সিএসই

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

মোহনীয় সাজে ‘তন্দ্রাবিলাসে’ শরৎ খুঁজলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
মোহনীয় সাজে ‘তন্দ্রাবিলাসে’ শরৎ খুঁজলেন পরীমনি

শরতের শুভ্র কাশফুল আর নীল আকাশের টানে এই সময়ে অনেকেই ছুটে যান কাশবনে। তবে সেই সুযোগ হয়নি ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির। তাতে অবশ্য মন খারাপ করেননি তিনি। বরং নীল শাড়িতে নিজেকে সাজিয়ে, প্রিয় বই হাতে ঘরের মাঝেই যেন শরতের আবহ খুঁজে নিয়েছেন অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেন পরীমনি। সেসব ছবিতে নীল রঙের শাড়িতে মোহনীয় সাজে ধরা দিয়েছেন তিনি।

নীল শাড়িতে মুগ্ধতা

ছবিগুলোতে দেখা যায়, পরীমনির পরনে নজরকাড়া নীল শাড়ি। চুল পরিপাটি করে খোঁপা করা। মুখজুড়ে মৃদু হাসি। সব মিলিয়ে বেশ শান্ত ও নান্দনিক এক আবহে দেখা গেছে তাকে।

তবে সাজের পাশাপাশি নজর কেড়েছে তার হাতে থাকা বইটি। কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘তন্দ্রাবিলাস’ বইটি কখনো বুকে জড়িয়ে ধরেছেন পরীমনি, আবার কখনো বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন।

তার নীল শাড়ি, স্নিগ্ধ হাসি ও হাতে বই—সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী সৌন্দর্যের আবহ।

‘উপায় হলো এই তন্দ্রাবিলাস’

ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনেও শরৎ আর কাশবনের আক্ষেপ ফুটিয়ে তুলেছেন পরীমনি। ছন্দময় ভঙ্গিতে তিনি লিখেছেন, ‘না হলো যাওয়া আর কাশবনে, না হলো দেখা শরতের আকাশ। উপায় হলো এই তন্দ্রাবিলাস।’

অর্থাৎ কাশবনে গিয়ে শরতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে না পারলেও হুমায়ূন আহমেদের ‘তন্দ্রাবিলাস’-এর পাতায় ডুব দিয়েই যেন সেই অপূর্ণতা পূরণ করেছেন অভিনেত্রী।

ভক্তদের প্রশংসা

পরীমনির নতুন ছবিগুলো প্রকাশের পরই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রশংসা। নীল শাড়িতে তার সাজ, মৃদু হাসি এবং বই হাতে শান্ত অভিব্যক্তি নজর কেড়েছে অনুরাগীদের।

কাজের ব্যস্ততার মাঝেও এমন নান্দনিকভাবে নিজেকে মেলে ধরার জন্য অভিনেত্রীর প্রশংসা করছেন অনেকেই। বিশেষ করে নীল শাড়িতে পরীমনির এই স্নিগ্ধ উপস্থিতি সামাজিক মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।

কালের আলো/জেএন