খুঁজুন
                               
, ,
           

মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশের বারতা তিন বাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশের বারতা তিন বাহিনী প্রধানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

জনাকীর্ণ রাজধানী ঢাকার প্রায় ৩’শ বছরের পুরাতন রমনা কালী মন্দির। শারদীয় দুর্গোৎসবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই তীর্থস্থানটিতে উৎসবের আমেজ। ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত এই মন্দিরটিতে ভক্ত, পূজারী ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে জমজমাট এক পরিবেশ। অপরূপ স্থাপত্যশৈলীর নীরব সাক্ষী এই মন্দিরটিতে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর দুর্গোৎসব বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপনের চিত্র অবলোকন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বারতা দিলের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতায় সুসংহত অসাম্প্রদায়িক এক বাংলাদেশের।

সার্বজনীন দুর্গাপূজার বর্ণাঢ্য বিশাল ক্যানভাস সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাস্তবিক শক্তিতে। যেন এক চিরায়ত ঐকতান স্পর্শ করেছে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়কে। নিরাপত্তা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতে সব শঙ্কা-ভয় কাটিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় সন্তুষ্ট সনাতনধর্মী নেতারাও। তাঁরা বলছেন, সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান শুরু থেকেই দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে সেনাপ্রধান বিভিন্ন সময়ে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি সেটি রক্ষা করেছেন। ফলে অনুপম প্রীতিময় এই আনন্দ উৎসব এবার যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে সব রকম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামীতেও সবোর্চ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।’ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষের মাঝে সহমর্মিতা ও সহাবস্থান বজায় আছে বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাপ্রধানের পত্নী সারাহনাজ কমলিকা জামান পূজা উপলক্ষে উপস্থিত অন্যান্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি উপস্থিত সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান এবং পূজার আনন্দ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে সময় কাটান।

শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা তিন বাহিনী প্রধানের
দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে রমনা কালী মন্দিরে তখন ভক্ত-পূজারীদের উৎসবমুখর পদচারণা। মন্দির ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। পোশাকী নিরাপত্তার বাইরেও ছিল বাড়তি নজরদারি। এদিন বিকেলে এমন সময়ে রাজধানীর রমনা কালী মন্দির পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তাঁরা সবাইকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান। মন্দিরটিতে তিন বাহিনী প্রধান পৌঁছালে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান কালী মন্দির পূজামণ্ডপ উদযাপন কমিটির নেতারা।

প্রথমেই কথা বলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘যেকোন উৎসব আমরা যেন এক সাথে উদযাপন করতে পারি সেটাই আমরা চাই। যেটা যুগে যুগে এদেশে হয়ে আসছে এবং হবে ইনশাআল্লাহ।’ বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিমান বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্কতায় দায়িত্ব পালন করছে।’ তিনি সকল ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই এই দেশের জন্য একত্রে কাজ করবো। সবাই যার যার ধর্ম পালন করবো। ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করবো আনন্দ সুখ ও শান্তির সঙ্গে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ এডমিরাল এম নাজমুল হাসান সকলের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আপনারা উৎসবমুখর সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারছেন, তা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। শুধু ঢাকাতেই না, ঢাকার বাইরে সব জায়গায় আমাদের লোকজন মোতায়েন আছে। আমরা আপনাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’

এতদিন ‘খুব ভালোভাবেই’ সব চলেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘বাকি যে সময়টা আছে সেটাও সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পারবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’ পূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার বলেন, ‘শুধু এখানেই নয়, সারা দেশেই যে যেখানে এই উৎসব পালন করছেন, সবার জন্যই থাকবে আমার শারদীয় শুভেচ্ছা।’

‘শতাব্দীর পর শতাব্দী আমরা একসঙ্গে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বসবাস করে আসছি এই দেশে। এটা আমাদের সহাবস্থান। একজনের প্রতি অন্যজনের যে সহমর্মিতা, এটা অতীতে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে’-যোগ করেন সেনাপ্রধান।

কালের আলো/এমএএএমকে

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস খুলতে পারবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসি

দেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার সুযোগ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ সুযোগ তৈরিসহ আন্তঃদেশীয় উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা’ প্রণয়ন করছে সংস্থাটি। একই নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্পন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ততা তৈরির লক্ষ্যেই ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা করা হচ্ছে। এর আওতায় বাংলাদেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রম দেশের বাইরে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালয়েশিয়ায় শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের ক্ষেত্রে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সহযোগিতাও চান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে, সে বিষয়ে ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে চায়।’

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্মত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমোদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার গুণগত মান, একাডেমিক পরিবেশ, সুশাসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ শাখাকে মূল ক্যাম্পাসের মতোই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

দেশের উচ্চশিক্ষায় ভবিষ্যৎমুখী জ্ঞান ও দক্ষতার চাহিদার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ উদীয়মান খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

দেশের প্রয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বিবেচনায় যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিগগির পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

বিশ্বের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, স্কলারশিপ, ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, যৌথ ডিগ্রিসহ বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে।

সাক্ষাতে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ জন্য নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার অনুমতি চান তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, যৌথ ডিগ্রি ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ জানান।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক টিউশন ফি নির্ধারণ ও টিউশন ফি ওয়েভারের প্রস্তাবও দেয় ইউসিএসআই। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও ইউজিসির সহযোগিতা চায় প্রতিনিধিদলটি।

এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষকদের জন্য ইউজিসির বিদেশি স্কলারশিপ কার্যক্রমের সঙ্গে ইউসিএসআইকে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষকদের টিউশন ফি ওয়েভারের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস দাতুক ড. সিতি হামিসা বিনতে তাপসিরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাতে অংশ নেয়। এ সময় ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আইসিসি বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, ইনসাইট ইনস্টিটিউট অব লার্নিংয়ের চেয়ারম্যান ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আরিফুল বারী মজুমদার এবং শাখা ক্যাম্পাসটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কুশাইরি বিন মোহাম্মদ রাজউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার বনানীতে প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

নিজস্ব/কুমিল্লা সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

  • মোবাইল ছিনিয়ে নিতে নির্জন বনে ডেকে নেওয়া
  • ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাঠির আঘাত
  • তিনজন গ্রেপ্তার, আরও একজন আটক

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমকে হত্যার আগে তার মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে সাইফুল ইসলাম তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিসিটিভিতে তুহিন, সেখান থেকেই তদন্তের সূত্র
পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সাইফুল ইসলাম তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে যান। পরে ওই এলাকা থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তুহিনের তথ্যেই ফাহাদ, ফাহাদের পর কামরুল
পুলিশ জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, তুহিন প্রথমে তিনটি ভিন্ন স্থানে আইফোনটি থাকার কথা জানান। পরে সঠিক তথ্য দিলে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের মোবাইলফোনটি উদ্ধার করা হয়।

বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এরপর ফাহাদ ও কামরুলও তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লাশ ফেলে মোবাইল নিয়ে চলে যায় তিনজন
পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইলফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

অন্য কেউ জড়িত কি না, তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এম/এএইচ