খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারে শঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তি জনমনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:২২ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারে শঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তি জনমনে

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v80), quality = 82?

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টানা তিনদিন সরকারবিহীন ছিল দেশ। ১৫ বছরের জবাবদিহিতাহীন শাসনের অবসানের পর ছাত্রদের অনুরোধে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। একটি স্বস্তিদায়ক ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। আবার, এ সময়টিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ভেঙে পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন। ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়ে উধাও হয়ে যায় পুলিশ। সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই পুলিশি ব্যবস্থা পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করে। ভীতিকর অবস্থা ও নৈরাজ্য বন্ধে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সারা দেশে সেনা মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট ঘোষণা দেন কোনভাবেই এই অন্তবর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় পাশে থাকবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

  • অন্তবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক মনে করছেন দেশের সাধারণ মানুষ
  • কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার কিংবা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারবেন সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা
  • সেনাবাহিনী কারও প্রতি অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না
  • নিয়ম-নীতি অনুযায়ী কাজ করে নির্মোহভাবে

পরবর্তীতে সেনা সদস্যদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও কর্মদক্ষতায় রাজধানীসহ দেশের জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সহিংসতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া অর্থনীতির চাকাও হতে থাকে সচল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেশের থানাগুলোতে চালু হয় পুলিশী কার্যক্রম। শিল্পাঞ্চলে নাশকতা-অস্থিরতা চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবিকে নিয়ে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর শক্ত কাঠামোর মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলে প্রাণান্তকর প্রয়াস। ইতোমধ্যেই সেনাপ্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। সেনাবাহিনীর দু’টি ব্রিগেড এই টাস্কফোর্স পরিচালনা করছে। কিন্তু দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টে এক মুহুর্তও থামেনি নানামুখী চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র।

সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটবে না
অধ্যাপক আসিফ নজরুল
উপদেষ্টা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অবশেষে গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সেনাবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করে সরকার। এখন থেকে কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার কিংবা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারবেন সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। দেশের দু:সময়ে ত্রাণকর্তা ও নির্ভরতার প্রতীক দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ায় জনমনে পুরোমাত্রায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। অন্তবর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবেই মনে করছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

জনগণের সুবিধার জন্য সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

তাঁরা বলছেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্রবাহিনীর রয়েছে গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা। সম্প্রতি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা কিংবা অতীতে সাইক্লোন ও ঘুর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনী সফলতার সঙ্গে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা
মোখলেস উর রহমান
সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয়ার ফলে জনমনে স্বস্তির প্রধান কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, দেশের সাধারণ মানুষ মনে করে যে সেনাবাহিনী কারও প্রতি অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না; বরং নিয়ম-নীতি অনুযায়ী নির্মোহভাবে তাঁরা কাজ করে। পাশাপাশি সিভিল প্রশাসন বা অন্য বাহিনীর লোকজনের কোন পদক্ষেপ সাধারণ মানুষ ঠিক তেমনভাবে মানতে চায় না। নির্দেশ অমান্য করতে চায়। কিন্তু সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে সাধারণত তেমনটি করেনা। একই সঙ্গে রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে একটি বুলেটও না ছুঁড়ে; ছাত্র-জনতার প্রতিপক্ষ না হয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও উজ্জ্বল করেছে নিজেদের ভাবমূর্তি। প্রমাণ করেছে, তাঁরা দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থের প্রশ্নে আপোসহীন, সৎ-নির্ভীক এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তাই তাদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে বহুগুণে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোমাত্রায় উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধী ও ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে নিরাপত্তার শঙ্কাকে কাটিয়ে তুলতেও তাঁরা সক্ষম হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সাধারণ মানুষ মনে করেন, সঠিক সময়েই সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পোশাক খাতসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অসন্তোষ দমনের পাশাপাশি পুরো দেশে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে এমন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ড.ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়। আগামী দুই মাস অর্থাৎ ৬০ দিন এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৭টি ধারা প্রয়োগের ক্ষমতা পেয়েছেন সেনা কর্মকর্তারা। ধারাগুলো হলো ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২।

দেশ বিরোধী সব অপতৎপরতা রুখে দেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
এ প্রসঙ্গে অন্তবর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নাশকতা, অরাজকতা এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার মতো কিছু কর্মকাণ্ড ঘটছে বলে আমরা লক্ষ্য করেছি। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে এই পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য। এসব অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার জন্য, মোকাবিলা করার জন্য।’ সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এর কোনো অপপ্রয়োগ ঘটবে না বলেও আশাবাদী এই আইন উপদেষ্টা।

জনগণের সুবিধার জন্য সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার (বিচারিক ক্ষমতা) দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪০তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডার কর্মকর্তা এবং ২৫তম ব্যাচ (পুরুষ) রিক্রুট সিপাহি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সেনাবাহিনী যেহেতু অনেকদিন ধরে মাঠে আছে, তাদের তো একটা ক্ষমতার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। আবার আমাদের অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে স্বল্পতা রয়ে গেছে, এটা পূরণ করার জন্য সেনাবাহিনী আনা হয়েছে। আর এ সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রি পাওয়ারটা ভোগ করবে বাংলার জনগণ।’

প্রায় একই রকম কথা বলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায়, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মোখলেস উর রহমান আরও বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে সব পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে। মানুষ যাতে আরও জনবান্ধব পরিবেশে চলাচল করতে পারে, নিরাপদ বোধ করে, মানুষের মধ্যে যাতে আস্থা থাকে- এ জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সববাহিনী একইসঙ্গে একই ছাতার নিচে কাজ করছে, এই ম্যাসেজটার জন্যই এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করেছে বিস্তৃত পর্যায়ে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সেনাবাহিনী কাজ করছে। তারা মনে করেছে, এটা (সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া) হলে জনগণ আরও নিরাপদ বোধ করবে। এই মুহূর্তে মনে হয়েছে এটা দরকার। টার্গেট (সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়ার সময়) বলে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬০ দিন।’

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আছে, এক্ষেত্রে কোনও দ্বন্দ্ব তৈরি করবে কি না- এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ সিনিয়র সচিব বলেন, প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কাজের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না। এটা কোনও ক্যাডারের ক্ষমতা না, এটা রাষ্ট্রের ক্ষমতা। এক রাষ্ট্র এক জনগণ এক সরকার। জনস্বার্থে আপনি কাজ করেন, আমি কাজ করি। এটা (সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া) ভালো ফল দেবে।

ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারে কী কী করতে পারবে সেনাবাহিনী?
সেনাবাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮’ এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। আইনের এসব ধারা অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যেসব ক্ষমতা রয়েছে- ৬৪ নম্বর ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার এবং হেফাজতে রাখার ক্ষমতা। ৬৫ নম্বর ধারায় গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা বা তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা যার জন্য তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। ধারা ৮৩/৮৪/৮৬ হচ্ছে- ওয়ারেন্ট অনুমোদন করার ক্ষমতা বা ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপসারণের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা। ধারা ৯৫(২) হলো- নথিপত্র ইত্যাদির জন্য ডাক ও টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনুসন্ধান এবং আটক করার ক্ষমতা। ১০০ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে- ভুলভাবে বন্দি ব্যক্তিদের হাজির করার জন্য অনুসন্ধান-ওয়ারেন্ট জারি করার ক্ষমতা। ধারা ১০৫ হচ্ছে- সরাসরি তল্লাশি করার ক্ষমতা, তার (ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি) উপস্থিতিতে যে কোনো স্থানে অনুসন্ধানের জন্য তিনি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করতে পারেন। ধারা ১০৭ হলো- শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা। ১০৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে-ভবঘুরে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির ভালো আচরণের জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীর ক্ষমতা। ধারা ১১০ হচ্ছে-ভালো আচরণের জন্য নিরাপত্তা প্রয়োজনীয় ক্ষমতা। ধারা ১২৬ এ উল্লেখ রয়েছে- জামিনের নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা। ধারা ১২৭ এ বলা হয়েছে- বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার আদেশ দানের ক্ষমতা। ধারা ১২৮ এ বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য বেসামরিক শক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা রয়েছে। ধারা ১৩০ হচ্ছে- বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা। ধারা ১৩৩ এ বলা হয়েছে- স্থানীয় উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবস্থা হিসেবে আদেশ জারি করার ক্ষমতা। ধারা ১৪২ হচ্ছে- জনসাধারণের উপদ্রবের ক্ষেত্রে অবিলম্বে ব্যবস্থা হিসেবে আদেশ জারি করার ক্ষমতা। উল্লিখিত এসব ক্ষমতা ছাড়াও, যে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর অধীনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য সরকার এবং সেই সঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারের মধ্যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনের অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে সংঘটিত অপরাধ বা ঘটনাস্থলে তার বা তার সামনে উন্মোচিত হওয়া অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারেন। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী অপরাধীকে সাজা দিতে পারেন। তবে কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে তা দুই বছরের বেশি হবে না।

কালের আলো/এমএএএমকে

টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’

পহেলা বৈশাখে কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়।

টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার সুরুজ এলাকার কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেবেন তারেক রহমান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা, ভর্তুকি ও সরকারি সহায়তা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারের মতে, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের অন‌্যতম আকর্ষণ বৈশাখী শোভাযাত্রা উপভোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা। তাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৪ এ‌প্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণের সামনে দাঁ‌ড়িয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন সস্ত্রীক এ‌সে‌ছেন বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখ‌তে। এ ছাড়া, শোভাযাত্রা দেখ‌তে এ‌সে‌ছেন ভারত, ইউরোপ, মধ‌্যপ্রাচ‌্য ও দ‌ক্ষিণ-পূর্ব এ‌শিয়া মিশনের কয়েকজন কূটনীতিক‌। তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় প্রশাসন।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেনকে শোভাযাত্রা বেশ উপভোগ করতে দেখা গেছে। দুই রাষ্ট্রদূতই তাদের মোবাইল ফোনে শোভাযাযাত্রার ছ‌বি তোলাসহ সেল‌ফি‌ তুল‌ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) বিদেশি কূটনীতিকদের দেখভালের দা‌য়িত্বে ছিলেন। তি‌নি বলেন, শোভাযাত্রা অনুষ্ঠান দেখতে বি‌ভিন্ন দেশের কূটনী‌তিকরা এসেছেন। দুইজন রাষ্ট্রদূত এসেছেন, আরও অ‌নেক মিশনের কূটনী‌তিকরা এসেছে; তা‌রা সস্ত্রীক এসেছেন।

আজ সকাল ৯টার পর ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে এই শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউটার্ন নেয়। সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হয়।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা শুরু করে।

২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে মঙ্গল শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। এবার এ শোভাযাত্রার নাম দেওয়া হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা।

বৈশাখের প্রথম প্রভাতে রমনা বটমূলে বঙ্গব্দ ১৪৩৩ কে বরণ করে নেওয়ার মধ‌্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

রাজধানীর রমনা বটমূলে শেষ হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ ১৪৩৩-এর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ছায়ানটের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠান শেষের আগে ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ড. সারওয়ার আলী বক্তব্যে বলেন, সমাজে দিন দিন বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহনশীলতার প্রত্যাশা সকলের।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাত ও নিপীড়ন বিশ্বজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।

এর প্রভাব পড়ছে দেশের ভেতরেও, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশে অনেকেই নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন। মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং সামাজিক সহনশীলতার অবক্ষয় একটি সুস্থ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বছর হোক ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তচিন্তার বিকাশের প্রতীক। যেখানে মানুষ নির্ভয়ে গান গাইতে পারবে, মত প্রকাশ করতে পারবে এবং নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত হবে। শুভ নববর্ষ।

এর আগে সূর্যোদয়ের পরপর শুরু হয় বর্ষবরণের ছায়ানটের অনুষ্ঠান। এবারের বার্তা, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’—সেখানেই বাঙালির জয়। ছায়ানটের ৫৯তম অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং মানব ও দেশপ্রেমের গানের পাশাপাশি লোকজনজীবনের সুর দিয়ে। সব মিলিয়ে বাঙালি সমাজকে বিগত বছরের সব ‘প্রতিকূলতা, আবর্জনা’ দূর করে নতুন বছরে ‘আরও মানবমুখী’ হওয়ার প্রত্যয়। সময় যত গড়িয়েছে, বেলা যত বেড়েছে ততই ভিড় বাড়তে দেখা গেছে অনুষ্ঠানস্থলে।

এদিন নতুন বছরকে বরণ করতে আয়োজনের কমতি ছিল না রমনার বটমূলে। বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন করে ঐতিহ্যগতভাবে বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। নতুন বছরকে তাই বরণ করে নেওয়া হয় সুরের মূর্ছনায়।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এর পরপরই পরিবেশিত হয় ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ ও ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’ গান দুটি। এরপর একের পর এক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইয়ের গান, লোকগানের পাশাপাশি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান পরিবেশন করা হয়।

এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংযোজন ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ এবং প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের গান। মোট ২২টি গান পরিবেশিত হয় প্রায় দুই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে ৮টি ছিল সম্মেলক গান, আর একক কণ্ঠের গান ছিল ১৪টি। পাঠ ছিল দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এদিকে ভোর থেকেই রমনায় বৈশাখী সাজে হাজির হন শিশু, নারী ও পুরুষ। সবারই প্রত্যাশা—বিগত বছরের সব গ্লানি মুছে নতুনের আবহে শুরু হোক বছরটি। বিভেদ ভুলে সাম্য আর ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সবার।

জানা গেছে, বরাবরের মতোই সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালি তার সর্ববৃহৎ উৎসব নতুন বছর বরণে ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা নতুন বছরের ভোরে কণ্ঠ ছেড়ে গান গেয়েছে ছায়ানট। এবার মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবাজরা হাজার হাজার বছরের পারস্য সভ্যতার ধ্বংসযজ্ঞে মত্ত-বিশ্ব জনজীবন যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। সে বছর রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল ভয়ের পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে সংগীতের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরা। পয়লা বৈশাখের এ অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হলো রমনার এই বটমূল থেকেই।

১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এ উৎসব ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতিটি পহেলা বৈশাখে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে সুরের মূর্ছনা আর কথামালায়। কোভিডের দুই বছর এ আয়োজন হয় ভার্চু্যয়ালি। ২০০১ সালে ছায়ানটের বৈশাখ বরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। তাতে ১০ জন নিহত হন। এরপর থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে প্রতিবছর বর্ষবরণের এ আয়োজন চলছে।

বর্ষবরণের আয়োজন ঘিরে পুরো রমনা পার্ক এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। বসানো হয় ডিএমপি ও র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম। প্রবেশপথ ও বাহিরপথ আলাদা করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন